মাগুরায় ক্যান্সারে আক্রান্ত বোনকে পিতার সম্পত্তির ভাগ দিচ্ছে না সৎ ভাইয়েরা!
মাগুরা প্রতিনিধি
চিকিৎসার অভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাওয়া এক কন্যা পিতার সম্পত্তির ভাগ চেয়ে শত আবেদন করেও কোন সমাধান না পেয়ে মাগুরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
তাকে পৈত্রিক সম্পতির ভাগ বুঝে দিলে তিনি সেই সম্পত্তি বিক্রি করে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা করাতে পারবেন বলে বাসনা প্রকাশ করেছেন।
কিন্তু তার সৎ ভাইদের দখলে থাকা সম্পত্তি তিনি কোন ভাবেই আদায় করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে মানবিক কারণে তিনি মাগুরার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায় বিচার চেয়েছেন।
ক্যান্সার আক্রান্ত শিউলি তার লিখিত আবেদনে জানিয়েছেন,
“আমি বাঁচার আকুতিতে আমার পৈত্রিক স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অংশ বুঝে পেতে চাই।
তার ভাষ্যমতে,
আমি শিউলী পারভীন, পিতা- মৃত মোঃ হাশেম আলী মোল্যা, সাং শেহলাডাঙ্গা, ডাকঘর- হাট জগদল, উপজেলা- মাগুরা সদর, জেলা- মাগুরা।
আমি দীর্ঘ ৬ বৎসর যাবৎ দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, ঢাকাতে চিকিৎসাধীন আছি।
আমার স্বামী ও আমার বড় ভাই আমার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করে আসছেন।
বর্তমান অবস্থায় তাদের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে আমার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আমার পিতা মৃতু বরণ করেছেন ০৯/১১/২০২২ ইং ভাইয়েদের নিকট সম্পত্তির সঠিক বন্টনের আবেদন করি। কিন্তু আমার বড় ভাই বাদে আর যে দুই ভাই আছে আব্দুল হান্নান (স্বাস্থ্য সহকারী, মাগুরা সদর, মাগুরা) ও আব্দুল মান্নান (ইমাম, শেহলাডাঙ্গা জামে মসজিদ) তারা সম্পত্তি ভাগাভাগি করতে তালবাহানা করে সময়ক্ষেপ করছেন।
এতে করে অর্থের অভাবে আমার উন্নত চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। আমার বড় ভাই বাদে ঐ দুই ভাই পিতার জীবদ্দশায় সুস্থ্য ও অসুস্থ অবস্থায় সরকারি বিধি বহির্ভুতভাবে আমাদের অজান্তে জমি জমা সহ স্থাবর- অস্থাবর ও বাবার গচ্ছিত অর্থ আত্মসাৎ করে।
যা গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অবগত আছেন।
এমতাবস্থায় আমি উক্ত পৈত্রিক স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির সঠিক বন্টনের জন্য আবেদন করছি।
অতএব, মহোদয় সমীপে আমার আকুল আবেদন আমি যাহাতে আমার পৈত্রিক স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি পেয়ে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারি সে ব্যবস্থা করতে সদয় মর্জি হয়।
বিনীত নিবেদক
শিউলী পারভীন পিতা- মৃত মোঃ হাশেম আলী মোল্যা সাং- শেহলডাঙ্গা, ডাকঘর- হাট জগদল উপজেলা- মাগুরা সদর, জেলা- মাগুরা।
বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক হওয়ায় এলাকাবাসীও একই দাবী তুলেছেন।
এ বিষয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসন বা সদর উপজেলা প্রশাসন আন্তরিক পদক্ষেপ নিলে একটি জীবন নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে বলে সচেতন মাগুরাবাসী মনে করছেন।











