সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি বিসিকে: রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের আত্মীয়কে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করায় বিসিকে তোলপাড়!
বিশেষ প্রতিবেদক
শিল্প মন্ত্রণালয়ের ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখের একটি আদেশের মাধ্যমে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এর সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং পতিত আওয়ামীলীগের সময়কালে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সুবিধাভোগী জাফর বায়েজিদ নামক একজন কেসি রাজগঞ্জে অবস্থান করে মুন্সীগঞ্জে অবস্থিত বিসিক মুদ্রন শিল্পনগরী প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের আদেশ জারী করা হয়েছে। যার স্মারক নং-৩৬.০০.০০০০.০৮৫.১৪.০০৭.২২-৪৭ তাং ১৯/০৯/২০২৪। যে ব্যক্তি সিরাজগঞ্জ অবস্থান করে সিরাজগঞ্জ শিল্পপার্ক প্রকল্পের ভৌত নির্মান কাজ আজ অবধি শেষ করতে পারেন নি, তিনি সিরাজগঞ্জে অবস্থান করে মুন্সীগঞ্জস্থ মুদ্রন শিল্প নগরীর কাজ কিভাবে সম্পাদন করবেন-তা বাস্তবতার নিরীখে বিবেচনা যোগ্য। প্রসংগত উল্লেখ্য যে সিরাজগঞ্জ শিল্পপাকর্ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ এখনো ৪০ শতাংশ অসম্পূর্ণ আছে। একটি প্রকল্পের পূর্নাংগ প্রকল্প পরিচালককে আরেকটি প্রকল্পের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান প্রশ্নবিদ্ধ একটি ব্যাপারই বটে। সিরাজগঞ্জ হতে মুন্সীগঞ্জের দুরত্ব কম করে হলেও ২০০ কিলোমিটার। ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের আদেশ রহস্যেঘেরা একটি আদেশ। তা ছাড়া বিসিকের ১৯ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রস্তাব প্রেরণের তারিখেই শিল্প মন্ত্রণালয়ের আদেশ জারী উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত এবং এটি একটি সাজানো নাটক বলেই প্রতীয়মান হয়। স্বৈরাচারের দোসরদের সুবিধা প্রদানের উদ্দ্যেশ্যে অসংগতিপূর্ণ এ আদেশ জারী করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়।
অসংগতিপূর্ণ এ আদেশ যৌক্তিকতা এবং বাস্তবতা সহজেই অনুমেয়। স্বগোত্রের একজনকে সুবিধা প্রদানের জন্য এ ধরনের একটি আদেশ জারীর ব্যবস্থা করেছেন বিসিকের ৫ কুতুব, বিসিক ক্যামিকেল শিল্পপার্ক, মুন্সীগঞ্জ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান এবং বুয়েট ছাত্র লীগের নেতা মোঃ রাশেদুর রহমান। উক্ত দুজন বিসিকের টেন্ডার সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য এবং গোপালগঞ্জবাসী শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোঃ নুরুল আমিন খান এর বাসায় প্রতিদিনের বাজার সরবরাহকারী। যুগ্ম-সচিব নুরুল আমিন খানের মাধ্যমে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ম্যানেজ করে আদেশটি জারীর ব্যবস্থা করিয়েছে যাতে করে তারা প্রকল্পের সমুদয় টেন্ডার কাজ নির্বিঘেœ নিজেরা সম্পাদন করতে পারে। টেন্ডার সিন্ডিকেট সদস্যদের অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলে সিরাজগঞ্জে অবস্থান করে মুন্সীগঞ্জে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের একটি অসংগতিপূণর্ আদেশ কেন জারী করাবেন?
স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতন হলেও বিসিকে বহাল তবিয়তে আছে স্বৈরাচারী হাসিনার সুবিধাভোগী ব্যক্তিবর্গ। এ বিষয়ে বিগত ২৫শে আগষ্ট ২০২৪ তারিখে সবিস্তারে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে কোন প্রতিবাদ লিপি পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন সর্বাংশে সঠিক হলেও কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি সরকারের তরফ হতে।
অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বে-আইনী কার্যক্রম বিসিক পরিচালক পর্ষদের সদস্য সরকারের উপ-সচিব পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত কর্মকর্তাদের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের একজন মোঃ আব্দুল মতিন, যিনি বেনামে বিসিকের উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারী কাজের সাথে যুক্ত। মতিন সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হচ্ছেন মোঃ হাফিজুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক, বিসিক ক্যামিকেল শিল্পপার্ক, মুন্সীগঞ্জ। যিনি বিসিকে ৪ বছর চাকুরী করে বনে গেছেন কোটিপতি এবং যার বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। যার সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলে ২৪ অক্টোবর ২০২২ তারিখে বিসিকের পরিচালক (প্রকল্প) কর্তৃক জারীকৃত এক পত্রের মাধ্যমে।
হাফিজুর রহমান যিনি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের শিল্প মন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ তেলবাজ এবং ৭ জানুয়ারী ২০২৪ এর নির্বাচনের পরদিন নিজের সন্তান নিয়ে মনোহরদীস্থ সাবেক শিল্প মন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। বিষয়টি তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে নিজেই পোষ্ট দিয়ে সারা পৃথিবীকে জানান দিয়েছেন। মতিন সিন্ডিকেটের আরেকজন বিশিষ্ট সদস্য হচ্ছেন মোঃ রাশেদুর রহমান, সাবেক ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার পদস্থ নেতা। যিনি একনেক অনুমোদিত প্রকল্পের অংগভিত্তিক পরিমাণ কমিয়ে নিজের স্বেচ্ছাছারিতা ও তার ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। যার দরুন শিল্প মন্ত্রণালয় হতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিসিক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং সে আলোকে তাকে বদলী করা হলেও সাবেক শিল্প মন্ত্রীর টেলিফোনিক নির্দেশে তাকে আবার বিসিক প্রধান কার্যালয়ে বদলী করে আনা হয়।
মতিন সিন্ডিকেটের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট সদস্য হচ্ছে মোঃ মনির হোসেন, যিনি বুয়েট ছাত্রলীগ শাখার সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বা এজিএস। পরিচালক (প্রকল্প) মোঃ আব্দুল মতিন এর সাথে পারস্পারিক যোগসাজশে অন্য ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে নিজেরা কাজ করে এবং ঠিকাদারদের নিকট হতে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অল্প সময়ে বনে গেছেন কোটিপতি।
স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পরপর দেশের অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে পরিবর্তন এর ছোঁয়া লাগলেও বিসিকে বহাল তবিয়তে আছে মোঃ আব্দুল মতিন, হাফিজুর রহমান, রাশেদুর রহমান এবং মনির হোসেন গংরা। যারা স্বৈরাচারী সরকারের অন্যতম সমর্থক, সে সময়ের সুবিধাভোগী এবং স্বৈরাচারী মনোভাবাপন্ন ব্যক্তি। দেশের স্বার্থে দ্রত সংস্কার প্রয়োজন বিসিক নামক প্রতিষ্ঠানটিতে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এর সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় জাফর বায়েজিদ এর মুদ্রন শিল্পনগরীর প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালনের আদেশটি বাতিল বা রহিত করা প্রয়োজন। এরই সাথে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগীদের বর্তমান কর্মস্থল হতে প্রত্যাহারের নির্দেশনাও প্রয়োজন। স্বৈরাচারের দোসররা বহাল তবিয়তে থাকলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার সকল কৌশল প্রয়োগ করবে তারা-এটা ভুলে গেলে চলবেনা। সম্মানীত শিল্প উপদেষ্টা এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করবেন মর্মে প্রত্যাশা করেন সচেতন দেশবাসী।
এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি এখন মিটিং এ আছি, আপনি পরে কথা বলুন।











