০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের বর্তমান অফিসটি বরাদ্দ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান

প্রতিনিধির নাম:
রোস্তম মল্লিক
১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ এর ভয়ংকর দিনটি ছিল আমাদের জাতীয় ইতিহাস ওলট পালট করা এক টার্নিং পয়েন্ট। এর প্রান্ত সীমায় দাঁড়িয়ে তখন সম্ভবত কারো পক্ষেই কল্পনা করা সম্ভব ছিল না যে, মাত্র ২১ বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ আবার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন। অথচ তা সম্ভব হয়েছিল। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে একদা খন্ডবিখন্ড আওয়ামী লীগও ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতাপের সাথে সরকার পরিচালনা করেছিল প্রথমত ৫ বছর; অতঃপর এক টার্ম ইন্টারভেল দিয়ে আবার টানা ১৬ বছর ৭ মাস। শুধু তাই নয়, সরকারের শীর্ষ পদটিও নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল মুজিব পরিবার। ভবিতব্যের খেলা এটাই যে, সময়ের পথ পরিক্রমায় ফেলে যাওয়া ইতিহাস কখনো আবার ফিরে ফিরেও আসে।
সে যাই হোক, বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড এবং আওয়ামী লীগ নেতা মোশতাকের ৭৯ দিনের সরকার এক আঘাতে ভেঙে পড়লে নানা বিয়োগান্তক ঘটনার মধ্য দিয়ে এই দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছিল।
পরিবর্তিত সে পরিস্থিতিতে ছত্রভঙ্গ আওয়ামী লীগের হাল ধরতে এগিয়ে এসেছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, জেল হত্যার নির্মম শিকার প্রয়াত জাতীয় নেতা তাজউদ্দীনের সহধর্মিনী জোহরা তাজউদ্দীন। তিনি সারা দেশ ঘুরে ক্লান্তিহীন পরিশ্রমে আওয়ামী লীগ সংগঠিত করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর বাকশালে আওয়ামী লীগ ছিল অস্তিত্বহীন। তুমুল বিরুদ্ধ স্রোতের মুখে বেগম তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে খন্ডবিখন্ড অনিবন্ধিত আওয়ামী লীগ পূণরায় রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নতুন করে নিবন্ধিত হয়েছিল।
তখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিস ছিল নবাবপুর রোডে, এক কানাগলির ভেতর, বহু পুরনো দোতলা বাড়িতে।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক মেজর জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গনতন্ত্রের শ্লোগান অনুস্মরণে আওয়ামী লীগের জন্য বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের বর্তমান অফিসটি সরকারীভাবে বরাদ্দ দেন। এটি ছিল তার একটি অকল্পনীয় কাজ।
বিরূপ সময়ে এই অর্জনগুলো ছিল জহুরা তাজউদ্দীনের নেতৃত্বগুণের উজ্জল কারিশমা।
এই অজানা তথ্যটি এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে বহু আগে জানা হয়েছিল।
‘৮১ সালে শেখ হাসিনা স্বেচ্ছা-নির্বাসন থেকে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহন করেন। জোহরা তাজউদ্দীন একপ্রকার অন্তরালে চলে যান এবং অন্যতম শীর্ষ নেতা হলেও তাকে আর আগের মত সরব ভূমিকায় দেখা যায়নি। দল চলেছিল দলের মত; যারা ঝরে যাবার, তারা গিয়েছিলেন ঝরে। এটাই বিয়োগান্তক পরিনতি।
এখন আওয়ামী লীগ আবার ইতিহাসের শোচনীয় বিপর্যয়ের মুখে খাবি খাচ্ছে। মাসব্যাপী তুমুল ছাত্র আন্দোলনের মুখে বিগত ৫ আগষ্ট দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা পরিজনসহ দেশ ছেড়েছেন। নিরুদ্দেশ হয়েছেন দলের উপর-নিচের সকল নেতা-কর্মী। কবরের নিরবতা যেন আওয়ামী শিবিরে। মামলার পাহাড় জমতে শুরু করেছে শেখ হাসিনাসহ নেতা-কর্মীদের নামে।
আবার ছত্রভঙ্গ আওয়ামী লীগ, ঠিক যেন সাড়ে উনপঞ্চাশ বছর আগের চিত্র। এখন কি হবে; কে ধরবেন হাল আওয়ামী লীগের? এখন তো আর জোহরা তাজউদ্দীন নেই! তবে আছেন একজন সামনে দাঁড়ানোর। ক্ষণজন্মা রাজনীতিক দম্পতি তাজউদ্দীন এবং জোহরা তাজউদ্দীনের যোগ্য উত্তরসূরী, সাবেক এমপি ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মি. কমপ্লিট ক্লিন সোহেল তাজ। যদিও এই দলে তার অভিজ্ঞতা সুখের নয়; যেমন হয়েছিল তার পিতার, তার মায়ের এবং নিজের ক্ষেত্রেও।
একাত্তরে তাজউদ্দীন আহমেদ কেবল আওয়ামী লীগ নেতা নয়, তিনি হয়ে উঠেছিলেন জাতির কান্ডারী। জোহরা তাজউদ্দীনকে পঁচাত্তর পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ত্রাণকারিনীর ভূমিকায়। আর চলতি দুর্দিনে সোহেল তাজ হতে পারেন আওয়ামী লীগের রেসকিউ লিডার।
কি অদ্ভূত! যে দুর্জনেরা তাকে নগণ্য ভেবে যা খুশি তা করার হিম্মত দেখিয়ে আত্মপ্রসাদে ডগমগ হয়েছিল, তারা আজ হতোদ্যম, পলায়নপর। অথচ সোহেল তাজ সগৌরবে, সসম্মানে সচিবালয়ে ঢোকেন। সম্ভাবনা জিইয়ে রাখেন ঘুরে দাঁড়ারার। ঠিক যেন তার পিতার মত, মায়ের মত করে। আর এভাবেই বুঝি সময়ের বাঁকে বারবার ফিরে ফিরে আসে ইতিহাসের জলন্ত উপসংহার!
May be an image of 7 people, skyscraper, hospital and text
See insights
Boost a post
All reactions:

Riad Munna, Qatari Rajon and 6 others

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:১৭:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৪
২৪৩ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগের বর্তমান অফিসটি বরাদ্দ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান

আপডেট সময় ০৬:১৭:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৪
রোস্তম মল্লিক
১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ এর ভয়ংকর দিনটি ছিল আমাদের জাতীয় ইতিহাস ওলট পালট করা এক টার্নিং পয়েন্ট। এর প্রান্ত সীমায় দাঁড়িয়ে তখন সম্ভবত কারো পক্ষেই কল্পনা করা সম্ভব ছিল না যে, মাত্র ২১ বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধু পরিবারের কেউ আবার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন। অথচ তা সম্ভব হয়েছিল। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে একদা খন্ডবিখন্ড আওয়ামী লীগও ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতাপের সাথে সরকার পরিচালনা করেছিল প্রথমত ৫ বছর; অতঃপর এক টার্ম ইন্টারভেল দিয়ে আবার টানা ১৬ বছর ৭ মাস। শুধু তাই নয়, সরকারের শীর্ষ পদটিও নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল মুজিব পরিবার। ভবিতব্যের খেলা এটাই যে, সময়ের পথ পরিক্রমায় ফেলে যাওয়া ইতিহাস কখনো আবার ফিরে ফিরেও আসে।
সে যাই হোক, বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড এবং আওয়ামী লীগ নেতা মোশতাকের ৭৯ দিনের সরকার এক আঘাতে ভেঙে পড়লে নানা বিয়োগান্তক ঘটনার মধ্য দিয়ে এই দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছিল।
পরিবর্তিত সে পরিস্থিতিতে ছত্রভঙ্গ আওয়ামী লীগের হাল ধরতে এগিয়ে এসেছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, জেল হত্যার নির্মম শিকার প্রয়াত জাতীয় নেতা তাজউদ্দীনের সহধর্মিনী জোহরা তাজউদ্দীন। তিনি সারা দেশ ঘুরে ক্লান্তিহীন পরিশ্রমে আওয়ামী লীগ সংগঠিত করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর বাকশালে আওয়ামী লীগ ছিল অস্তিত্বহীন। তুমুল বিরুদ্ধ স্রোতের মুখে বেগম তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে খন্ডবিখন্ড অনিবন্ধিত আওয়ামী লীগ পূণরায় রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নতুন করে নিবন্ধিত হয়েছিল।
তখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিস ছিল নবাবপুর রোডে, এক কানাগলির ভেতর, বহু পুরনো দোতলা বাড়িতে।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক মেজর জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গনতন্ত্রের শ্লোগান অনুস্মরণে আওয়ামী লীগের জন্য বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের বর্তমান অফিসটি সরকারীভাবে বরাদ্দ দেন। এটি ছিল তার একটি অকল্পনীয় কাজ।
বিরূপ সময়ে এই অর্জনগুলো ছিল জহুরা তাজউদ্দীনের নেতৃত্বগুণের উজ্জল কারিশমা।
এই অজানা তথ্যটি এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে বহু আগে জানা হয়েছিল।
‘৮১ সালে শেখ হাসিনা স্বেচ্ছা-নির্বাসন থেকে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহন করেন। জোহরা তাজউদ্দীন একপ্রকার অন্তরালে চলে যান এবং অন্যতম শীর্ষ নেতা হলেও তাকে আর আগের মত সরব ভূমিকায় দেখা যায়নি। দল চলেছিল দলের মত; যারা ঝরে যাবার, তারা গিয়েছিলেন ঝরে। এটাই বিয়োগান্তক পরিনতি।
এখন আওয়ামী লীগ আবার ইতিহাসের শোচনীয় বিপর্যয়ের মুখে খাবি খাচ্ছে। মাসব্যাপী তুমুল ছাত্র আন্দোলনের মুখে বিগত ৫ আগষ্ট দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা পরিজনসহ দেশ ছেড়েছেন। নিরুদ্দেশ হয়েছেন দলের উপর-নিচের সকল নেতা-কর্মী। কবরের নিরবতা যেন আওয়ামী শিবিরে। মামলার পাহাড় জমতে শুরু করেছে শেখ হাসিনাসহ নেতা-কর্মীদের নামে।
আবার ছত্রভঙ্গ আওয়ামী লীগ, ঠিক যেন সাড়ে উনপঞ্চাশ বছর আগের চিত্র। এখন কি হবে; কে ধরবেন হাল আওয়ামী লীগের? এখন তো আর জোহরা তাজউদ্দীন নেই! তবে আছেন একজন সামনে দাঁড়ানোর। ক্ষণজন্মা রাজনীতিক দম্পতি তাজউদ্দীন এবং জোহরা তাজউদ্দীনের যোগ্য উত্তরসূরী, সাবেক এমপি ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মি. কমপ্লিট ক্লিন সোহেল তাজ। যদিও এই দলে তার অভিজ্ঞতা সুখের নয়; যেমন হয়েছিল তার পিতার, তার মায়ের এবং নিজের ক্ষেত্রেও।
একাত্তরে তাজউদ্দীন আহমেদ কেবল আওয়ামী লীগ নেতা নয়, তিনি হয়ে উঠেছিলেন জাতির কান্ডারী। জোহরা তাজউদ্দীনকে পঁচাত্তর পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ত্রাণকারিনীর ভূমিকায়। আর চলতি দুর্দিনে সোহেল তাজ হতে পারেন আওয়ামী লীগের রেসকিউ লিডার।
কি অদ্ভূত! যে দুর্জনেরা তাকে নগণ্য ভেবে যা খুশি তা করার হিম্মত দেখিয়ে আত্মপ্রসাদে ডগমগ হয়েছিল, তারা আজ হতোদ্যম, পলায়নপর। অথচ সোহেল তাজ সগৌরবে, সসম্মানে সচিবালয়ে ঢোকেন। সম্ভাবনা জিইয়ে রাখেন ঘুরে দাঁড়ারার। ঠিক যেন তার পিতার মত, মায়ের মত করে। আর এভাবেই বুঝি সময়ের বাঁকে বারবার ফিরে ফিরে আসে ইতিহাসের জলন্ত উপসংহার!
May be an image of 7 people, skyscraper, hospital and text
See insights
Boost a post
All reactions:

Riad Munna, Qatari Rajon and 6 others