এক পিডিকে একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব না দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের পর প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেইসাথে এক পিডিকে একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব না দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। (২ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব সত্যজিত কর্মকার। এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুস সালাম ও প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে সচিব বলেন, ঢাকার আশপাশে কৃষি জমি দেখা যায় আবাসন কাজ হচ্ছে। যেখানে কিছু জমি আছে কৃষি কাজ যেন ব্যহত না হয় সেই উদ্যোগ নিতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ বিশেষভাবে দেখতে হবে। পুনর্বাসন কঠিন কাজ। তিন ফসলি এলাকায় প্রকল্প নেওয়া যাবে না কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য। বাজেট বাস্তবায়ন সুচারো করতে হবে। শেষ মুহূর্তে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্পের কী অবস্থা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে সত্যজিত কর্মকার বলেন, দেশের আবহাওয়া পরিবেশগত যে ধারণা বা অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে বন্যা হতে পারে। সেরকম পূর্বাভাসও পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে, সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
সত্যজিত কর্মকার বলেন, পুলিশের থানার অবস্থা বেহাল। যারা আমাদের নিরাপত্তা দেয় তারা যদি অনিরাপদ থাকে তাহলে তারা কীভাবে নিরাপত্তা দেবে। এজন্য দেশের সব ঝুঁকিপূর্ণ থানা উন্নয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বাজেট দেওয়ার সময় বৃষ্টি হয় কাজ করা যায় না। এই সময়ে প্রস্তুতিমূলক ও পেপার কাজ শেষ করে বৃষ্টি থামার পর মূল কাজ করতে পারি সেই উদ্যোগ নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি অধিকাংশ চলে যাচ্ছে আবাসন প্রকল্পের জন্য। তবে যেসব জমি এখনও আছে সেগুলো যাতে ফাঁকা পড়ে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেসব এলাকায় তিন ফসলি বা দো ফসলি জমিতে ফসল ভাল হয় সেসব এলাকায় প্রকল্প নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, ‘যোগ করেন সচিব’।
ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী চলতি অর্থবছরে প্রথম তিন মাসে প্রকল্পের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, যেহেতু বৃষ্টির কারণে মাঠে প্রকল্পের কাজ করা যায় না সেজন্য কাগুজে প্রস্তুতি শেষ করতে হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কাজের মান নিশ্চিত করতে সবারই দায়িত্ব আছে। আগামী ৪ জুন সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের নিয়ে বৈঠক করা হবে। যাতে প্রকল্পের কাজ দ্রুত হয়। এ বিষয়গুলো লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। ২০৪১ সালের দিকে উন্নয়নশীল দেশে চলে আসব আমরা। এজন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. এমদাদউল্লাহ মিয়ান, কৃষি, পানি পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) আব্দুল বাকী এবং তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।











