০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে চলছে হজ্ব এজেন্সির অফিসঃ ডাঃ রকিবুল ইসলামের খুঁটির জোর কোথায়?

প্রতিনিধির নাম:

বিশেষ প্রতিবেদক

ঢাকা ফার্মগেট অবস্থিত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে হজ্ব এজেন্সির অফিসের খুলে বসেছেন একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ।
অফিসটি পরিচালিত হচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দ্বিতীয় ভবনের পঞ্চম তলায়।
এটি পরিচালনা করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রকিবুল ইসলাম।

ডা. রকিবুল ইসলাম একের অধিক হজ্ব ও ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি দপ্তরে অফিস খুলে দিব্য হজ্ব বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
এজেন্সিগুলোর মধ্যে গ্রামীণ এয়ার ইন্টারন্যাশনাল,গ্লোবাল ট্রাভেল সার্ভিস এন্ড ট্যুরস, বিসমিল্লাহ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল, রাজশাহী ট্রাভেল এন্ড ট্যুরস প্রভৃতি।

জানা যায়, ডা. রকিবুল ইসলাম সস্ত্রীক ২০১৬ সালের জুন মাস থেকে কৃত্রিম প্রজনন ও ভ্রূণ স্থানান্তর প্রকল্পে প্রেষণে কো-অর্ডিনেটর ও মনিটরিং অফিসার পদে নিয়োগ পেলেও প্রকল্পের কোন দাপ্তরিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত না রেখে সরকারি অফিস কক্ষ দখল করে এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন মাসে শেষ হলেও এজেন্সি পরিচালনার সার্থে অফিস কক্ষটি এখনো দখল করে রেখেছেন তিনি।

ডা. রকিবুল ইসলামের সরকারি দপ্তরের দায়িত্ব থাকলেও তিনি তা পালন না করে সব সময় এজেন্সির কাজ বা ব্যবসায়ের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। সরকারি চাকরি বিধি ভঙ্গ করে তিনি সরকারি দপ্তরে বসে রীতিমতো হজ্ব এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনা করছেন। যা একটি গুরুতর অপরাধ ও চাকুরী শৃঙ্খলা বিধি বহির্ভূত।

কৃত্রিম প্রজনন ও ভ্রূণ স্থানান্তর প্রকল্পের টেনিং সেন্টারে টেনিং কর্মকর্তা হিসেবে ডা. নাসরিন সুলতানার অফিস করার কথা থাকলেও তিনি নিয়মিত অফিস করেননি বলে জানা যায়।
এই সস্ত্রীক কর্মকর্তা সরকারি কোন দায়িত্ব পালন না করেও নিয়মিত বেতন বোনাস ও অনান্য সকল সুবিধা গ্রহণ করেছেন। একাধিক সুত্রে জানা যায়,সস্ত্রীক কর্মকর্তা ডা. রকিবুল ইসলাম ও ডা. নাসরিন সুলতানা স্বৈরাচারের দোসর সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের সুপারিশে প্রেষণে প্রকল্পে নিয়োগ প্রাপ্ত হন।

সূত্র জানায়, ডা. রকিবুল ইসলাম বিভিন্ন হজ্ব ও ট্যভেল্স এজেন্সির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তার হাত দিয়ে প্রতিনিয়ত এজেন্সি কোম্পানি গুলোর কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়।
এই লেনদেনের মোটা অংকের কমিশন তিনি গ্রহণ করেন। পবিত্র হজ্ব, ওমরাহ’র পাশাপাশি তিনি বিদেশে জনবল সরবরাহের কাজও করে থাকেন। এ সংক্রান্ত অনেক নথি আমাদের হাতে এসেছে।

নথির তথ্য থেকে জানা যায়, বিভিন্ন এজেন্সিতে তিনি নিজ নামে রশিদের মাধ্যমে অর্থ জমা দেন। যার অর্থ হিসাব করলে কয়েক কোটি টাকা হবে। সরকারি কাজে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তিনি তাদের দারস্থ হন এবং নিজ নিয়ন্ত্রিত এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার সকল ব্যবস্থা যেমন, টিকিট ও হোটেল সুবিধার ব্যবস্থা করে দেন। এমন সুবিধা নেওয়ার তালিকায় অধিদপ্তরটির সাবেক মহাপরিচালক থেকে শুরু করে পরিচালকসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা রয়েছেন সেই তালিকায়।

গড়েছেন অবৈধ
সম্পদের পাহাড়!

সস্ত্রীক কর্মকর্তা ডা. রকিবুল ইসলাম ও ডা. নাসরিন সুলতানা গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। ডা. রকিবুল ইসলামের জন্মস্থান পাবনাসহ ঢাকার সাভার ও শেওড়াপাড়ায় গড়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাটে বসবাস করেন।
ঢাকার সাভারে রয়েছে ৫ তলা বাড়ি ও প্লট।
এ ছাড়াও ডা. রকিবুল ইসলাম তার এক উপপত্নীকে রাজধানীর পল্টন এলাকায় ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছেন বলে জানা যায় (যদিও উপপত্নীর বিষয়টি সতন্ত্র ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি)।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ডাঃ রকিবুল ইসলামের সেল ফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন রিপ্লাই দেননি।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ানকে তার সেল ফোনে কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। ক্ষুদে বার্তারও জবাব দেন নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৫০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
৩০৩ বার পড়া হয়েছে

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে চলছে হজ্ব এজেন্সির অফিসঃ ডাঃ রকিবুল ইসলামের খুঁটির জোর কোথায়?

আপডেট সময় ১১:৫০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

বিশেষ প্রতিবেদক

ঢাকা ফার্মগেট অবস্থিত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে হজ্ব এজেন্সির অফিসের খুলে বসেছেন একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ।
অফিসটি পরিচালিত হচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দ্বিতীয় ভবনের পঞ্চম তলায়।
এটি পরিচালনা করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রকিবুল ইসলাম।

ডা. রকিবুল ইসলাম একের অধিক হজ্ব ও ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি দপ্তরে অফিস খুলে দিব্য হজ্ব বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
এজেন্সিগুলোর মধ্যে গ্রামীণ এয়ার ইন্টারন্যাশনাল,গ্লোবাল ট্রাভেল সার্ভিস এন্ড ট্যুরস, বিসমিল্লাহ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল, রাজশাহী ট্রাভেল এন্ড ট্যুরস প্রভৃতি।

জানা যায়, ডা. রকিবুল ইসলাম সস্ত্রীক ২০১৬ সালের জুন মাস থেকে কৃত্রিম প্রজনন ও ভ্রূণ স্থানান্তর প্রকল্পে প্রেষণে কো-অর্ডিনেটর ও মনিটরিং অফিসার পদে নিয়োগ পেলেও প্রকল্পের কোন দাপ্তরিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত না রেখে সরকারি অফিস কক্ষ দখল করে এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন মাসে শেষ হলেও এজেন্সি পরিচালনার সার্থে অফিস কক্ষটি এখনো দখল করে রেখেছেন তিনি।

ডা. রকিবুল ইসলামের সরকারি দপ্তরের দায়িত্ব থাকলেও তিনি তা পালন না করে সব সময় এজেন্সির কাজ বা ব্যবসায়ের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। সরকারি চাকরি বিধি ভঙ্গ করে তিনি সরকারি দপ্তরে বসে রীতিমতো হজ্ব এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনা করছেন। যা একটি গুরুতর অপরাধ ও চাকুরী শৃঙ্খলা বিধি বহির্ভূত।

কৃত্রিম প্রজনন ও ভ্রূণ স্থানান্তর প্রকল্পের টেনিং সেন্টারে টেনিং কর্মকর্তা হিসেবে ডা. নাসরিন সুলতানার অফিস করার কথা থাকলেও তিনি নিয়মিত অফিস করেননি বলে জানা যায়।
এই সস্ত্রীক কর্মকর্তা সরকারি কোন দায়িত্ব পালন না করেও নিয়মিত বেতন বোনাস ও অনান্য সকল সুবিধা গ্রহণ করেছেন। একাধিক সুত্রে জানা যায়,সস্ত্রীক কর্মকর্তা ডা. রকিবুল ইসলাম ও ডা. নাসরিন সুলতানা স্বৈরাচারের দোসর সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের সুপারিশে প্রেষণে প্রকল্পে নিয়োগ প্রাপ্ত হন।

সূত্র জানায়, ডা. রকিবুল ইসলাম বিভিন্ন হজ্ব ও ট্যভেল্স এজেন্সির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তার হাত দিয়ে প্রতিনিয়ত এজেন্সি কোম্পানি গুলোর কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়।
এই লেনদেনের মোটা অংকের কমিশন তিনি গ্রহণ করেন। পবিত্র হজ্ব, ওমরাহ’র পাশাপাশি তিনি বিদেশে জনবল সরবরাহের কাজও করে থাকেন। এ সংক্রান্ত অনেক নথি আমাদের হাতে এসেছে।

নথির তথ্য থেকে জানা যায়, বিভিন্ন এজেন্সিতে তিনি নিজ নামে রশিদের মাধ্যমে অর্থ জমা দেন। যার অর্থ হিসাব করলে কয়েক কোটি টাকা হবে। সরকারি কাজে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তিনি তাদের দারস্থ হন এবং নিজ নিয়ন্ত্রিত এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার সকল ব্যবস্থা যেমন, টিকিট ও হোটেল সুবিধার ব্যবস্থা করে দেন। এমন সুবিধা নেওয়ার তালিকায় অধিদপ্তরটির সাবেক মহাপরিচালক থেকে শুরু করে পরিচালকসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা রয়েছেন সেই তালিকায়।

গড়েছেন অবৈধ
সম্পদের পাহাড়!

সস্ত্রীক কর্মকর্তা ডা. রকিবুল ইসলাম ও ডা. নাসরিন সুলতানা গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। ডা. রকিবুল ইসলামের জন্মস্থান পাবনাসহ ঢাকার সাভার ও শেওড়াপাড়ায় গড়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাটে বসবাস করেন।
ঢাকার সাভারে রয়েছে ৫ তলা বাড়ি ও প্লট।
এ ছাড়াও ডা. রকিবুল ইসলাম তার এক উপপত্নীকে রাজধানীর পল্টন এলাকায় ফ্ল্যাট উপহার দিয়েছেন বলে জানা যায় (যদিও উপপত্নীর বিষয়টি সতন্ত্র ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি)।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ডাঃ রকিবুল ইসলামের সেল ফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন রিপ্লাই দেননি।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ানকে তার সেল ফোনে কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। ক্ষুদে বার্তারও জবাব দেন নি।