০৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পারিবারিক সিন্ডিকেটের হাতে ১৮৮ কোটি টাকা : সোনালী লাইফের অর্থ আত্মসাৎ-পাচার

প্রতিনিধির নাম:

সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূলধন বৃদ্ধির নামে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও বীমা কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের পরিবারের একাধিক সদস্যকে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে টাকা ছাড়াই শেয়ার ইস্যু করে পরিচালক করা হয়। পরবর্তীকালে এ বীমা কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা অর্থ এফডিআর দেখিয়ে একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়। এই টাকা আবার পরিচালকদের শেয়ার কেনার মূল্য হিসেবে প্রদর্শন করা হয়। এরপর বিধিবহির্ভূতভাবে এই পরিবারের সাত সদস্য সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তহবিল থেকে মোট ১৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা তাদের বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেন। এসব অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. রাকিবুল হায়াত বাদী হয়ে গোলাম কুদ্দুসসহ আটজনের নামে মামলা করেন বলে কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

বীমা কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মোস্তাফা গোলাম কুদ্দুস ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- তার স্ত্রী ও পরিচালক ফজলুতুন নেসা, মেয়ে পরিচালক ফৌজিয়া কামরুন তানিয়া, ছেলে ও পরিচালক মোস্তফা কামরুস সোবহান, পুত্রবধূ ও পরিচালক শাফিয়া সোবহান চৌধুরী, ছোট মেয়ে ও পরিচালক তাসনিয়া কামরুন অনিকা, জামাতা ও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদ বিন আনাম এবং আরেক পরিচালক নূর-ই-হাফজা (সাবেক চেয়ারম্যান)।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৮ সালে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূলধন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালকদের মধ্যে প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তী সময় গোলাম কুদ্দুস পরিবারের সদস্যদের নামে ৯ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার ইস্যু করা হয়। পরে সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ঋণ হিসাব খুলে বীমা কোম্পানির বিনিয়োগ এফডিআর দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করে এই টাকা থেকে শেয়ার ক্রয়ের মূল্য হিসেবে প্রদর্শন করা হয়।

এ ছাড়া বীমা কোম্পানির জমি/ভবন ক্রয়ের অগ্রিম দেখিয়ে গোলাম কুদ্দুসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে ১৪১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা প্রদান, নিজ পরিবারের সদস্য পরিচালকদের অবৈধ মাসিক বেতন বাবদ ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা, নিজ প্রতিষ্ঠানকে সোয়েটার ক্রয়, আপ্যায়ন, ইআরপি মেইনটেন্যান্স বাবদ ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, অবৈধভাবে বিলাসবহুল অডি কার কেনা বাবদ ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পরিবারের সদস্য পরিচালকদের অতিরিক্ত ডিভিডেন্ড প্রদান বাবদ ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, বিদেশে নিজের চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, ভ্রমণ ব্যয় বাবদ ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, গ্রুপ বীমা পলিসি থেকে অবৈধ কমিশন বাবদ ৯ লাখ টাকা, ঋণ সমন্বয়, অনুদান, ব্যক্তিগত এসি কেনা, কোরবানির গরু কেনা ইত্যাদি নামে ব্যয় বাবদ ৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, অফিস ভাড়ার নামে নিজের প্রতিষ্ঠানে আইটিকে প্রদান ১১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে সোয়েটার ও স্পিনিং মিলের ট্যাক্স পরিশোধ বাবদ ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকাসহ আসামিরা মোট ১৮৭ কোটি ৮৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এ অভিযোগ আনা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৩:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪
৯৭ বার পড়া হয়েছে

পারিবারিক সিন্ডিকেটের হাতে ১৮৮ কোটি টাকা : সোনালী লাইফের অর্থ আত্মসাৎ-পাচার

আপডেট সময় ০৩:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪

সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূলধন বৃদ্ধির নামে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও বীমা কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের পরিবারের একাধিক সদস্যকে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে টাকা ছাড়াই শেয়ার ইস্যু করে পরিচালক করা হয়। পরবর্তীকালে এ বীমা কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা অর্থ এফডিআর দেখিয়ে একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়। এই টাকা আবার পরিচালকদের শেয়ার কেনার মূল্য হিসেবে প্রদর্শন করা হয়। এরপর বিধিবহির্ভূতভাবে এই পরিবারের সাত সদস্য সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তহবিল থেকে মোট ১৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা তাদের বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেন। এসব অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. রাকিবুল হায়াত বাদী হয়ে গোলাম কুদ্দুসসহ আটজনের নামে মামলা করেন বলে কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

বীমা কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মোস্তাফা গোলাম কুদ্দুস ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- তার স্ত্রী ও পরিচালক ফজলুতুন নেসা, মেয়ে পরিচালক ফৌজিয়া কামরুন তানিয়া, ছেলে ও পরিচালক মোস্তফা কামরুস সোবহান, পুত্রবধূ ও পরিচালক শাফিয়া সোবহান চৌধুরী, ছোট মেয়ে ও পরিচালক তাসনিয়া কামরুন অনিকা, জামাতা ও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদ বিন আনাম এবং আরেক পরিচালক নূর-ই-হাফজা (সাবেক চেয়ারম্যান)।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৮ সালে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূলধন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালকদের মধ্যে প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তী সময় গোলাম কুদ্দুস পরিবারের সদস্যদের নামে ৯ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার ইস্যু করা হয়। পরে সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ঋণ হিসাব খুলে বীমা কোম্পানির বিনিয়োগ এফডিআর দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করে এই টাকা থেকে শেয়ার ক্রয়ের মূল্য হিসেবে প্রদর্শন করা হয়।

এ ছাড়া বীমা কোম্পানির জমি/ভবন ক্রয়ের অগ্রিম দেখিয়ে গোলাম কুদ্দুসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে ১৪১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা প্রদান, নিজ পরিবারের সদস্য পরিচালকদের অবৈধ মাসিক বেতন বাবদ ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা, নিজ প্রতিষ্ঠানকে সোয়েটার ক্রয়, আপ্যায়ন, ইআরপি মেইনটেন্যান্স বাবদ ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, অবৈধভাবে বিলাসবহুল অডি কার কেনা বাবদ ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পরিবারের সদস্য পরিচালকদের অতিরিক্ত ডিভিডেন্ড প্রদান বাবদ ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, বিদেশে নিজের চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, ভ্রমণ ব্যয় বাবদ ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, গ্রুপ বীমা পলিসি থেকে অবৈধ কমিশন বাবদ ৯ লাখ টাকা, ঋণ সমন্বয়, অনুদান, ব্যক্তিগত এসি কেনা, কোরবানির গরু কেনা ইত্যাদি নামে ব্যয় বাবদ ৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, অফিস ভাড়ার নামে নিজের প্রতিষ্ঠানে আইটিকে প্রদান ১১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে সোয়েটার ও স্পিনিং মিলের ট্যাক্স পরিশোধ বাবদ ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকাসহ আসামিরা মোট ১৮৭ কোটি ৮৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এ অভিযোগ আনা হয়।