০৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে নাগরিকসেবা দিতে ঘুষ দাবি এলজিইডি প্রকৌশলীর

প্রতিনিধির নাম:

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়িতে জন্মনিবন্ধন ও নাগরিক সনদসহ অন্যান্য সেবা দিতে এক সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ নাগরিকরা। সরকার পতনের পর দেশের সকল পৌরসভার মতো খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলদেরও অপসারণ করা হয়। পরে দায়িত্ব দেয়া হয় সরকারি কর্মকর্তাদের। খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব পান নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদের সেবা প্রদানের বিপরীতে হয়রানির অভিযোগ আসতে শুরু করে। সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু হওয়ার পর এ অভিযোগ আরও তীব্র হয়। নাগরিকদের সঙ্গে অসদাচরণসহ ঘুষ নেয়ার অভিযোগ করেছেন এমন আরও অনেক স্থানীয় বাসিন্দা। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালে সেবা নিতে নিয়ে হেনস্তার শিকার হন ওই ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দা। একপর্যায়ে অফিসের লোকজন দিয়ে তাদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। পরে ভুক্তভোগী স্থানীয়রা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকলে পরে পুলিশ ও বিএনপি নেতারা গিয়ে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেন। তবে ততক্ষণে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের লাতুপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাধনা শীল বলেন, ‘ভোটার হতে নাগরিক সনদের প্রত্যয়ন নিতে আসলে তৃপ্তি শংকর চাকমা আমার কাছে ঘুষ চান। টাকা দেইনি বলে প্রত্যয়ন তো দেনইনি, বরং ভইঙ্গা-রোহিঙ্গা বলে আমাকে অফিসের লোকজন দিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়েছেন।’ একই অভিযোগ করেছেন ওই ওয়ার্ডের সিঙ্গিনালা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল মোমিন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি আমার ছেলের বউয়ের ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য নাগরিক সনদের প্রত্যয়ন নিতে ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমার কাছে যাই। এ সময় তিনি আমার কাছে একটা সনদের জন্য ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় তিনি প্রত্যয়ন না দিয়ে আমাকে অফিস থেকে বের করে দেন।’ এ রকম আরও বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের খাগড়াছড়ির নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমার বিরুদ্ধে। তবে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা বলেন, ‘আমি একজন চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। আমাকে অতিরিক্ত করতে হচ্ছে। তথ্য যাচাই-বাছাই করায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’ খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘এটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তারা না বোঝার কারণে এমনটা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কোনো নাগরিক যেন এরকম হয়রানির শিকার না হন সেই বিষয়ে আমরা সজাগ থাকবো।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
৩২১ বার পড়া হয়েছে

খাগড়াছড়িতে নাগরিকসেবা দিতে ঘুষ দাবি এলজিইডি প্রকৌশলীর

আপডেট সময় ১১:০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়িতে জন্মনিবন্ধন ও নাগরিক সনদসহ অন্যান্য সেবা দিতে এক সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ নাগরিকরা। সরকার পতনের পর দেশের সকল পৌরসভার মতো খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলদেরও অপসারণ করা হয়। পরে দায়িত্ব দেয়া হয় সরকারি কর্মকর্তাদের। খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব পান নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদের সেবা প্রদানের বিপরীতে হয়রানির অভিযোগ আসতে শুরু করে। সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু হওয়ার পর এ অভিযোগ আরও তীব্র হয়। নাগরিকদের সঙ্গে অসদাচরণসহ ঘুষ নেয়ার অভিযোগ করেছেন এমন আরও অনেক স্থানীয় বাসিন্দা। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার সকালে সেবা নিতে নিয়ে হেনস্তার শিকার হন ওই ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দা। একপর্যায়ে অফিসের লোকজন দিয়ে তাদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। পরে ভুক্তভোগী স্থানীয়রা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকলে পরে পুলিশ ও বিএনপি নেতারা গিয়ে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেন। তবে ততক্ষণে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের লাতুপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাধনা শীল বলেন, ‘ভোটার হতে নাগরিক সনদের প্রত্যয়ন নিতে আসলে তৃপ্তি শংকর চাকমা আমার কাছে ঘুষ চান। টাকা দেইনি বলে প্রত্যয়ন তো দেনইনি, বরং ভইঙ্গা-রোহিঙ্গা বলে আমাকে অফিসের লোকজন দিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়েছেন।’ একই অভিযোগ করেছেন ওই ওয়ার্ডের সিঙ্গিনালা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল মোমিন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি আমার ছেলের বউয়ের ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য নাগরিক সনদের প্রত্যয়ন নিতে ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমার কাছে যাই। এ সময় তিনি আমার কাছে একটা সনদের জন্য ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় তিনি প্রত্যয়ন না দিয়ে আমাকে অফিস থেকে বের করে দেন।’ এ রকম আরও বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের খাগড়াছড়ির নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমার বিরুদ্ধে। তবে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা বলেন, ‘আমি একজন চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। আমাকে অতিরিক্ত করতে হচ্ছে। তথ্য যাচাই-বাছাই করায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’ খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘এটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তারা না বোঝার কারণে এমনটা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কোনো নাগরিক যেন এরকম হয়রানির শিকার না হন সেই বিষয়ে আমরা সজাগ থাকবো।’