০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর প্রশ্রয়ে বিআইডব্লিউটিএতে শতশত কোটি টাকা লোপাট: প্রকৌশল মোহাম্মদ মনোয়ার উজ জামান এর অনিয়ম দুর্নীতি তদন্তের দাবী!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

৫ই আগষ্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে সৈ¦রাচার শেখ হাসিনার পতন হলেও বিআইডব্লিউটিএ প্রশাসনে এখনো তার দোসররা রয়ে গেছেন। ক্ষমতার পটভুমি পরিবর্তনের পর বিআইডব্লিউটিএ হতে দুইজন সদস্য বদলীর পর হতে সদস্য (অর্থ) এবং সদস্য (পরিচালন ও পরিকল্পনা ) পদ দুটি দীর্ঘ ৫ মাস যাবত শুন্য ছিল। সদস্য (প্রকৌশল) মোহাম্মদ মনোয়ার উজ জামান অতিরিক্ত দায়িত্বে ৫ মাস সদস্য (পরিচালন ও পরিকল্পনা ) পদ সহ দুটি পদে থেকে সমগ্র প্রকৌশল বিভাগ, ড্রেজিং বিভাগ, এমএমই বিভাগ এবং হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ এবং নৌনিট্রা বিভাগ, সিএন্ড (নৌপথ সংরক্ষণ ও পরিচালন) বিভাগ, বন্দর ও পরিবহন বিভাগ সহ ৪৩০ টি নদী বন্দর ইজারা, ফোরশোর ইজারা, মানব সম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বে থেকেছেন।
এতাগুলো পদে থেকে তিনি মাত্র ৫ মাসেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে দাবী করেছেন বিআইডব্লিউটিএর কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারি।
এক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটিএর বর্তমানে সদস্য পরিঃ পরিঃ ড. জিয়াউল হক এবং সদস্য অর্থ এই দুই জনের যে কোন একজনকে সাময়িক ভাবে সদস্য প্রকৌশল এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে মোহাম্মদ মনোয়ার উজ জামানকে তার বর্তমান বদলীকৃত কর্মসস্থল বিআরডিবিতে যোগদানের জন্য ছাড়পত্র দিতে কোন সমস্যা ছিলো ন। এ ধরনের উদাহরন বিআইডব্লিউটিএতে ইতোপূর্বে অহরহ ঘটেছে।
এজন্য সদস্য প্রকৌশল পদে এক জনের পদায়ন জরুরী নয়। তিনি এ পদে থাকার জন্য অজুহাত ও চক্রান্ত করছেন। তিনি আওয়ামী ফ্যাসিবাদি সরকারের সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ট সহচর। তিনি সদস্য প্রকৌশল পদে বিআইডব্লিউটিএতে থাকার জন্য বিভিন্নভাবে কলা-কৌশলের মাধ্যমে তদবির করছেন।
ফ্যাসিবাদি সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের এই সিন্ডিকেট ভেংগে দেয়ার জন্য জন্য সদস্য প্রকৌশল মোহাম্মদ মনোয়ার উজ জামানকে তার নতুন বদলীকৃত কর্মস্হলে অতি জরুরি ভিত্তিতে ফেরত পাঠানে প্রয়োজন।
একজন যাবেন আর একজন আসবেন এটাই সরকারের স্বাভাবিক নিয়ম। একজন কর্মকর্তা আসার সাথে অন্য কর্মকর্তার যাওয়ার কোন সম্পর্ক নেই।
একাধিক সুত্রে জানাগেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং তার এপিএস আ ন ম আবুল বাশার এর যোগসাজসে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বের হওয়ার পূর্বের সম্পৃর্ন অবৈধভাবে অতি সস্প্রতি কারিগরি পুলের (যান্ত্রিক/ নেভাল আর্কিটেক) পদে দুইজন প্রকৌশলীকে ফলাফল জালিয়াতি করে নিয়োগ প্রদান করেছেন।
টেন্ডার বানিজ্য, নিয়োগ- বদলী পদোন্নতি বানিজ্য, ৪৩০ টি নদী বন্দরের ইজারা, ফোরশোর লীজ বানিজ্য,নদী কেন্দ্রিক বিভিন্ন শিল্প- প্রতিষ্ঠানের নদীর মধ্যে অবৈধভাবে জেটি নির্মাণ কাজের অনুমতি প্রদান, ঘুষ বানিজ্য এবং ফ্যাসিবাদি আওয়ামী সরকারের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করাই ছিল তার প্রধান কাজ।
এ সব অভিযোগে তাকে গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড ( বিআরডিবি)তে বদলী করা হলেও তিনি সেই বদলী আদেশ বাতিল করার জন্য রাজনৈতিক তদবীর চালিয়ে যাচ্ছেন।
অতীতে সাবেক নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ছত্রছায়ায় তিনি যে সব অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন সেগুলো তদন্ত করার জন্য অন্তরবর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবী তুলেছেন বিআইডব্লিউটিএর অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারিীবৃন্দ।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনোয়ার উজ জামানের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
২৮৮ বার পড়া হয়েছে

সাবেক নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর প্রশ্রয়ে বিআইডব্লিউটিএতে শতশত কোটি টাকা লোপাট: প্রকৌশল মোহাম্মদ মনোয়ার উজ জামান এর অনিয়ম দুর্নীতি তদন্তের দাবী!

আপডেট সময় ১০:০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

রোস্তম মল্লিক

৫ই আগষ্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে সৈ¦রাচার শেখ হাসিনার পতন হলেও বিআইডব্লিউটিএ প্রশাসনে এখনো তার দোসররা রয়ে গেছেন। ক্ষমতার পটভুমি পরিবর্তনের পর বিআইডব্লিউটিএ হতে দুইজন সদস্য বদলীর পর হতে সদস্য (অর্থ) এবং সদস্য (পরিচালন ও পরিকল্পনা ) পদ দুটি দীর্ঘ ৫ মাস যাবত শুন্য ছিল। সদস্য (প্রকৌশল) মোহাম্মদ মনোয়ার উজ জামান অতিরিক্ত দায়িত্বে ৫ মাস সদস্য (পরিচালন ও পরিকল্পনা ) পদ সহ দুটি পদে থেকে সমগ্র প্রকৌশল বিভাগ, ড্রেজিং বিভাগ, এমএমই বিভাগ এবং হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ এবং নৌনিট্রা বিভাগ, সিএন্ড (নৌপথ সংরক্ষণ ও পরিচালন) বিভাগ, বন্দর ও পরিবহন বিভাগ সহ ৪৩০ টি নদী বন্দর ইজারা, ফোরশোর ইজারা, মানব সম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বে থেকেছেন।
এতাগুলো পদে থেকে তিনি মাত্র ৫ মাসেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে দাবী করেছেন বিআইডব্লিউটিএর কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারি।
এক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটিএর বর্তমানে সদস্য পরিঃ পরিঃ ড. জিয়াউল হক এবং সদস্য অর্থ এই দুই জনের যে কোন একজনকে সাময়িক ভাবে সদস্য প্রকৌশল এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে মোহাম্মদ মনোয়ার উজ জামানকে তার বর্তমান বদলীকৃত কর্মসস্থল বিআরডিবিতে যোগদানের জন্য ছাড়পত্র দিতে কোন সমস্যা ছিলো ন। এ ধরনের উদাহরন বিআইডব্লিউটিএতে ইতোপূর্বে অহরহ ঘটেছে।
এজন্য সদস্য প্রকৌশল পদে এক জনের পদায়ন জরুরী নয়। তিনি এ পদে থাকার জন্য অজুহাত ও চক্রান্ত করছেন। তিনি আওয়ামী ফ্যাসিবাদি সরকারের সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ট সহচর। তিনি সদস্য প্রকৌশল পদে বিআইডব্লিউটিএতে থাকার জন্য বিভিন্নভাবে কলা-কৌশলের মাধ্যমে তদবির করছেন।
ফ্যাসিবাদি সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের এই সিন্ডিকেট ভেংগে দেয়ার জন্য জন্য সদস্য প্রকৌশল মোহাম্মদ মনোয়ার উজ জামানকে তার নতুন বদলীকৃত কর্মস্হলে অতি জরুরি ভিত্তিতে ফেরত পাঠানে প্রয়োজন।
একজন যাবেন আর একজন আসবেন এটাই সরকারের স্বাভাবিক নিয়ম। একজন কর্মকর্তা আসার সাথে অন্য কর্মকর্তার যাওয়ার কোন সম্পর্ক নেই।
একাধিক সুত্রে জানাগেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং তার এপিএস আ ন ম আবুল বাশার এর যোগসাজসে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বের হওয়ার পূর্বের সম্পৃর্ন অবৈধভাবে অতি সস্প্রতি কারিগরি পুলের (যান্ত্রিক/ নেভাল আর্কিটেক) পদে দুইজন প্রকৌশলীকে ফলাফল জালিয়াতি করে নিয়োগ প্রদান করেছেন।
টেন্ডার বানিজ্য, নিয়োগ- বদলী পদোন্নতি বানিজ্য, ৪৩০ টি নদী বন্দরের ইজারা, ফোরশোর লীজ বানিজ্য,নদী কেন্দ্রিক বিভিন্ন শিল্প- প্রতিষ্ঠানের নদীর মধ্যে অবৈধভাবে জেটি নির্মাণ কাজের অনুমতি প্রদান, ঘুষ বানিজ্য এবং ফ্যাসিবাদি আওয়ামী সরকারের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করাই ছিল তার প্রধান কাজ।
এ সব অভিযোগে তাকে গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড ( বিআরডিবি)তে বদলী করা হলেও তিনি সেই বদলী আদেশ বাতিল করার জন্য রাজনৈতিক তদবীর চালিয়ে যাচ্ছেন।
অতীতে সাবেক নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ছত্রছায়ায় তিনি যে সব অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন সেগুলো তদন্ত করার জন্য অন্তরবর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবী তুলেছেন বিআইডব্লিউটিএর অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারিীবৃন্দ।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনোয়ার উজ জামানের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।