১২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রীকে বিপদে ফেলার অভিসন্ধি: কর্মচারী নিয়োগে উচ্চ আদালতের নির্দেশ মানছে না প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর!

প্রতিনিধির নাম:

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে মোট ৬৩৮ টি পদে ৩য় শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগের জন্য বিগত ১৭/৭/২৪ ইং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। উক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত এনএটিপি (ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রকল্প) প্রকল্পের ১২৮ জন কর্মচারী (ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট) উক্ত শুন্য পদের বিপরীতে তাদের নিয়োগ প্রদানের জন্য পূর্বে দাখিলকৃত রীট পিটিশন নং-৭২০০/২৩ এর সুত্রে আালতের নির্দেশনা চেয়ে মাননীয় উচ্চ আদালতে আবেদন করেন রীটকারীর আইনজীবি। আবেদনটি শুনানী শেষে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিন্নাত হকের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ বিগত ২৯/৫/২৪ইং তারিখে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ৫৪টি ক্যাশিয়ার এবং অফিস সহকারী কাম কমপিউটার টাইপিষ্ট এর ৪৩১টি পদ হতে ৭৪টি পদ সংরক্ষন করার জন্য আদেশ প্রদান করে।

বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন ডা: মলয় কুমার শূর, কমিটির সদস্য সচিব এবং অধিদপ্তরের উপ পরিচালক প্রশাসন ডা: পল্লব কুমার দত্ত অবহিত হওয়ার পরেও হাইকোটের আদেশ উপেক্ষা করে ৫৪টি ক্যাশিয়ার ও ৪৩১টি অফিস সহকারী কাম কমপিউটার টাইপিষ্ট এর পদ সহ সকল পদে লিখিত পরীক্ষা গ্রহনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং আগামী ১৯/৭/২৪ ইং তারিখে ঢাকা শহরের ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা গ্রহনের লক্ষে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন বলে চাকুরী প্রাথীরা নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য যে, কোটা আন্দোলনের বিষয়টি নিষ্পন্ন না হওয়া এবং বর্তমান দেশের যোগাযোগ অবস্থার অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে নিয়োগের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটি অধিদপ্তরকে সুপারিশ করলেও সেটি আমলে নেয়নি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

সুত্র মতে প্রায় ১,২০,০০০ চাকুরী প্রার্থী আবেদন করেছিল এবং যাচাই/বাছাই এর পরে প্রায় ১,০৬,৬০০ জন প্রাথীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রবেশ পত্র ইস্যু করা হয়েছে। আলোচ্য নিয়োগে প্রায় ১.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে নিয়োগ কমিটিকে। সে হিসাবে ৬৩৮টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য প্রতিটি পদের বিপরীতে খরচ হবে ২৩,৫১০/ টাকা যা অবিশ্বাস্য।
অন্যদিকে হাইকোর্টে রীটকারী চাকুরী প্রাথীরা ৫৪টি ক্যাশিয়ার এবং ৭৪টি অফিস সহকারী কাম কমপিউটার টাইপিষ্ট এর পদ খালী রেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রাখার জন্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক প্রশাসন, উপ পরিচালক প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছে এবং ব্যতিক্রম হলে আদালত অবমাননার মামলা করবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছে।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি তিনি অবহিত নন। তিনি আরো জানান, উচ্চ আদালতের কোন নির্দেশনা থাকলে সেটি অবশ্যই অনুস্মরন করা হবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি ডা: মলয় কুমার শূরের সাথে মোবাইলে কথা বলা হয়। তাকে আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদ সংরক্ষন করা আছে। তখন ৫৪ ক্যাশিয়ার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র ইস্যু করার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি কোন সদুত্তোর না দিয়েই লাইন কেটে দেন। নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও অধিদপ্তরের উপ পরিচালক প্রশাসন ডা: পল্লব কুমার দত্তের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আদালতের বিষয়টি তিনি অবহিত আছেন এবং নিয়োগ কমিটিতে আলোচনাও করা হয়েছে। এখানে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার তার নেই।

এ বিষয়ে অধিদপ্তরের একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, নিয়োগ কমিটির সভাপতি ডা: মলয় কুমার শূর মন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। তিনি কোন নিয়মের ধার ধারেন না এমনকি উচ্চ আদালতকেও তিনি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন। এতে করে মন্ত্রী মহোদয় বিপদে পড়তে পারেন।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, নিয়োগ কমিটির সভাপতি সহ একাধিক সদস্য অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে নিয়োগের কাজটি শেষ করতে চাচ্ছেন। এ জন্য কোন নিয়ম কানুন ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নেপথ্যে তাদের কোন অসত উদ্দেশ্য রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সকলেই প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৫৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪
৭৪৭ বার পড়া হয়েছে

মন্ত্রীকে বিপদে ফেলার অভিসন্ধি: কর্মচারী নিয়োগে উচ্চ আদালতের নির্দেশ মানছে না প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর!

আপডেট সময় ০৯:৫৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে মোট ৬৩৮ টি পদে ৩য় শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগের জন্য বিগত ১৭/৭/২৪ ইং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। উক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত এনএটিপি (ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রকল্প) প্রকল্পের ১২৮ জন কর্মচারী (ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট) উক্ত শুন্য পদের বিপরীতে তাদের নিয়োগ প্রদানের জন্য পূর্বে দাখিলকৃত রীট পিটিশন নং-৭২০০/২৩ এর সুত্রে আালতের নির্দেশনা চেয়ে মাননীয় উচ্চ আদালতে আবেদন করেন রীটকারীর আইনজীবি। আবেদনটি শুনানী শেষে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিন্নাত হকের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ বিগত ২৯/৫/২৪ইং তারিখে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ৫৪টি ক্যাশিয়ার এবং অফিস সহকারী কাম কমপিউটার টাইপিষ্ট এর ৪৩১টি পদ হতে ৭৪টি পদ সংরক্ষন করার জন্য আদেশ প্রদান করে।

বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন ডা: মলয় কুমার শূর, কমিটির সদস্য সচিব এবং অধিদপ্তরের উপ পরিচালক প্রশাসন ডা: পল্লব কুমার দত্ত অবহিত হওয়ার পরেও হাইকোটের আদেশ উপেক্ষা করে ৫৪টি ক্যাশিয়ার ও ৪৩১টি অফিস সহকারী কাম কমপিউটার টাইপিষ্ট এর পদ সহ সকল পদে লিখিত পরীক্ষা গ্রহনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং আগামী ১৯/৭/২৪ ইং তারিখে ঢাকা শহরের ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা গ্রহনের লক্ষে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন বলে চাকুরী প্রাথীরা নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য যে, কোটা আন্দোলনের বিষয়টি নিষ্পন্ন না হওয়া এবং বর্তমান দেশের যোগাযোগ অবস্থার অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে নিয়োগের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটি অধিদপ্তরকে সুপারিশ করলেও সেটি আমলে নেয়নি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

সুত্র মতে প্রায় ১,২০,০০০ চাকুরী প্রার্থী আবেদন করেছিল এবং যাচাই/বাছাই এর পরে প্রায় ১,০৬,৬০০ জন প্রাথীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রবেশ পত্র ইস্যু করা হয়েছে। আলোচ্য নিয়োগে প্রায় ১.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে নিয়োগ কমিটিকে। সে হিসাবে ৬৩৮টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য প্রতিটি পদের বিপরীতে খরচ হবে ২৩,৫১০/ টাকা যা অবিশ্বাস্য।
অন্যদিকে হাইকোর্টে রীটকারী চাকুরী প্রাথীরা ৫৪টি ক্যাশিয়ার এবং ৭৪টি অফিস সহকারী কাম কমপিউটার টাইপিষ্ট এর পদ খালী রেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রাখার জন্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক প্রশাসন, উপ পরিচালক প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছে এবং ব্যতিক্রম হলে আদালত অবমাননার মামলা করবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছে।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি তিনি অবহিত নন। তিনি আরো জানান, উচ্চ আদালতের কোন নির্দেশনা থাকলে সেটি অবশ্যই অনুস্মরন করা হবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি ডা: মলয় কুমার শূরের সাথে মোবাইলে কথা বলা হয়। তাকে আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদ সংরক্ষন করা আছে। তখন ৫৪ ক্যাশিয়ার পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র ইস্যু করার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি কোন সদুত্তোর না দিয়েই লাইন কেটে দেন। নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও অধিদপ্তরের উপ পরিচালক প্রশাসন ডা: পল্লব কুমার দত্তের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আদালতের বিষয়টি তিনি অবহিত আছেন এবং নিয়োগ কমিটিতে আলোচনাও করা হয়েছে। এখানে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার তার নেই।

এ বিষয়ে অধিদপ্তরের একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, নিয়োগ কমিটির সভাপতি ডা: মলয় কুমার শূর মন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। তিনি কোন নিয়মের ধার ধারেন না এমনকি উচ্চ আদালতকেও তিনি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন। এতে করে মন্ত্রী মহোদয় বিপদে পড়তে পারেন।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, নিয়োগ কমিটির সভাপতি সহ একাধিক সদস্য অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে নিয়োগের কাজটি শেষ করতে চাচ্ছেন। এ জন্য কোন নিয়ম কানুন ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নেপথ্যে তাদের কোন অসত উদ্দেশ্য রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সকলেই প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।