১১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৪ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারিদের মধ্যে বদলী আতংক! স্বৈরাচারের দোসর ওহিদুল আবার ফায়ার সার্ভিস অধিপ্তরে!

প্রতিনিধির নাম:

বিশেষ প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বয়স আট মাস অতিক্রম করলেও ফ্যাসিষ্টমুক্ত করা যায়নি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী ও মদদপুষ্ট কর্মকর্তারা এখনো রয়েছেন বহাল তবিয়তে। তাদের দ্বারা প্রতিনিয়ত শোষিত হচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের ১৪ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এই সব দলবাজ কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঠিকাদার ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এই সিন্ডিকেট আজ প্রায় ১৫/১৬ বছর যাবত নিয়ন্ত্রণ করছেন এই অধিদপ্তরকে। তারা নিয়োগ,বদলী,কেনা-কাটা,
পদন্নোতি, পদায়ন সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করছে। আর এ সব খাতে হাতিয়ে নিয়েছে শতশত কোটি টাকা। রাজনৈতিক ছত্রছায়্য়া থেকে তারা শত প্রকার অপরাধ করেও আজঅব্দি রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অপরাধে তাদেরকে অধিদপ্তর থেকে বদলী করা হলেও ৫/৬ মাস পরেই তারা জোরাল তদবীর করে ফিরে এসছে অধিদপ্তরের লোভনীয় পদে। জোর তদবীর থাকায় তাদের বদলীর ক্ষেত্রে বদলীর বিধি বিধানও উপেক্ষা করা হয়েছে বারবার। এমন নজির কেবল ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরেই সৃষ্টি হয়েছে।
এমন একটি ঘটনা ঘটেছে গত ১৭ এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখে। এ দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অগ্নি শাখা-১ থেকে স্মারক নং ৫৮.০০.০০০০.১৯.০০১.১৭-১০৫ মুলে ফায়ার সার্ভিসের মিরপুর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের অধ্যক্ষ মো.ওহিদুল ইসলামকে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পদে বদলী আদেশ জারি করা হয়েছে। যে পত্রে স্বাক্ষর করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপসচিব মো: শফিকুল ইসলাম।
এ দিকে এই বদলীর খবর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে প্রচার হতেই সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কেন-না, মো: ওহিদুল ইসলাম এর আগে যখন এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তখন তিনি প্রশাসনিক খড়গ চালিয়ে সমগ্র দেশের ফায়ার কর্মীদের অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে পত্র পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হয়। তার কারণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর জণগনের কাছে একটি দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্বীকৃতি পায়।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, অধিদপ্তরে যখনই কোন নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয় তখনই তিনি ছলে বলে কলে কৌশলে অধিপ্তরের পোষ্টিং বাগিয়ে নেন। উদ্দেশ্য থাকে শত কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করা। বিগত হাসিনা সরকার আমলেও তিনি একই কাজ করেছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কামাল খানের এপিএস মনিরের সাথে লেনদেন সম্পর্ক তৈরি করে।তিনি শত কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। এ বিষয়ে তখন অনেকগুলি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হয়। এবারও যখন ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে তখনই তিনি মন্ত্রণালয়ের ওই শক্তিশালী চক্রকে ম্যানেজ করে অধ‍্যক্ষ পদ হতে ৫ মাসের মধ্যে পুনরায় উপপরিচালক ( প্রশাসন ও অর্থ) পদে বদলী হয়েছেন। আর এই বদলীতে সিন্ডিকেট মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে গুঞ্জন চলছে।
সুত্রমতে, মোঃ ওহিদুল ইসলাম, উপপরিচালক (৫৭৬৬) নিজ জেলা- বগুড়া। গত ০১/০৩/২০১৭ ইং তারিখ হতে ৩০/০৩/২০১৯ ইং তারিখ পর্যন্ত সহকারী পরিচালক (ওয়্যারহাইজ) ফায়ার প্রিভেনশন অধিদপ্তর ঢাকাতে কর্মরত ছিলেন। এরপর- গত ০২/০৬/২০২১ ইং হতে ১১/০৭/২০২২ ইং তারিখ পর্যন্ত উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর ঢাকাতে কর্মরত ছিলেন। এরপর-গত ১২/০৭/২০২৩ ইং পর্যন্ত উপপরিচালক পদে রাজশাহীতে কর্মরত ছিলেন। এরপর গত ২৫/০৪/২০২৪ তারিখে পর্যন্ত উপপরিচালক (উন্নয়ন)পদে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর ঢাকাতে কর্মরত ছিলেন। ০১/১১/২০২৪ এ অধ্যক্ষ হিসেবে মিরপুর ট্রেনিং কমপ্লেক্স এ যোগ দেন। সর্বশেষ গত ১৭/০৪/২০২৫ ইং তারিখে উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরে নতুন করে আবার পদায়ন হয়েছেন। যার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুরক্ষা সেবা বিভাগ (স্মারক নং: ৫৮.০০.০০০০.০৫২.১৯.০০১.১৭-১০৫) তারিখ – ৪ বৈশাখ ১৪৩২ বাংলা ১৭ এপ্রিল ২০২৫।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে,অধিদপ্তরের রুল ভেঙে বরাবার কেন এই মো: ওহিদুল ইসলামকে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরে ফিরিয়ে এনে লোভনীয় পদে বসানো হচ্ছে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ কেন তার প্রতি এতোটা আন্তরিক বা সদয়?
এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠিত নিয়োগ,বদলী ও টেন্ডার সিন্ডিকেটের সাথে মো: ওহিদুল ইসলামের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। সেই সিন্ডিকেটে আছেন স্বরাষ্ট্র সচিব এর পিএস ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইংল‍্যান্ড প্রবাসী।পিএস ৩/৪ বছরের জন‍্য তিনি লন্ডনে মিশনে যাবেন। এজন‍্য মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি তার বন্ধুর সুপারিশে এ কাজটি করেছেন।তিনি ১৭/০৪/২০২৫ তারিখ বাংলাদেশ সচিবালয়ে ৬নং ভবনের নীচতলায়
পর্যটন কর্পোরেশনে আনুমানিক ২/৩০ মিনিট হতে ০৩ টা মধ‍‍্যে প্রবাসী ২ জন বন্ধু সহ ভাত খেয়েছেন।পরবর্তীতে পিএস তার বন্ধু সহ তার অফিসে অবস্হান করেন।যাহা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে সত্যটা প্রকাশিত হবে।বদলীর কাজটি ফায়ার সার্ভিস অফিসের দুর্নীতিবাজ কয়েকজন কর্মকর্তা, বগুড়ার কাহালু ফায়ার ষ্টেশনের ফায়ারম্যান শাহীন, প্রভাবশালী ঠিকাদার সজল সহ আরো অনেকে। আসন্ন নিয়োগে,নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই সচিবকে ভুল বুঝিয়ে এই সিন্ডিকেট মো: ওহিদুল ইসলামকে অধিদপ্তরে বদলী করে এনেছেন।
অনুসন্ধানকালে উপ-পরিচালক মো. ওহিদুল ইসলামের অতীত বর্তমান সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে আরো জানা যায়, তিনি শতভাগ একজন আওয়ামী মনা কর্মকর্তা। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিটি দলীয় কর্মনুচিতে অংশ গ্রহণ করতেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কামাল খান ও প্রতিমন্ত্রী টুকুর বাসায় বাজার সওদা করে দিতেন। খুলনা ও চট্রগ্রাম থেকে খাছি খাঝি চিংড়ি,বোয়াল এবং চাঁদপুর ও বরিশাল থেকে ২/৩ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ এনে দিতেন। মন্ত্রীর এপিএস মনিরের সাথে তার দহরম মহরম সম্পর্ক ছিলো। তিনি জুলাই-আগষ্টের ছাত্র জনতার আন্দোলন প্রতিহত করতে অনেক অর্থ ব্যয় করেছেন। তিনি ২০২২ সালে ১৩ই মে ফায়ার সার্ভিস শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় অনিয়ম করায় নিয়োগটি স্হগিত করা হয়।যাহা তদন্ত চিত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
এর আগে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে পাওয়া সকল অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে প্রশ্নাতীতভাবে সকল অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় মো. ওহিদুল ইসলামকে উপ পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পদ থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে উপ পরিচালক হিসেবে রাজশাহীতে বদলী করা হয়। পরবর্তীতে তিনি আবার ঢাকায় ফেরার জন্য টাকার বস্তা নিয়ে তদবীরে নামেন। এ ক্ষেত্রে টাকার যোগান দেন তারই ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার সজল। যার অফিস ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত। উক্ত ঠিকাদার মো. ওহিদুল ইসলাম থেকে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী। পছন্দের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সুবিধাজনক পদে বদলী করে এনে তার মত করে সকল ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। এছাড়াও নিয়োগ বাণিজ্যেও রয়েছে উক্ত ঠিকাদারের সম্পৃক্ততা।
মো. ওহিদুল ইসলাম এডি ওয়্যার হাউজ এবং ডিডি এডমিন থাকা কালিন সময়ে তার স্ত্রীর-সন্তান ও অন্যান্য আত্মীয়দের নামে বগুড়া, ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, জয়দেবপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৫ একর জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া স্ত্রীর নামে ও মেয়ের নামে ২টি প্লট, ২টি গাড়ী রয়েছে তার। উত্তরাতে ঠিকাদার সজলের সাথে পার্টনারশীপে ব্যবসা করে আসছেন। এছাড়াও, উত্তরাতে তার রয়েছে ২০ কাঠা জমি। ঠিকাদার সজলের সাথে গড়ে তুলেছেন ডেইরি ফার্ম যার আনুমানিক মূল্য হবে ৫ কোটি টাকা। মো. ওহিদুল ইসলামের এহেন কর্মকান্ডে বিব্রত খোদ ফায়ার সার্ভিসের উর্ধতন কর্মকর্তারা। এই সব অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদান্তাধীন রয়েছে।
মো: ওহিদুল ইসলামের এই নব পদায়নে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর দুর্নীতির আঁখড়ায় পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন অধিদপ্তরের দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর। তারা এই বদলী আদেশ বাতিল করার জোর দাবী তুলেছেন।
এ ক্ষেত্রে তারা প্রধান উপদেষ্টা,স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:০৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
২৭৯ বার পড়া হয়েছে

১৪ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারিদের মধ্যে বদলী আতংক! স্বৈরাচারের দোসর ওহিদুল আবার ফায়ার সার্ভিস অধিপ্তরে!

আপডেট সময় ০১:০৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

বিশেষ প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বয়স আট মাস অতিক্রম করলেও ফ্যাসিষ্টমুক্ত করা যায়নি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে। স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী ও মদদপুষ্ট কর্মকর্তারা এখনো রয়েছেন বহাল তবিয়তে। তাদের দ্বারা প্রতিনিয়ত শোষিত হচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের ১৪ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এই সব দলবাজ কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঠিকাদার ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এই সিন্ডিকেট আজ প্রায় ১৫/১৬ বছর যাবত নিয়ন্ত্রণ করছেন এই অধিদপ্তরকে। তারা নিয়োগ,বদলী,কেনা-কাটা,
পদন্নোতি, পদায়ন সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করছে। আর এ সব খাতে হাতিয়ে নিয়েছে শতশত কোটি টাকা। রাজনৈতিক ছত্রছায়্য়া থেকে তারা শত প্রকার অপরাধ করেও আজঅব্দি রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অপরাধে তাদেরকে অধিদপ্তর থেকে বদলী করা হলেও ৫/৬ মাস পরেই তারা জোরাল তদবীর করে ফিরে এসছে অধিদপ্তরের লোভনীয় পদে। জোর তদবীর থাকায় তাদের বদলীর ক্ষেত্রে বদলীর বিধি বিধানও উপেক্ষা করা হয়েছে বারবার। এমন নজির কেবল ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরেই সৃষ্টি হয়েছে।
এমন একটি ঘটনা ঘটেছে গত ১৭ এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখে। এ দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অগ্নি শাখা-১ থেকে স্মারক নং ৫৮.০০.০০০০.১৯.০০১.১৭-১০৫ মুলে ফায়ার সার্ভিসের মিরপুর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের অধ্যক্ষ মো.ওহিদুল ইসলামকে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পদে বদলী আদেশ জারি করা হয়েছে। যে পত্রে স্বাক্ষর করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপসচিব মো: শফিকুল ইসলাম।
এ দিকে এই বদলীর খবর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে প্রচার হতেই সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কেন-না, মো: ওহিদুল ইসলাম এর আগে যখন এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তখন তিনি প্রশাসনিক খড়গ চালিয়ে সমগ্র দেশের ফায়ার কর্মীদের অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে পত্র পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হয়। তার কারণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর জণগনের কাছে একটি দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্বীকৃতি পায়।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, অধিদপ্তরে যখনই কোন নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয় তখনই তিনি ছলে বলে কলে কৌশলে অধিপ্তরের পোষ্টিং বাগিয়ে নেন। উদ্দেশ্য থাকে শত কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করা। বিগত হাসিনা সরকার আমলেও তিনি একই কাজ করেছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কামাল খানের এপিএস মনিরের সাথে লেনদেন সম্পর্ক তৈরি করে।তিনি শত কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। এ বিষয়ে তখন অনেকগুলি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হয়। এবারও যখন ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে তখনই তিনি মন্ত্রণালয়ের ওই শক্তিশালী চক্রকে ম্যানেজ করে অধ‍্যক্ষ পদ হতে ৫ মাসের মধ্যে পুনরায় উপপরিচালক ( প্রশাসন ও অর্থ) পদে বদলী হয়েছেন। আর এই বদলীতে সিন্ডিকেট মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে গুঞ্জন চলছে।
সুত্রমতে, মোঃ ওহিদুল ইসলাম, উপপরিচালক (৫৭৬৬) নিজ জেলা- বগুড়া। গত ০১/০৩/২০১৭ ইং তারিখ হতে ৩০/০৩/২০১৯ ইং তারিখ পর্যন্ত সহকারী পরিচালক (ওয়্যারহাইজ) ফায়ার প্রিভেনশন অধিদপ্তর ঢাকাতে কর্মরত ছিলেন। এরপর- গত ০২/০৬/২০২১ ইং হতে ১১/০৭/২০২২ ইং তারিখ পর্যন্ত উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর ঢাকাতে কর্মরত ছিলেন। এরপর-গত ১২/০৭/২০২৩ ইং পর্যন্ত উপপরিচালক পদে রাজশাহীতে কর্মরত ছিলেন। এরপর গত ২৫/০৪/২০২৪ তারিখে পর্যন্ত উপপরিচালক (উন্নয়ন)পদে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর ঢাকাতে কর্মরত ছিলেন। ০১/১১/২০২৪ এ অধ্যক্ষ হিসেবে মিরপুর ট্রেনিং কমপ্লেক্স এ যোগ দেন। সর্বশেষ গত ১৭/০৪/২০২৫ ইং তারিখে উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরে নতুন করে আবার পদায়ন হয়েছেন। যার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুরক্ষা সেবা বিভাগ (স্মারক নং: ৫৮.০০.০০০০.০৫২.১৯.০০১.১৭-১০৫) তারিখ – ৪ বৈশাখ ১৪৩২ বাংলা ১৭ এপ্রিল ২০২৫।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে,অধিদপ্তরের রুল ভেঙে বরাবার কেন এই মো: ওহিদুল ইসলামকে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরে ফিরিয়ে এনে লোভনীয় পদে বসানো হচ্ছে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ কেন তার প্রতি এতোটা আন্তরিক বা সদয়?
এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠিত নিয়োগ,বদলী ও টেন্ডার সিন্ডিকেটের সাথে মো: ওহিদুল ইসলামের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। সেই সিন্ডিকেটে আছেন স্বরাষ্ট্র সচিব এর পিএস ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইংল‍্যান্ড প্রবাসী।পিএস ৩/৪ বছরের জন‍্য তিনি লন্ডনে মিশনে যাবেন। এজন‍্য মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি তার বন্ধুর সুপারিশে এ কাজটি করেছেন।তিনি ১৭/০৪/২০২৫ তারিখ বাংলাদেশ সচিবালয়ে ৬নং ভবনের নীচতলায়
পর্যটন কর্পোরেশনে আনুমানিক ২/৩০ মিনিট হতে ০৩ টা মধ‍‍্যে প্রবাসী ২ জন বন্ধু সহ ভাত খেয়েছেন।পরবর্তীতে পিএস তার বন্ধু সহ তার অফিসে অবস্হান করেন।যাহা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে সত্যটা প্রকাশিত হবে।বদলীর কাজটি ফায়ার সার্ভিস অফিসের দুর্নীতিবাজ কয়েকজন কর্মকর্তা, বগুড়ার কাহালু ফায়ার ষ্টেশনের ফায়ারম্যান শাহীন, প্রভাবশালী ঠিকাদার সজল সহ আরো অনেকে। আসন্ন নিয়োগে,নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই সচিবকে ভুল বুঝিয়ে এই সিন্ডিকেট মো: ওহিদুল ইসলামকে অধিদপ্তরে বদলী করে এনেছেন।
অনুসন্ধানকালে উপ-পরিচালক মো. ওহিদুল ইসলামের অতীত বর্তমান সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে আরো জানা যায়, তিনি শতভাগ একজন আওয়ামী মনা কর্মকর্তা। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিটি দলীয় কর্মনুচিতে অংশ গ্রহণ করতেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কামাল খান ও প্রতিমন্ত্রী টুকুর বাসায় বাজার সওদা করে দিতেন। খুলনা ও চট্রগ্রাম থেকে খাছি খাঝি চিংড়ি,বোয়াল এবং চাঁদপুর ও বরিশাল থেকে ২/৩ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ এনে দিতেন। মন্ত্রীর এপিএস মনিরের সাথে তার দহরম মহরম সম্পর্ক ছিলো। তিনি জুলাই-আগষ্টের ছাত্র জনতার আন্দোলন প্রতিহত করতে অনেক অর্থ ব্যয় করেছেন। তিনি ২০২২ সালে ১৩ই মে ফায়ার সার্ভিস শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় অনিয়ম করায় নিয়োগটি স্হগিত করা হয়।যাহা তদন্ত চিত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
এর আগে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে পাওয়া সকল অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে প্রশ্নাতীতভাবে সকল অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় মো. ওহিদুল ইসলামকে উপ পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পদ থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে উপ পরিচালক হিসেবে রাজশাহীতে বদলী করা হয়। পরবর্তীতে তিনি আবার ঢাকায় ফেরার জন্য টাকার বস্তা নিয়ে তদবীরে নামেন। এ ক্ষেত্রে টাকার যোগান দেন তারই ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার সজল। যার অফিস ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত। উক্ত ঠিকাদার মো. ওহিদুল ইসলাম থেকে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী। পছন্দের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সুবিধাজনক পদে বদলী করে এনে তার মত করে সকল ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। এছাড়াও নিয়োগ বাণিজ্যেও রয়েছে উক্ত ঠিকাদারের সম্পৃক্ততা।
মো. ওহিদুল ইসলাম এডি ওয়্যার হাউজ এবং ডিডি এডমিন থাকা কালিন সময়ে তার স্ত্রীর-সন্তান ও অন্যান্য আত্মীয়দের নামে বগুড়া, ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, জয়দেবপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৫ একর জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া স্ত্রীর নামে ও মেয়ের নামে ২টি প্লট, ২টি গাড়ী রয়েছে তার। উত্তরাতে ঠিকাদার সজলের সাথে পার্টনারশীপে ব্যবসা করে আসছেন। এছাড়াও, উত্তরাতে তার রয়েছে ২০ কাঠা জমি। ঠিকাদার সজলের সাথে গড়ে তুলেছেন ডেইরি ফার্ম যার আনুমানিক মূল্য হবে ৫ কোটি টাকা। মো. ওহিদুল ইসলামের এহেন কর্মকান্ডে বিব্রত খোদ ফায়ার সার্ভিসের উর্ধতন কর্মকর্তারা। এই সব অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদান্তাধীন রয়েছে।
মো: ওহিদুল ইসলামের এই নব পদায়নে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর দুর্নীতির আঁখড়ায় পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন অধিদপ্তরের দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর। তারা এই বদলী আদেশ বাতিল করার জোর দাবী তুলেছেন।
এ ক্ষেত্রে তারা প্রধান উপদেষ্টা,স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।