প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ বছরেও হয়নি মাগুরার অডিটোরিয়াম
মাগুরা জেলা পরিষদের এক হাজার আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মেয়াদে শেষ হয়নি। তিন বছরের প্রকল্পটিতে ৫ বছরে বাস্তবায়িত হয়েছে ৬০ ভাগ। আর এমন অবস্থায় প্রকল্পের কাজ শেষ না হতেই ভবনটি হয়ে পড়েছে পুরাতন জরাজীর্ণ। বরাদ্দ অনুযায়ী অর্থ থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মাগুরায় সরকারি-বেসরকারিভাবে বৃহৎপরিষদের সভা, সেমিনার, সম্মেলন ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি অডিটরিয়ামের সংকট রয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ০৩ মার্চ এক হাজার আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু করে জেলা পরিষদ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শহিদ ব্রাদার্স-স্মার্ট প্রপার্টিজ লিমিটেড জেভি কাজের অনুমতি পায়। প্রকল্পের নির্মাণ কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৩ সালের ০৩ মার্চ এ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্প গ্রহণের ৫ বছর অতিবাহিত হলেও অসমাপ্ত কাজ এখনও শেষ হয়নি।
বিগত দুই বছর একেবারেই বন্ধ রয়েছে নির্মাণ কাজ। প্রাক্কলিত মূল্য ১৯,৬২,৩২,৯৯৮.৫৬ (উনিশ কোটি বাষট্টি লক্ষ বত্রিশ হাজার নয় শত আটানব্বই টাকা ছাপান্ন পয়সা) টাকা ব্যয় সাপেক্ষ প্রকল্পে এ পর্যন্ত অর্থ ছাড় হয়েছে ৯ কোটি টাকা।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে,পরিষদ চত্বরে ১ হাজার আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ০৩ মার্চ।মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত।কিন্তু নির্ধারিত তিন বছরে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত করা হয়। তবে সে সময় ও অতিবাহিত হয়েছে।এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।কাজটির নগদ ফান্ড থাকলেও অদৃশ্য শক্তির কালো থাবার শিকার ভবনটি। কাজের বিল বাবদ ঠিকাদারকে কয়েক দফায় পরিশোধ করা হয়েছে ৯ কোটি টাকা +।অডিটোরিয়াম ছাড়াও মাঝারি আকারের আরও ৩টি মিলনায়তন হবে। ফলে একসঙ্গে চারটি অনুষ্ঠান করা যাবে। মিলনায়তনগুলো হবে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও সাউন্ড প্রুফ।
শনিবার (৮ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তিনতলা অডিটোরিয়াম ভবনের দ্বিতীয়তলার ছাদ সম্পন্ন হয়েছে।তিনতলার কাজ এখনও শুরু হয়নি।প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন ইন্জিনিয়ার ও কেয়ারটেকার রয়েছে।চার থেকে পাঁচজন নির্মাণ শ্রমিক ছোটখাটো কিছু কাজ করছেন। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এখনও ফিনিশিং কাজ,বৈদ্যুতিক কাজসহ আরও অনেক কাজ বাকি পড়ে আছে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করেছি সে অনুযায়ী বিল পেয়েছি। তবে অতিরিক্ত ২% পারসেন্ট পিসি চাওয়ার থমকে গেছে কাজ। আমাদের অনেক টাকা পাওনা রয়েছে। প্রতিনিয়ত পিসির টাকা তাদেরকে প্রদান না করলে ভালো কাজের ভুল ধরে কাজ বন্ধের চাপ প্রদান করেন উপসহকারী প্রকৌশলী শ্রী দীনেশ চন্দ্র শাহা। ইতিমধ্যে তিনি ১৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন। পিসি ছাড়া অর্থ ছাড় না পাওয়ায় কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছি। এখন স্বল্প পরিসরে কাজ চলছে।পিসি ছাড়া অর্থ ছাড় পেলে কাজের গতি বৃদ্ধি করবো।তাছাড়া ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পর মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সরকার কর্তৃক অফিস বন্ধ থাকায় নির্মাণাধীন কাজ ১ বছর বন্ধ ছিল। আর এ কারণে বিলম্ব হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,জেলা পরিষদের জনবল সংকট থাকায় ওই কাজের শুরু থেকেই ডিভাইন ইন্জিনিয়ারিং লি. কে কাজের গুণগত মান ও পরিদর্শনের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়।বিল্ডিং কনসালটেন্ট সেন্টার থেকে পিসি গ্রহণ ও তাদের উত্তোলনকৃত বিল থেকে ৪% উৎকোচ গ্রহণ করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী শ্রী দীনেশ চন্দ্র শাহা।
বর্তমান জেলা পরিষদে সহকারী প্রকৌশলী না থাকায় তিনি সহকারী প্রকৌশলীর দ্বায়িত্ব পালন করছেন।জেলা পরিষদের অফিস ভবনের তৃতীয় তলায় একটি অ্যাঙ্গেল সিআই সিটের শেট নির্মাণ ছিল। সেটি ভেঙে গত ৪ আগস্টের আগে জঈঈ ( আরসিসি) ছাঁদ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই এ্যাঙ্গেল ও সিআই সিট টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির কোন হদিস নেই। তিন তলা ভবনের শেট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল আনুমানিক ১০/১২ লক্ষ টাকা।তাছাড়া ও মাগুরা মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন স্থানে মার্কেট ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ,পৌর সুপার মার্কেট ভাড়া,সহ সরকারি মহিলা কলেজের নানাবিধ নির্মাণে সরকারি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে উক্ত বিষয় অস্বীকার করেন,উপসহকারী প্রকৌশলী শ্রী দীনেশ চন্দ্র শাহা।
সংসৃষ্ট সূত্রের দাবি, তৃতীয় বার মেয়াদ বৃদ্ধি করার জন্য আবেদন করেছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।মেয়াদ বাড়ানো হলে ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বাস্তবায়নকারী সংস্থা মাগুরা জেলা পরিষদের।নির্ধারিত তিন বছরে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত করা হয়। তবে সে সময় ও অতিবাহিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,মাগুরা নোমানী ময়দানে একটি অডিটোরিয়াম ছাড়া আর কোনো অডিটোরিয়াম নেই। সেখানে নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক,সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান হয়। ফলে একই দিনে একাধিক অনুষ্ঠান করার মতো বিকল্প জায়গা নেই। এ অবস্থায় জেলা পরিষদ একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণ শুরু করায় মাগুরাবাসী খুশী হয়েছিল। কিন্তু সেই কাজে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়েছে। কাজ কবে শেষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন,বিগত রেট শিডিউল অনুযায়ী ২০২০ সালে ঠিকাদারকে তিন বছরের মধ্যে নির্মাণ কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল।অর্থের কোনো বিড়ম্বনা নেই,অর্থ রয়েছে এ কাজের। সময়মতও অর্থ ছাড় হলেও বর্ধিত সময়েও কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। আবার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। আগামীকাল রবিবার ৯ তারিখ এ বিষয় নিয়ে কাজ করবে টিম ।
জেলা পরিষদ নিয়ে স্থানীয় নাগরিকদের অভিযোগ, দুর্নীতি আর অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে থেমে আছে অডিটরিয়ামের প্রকল্পের কাজ।











