০৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দালালেই মুশকিল আসান

প্রতিনিধির নাম:

ভাই কি লাগবে? ড্রাইভিং লাইসেন্স নাকি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন? আপনার কোনো কষ্ট করতে হবে না। আমরাই সব করে দিবো শুধু আইডি কার্ডের ফটোকপি আর মোবাইল নম্বরটা দিয়ে যাবেন। ডোপ টেস্ট, পরীক্ষায় পাসসহ বাকি সব কাজ আমরা করে দিবো। কথাগুলো বলছিলেন রাজধানী মিরপুরের বিআরটিএ অফিসের দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য। শুধু এই আনসার সদস্য নন, বিআরটিএ অফিসে এমন অনেক দালাল রয়েছেন যারা এখানে আসা সেবা প্রত্যাশীদের মুশকিল আসান করেন। এ জন্য তাদেরকে দিতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা।

রোববার দুপুর আড়াইটা। সেবাগ্রহীতাদের বসার স্থানে মাথায় টুপি ও পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তি অনেক কাগজ সত্যায়িত করছেন। তার পাশে দুই ব্যক্তি সে যে কাগজ চায় সেই কাগজ বের করে দিচ্ছেন। একটু পরেই বলছেন আমাকে আরও তিন হাজার টাকা দিতে হবে। গতকাল থেকে আপনাদের এই কাজে স্যারদের রুমে গিয়ে ফাইলগুলো নিয়ে আসছি। স্যাররা তো আর বিনা পয়সায় ফাইল দেয় না তাদের পেছনে খরচ করতে হয়।

রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্কেল অফিস। গাড়ি আর মানুষে সরগরম থাকে সকাল থেকে দুপুর। ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ নানা ধরনের সেবা নিতে প্রতিনিয়ত আসেন সেবাপ্রার্থীরা। এসেই পড়তে হয় ভোগান্তিতে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলেও সেবা গ্রহীতারা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তেন। সরকার পতনের পরেও কমেনি দালালদের দৌরাত্ম্য। অনেকে আবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। মঙ্গলবার দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর বিআরটিএ অফিসে অভিযান চালিয়ে ১৩ দালালকে গ্রেপ্তার করেছে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।

সরজমিন বিআরটিএ’র অফিসে গিয়ে পাওয়া গেছে নানা অভিযোগ। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ সেবাগ্রহীতাদের কাজ সহজ করার জন্য অনলাইনে কিছু সেবা দিয়ে থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই সেসব বিষয়ে খুব একটা জানেন না। তাছাড়া পেশাদার লাইসেন্স নেয়া বেশির ভাগ চালক অনলাইনে এসব সেবা নেয়ার বিষয়ে দক্ষ নয়। ফলে বিআরটিএ অফিসে এসে দালাল দিয়ে সব কাজ সারছেন। অনলাইনে করলেও বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে। সেখানেও বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে দালালদের টাকা দিয়ে কাজ সারছেন আবার অনেকে টাকা দিয়েও প্রতারিত হচ্ছেন। টাকা নিয়ে অনেক দালাল সেবা গ্রহীতাদের ঘোরাচ্ছেন, টাকা নেয়ার পর অনেকে হাওয়া হয়ে যাচ্ছেন। এসব দালালদের সঙ্গে যোগসাজশ আছে বিআরটিএ’র আনসার সদস্যদের। অভিযোগ রয়েছে, চাহিদামতো ঘুষ না দিলে কিংবা দালাল ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে লাইসেন্স প্রত্যাশীদের। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং ফিল্ড টেস্টে পাস করার পর নির্ধারিত ফি জমা পর্যন্ত চলে ঘুষের কারবার। আবার লিখিত পরীক্ষায় ফেল করলে কর্মকর্তার সুপারিশ হলে দিতে হয় না মৌখিক পরীক্ষা ও ফিল্ড টেস্ট। স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাতে মেসেজ চলে যায় পাসের। দালাল ধরলে পরীক্ষা ছাড়াই মেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স।

দুপুর সাড়ে ১২টায় পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তিকে ঘিরে রেখেছেন কয়েকজন। প্রথম দেখাতে মনে হবে তিনি হয়তো কোনো বিপদে পড়েছেন। কিন্তু তাকে ঘিরে আছেন দালাল চক্র। দালালরা তাকে বিভিন্ন প্রস্তাব দিচ্ছেন। কেউ বারো হাজারে লাইসেন্স করে দিবে কেউ দিবে তেরো হাজারে। পরিচয় গোপন করে মিরপুরে বিআরটিএ অফিসে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য কথা হয় আনসার সদস্য মেহেদীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ১৩ হাজার টাকা দিলে মিলবে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স। এতে পরীক্ষায় পাস না করলেও দেয়া হবে লাইসেন্স। তাছাড়া তারা ডোপ টেস্ট ও পাস করিয়ে দিবেন। শুধু প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেই হবে। এ ছাড়া মোটরযান রেজিস্ট্রেশন, গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন এসব আমরা করে দিতে পারি। কীভাবে করেন সেই সম্পর্কে তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের কন্ট্রাক্ট করা আছে। ফাইলগুলো দিলে উনারা সব করে দেয়।

আরেক দালাল তারেক প্রতিবেদককে হাঁটাহাঁটি করতে দেখে কাছে এসে বলেন, ভাই কি লাগবে? আপনার গাড়ির নাম্বার বসাবেন নাকি লাইসেন্স করাবেন। এই দালাল ১২ হাজার টাকায় পেশাদার লাইসেন্স করার প্রস্তাব দেয়। এ ছাড়া তিনি সব সমস্যা সমাধান করে দিবেন বলে আশ্বাস দেন। টাকা দিলেই তিনি বিআরটিএ’র সব সমস্যার সমাধান করে দেন। এ ছাড়া এ দালালের হাত রয়েছে বিআরটিএ’র নতুন লাইসেন্স তৈরি- নবায়ন, নতুন-পুরনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা পরিবর্তন, গাড়ি ও ড্রাইভিং স্কিল টেস্ট বিভাগেও। বিআরটিএ’র নিচতলায় ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সাভারের বাসিন্দা সাইফুলকে। নিজেই দালাল ছাড়া সব কাজ শেষ করে এসেছেন সেই কাঙ্ক্ষিত লাইসেন্সটি বুঝে নিতে। তিনি বলেন, ভাই এখানে প্রতিটা অলিগলিতে দালাল দিয়ে পরিপূর্ণ যেই জায়গায় যাবেন সব জায়গায় দালালদের আনাগোনা। আমি প্রথম দিন লার্নার লাইসেন্সের জন্য এসেছিলাম এখানের এক দালাল আমার কাছে দুই হাজার টাকা চাইছে শুধু লার্নার লাইসেন্সের জন্য। পরে আমি এখানের হেল্পডেস্ক থেকে তথ্য জেনে মাত্র ৫০০ টাকায় লার্নার এর জন্য আবেদন করেছি। এরপর নিজে নিজেই আবেদন করে পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স নিতে এসেছি। পরীক্ষা দেয়ার ১৫ দিন পরেই আমি ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পেয়েছি। তিনি বলেন, যারা সচেতন তাদের উচিত এখানে হেল্পডেস্ক থেকে তথ্য জেনে নিজে নিজে সব কাজ শেষ করা তাহলে কম খরচেই লাইসেন্স পাওয়া যাবে। এমনও দেখেছি অনেকে টাকা দেয়ার পর দালালরা তাদের টাকা মেরে দিয়েছেন কাজ করেনি দিনের পর দিন ঘুরিয়েছেন মানুষকে।

বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক স্বদেশ কুমার দাস বলেন, আমরা জনগণের সুবিধার জন্য আমাদের সমস্ত কার্যক্রম অনলাইনে করে দিয়েছি। যে কেউ নিজে নিজে আবেদন করে তারা সেবা নিতে পারে। জনগণকে একটু সতর্ক থাকতে হবে তারা যেন দালালের মাধ্যমে কাজ না করে। দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালনা করছি। মঙ্গলবার আমরা ১৩ জন দালালকে গ্রেপ্তার করেছি। কর্মকর্তারা জড়িত থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাই আমরা তাদের শোকজ করি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া বিআরটিএ অফিসের যে যে কর্মকর্তারা জড়িত আমরা তাদেরকে শোকজ করে সেকশন পরিবর্তন করে দিচ্ছি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
১৩২ বার পড়া হয়েছে

দালালেই মুশকিল আসান

আপডেট সময় ১০:৫৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ভাই কি লাগবে? ড্রাইভিং লাইসেন্স নাকি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন? আপনার কোনো কষ্ট করতে হবে না। আমরাই সব করে দিবো শুধু আইডি কার্ডের ফটোকপি আর মোবাইল নম্বরটা দিয়ে যাবেন। ডোপ টেস্ট, পরীক্ষায় পাসসহ বাকি সব কাজ আমরা করে দিবো। কথাগুলো বলছিলেন রাজধানী মিরপুরের বিআরটিএ অফিসের দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য। শুধু এই আনসার সদস্য নন, বিআরটিএ অফিসে এমন অনেক দালাল রয়েছেন যারা এখানে আসা সেবা প্রত্যাশীদের মুশকিল আসান করেন। এ জন্য তাদেরকে দিতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা।

রোববার দুপুর আড়াইটা। সেবাগ্রহীতাদের বসার স্থানে মাথায় টুপি ও পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তি অনেক কাগজ সত্যায়িত করছেন। তার পাশে দুই ব্যক্তি সে যে কাগজ চায় সেই কাগজ বের করে দিচ্ছেন। একটু পরেই বলছেন আমাকে আরও তিন হাজার টাকা দিতে হবে। গতকাল থেকে আপনাদের এই কাজে স্যারদের রুমে গিয়ে ফাইলগুলো নিয়ে আসছি। স্যাররা তো আর বিনা পয়সায় ফাইল দেয় না তাদের পেছনে খরচ করতে হয়।

রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্কেল অফিস। গাড়ি আর মানুষে সরগরম থাকে সকাল থেকে দুপুর। ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ নানা ধরনের সেবা নিতে প্রতিনিয়ত আসেন সেবাপ্রার্থীরা। এসেই পড়তে হয় ভোগান্তিতে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলেও সেবা গ্রহীতারা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তেন। সরকার পতনের পরেও কমেনি দালালদের দৌরাত্ম্য। অনেকে আবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। মঙ্গলবার দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর বিআরটিএ অফিসে অভিযান চালিয়ে ১৩ দালালকে গ্রেপ্তার করেছে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।

সরজমিন বিআরটিএ’র অফিসে গিয়ে পাওয়া গেছে নানা অভিযোগ। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ সেবাগ্রহীতাদের কাজ সহজ করার জন্য অনলাইনে কিছু সেবা দিয়ে থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই সেসব বিষয়ে খুব একটা জানেন না। তাছাড়া পেশাদার লাইসেন্স নেয়া বেশির ভাগ চালক অনলাইনে এসব সেবা নেয়ার বিষয়ে দক্ষ নয়। ফলে বিআরটিএ অফিসে এসে দালাল দিয়ে সব কাজ সারছেন। অনলাইনে করলেও বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে। সেখানেও বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে দালালদের টাকা দিয়ে কাজ সারছেন আবার অনেকে টাকা দিয়েও প্রতারিত হচ্ছেন। টাকা নিয়ে অনেক দালাল সেবা গ্রহীতাদের ঘোরাচ্ছেন, টাকা নেয়ার পর অনেকে হাওয়া হয়ে যাচ্ছেন। এসব দালালদের সঙ্গে যোগসাজশ আছে বিআরটিএ’র আনসার সদস্যদের। অভিযোগ রয়েছে, চাহিদামতো ঘুষ না দিলে কিংবা দালাল ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে লাইসেন্স প্রত্যাশীদের। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং ফিল্ড টেস্টে পাস করার পর নির্ধারিত ফি জমা পর্যন্ত চলে ঘুষের কারবার। আবার লিখিত পরীক্ষায় ফেল করলে কর্মকর্তার সুপারিশ হলে দিতে হয় না মৌখিক পরীক্ষা ও ফিল্ড টেস্ট। স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাতে মেসেজ চলে যায় পাসের। দালাল ধরলে পরীক্ষা ছাড়াই মেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স।

দুপুর সাড়ে ১২টায় পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তিকে ঘিরে রেখেছেন কয়েকজন। প্রথম দেখাতে মনে হবে তিনি হয়তো কোনো বিপদে পড়েছেন। কিন্তু তাকে ঘিরে আছেন দালাল চক্র। দালালরা তাকে বিভিন্ন প্রস্তাব দিচ্ছেন। কেউ বারো হাজারে লাইসেন্স করে দিবে কেউ দিবে তেরো হাজারে। পরিচয় গোপন করে মিরপুরে বিআরটিএ অফিসে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য কথা হয় আনসার সদস্য মেহেদীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ১৩ হাজার টাকা দিলে মিলবে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স। এতে পরীক্ষায় পাস না করলেও দেয়া হবে লাইসেন্স। তাছাড়া তারা ডোপ টেস্ট ও পাস করিয়ে দিবেন। শুধু প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেই হবে। এ ছাড়া মোটরযান রেজিস্ট্রেশন, গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন এসব আমরা করে দিতে পারি। কীভাবে করেন সেই সম্পর্কে তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের কন্ট্রাক্ট করা আছে। ফাইলগুলো দিলে উনারা সব করে দেয়।

আরেক দালাল তারেক প্রতিবেদককে হাঁটাহাঁটি করতে দেখে কাছে এসে বলেন, ভাই কি লাগবে? আপনার গাড়ির নাম্বার বসাবেন নাকি লাইসেন্স করাবেন। এই দালাল ১২ হাজার টাকায় পেশাদার লাইসেন্স করার প্রস্তাব দেয়। এ ছাড়া তিনি সব সমস্যা সমাধান করে দিবেন বলে আশ্বাস দেন। টাকা দিলেই তিনি বিআরটিএ’র সব সমস্যার সমাধান করে দেন। এ ছাড়া এ দালালের হাত রয়েছে বিআরটিএ’র নতুন লাইসেন্স তৈরি- নবায়ন, নতুন-পুরনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা পরিবর্তন, গাড়ি ও ড্রাইভিং স্কিল টেস্ট বিভাগেও। বিআরটিএ’র নিচতলায় ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সাভারের বাসিন্দা সাইফুলকে। নিজেই দালাল ছাড়া সব কাজ শেষ করে এসেছেন সেই কাঙ্ক্ষিত লাইসেন্সটি বুঝে নিতে। তিনি বলেন, ভাই এখানে প্রতিটা অলিগলিতে দালাল দিয়ে পরিপূর্ণ যেই জায়গায় যাবেন সব জায়গায় দালালদের আনাগোনা। আমি প্রথম দিন লার্নার লাইসেন্সের জন্য এসেছিলাম এখানের এক দালাল আমার কাছে দুই হাজার টাকা চাইছে শুধু লার্নার লাইসেন্সের জন্য। পরে আমি এখানের হেল্পডেস্ক থেকে তথ্য জেনে মাত্র ৫০০ টাকায় লার্নার এর জন্য আবেদন করেছি। এরপর নিজে নিজেই আবেদন করে পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স নিতে এসেছি। পরীক্ষা দেয়ার ১৫ দিন পরেই আমি ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পেয়েছি। তিনি বলেন, যারা সচেতন তাদের উচিত এখানে হেল্পডেস্ক থেকে তথ্য জেনে নিজে নিজে সব কাজ শেষ করা তাহলে কম খরচেই লাইসেন্স পাওয়া যাবে। এমনও দেখেছি অনেকে টাকা দেয়ার পর দালালরা তাদের টাকা মেরে দিয়েছেন কাজ করেনি দিনের পর দিন ঘুরিয়েছেন মানুষকে।

বিআরটিএ’র উপ-পরিচালক স্বদেশ কুমার দাস বলেন, আমরা জনগণের সুবিধার জন্য আমাদের সমস্ত কার্যক্রম অনলাইনে করে দিয়েছি। যে কেউ নিজে নিজে আবেদন করে তারা সেবা নিতে পারে। জনগণকে একটু সতর্ক থাকতে হবে তারা যেন দালালের মাধ্যমে কাজ না করে। দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালনা করছি। মঙ্গলবার আমরা ১৩ জন দালালকে গ্রেপ্তার করেছি। কর্মকর্তারা জড়িত থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাই আমরা তাদের শোকজ করি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া বিআরটিএ অফিসের যে যে কর্মকর্তারা জড়িত আমরা তাদেরকে শোকজ করে সেকশন পরিবর্তন করে দিচ্ছি।