০৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাঠগড়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: মানবিক রেড ক্রিসেন্টে দুর্নীতির কালোথাবা!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের স্বজনপ্রীতি ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে কলংকিত হয়ে পড়েছে আর্ন্তজাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থা বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এমন একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বাংলাদেশের ভাবমুর্তি চরমভাবে নষ্ট হয়েছে বিশ^ দরবারে। আর এজন্য জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে।
জানাগেছে,ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিতে নতুন ম্যানেজিং বোর্ড অনুমোদন দেওয়া হয়। এই বোর্ডের চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান .মহাসচিব,কোষাধ্যক্ষ ও সদস্য নির্বাচনে সীমাহীন অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। খামখেয়ালি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের সিলেকশন করে নিয়োগ দেওয় হয়েছে। ফলে মানবিক এই সংস্থাটি কতিপয় বোর্ড কর্মকর্তা ও সদস্যদের লুটপাট কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই দুদক হানা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। আর এই সংবাদ গণমাধ্যম,সোস্যাল মিডিয়া ও সংবাদপত্রে প্রচার হতেই বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কপালে কলংকের কালো তিলক লেগে গেছে । আন্তর্জাতিক মহলও ঘৃণা প্রকাশ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে মানবিক রেডক্রিসেন্টে দুর্নীতির কালোথাবা কেন?
সুত্রমতে,গত ০৬ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৪৫.০০.০০০০.১৬২.৯৯.২০১৮-৯২ মোতাবেক বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির এডহক ম্যানেজিং বোর্ড অনুমোদন দেওয়া হয়। পত্রে বলা হয়- বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অর্ডার নং ২৬ অব ১৯৭৩ অনুযায়ি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৪৫.০০.০০০০.১৬২.৯৯.২০১৮-৯২ ,তারিখ: ০৫/০৩/২০২৫ মোতাবেক নিন্মবর্ণিত সদস্যগনের সমন্বয়ে এডহক ম্যানেজিং বোর্ড পূর্ণগঠন করা হলো। এই বোর্ডের মেয়াদ আগামী ০৫/০৩/২০২৫ ইং তারিখ হতে পরবর্তী ৬ মাস নির্দ্ধারণ করা হলো।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই এডহক ম্যানেজিং বোর্ডে যাদের সদস্য নিয়োগ বা মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ৪ জন সদস্যের বয়স এবং অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সেই ৪ সদস্য হলেন: ঘুস -দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কার হওয়া স্বাস্থ্য উপদেষ্টার এপিএস (ছাত্র প্রতিনিধি) মুহম্মদ তুহিন ফারাবী, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, মোঃ মাহবুব আলম ও তানিম হোসেন শাওন। এদের সকলেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। তারা নিয়োগ পেয়েই রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিতে তাদের কালোথাবা বিস্তার করেন। ফলে আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থা বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিতে অনিয়ম-দুর্নীতি ওপেন সিক্রেট হয়ে পড়ে। আর এ বিষয়ে দুদকে অভিযোগ গেলে তারা অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদর দপ্তরে।
এ বিষয়ে টিআইবির একজন কর্মকর্তার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৪৫ থেকে ৫০ বছরের নীচে বয়স এমন কাউকে এই সংস্থার ম্যানেজিং বোর্ডে মনোনয়ন বা নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। যেহেতু সংস্থাটি আন্তর্জাতিক মানের এবং বিশ^ নন্দিত সেহেতু তার ম্যানেজিং বোর্ড নির্বাচনে ও নিয়োগে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আরো সতর্ক ও দুরদর্শী হওয়া প্রয়োজন ছিলো। কোনভাবেই এতো কম বয়সি বোর্ড সদস্য মনোনয়ন দেওয়া ঠিক হয়নি। এতে করে প্রতিষ্ঠানটি সমগ্র বিশে^র কাছে নিন্দিত হয়ে পড়েছে। যাদের বয়স ৪০ এর কম তাদেরকে বাদ দিয়ে নতুন বোর্ড গঠনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। একই সাথে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে সব দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে সেগুলোর অভ্যন্তরীণ তদন্ত করার জন্য চেয়ারম্যানের দাপ্তরিক তদন্ত কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন।

সুত্রমতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে আর্ন্তজাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থা বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট তাদের কার্যক্রম শুরু করে। যুদ্ধাহতদের সেবা, খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ, যুদ্ধবন্দীদের সহায়তা-সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা রাখে তারা। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে (ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা) রেড ক্রিসেন্ট-এর স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠ পর্যায়ে গিয়ে মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ, আশ্রয় কেন্দ্র পরিচালনা ইত্যাদিতে সক্রিয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অধীনে পরিচালিত ইউথ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট দেশের প্রতিটি জেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। তারা প্রথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ, ব্লাড ডোনেশন, সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন,এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

৩২০ কোটি টাকার বদলি,পদায়ন ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ:

এ দিকে অনুসন্ধানে জানাগেছে, টেন্ডারবাজি, বদলি, নিয়োগ ও পদায়ন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মুহাম্মদ তুহিন ফারাবী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বর্তমান ট্রেজারার আমিনুল ইসলাম, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ম্যানেজিং বোর্ড সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও পরিচালক ইমাম জাফর সিকদারের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান চালানো হয়। মুহাম্মদ তুহিন ফারাবীর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৩২০ কোটি টাকার বদলি, পদায়ন ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
এ অভিযোগে তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অপসারণ করা হলেও তিনি এখনো রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল তবিয়তে আছেন। তুহিন ফারাবী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতেও দুর্নীতি করার জন্য একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ট্রেজারার আমিনুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বর্তমান ম্যানেজিং বোর্ড সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং পরিচালক ইমাম জাফর সিকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, বদলি, নিয়োগ ও পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এ সব অভিযোগ পেয়ে রোববার (৪ মে) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম এই অভিযান চালায়। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়ে দুদকের টিম এসেছিলো। তাদের চাহিদামত তথ্য প্রমাণ সরবরাহ করা হচ্ছে। সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে বেশিরভাগ অভিযোগই আগের ম্যানেজিং বোর্ড আমলের।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৫৩:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫
৩৪৯ বার পড়া হয়েছে

কাঠগড়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: মানবিক রেড ক্রিসেন্টে দুর্নীতির কালোথাবা!

আপডেট সময় ১১:৫৩:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫

রোস্তম মল্লিক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের স্বজনপ্রীতি ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে কলংকিত হয়ে পড়েছে আর্ন্তজাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থা বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এমন একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বাংলাদেশের ভাবমুর্তি চরমভাবে নষ্ট হয়েছে বিশ^ দরবারে। আর এজন্য জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে।
জানাগেছে,ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিতে নতুন ম্যানেজিং বোর্ড অনুমোদন দেওয়া হয়। এই বোর্ডের চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান .মহাসচিব,কোষাধ্যক্ষ ও সদস্য নির্বাচনে সীমাহীন অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। খামখেয়ালি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের সিলেকশন করে নিয়োগ দেওয় হয়েছে। ফলে মানবিক এই সংস্থাটি কতিপয় বোর্ড কর্মকর্তা ও সদস্যদের লুটপাট কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাই দুদক হানা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। আর এই সংবাদ গণমাধ্যম,সোস্যাল মিডিয়া ও সংবাদপত্রে প্রচার হতেই বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কপালে কলংকের কালো তিলক লেগে গেছে । আন্তর্জাতিক মহলও ঘৃণা প্রকাশ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে মানবিক রেডক্রিসেন্টে দুর্নীতির কালোথাবা কেন?
সুত্রমতে,গত ০৬ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৪৫.০০.০০০০.১৬২.৯৯.২০১৮-৯২ মোতাবেক বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির এডহক ম্যানেজিং বোর্ড অনুমোদন দেওয়া হয়। পত্রে বলা হয়- বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অর্ডার নং ২৬ অব ১৯৭৩ অনুযায়ি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৪৫.০০.০০০০.১৬২.৯৯.২০১৮-৯২ ,তারিখ: ০৫/০৩/২০২৫ মোতাবেক নিন্মবর্ণিত সদস্যগনের সমন্বয়ে এডহক ম্যানেজিং বোর্ড পূর্ণগঠন করা হলো। এই বোর্ডের মেয়াদ আগামী ০৫/০৩/২০২৫ ইং তারিখ হতে পরবর্তী ৬ মাস নির্দ্ধারণ করা হলো।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই এডহক ম্যানেজিং বোর্ডে যাদের সদস্য নিয়োগ বা মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ৪ জন সদস্যের বয়স এবং অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সেই ৪ সদস্য হলেন: ঘুস -দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কার হওয়া স্বাস্থ্য উপদেষ্টার এপিএস (ছাত্র প্রতিনিধি) মুহম্মদ তুহিন ফারাবী, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, মোঃ মাহবুব আলম ও তানিম হোসেন শাওন। এদের সকলেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। তারা নিয়োগ পেয়েই রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিতে তাদের কালোথাবা বিস্তার করেন। ফলে আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থা বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিতে অনিয়ম-দুর্নীতি ওপেন সিক্রেট হয়ে পড়ে। আর এ বিষয়ে দুদকে অভিযোগ গেলে তারা অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সদর দপ্তরে।
এ বিষয়ে টিআইবির একজন কর্মকর্তার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৪৫ থেকে ৫০ বছরের নীচে বয়স এমন কাউকে এই সংস্থার ম্যানেজিং বোর্ডে মনোনয়ন বা নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। যেহেতু সংস্থাটি আন্তর্জাতিক মানের এবং বিশ^ নন্দিত সেহেতু তার ম্যানেজিং বোর্ড নির্বাচনে ও নিয়োগে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আরো সতর্ক ও দুরদর্শী হওয়া প্রয়োজন ছিলো। কোনভাবেই এতো কম বয়সি বোর্ড সদস্য মনোনয়ন দেওয়া ঠিক হয়নি। এতে করে প্রতিষ্ঠানটি সমগ্র বিশে^র কাছে নিন্দিত হয়ে পড়েছে। যাদের বয়স ৪০ এর কম তাদেরকে বাদ দিয়ে নতুন বোর্ড গঠনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। একই সাথে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে সব দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে সেগুলোর অভ্যন্তরীণ তদন্ত করার জন্য চেয়ারম্যানের দাপ্তরিক তদন্ত কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন।

সুত্রমতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে আর্ন্তজাতিক মানবিক সাহায্য সংস্থা বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট তাদের কার্যক্রম শুরু করে। যুদ্ধাহতদের সেবা, খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ, যুদ্ধবন্দীদের সহায়তা-সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা রাখে তারা। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে (ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা) রেড ক্রিসেন্ট-এর স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠ পর্যায়ে গিয়ে মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ, আশ্রয় কেন্দ্র পরিচালনা ইত্যাদিতে সক্রিয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অধীনে পরিচালিত ইউথ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট দেশের প্রতিটি জেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। তারা প্রথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ, ব্লাড ডোনেশন, সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন,এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

৩২০ কোটি টাকার বদলি,পদায়ন ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ:

এ দিকে অনুসন্ধানে জানাগেছে, টেন্ডারবাজি, বদলি, নিয়োগ ও পদায়ন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মুহাম্মদ তুহিন ফারাবী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বর্তমান ট্রেজারার আমিনুল ইসলাম, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ম্যানেজিং বোর্ড সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও পরিচালক ইমাম জাফর সিকদারের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান চালানো হয়। মুহাম্মদ তুহিন ফারাবীর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৩২০ কোটি টাকার বদলি, পদায়ন ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
এ অভিযোগে তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অপসারণ করা হলেও তিনি এখনো রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল তবিয়তে আছেন। তুহিন ফারাবী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতেও দুর্নীতি করার জন্য একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ট্রেজারার আমিনুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বর্তমান ম্যানেজিং বোর্ড সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং পরিচালক ইমাম জাফর সিকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, বদলি, নিয়োগ ও পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এ সব অভিযোগ পেয়ে রোববার (৪ মে) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম এই অভিযান চালায়। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়ে দুদকের টিম এসেছিলো। তাদের চাহিদামত তথ্য প্রমাণ সরবরাহ করা হচ্ছে। সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে বেশিরভাগ অভিযোগই আগের ম্যানেজিং বোর্ড আমলের।