০১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার অতিঘনিষ্ঠ সচিব জাকিয়া সুলতানা ও যুগ্ম সচিব নুরুল আমিন শিল্প মন্ত্রণালয়ে এখনো বহাল তবিয়তে কিভাবে?

প্রতিনিধির নাম:
  • স্টাফ রিপোর্টার
  1. স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন হলেও তার আস্থাভাজন আমলারা এখনো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারী দপ্তরে মহাদাপটের সাথে রয়েগেছেন। তারা ড. ইউনুসের অন্তর্বতীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য পাচার সহ নানা প্রকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রাপ্ত তথ্য মতে জাকিয়া সুলতানা ১৬ মে ২০২১ তারিখ হতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে কর্মরত আছেন। যা মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের বদলী নীতিমালার পরিপন্থী। বদলীর সাধারণ নীতি মালায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে যে, একই পদে ৩ বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার অব্যবহিত পূর্বেই মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও উহার অধীনস্থ দপ্তর/ পরিদপ্তসমূহের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণকে নতুন পদে/স্থানে বদলী করিতে হইবে।
    সূত্র ইডি/এস এ ১-১৩/৮৩-২৫৭(১০০) তারিখ: ১৩/৬/৮৩ইং। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার ব্যতিক্রম ঘটেছে। তাছাড়া স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের অন্যতম দোসর হলেন শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা এবং তার স্বামী অতিরিক্ত আইজিপি মো: আতিকুল ইসলাম। সরকার ইতোমধ্যে তার স্বামী মোঃ আতিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপিকে আওয়ামী সুবিধাভোগী হিসাবে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করেছে। অথচঃ শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা বহাল তবিয়তে আছেন। সরকারের সচিবদের মধ্যে জাকিয়া সুলতানাই একমাত্র ব্যক্তি যিনি তার বহু সিনিয়র সহকর্মীকে ডিঙ্গিয়ে সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন এবং দীর্ঘদিন সচিব পদে কর্মরত আছেন। যার মূলে ছিল স্বৈরাচার হাসিনার সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক।
    শিল্প সচিবের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশের চিনি শিল্পকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে শিল্প স্থাপন শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। যার দরুণ বেকারত্ব দিন দিন বাড়ছে। শিল্প স্থাপন প্রক্রিয়া একেবারেই স্থবির হয়ে পড়েছে। স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের চিহ্নিত ব্যক্তিদেরকে সুবিধা প্রদানে কুট-কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন এবং উপদেষ্টা মহোদয়ের নিকট মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করছেন।
    এ ছাড়া যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) মোঃ নুরুল আমিন খান উপ-সচিব পদে শিল্প মন্ত্রণালয়ে যোগদান করে ৩ বছরের অধিক সময় কর্মরত থাকার পর যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়েই পোষ্টিং নিয়েছেন গোপালগঞ্জের লোক হিসাবে। পরিকল্পনা শাখায় কর্মরত থাকার সুবাদে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থার নিয়ন্ত্রনাধীন প্রতিটি প্রকল্প থেকে ইচ্ছামত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন গোপালগঞ্জের দাপট দেখিয়ে। ২০২১ সালে সিরাজগঞ্জ শিল্প পার্ক প্রকল্পের ভেরিয়েশন কাজে ৫০ লক্ষ টাকা ঘূষ দাবী করেছিলেন এবং তদন্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। পরে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে অভিযোগ হতে অব্যাহতি পেয়েছেন। পরিকল্পনা সেলে কর্মরত থাকার সুবাদে বিসিকের ক্যামিকেল শিল্প পার্ক, মুন্সীগঞ্জ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হাফিজুর রহমান এবং বিসিকের ডিজিএম সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাশেদুর রহমান এর সাথে সখ্যতা গড়ে বিসিকের আওতাধীন প্রকল্প সমূহের টেন্ডার হতে নিয়মিত কমিশন আদায় করছেন। শিল্প মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশ্ন,আওয়ামী লীগের খাস লোক খ্যাত এবং সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী এই দুই আমলাকে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে অপসারণ করা হচ্ছে না কেন?
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
৬০৭ বার পড়া হয়েছে

শেখ হাসিনার অতিঘনিষ্ঠ সচিব জাকিয়া সুলতানা ও যুগ্ম সচিব নুরুল আমিন শিল্প মন্ত্রণালয়ে এখনো বহাল তবিয়তে কিভাবে?

আপডেট সময় ০১:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • স্টাফ রিপোর্টার
  1. স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন হলেও তার আস্থাভাজন আমলারা এখনো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারী দপ্তরে মহাদাপটের সাথে রয়েগেছেন। তারা ড. ইউনুসের অন্তর্বতীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য পাচার সহ নানা প্রকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রাপ্ত তথ্য মতে জাকিয়া সুলতানা ১৬ মে ২০২১ তারিখ হতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে কর্মরত আছেন। যা মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের বদলী নীতিমালার পরিপন্থী। বদলীর সাধারণ নীতি মালায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে যে, একই পদে ৩ বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার অব্যবহিত পূর্বেই মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও উহার অধীনস্থ দপ্তর/ পরিদপ্তসমূহের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণকে নতুন পদে/স্থানে বদলী করিতে হইবে।
    সূত্র ইডি/এস এ ১-১৩/৮৩-২৫৭(১০০) তারিখ: ১৩/৬/৮৩ইং। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার ব্যতিক্রম ঘটেছে। তাছাড়া স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের অন্যতম দোসর হলেন শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা এবং তার স্বামী অতিরিক্ত আইজিপি মো: আতিকুল ইসলাম। সরকার ইতোমধ্যে তার স্বামী মোঃ আতিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপিকে আওয়ামী সুবিধাভোগী হিসাবে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করেছে। অথচঃ শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা বহাল তবিয়তে আছেন। সরকারের সচিবদের মধ্যে জাকিয়া সুলতানাই একমাত্র ব্যক্তি যিনি তার বহু সিনিয়র সহকর্মীকে ডিঙ্গিয়ে সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন এবং দীর্ঘদিন সচিব পদে কর্মরত আছেন। যার মূলে ছিল স্বৈরাচার হাসিনার সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক।
    শিল্প সচিবের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশের চিনি শিল্পকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে শিল্প স্থাপন শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। যার দরুণ বেকারত্ব দিন দিন বাড়ছে। শিল্প স্থাপন প্রক্রিয়া একেবারেই স্থবির হয়ে পড়েছে। স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের চিহ্নিত ব্যক্তিদেরকে সুবিধা প্রদানে কুট-কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন এবং উপদেষ্টা মহোদয়ের নিকট মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করছেন।
    এ ছাড়া যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) মোঃ নুরুল আমিন খান উপ-সচিব পদে শিল্প মন্ত্রণালয়ে যোগদান করে ৩ বছরের অধিক সময় কর্মরত থাকার পর যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়েই পোষ্টিং নিয়েছেন গোপালগঞ্জের লোক হিসাবে। পরিকল্পনা শাখায় কর্মরত থাকার সুবাদে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থার নিয়ন্ত্রনাধীন প্রতিটি প্রকল্প থেকে ইচ্ছামত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন গোপালগঞ্জের দাপট দেখিয়ে। ২০২১ সালে সিরাজগঞ্জ শিল্প পার্ক প্রকল্পের ভেরিয়েশন কাজে ৫০ লক্ষ টাকা ঘূষ দাবী করেছিলেন এবং তদন্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। পরে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে অভিযোগ হতে অব্যাহতি পেয়েছেন। পরিকল্পনা সেলে কর্মরত থাকার সুবাদে বিসিকের ক্যামিকেল শিল্প পার্ক, মুন্সীগঞ্জ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হাফিজুর রহমান এবং বিসিকের ডিজিএম সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাশেদুর রহমান এর সাথে সখ্যতা গড়ে বিসিকের আওতাধীন প্রকল্প সমূহের টেন্ডার হতে নিয়মিত কমিশন আদায় করছেন। শিল্প মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশ্ন,আওয়ামী লীগের খাস লোক খ্যাত এবং সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী এই দুই আমলাকে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে অপসারণ করা হচ্ছে না কেন?