কিভাবে চলছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়? দুদকের একটি চিঠি সচিবালয় হতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে যেতে সময় লেগেছে ১ বছর ৬ মাস!
রোস্তম মল্লিক
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে বিশ্ব ব্যাংক সাহায্যপুষ্ঠ এলডিডিপি প্রকল্পে কিছু সুনির্দিষ্ঠ দুর্নীতির অভিযোগ এবং দায়ী ডিপিডি ডা: সাকিফ আল আজম, ডিপিডি ডা: মুস্তানুর ও সিটিসি ডা: গোলাম রব্বানীর দূনীতির বিষয়ে তদন্ত করার জন্য একই দপ্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা বিগত ০১/১১/২২ ইং তারিখে সকল প্রমানিক কাগজপত্রাদি সহ দুদুকের চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগ করে। দুদক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে বিগত ১৭/০১/২৩ ইং তারিখে ২০৭৫ সংখ্যক স্বারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে।
বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, প্রকল্পের সিটিসির সাথে মন্ত্রণালয়ের একটি চক্রের খুব ভাল সদ্ভাব রয়েছে। প্রকল্পের অনিয়ম/দুর্নীতির বিষয়ে কোন অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে গেলেই ঐ কর্মকর্তাবৃন্দ সিটিসি ডা: গোলাম রব্বানীকে খবর দেয় এবং বুঝাপড়ার পরে অভিযোগগুলি রব্বানীকে গায়েব করে দেয়।
সুত্র মতে, এক্ষেত্রেও দুদুকের চিঠির বিষয়টি ডা: রাব্বানীকে জানানো হয় । তখন ডা: রব্বানী মন্ত্রনালয়কে ম্যানেজ করে চিঠিটা ধামা চাপা দিয়ে রাখেন। কিন্তু দুদকের কাছে পত্রের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেই বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। মন্ত্রণালয় তখন তড়িঘড়ি করে যাবতীয় সংযুক্তি সহ দীর্ঘ ১ বছর ৬ মাস ৮ দিন (৫৫৩ দিন) পরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে।
সে প্রক্ষিতে ডিজি প্রাণিসম্পদ বিগত ১৬/০৭/২৪ ইং তারিখে অধিদপ্তরের চীফ, পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন কোষকে তদন্ত করে ৭ (সাত) দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। কিন্তু ৭ দিনের জায়গায় ১৪ দিন পার হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা এখনও প্রতিবেদন দাখিল করেন নি।
অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগটি তামাদি করার উদ্দেশ্যেই মন্ত্রণালয় নিজেরা তদন্ত না করে অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছে। আর অধিদপ্তর যেনতেনভাবে সরোজমিনে তদন্ত না করেই অভিযুক্তদের নিকট হতে পক্ষে কিছু কাগজপত্র নিয়েই অভিযোগ প্রমানিত হয়নি মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে। পূর্বেও এমন অনেক কাজ করা হয়েছে।
এখন অনেকের প্রশ্ন দুদকের মত সংবেদনশীল দপ্তরের চিঠি কি জন্য কার স্বার্থে ১ বছর ৬ মাস ৮ দিন (৫৫৩) দিন ফেলে রাখা হয়েছিল এবং অভিযোগটি মন্ত্রণালয় কর্তৃক তদন্ত না করে দুদকের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কেন অধিদপ্তরে প্রেরন করা হলো?
দুদকের চিঠি গায়েব চক্রের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়নি মন্ত্রণালয় তার কোন সদুত্তোর পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে একজন সাবেক সচিবের সাথে কথা বললে তিনি জানান, দুদকের চিঠি যারা ১ বছর ৬ মাস গায়েব করে রেখেছিলেন তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন বা তদন্ত কমিটি গ্রহন করার প্রয়োজন ছিলো। এটা না করে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রালয়ের সচিবের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার নাগাল পাওয়া যায়নি।











