অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধাচারণ করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উর্মি শাস্তি পেলেও বিসিকের রাসেদ অধরা!
বিশেষ প্রতিনিধি:
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নব্য ফ্যাসিবাদ আখ্যা দিয়ে নিজেন ফেসবুকে পোষ্ট দিয়েও সরকারী চাকুরীতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো: রাসেদুর রহমান রাসেদ। তিনি ছাত্র জীবনে ছাত্র লীগের নেতা ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। (১) নব্য ফ্যাসিবাদ পরিত্যাজ্য (২) লুটপাট, হিংসা, ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করে বন্যার্ত্যদের সাহায্য করুন এবং (৩) ২ ঘণ্টারও বেশী সময় বসে আছি ভোগরা বাসষ্ট্যান্ডে,গণতান্ত্রিক পরিবেশে! তিনি গত ১৯,২২ এবং ৩০ আগষ্ট তারিখে তার ফেসকুকের ওয়ালে এই তিনটি পোষ্ট দিয়েছেন। তার এই ৩টি পোষ্টই অর্ন্তবতীকালীন সরকারের অবাধ্যতা ও বিরুদ্ধাচারণের প্রমাণ বহন করে। স্বৈরাচার হাসিনার দোসর রাশেদুর রহমান এর তিনটি বিতর্কিত পোষ্ট জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবের আবু সাইদ, মুগ্ধ এবং নাম না জানা অজস্র শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন স্বাধীনতার সাথে তামাশা করারই নামান্তর।
এ ঘটনার পর গত ৩রা অক্টোবর ২০২৪ তারিখে তদন্ত ও বিভাগীয় শাস্তি দাবী শিরোনামে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এবং একজন সিনিয়র সাংবাদিক প্রকাশিত সংবাদের কার্টিংসহ বিসিক চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরও অদ্যাবধি (২০ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত) কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিসিক কর্তৃপক্ষ।
একই ধরনের অপরাধে তাপসী তাবাসসুম উর্মি নামক প্রশাসন ক্যাডারের একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রটকে সাময়িক বরখাস্ত করাসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয়েছে। অথচ বহাল তবিয়তে আছেন বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক রাশেদুর রহমান রাশেদ। দ‘ুজনের অপরাধ একই প্রকৃতির হলেও বিসিক কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান রাসেদকে ছাড় দেওয়া হয়েছে কি কারণে তা কারো বোধগম্য নয়। বিসিক প্রশাসনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দোসররা বহাল তবিয়তে থাকার কারণেই সহকারী মহাব্যবস্থাপক রাশেদুর রহমান রাসেদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি বা ব্যবস্থা নিতে অনাগ্রহী নন বিসিক প্রশাসন এমটিই মনে হচ্ছে।
একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়েও বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক রাশেদুর রহমান রাসেদ ১০ দিন বয়সী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে-নব্য ফ্যাসিবাদ মর্মে উল্লেখ করেছেন। ১৪ দিন বয়সী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে-লুটপাট, হিংসা, ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করে বন্যার্ত্যদের সাহায্য করুন মর্মে উল্লেখ করে পোষ্ট দিয়ে সরকারকে লুটপাটকারী, হিংসুক এবং ধ্বংসযজ্ঞকারী হিসাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন।
২০ দিন বয়সী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের-কাজে চরম উষ্মা প্রকাশ করেছেন গণতান্ত্রিক পরিবেশ লিখে আশ্চযর্ বোধক (!) চিহ্নটি দিয়ে। একজন সরকারী কর্মকর্তা হয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় তার এ ধরনের লেখা গুরুতর অসদাচরণ,রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবে শহীদ এবং আহত আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করার সমান। একইসাথে জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত গণহত্যার অন্যতম সমর্থকের পরিচয় বহন করে।
এতবড় একটা গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে বিসিক প্রশাসন কেন নিরব রয়েছে তা জানতে ফোন করা হয় সদ্য যোগদানকারী চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দীন আহাম্মদ খান ও পরিচালক (প্রশাসন) শ্যামলী নবীকে। তারা উভয়ই বলেন এটা তাদের জানা নেই। প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবেন।
অভিযুক্ত বিসিক কর্মকর্তা রাসেদুর রহমান রাসেদ প্রশিক্ষনে বিদেশে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার ফেসবুক পোষ্টের স্ক্রিণশার্ট আমাদের হাতে রয়েছে।











