ডিএসসিসির অঞ্চল-৪ এর স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, সব অঞ্চলেই একই অবস্থা। অফিসে কাজ না থাকায় তিনিও বাড়িতে চলে গেছেন। তিনি বলেন, আমাদের অফিসে তালা দেওয়া। কেউ আসে না, কোনো আবেদনও জমা নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে কয়দিন ধরে গ্রামের বাড়িতে চলে এসেছি। ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, করদাতাদের অনেকেই অফিসে এসে কর দেন। এখন তারা পারছেন না। এতে কর আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চলমান আন্দোলনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।
রাফাত হোসেন নামে ডিএসসিসির একজন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শক জানিয়েছেন, জরুরি সেবা হিসেবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সচল আছে। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করছেন, এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করছেন। বর্জ্য পরিবহনের যানবাহনও কাজ করছে।
অন্যদিকে মেয়র পদে বসানোর বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সেবা চালু করে বিরতিহীনভাবে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, এই সময়ে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধনসহ জরুরি নাগরিক সেবা চালু থাকবে। উন্নয়নকাজসহ বাকি সব সেবা বন্ধ থাকবে। এ নিয়ে তিনি গতকাল নগর ভবনে একটি সভাও করেছেন। যেখানে তার নামের আগে ব্যানারে ‘মাননীয় মেয়র’ উল্লেখ ছিল। সেবা কার্যক্রমের অচলাবস্থা কাটাতে নিজের তত্ত্বাবধানে তিনি এটি চালু করতে চান।
গতকাল সোমবার নগর ভবনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা -কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মশক নিধন, জন্ম সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিজেদের তত্ত্বাবধানে চালু রাখার কথা জানান ইশরাক হোসেন। এ সময় আদালতের রায় মেনে মেয়র পদে শপথ গ্রহণের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানান তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, আপনারা জানেন ডিএসসিসিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে যে রায় তার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে সিটির মেয়র হিসেবে আমাকে ঘোষণা করেছে। কিন্তু সরকার আমাকে মেয়র পদে বসানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তাই আমরা গতকাল অবস্থান কর্মসূচি বিরতিহীনভাবে ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘদিন আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সেবার বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে। ঢাকা শহরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। আমরা ঢাকা শহরে মশক নিধন কর্মসূচিকে বেগবান করার জন্য এবং সেটি যাতে চলমান থাকে সেটি নিশ্চিত করার জন্য আজকে থেকে আমরা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা ৭০টি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলাম। তাদের আমরা উৎসাহ দিয়েছি। তাদেরকে আমরা নিশ্চিত করেছি যে ভবিষ্যতে তাদের সমস্যাগুলো আমরা দেখব। আগামীকাল মঙ্গলবার আমাদের ৭০টির বেশি ওয়ার্ড সচিবের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। দৈনন্দিন যে সেবা সেগুলো চলবে, কিন্তু আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ড সচিবদের কার্যালয়ে জন্ম-মৃত্যু সার্টিফিকেট, নাগরিক সার্টিফিকেট, ওয়ারিশ সার্টিফিকেটসমূহ ওয়ার্ড সচিবদের মাধ্যমে জমা নেওয়া হবে। যাতে আন্দোলন চলাকালীন অবস্থায় নগরবাসীর দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে পারি। আগামী পরশুদিন স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করব। যাতে ডেঙ্গুর বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা মনিটরিং টিম করব।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাচন হয়। সে নির্বাচনে বিএনপির ইশরাক হোসেনকে পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র হন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর গত ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম মেয়র পদে তাপসকে বিজয়ী ঘোষণার সেই ফল বাতিল করে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করেন। এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাককে ডিএসসিসি মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু তাকে যেন শপথ পড়ানো না হয় সেজন্য গত ১৪ মে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মামুনুর রশিদ। এমন পরিস্থিতিতে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গত ১৪ মে ঢাকাবাসীর ব্যানারে নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন শুরু করেন তার সমর্থকেরা। ঈদের আগে বিরতি দিলেও তালা ঝুলে ভবনে। প্রায় ১ মাস ৩ দিন ধরে চলছে এ আন্দোলন। আন্দোলনের কারণে ডিএসসিসি নগর ভবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।











