১০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতির বরপুত্র প্রধান বয়লার পরিদর্শক প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান ১০ বছরে শতকোটি টাকার মালিক!

প্রতিনিধির নাম:

 

রোস্তম মল্লিক

প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয় শিল্প মন্ত্রাণলয়ের অধীন একটি কারিগরি দপ্তর। এ দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা “প্রধান বয়লার পরিদর্শক”। সহকর্মীদের কাছে দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে পরিচিত, বয়লার কার্যালয়ের মূর্তিমান আতংক প্রধান বয়লার পরিদর্শক প্রকৌঃ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি-সচিবদের প্রভাব খাটিয়ে ১৫ বছরে প্রধান বয়লার পরিদর্শক প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান সরকারি দপ্তরকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে লুটপাট, বদলী বাণিজ্য, বয়লার নির্মাণে অনিয়ম, ঘুষ নিয়ে বয়লারের নিবন্ধন প্রদান, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে আর্থিক দুর্নীতি, অবৈধভাবে বয়লার অপারেটরের সনদ প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারীতার মাধ্যমে একদিকে যেমন বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছে, অন্যদিকে কার্যালয়টিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দ্বার করিয়েছে। নিজের ভাগিনার প্রতিষ্ঠান দিয়ে কাজ করিয়ে অর্থ আত্মসাত থেকে শুরু করে এমন কোনো আর্থিক খাত নেই যেখান থেকে তাকে কমিশন দিতে হয় না। দীর্ঘদিন প্রধান বয়লার পরিদর্শক থাকার সুবাদে হয়েছেন শতকোটি টাকার মালিক। গড়ে তুলেছেন কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বহুতল ভবন, বিনেছেন বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, গাড়ি ও শত বিঘা জমি। ইতিমধ্যে তার এই দূর্নীতি অনিয়ম নিয়ে শিল্প উপদেষ্টা, শিল্প সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দিয়েছে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা

অভিযোগে জানা যায়, ২০১৫ সালে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের সহায়তায় কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে আব্দুল মান্নান তার সিনিয়রকে টপকিয়ে প্রধান বয়লার পরিদর্শক পদে নিয়োগ হাতিয়ে নেন। সেসময় গুঞ্জন ওঠে তার মামা শ্বশুর আওয়ামী লীগের সাবেক রেলমন্ত্রী, রাজবাড়ী-২ আসনের সাবেক সাংসদ জিল্লুল হাকিম ও চাচা শ্বশুর আওয়ামীপন্থী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ-স্বাচিপের সভাপতি ইকবাল আর্সলানের সহায়তায় ও তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে প্রায় কোটি টাকা ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে এই পদে নিয়োগ পান। এরপরই ঘুষের টাকা তুলতে উঠে পড়ে লাগে মান্নান। বয়লার সেক্টরের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করতে বিভিন্ন সময়ে তাকে সহায়তা করেন উপ প্রধান বয়লার পরিদর্শক প্রকৌশলী মো. শরাফত আলী, (রুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক) প্রকৌশলী মো. ফজলে রাব্বি ও প্রকৌশলী সুরজিত বর্মন।

অভিযোগ আছে, দুর্নীতিবাজ মান্নান এ কার্যালয়ে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বয়লার নির্মাণ, বয়লার নিবন্ধন, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও বয়লার অপারেটর সদন প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সেই সাথে স্বেচ্চাচারীতা ও একনায়কতন্ত্রও কায়েম করেছেন। অধিকাংশ বয়লার নির্মানকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান বয়লার পরিদর্শকের ভাগিনার প্রতিষ্ঠান “টেকনো কেয়ার” এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে নির্মিত বয়লারের নির্মাণকালীন ডিজাইন-ড্রইং ও পিএন্ডআই ডায়াগ্রাম করাতে বাধ্য করা হয়। কারণ অন্যকোন প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রকৌশলী দ্বারা ডিজাইন-ড্রইং করানো হলে সেটির অনুমোদন তিনি দেন না।

অনুসন্ধানের সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনো কেয়ারের এক কর্মচারি জানান, স্থানীয়ভাবে নির্মিত বয়লারের জন্য বয়লার ভেদে ক্ষেত্রে প্রথম ডিজাইন-ব্লইংয়ের জন্য ১ লক্ষ টাকা থেকে ৩ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। প্রতিটি ডিজাইন-ব্লইং পুণরায় প্রিন্টের জন্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। ডিজাইন-প্লইং অনুমোদনের জন্য মান্নানকে ফাইল প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া লাগে। প্রতিটি বয়লার নির্মাণকালীন পরিদর্শন রিপোর্ট ও পরীক্ষণ প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য আরও ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। এরপর ইনসপেক্টিং অথরিটির সার্টিফিকেট বা নির্মাণ সনদ নিতেও সরকারি ফির বাইরে প্রায় ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়।

প্রতি বছর ছোট, বড় মিলিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩০০ টি বয়লার তৈরী হয়। সেক্ষেত্রে, ডিজাইন-গ্রইং তৈরী ও পুণরায় প্রিন্ট বাবদ টেকনো কেয়ার এর মাধ্যমে প্রধান বয়লার পরিদর্শক প্রতি বছর প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এদিকে ডিজাইন-ব্রইং অনুমোদন, নির্মাণকালীন পরিদর্শন রিপোর্ট ও পরীক্ষণ প্রতিবেদন অনুমোদন এবং নির্মাণ সনদ প্রদান বাবদ সবমিলিয়ে গড়ে প্রতিটি বয়লারের জন্য ৭৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা করে ঘুষ নেন তিনি। সেই হিসেবে গত ১০ বছরে শুধুমাত্র বয়লার নির্মাণ খাত থেকেই প্রায় ২৫ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন এই দুর্নীতিবাজ আব্দুল মান্নান।

এছাড়া অভিযোগ আছে, বয়লার নির্মাণের বিভিন্ন ম্যাটেরিয়াল আমদানিকারকদের কাছ থেকে আব্দুল মান্নান ভয় ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগ করে টাকা আদায় করেন। কেউ অস্বীকৃতি জানালে তার আমদানিকৃত ম্যাটেরিয়াল নিম্নমানের বলে তা বিক্রিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। এসব অপকর্ম চালিয়ে যেতে তার অধীনস্ত কর্মকর্তাদের সাথে দূর্বব্যবহার ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বয়লার কার্যালয়ে ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে টেকনো কেয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন বয়লার ব্যবহারকারি প্রতিষ্ঠানের বয়লার মেরামত, সার্ভিসিং ও বিভিন্ন টেস্টিং এর কাজ করাতে বয়লার পরিদর্শক ও উপ-প্রধান বয়লার পরিদর্শকদের বাধ্য করার অভিযোগও আছে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে। তার এধরনের অনৈতিক আদেশ অমান্য করলে কর্মকর্তাদের বদলী বা বিভাগীয় শাস্তির হুমকিও দেন তিনি। প্রধান বয়লার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৫ সালে প্রধান হওয়ার পর থেকে নিজের ভায়ের প্রতিষ্ঠান টেকনো কেয়ারের মাধ্যমে প্রায় শত কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। যার বড় লভ্যাংশ আব্দুল মান্নানের পকেটে গিয়েছে।

প্রধান বয়লার পরিদর্শক হওয়ার পর থেকে কৌশলে বয়লার অপারেটরদের সনদ দিতে নিজের নিকট আত্মীয় ও নিজ জেলা রাজবাড়ীর লোকজন নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। এই সিন্ডিকেটের একজন তার ভাগিনা ১ম শ্রেনীর বয়লার অপারেটর মোহাম্মদ শরীফ হোসেন ও অন্যজন প্রেথম শ্রেনীর বয়লার অপারেটর মোঃ ইমন হাসান। এদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে যেনোতেনো পরীক্ষা নিয়ে সনদ প্রদান করা হয়। জনশ্রুতি আছে, পরীক্ষা চলাকালে আব্দুল মান্নানের বাসায় বস্তায় ভরে টাকা নিয়ে যেতো ঐ সিন্ডিকেটের সদস্যরা এবং প্রার্থীদের তালিকা দিয়ে আসতো। এই অপকর্ম সম্পাদন করতে পরীক্ষক বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসেবে নিজের পছন্দের একজন বয়লার পরিদর্শককে অন্তর্ভুক্তি করে নিজে সভাপতির আসন দখল করারও অভিযোগ আছে। এরপর বয়লার অপারেটরদের সনদ পরিবর্তন করে লাইসেন্স প্রদান ও তা নবায়নের বিধান রেখে বয়লার আইন’২০২২ প্রণয়ন করেন। সেসময় বয়লার অপারেটররা ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী ও আওয়ামী অনুসারী হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবাদকারীদের কে ডেকে বিক্ষোভ থামিয়ে দেয়। তবে তখন বয়লার অপারেটরদের পক্ষ থেকে লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি প্রতিরোধে আইনের ঐ ধারাগুলো বাতিল চেয়ে আদালতে রিট করা হয়। এছাড়াও বয়লার নিবন্ধন, বয়লার হস্তান্তর ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা পরিবর্তন এবং মেরামতের অনুমোদনের জন্য ফাইল প্রতি মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নেন আব্দুল মান্নান।

অবৈধভাবে অর্জন করা এই টাকায় তিনি মিরপুর ডিওএইচএস এর ৬ নাম্বার রোডের ৪১৬ নাম্বার গ্রীণ উড সাউথ শাইন বিল্ডিং এ ২২৫০ বর্গফুটের দুইটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা। রাজবাড়ীতেও ৭কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডাবল ইউনিটের বহুতল আলিসান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও রাজবাড়ী সদর হসপিটালের কাছে ৫ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২০ का হেমায়েতপুরে সুগন্ধা হাউজিং এ আরো ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৮ কাঠার একটি প্লট কিনেছেন।
প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে, ঢাকার অভিজাত এলাকায় তার একাধিক স্ন এছাড়াও অবৈধ অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়া এবং কানাড়ার বেগমপাড়ায় মান্নান নামে-বেনামে সম্পদ কিনেছেন বলেও জন্য
এসব বিষয়ে জানতে আব্দুল মান্নানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অস্বীকার করে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
৮৪০ বার পড়া হয়েছে

দুর্নীতির বরপুত্র প্রধান বয়লার পরিদর্শক প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান ১০ বছরে শতকোটি টাকার মালিক!

আপডেট সময় ০১:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

 

রোস্তম মল্লিক

প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয় শিল্প মন্ত্রাণলয়ের অধীন একটি কারিগরি দপ্তর। এ দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা “প্রধান বয়লার পরিদর্শক”। সহকর্মীদের কাছে দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে পরিচিত, বয়লার কার্যালয়ের মূর্তিমান আতংক প্রধান বয়লার পরিদর্শক প্রকৌঃ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি-সচিবদের প্রভাব খাটিয়ে ১৫ বছরে প্রধান বয়লার পরিদর্শক প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান সরকারি দপ্তরকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে লুটপাট, বদলী বাণিজ্য, বয়লার নির্মাণে অনিয়ম, ঘুষ নিয়ে বয়লারের নিবন্ধন প্রদান, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে আর্থিক দুর্নীতি, অবৈধভাবে বয়লার অপারেটরের সনদ প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারীতার মাধ্যমে একদিকে যেমন বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছে, অন্যদিকে কার্যালয়টিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দ্বার করিয়েছে। নিজের ভাগিনার প্রতিষ্ঠান দিয়ে কাজ করিয়ে অর্থ আত্মসাত থেকে শুরু করে এমন কোনো আর্থিক খাত নেই যেখান থেকে তাকে কমিশন দিতে হয় না। দীর্ঘদিন প্রধান বয়লার পরিদর্শক থাকার সুবাদে হয়েছেন শতকোটি টাকার মালিক। গড়ে তুলেছেন কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বহুতল ভবন, বিনেছেন বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, গাড়ি ও শত বিঘা জমি। ইতিমধ্যে তার এই দূর্নীতি অনিয়ম নিয়ে শিল্প উপদেষ্টা, শিল্প সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দিয়েছে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা

অভিযোগে জানা যায়, ২০১৫ সালে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের সহায়তায় কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে আব্দুল মান্নান তার সিনিয়রকে টপকিয়ে প্রধান বয়লার পরিদর্শক পদে নিয়োগ হাতিয়ে নেন। সেসময় গুঞ্জন ওঠে তার মামা শ্বশুর আওয়ামী লীগের সাবেক রেলমন্ত্রী, রাজবাড়ী-২ আসনের সাবেক সাংসদ জিল্লুল হাকিম ও চাচা শ্বশুর আওয়ামীপন্থী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ-স্বাচিপের সভাপতি ইকবাল আর্সলানের সহায়তায় ও তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে প্রায় কোটি টাকা ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে এই পদে নিয়োগ পান। এরপরই ঘুষের টাকা তুলতে উঠে পড়ে লাগে মান্নান। বয়লার সেক্টরের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করতে বিভিন্ন সময়ে তাকে সহায়তা করেন উপ প্রধান বয়লার পরিদর্শক প্রকৌশলী মো. শরাফত আলী, (রুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক) প্রকৌশলী মো. ফজলে রাব্বি ও প্রকৌশলী সুরজিত বর্মন।

অভিযোগ আছে, দুর্নীতিবাজ মান্নান এ কার্যালয়ে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বয়লার নির্মাণ, বয়লার নিবন্ধন, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও বয়লার অপারেটর সদন প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সেই সাথে স্বেচ্চাচারীতা ও একনায়কতন্ত্রও কায়েম করেছেন। অধিকাংশ বয়লার নির্মানকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান বয়লার পরিদর্শকের ভাগিনার প্রতিষ্ঠান “টেকনো কেয়ার” এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে নির্মিত বয়লারের নির্মাণকালীন ডিজাইন-ড্রইং ও পিএন্ডআই ডায়াগ্রাম করাতে বাধ্য করা হয়। কারণ অন্যকোন প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রকৌশলী দ্বারা ডিজাইন-ড্রইং করানো হলে সেটির অনুমোদন তিনি দেন না।

অনুসন্ধানের সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনো কেয়ারের এক কর্মচারি জানান, স্থানীয়ভাবে নির্মিত বয়লারের জন্য বয়লার ভেদে ক্ষেত্রে প্রথম ডিজাইন-ব্লইংয়ের জন্য ১ লক্ষ টাকা থেকে ৩ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। প্রতিটি ডিজাইন-ব্লইং পুণরায় প্রিন্টের জন্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। ডিজাইন-প্লইং অনুমোদনের জন্য মান্নানকে ফাইল প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া লাগে। প্রতিটি বয়লার নির্মাণকালীন পরিদর্শন রিপোর্ট ও পরীক্ষণ প্রতিবেদন অনুমোদনের জন্য আরও ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। এরপর ইনসপেক্টিং অথরিটির সার্টিফিকেট বা নির্মাণ সনদ নিতেও সরকারি ফির বাইরে প্রায় ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়।

প্রতি বছর ছোট, বড় মিলিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রধান বয়লার পরিদর্শকের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩০০ টি বয়লার তৈরী হয়। সেক্ষেত্রে, ডিজাইন-গ্রইং তৈরী ও পুণরায় প্রিন্ট বাবদ টেকনো কেয়ার এর মাধ্যমে প্রধান বয়লার পরিদর্শক প্রতি বছর প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এদিকে ডিজাইন-ব্রইং অনুমোদন, নির্মাণকালীন পরিদর্শন রিপোর্ট ও পরীক্ষণ প্রতিবেদন অনুমোদন এবং নির্মাণ সনদ প্রদান বাবদ সবমিলিয়ে গড়ে প্রতিটি বয়লারের জন্য ৭৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা করে ঘুষ নেন তিনি। সেই হিসেবে গত ১০ বছরে শুধুমাত্র বয়লার নির্মাণ খাত থেকেই প্রায় ২৫ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন এই দুর্নীতিবাজ আব্দুল মান্নান।

এছাড়া অভিযোগ আছে, বয়লার নির্মাণের বিভিন্ন ম্যাটেরিয়াল আমদানিকারকদের কাছ থেকে আব্দুল মান্নান ভয় ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগ করে টাকা আদায় করেন। কেউ অস্বীকৃতি জানালে তার আমদানিকৃত ম্যাটেরিয়াল নিম্নমানের বলে তা বিক্রিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। এসব অপকর্ম চালিয়ে যেতে তার অধীনস্ত কর্মকর্তাদের সাথে দূর্বব্যবহার ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বয়লার কার্যালয়ে ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে টেকনো কেয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন বয়লার ব্যবহারকারি প্রতিষ্ঠানের বয়লার মেরামত, সার্ভিসিং ও বিভিন্ন টেস্টিং এর কাজ করাতে বয়লার পরিদর্শক ও উপ-প্রধান বয়লার পরিদর্শকদের বাধ্য করার অভিযোগও আছে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে। তার এধরনের অনৈতিক আদেশ অমান্য করলে কর্মকর্তাদের বদলী বা বিভাগীয় শাস্তির হুমকিও দেন তিনি। প্রধান বয়লার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৫ সালে প্রধান হওয়ার পর থেকে নিজের ভায়ের প্রতিষ্ঠান টেকনো কেয়ারের মাধ্যমে প্রায় শত কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। যার বড় লভ্যাংশ আব্দুল মান্নানের পকেটে গিয়েছে।

প্রধান বয়লার পরিদর্শক হওয়ার পর থেকে কৌশলে বয়লার অপারেটরদের সনদ দিতে নিজের নিকট আত্মীয় ও নিজ জেলা রাজবাড়ীর লোকজন নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। এই সিন্ডিকেটের একজন তার ভাগিনা ১ম শ্রেনীর বয়লার অপারেটর মোহাম্মদ শরীফ হোসেন ও অন্যজন প্রেথম শ্রেনীর বয়লার অপারেটর মোঃ ইমন হাসান। এদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে যেনোতেনো পরীক্ষা নিয়ে সনদ প্রদান করা হয়। জনশ্রুতি আছে, পরীক্ষা চলাকালে আব্দুল মান্নানের বাসায় বস্তায় ভরে টাকা নিয়ে যেতো ঐ সিন্ডিকেটের সদস্যরা এবং প্রার্থীদের তালিকা দিয়ে আসতো। এই অপকর্ম সম্পাদন করতে পরীক্ষক বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসেবে নিজের পছন্দের একজন বয়লার পরিদর্শককে অন্তর্ভুক্তি করে নিজে সভাপতির আসন দখল করারও অভিযোগ আছে। এরপর বয়লার অপারেটরদের সনদ পরিবর্তন করে লাইসেন্স প্রদান ও তা নবায়নের বিধান রেখে বয়লার আইন’২০২২ প্রণয়ন করেন। সেসময় বয়লার অপারেটররা ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনার সহযোগী ও আওয়ামী অনুসারী হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবাদকারীদের কে ডেকে বিক্ষোভ থামিয়ে দেয়। তবে তখন বয়লার অপারেটরদের পক্ষ থেকে লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি প্রতিরোধে আইনের ঐ ধারাগুলো বাতিল চেয়ে আদালতে রিট করা হয়। এছাড়াও বয়লার নিবন্ধন, বয়লার হস্তান্তর ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা পরিবর্তন এবং মেরামতের অনুমোদনের জন্য ফাইল প্রতি মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নেন আব্দুল মান্নান।

অবৈধভাবে অর্জন করা এই টাকায় তিনি মিরপুর ডিওএইচএস এর ৬ নাম্বার রোডের ৪১৬ নাম্বার গ্রীণ উড সাউথ শাইন বিল্ডিং এ ২২৫০ বর্গফুটের দুইটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা। রাজবাড়ীতেও ৭কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডাবল ইউনিটের বহুতল আলিসান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও রাজবাড়ী সদর হসপিটালের কাছে ৫ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২০ का হেমায়েতপুরে সুগন্ধা হাউজিং এ আরো ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৮ কাঠার একটি প্লট কিনেছেন।
প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে, ঢাকার অভিজাত এলাকায় তার একাধিক স্ন এছাড়াও অবৈধ অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়া এবং কানাড়ার বেগমপাড়ায় মান্নান নামে-বেনামে সম্পদ কিনেছেন বলেও জন্য
এসব বিষয়ে জানতে আব্দুল মান্নানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অস্বীকার করে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।