০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহম্মদপুরে সাড়ে তিন কোটি টাকার ইজিপিপি প্রকল্পে ব্যাপক ঘাপলা!

প্রতিনিধির নাম:

প্রবাদ বাক্যে ‘সরষের মধ্যে ভূত’! থাকলেও মাগুরার মহম্মদপুরে যেন ‘তথ্যের মধ্যে ভূত’! লুকিয়ে রয়েছে। প্রকল্পের তথ্য দিতে নারাজ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মমিনুল ইসলাম। ইউএনও স্যারের সাথে আলোচনা করে তথ্য দেওয়া হবে বলে জানালেও গত ২৪ এপ্রিল থেকে গত ১২ মে পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ দিনেও তিনি কোনো তথ্য দেননি। এ প্রেক্ষিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধানে নামেন আমাদের এ প্রতিনিধি। প্রকল্প অনুসন্ধানে উঠে আসে ব্যাপক অনিয়ম ও অসঙ্গতির চিত্র। যা ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ প্রবাদ বাক্যকেও হার মানায়!

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫১টি প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শুরু হয়েছে গত ১৫ এপ্রিল থেকে। মূলত: কাজ শুরু হয় আরও দুই থেকে তিনদিন পরে। এসব প্রকল্পে অনিয়ম, অসঙ্গতি ও শুভঙ্করের ফাঁকির চিত্র উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার মানুষ। এসব প্রকল্প ঘিরে নানান প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহল থেকে। প্রকল্প এলাকায় তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড বা বিলবোর্ড লাগানোর কথা থাকলেও কোথাও তা দেখা যায়নি। অত্যন্ত গোপণীয়তার সাথে এ কর্মসূচি নামকাওয়াস্তে বাস্তবায়নের অভিযোগও রয়েছে। গত ২০২২-২৩ অর্থ বছরে আবেদন করেও প্রকল্পের তথ্য মেলেনি।

সুত্রমতে, উপজেলার আট ইউনিয়নে ২০২৩-২৪ ইজিপিপি কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫১টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এতে মোট শ্রমিক সংখ্যা দুই হাজার ৬৬১ জন। মাথাপিছু দৈনিক ৪০০ টাকা মুজুরী হিসেবে দুই হাজার ৬৬১ জন শ্রমিকের ৩৩ দিনে টাকার অংক দাড়ায় সাড়ে তিন কোটিরও বেশি। এরমধ্যে বাবুখালী ইউনিয়নে ছয়টি প্রকল্পে ৩৬০ জন শ্রমিক, বিনোদপুরে ছয়টি প্রকল্পে ৩৬৫ জন শ্রমিক, দীঘায় আটটি প্রকল্পে ২৫৯ জন শ্রমিক, রাজাপুরে চারটি প্রকল্পে ২৫১ জন শ্রমিক, বালিদিয়ায় আটটি প্রকল্পে ৩৫৬জন শ্রমিক, মহম্মদপুর সদরে পাঁচটি প্রকল্পে ৩৭১ জন শ্রমিক, পলাশবাড়ীয়ায় আটটি প্রকল্পে ৩৬৯ জন শ্রমিক এবং নহাটা ইউনিয়নে ছয়টি প্রকল্পে ৩৮৪ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৫১টি প্রকল্পে মোট শ্রমিক সংখ্যা দুই হাজার ৬৬১ জন। এসব প্রকল্পে অধিকাংশেই নানান অনিয়ম ও অসঙ্গতি রয়েছে। যে রাস্তায় এ প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজন নেই, সেরকম রাস্তাতেও প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ জরাজীর্ণ অনেক কাচা রাস্তা থাকলেও সেখানে এই প্রকল্প নেওয়া হয়নি। প্রকল্পগুলোতে যে পরিমাণ শ্রমিক কাজ করার কথা তার থেকে অনেক কম শ্রমিক কাজ করছেন। কাগজে কলমে সব ঠিকঠাক রাখা হলেও বাস্তব চিত্রে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। এসব প্রকল্পে শুভঙ্করের ফাঁকি চলছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজিমন তদন্ত করলে এসব প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৫১টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দুই হাজার ছয়শ’ ৬১ জন শ্রমিক (নারী ও পুরুষ) নিয়োগ দেওয়া হয়। বিভিন্ন রাস্তায় মাটি ভরাটের জন্য সপ্তাহে ছয়দিন (শনি থেকে বৃহস্পতিবার) দৈনিক চারশ’ টাকা মুজুরীতে এসব শ্রমিকদের সকাল আটটা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত মোট সাত ঘণ্টা কাজ করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত কোনো সাইনবোর্ড বা বিলবোর্ডও কোথাও দেখা যায়নি। গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৫১ জন ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যকে প্রকল্পের চেয়ারম্যান (পিআইসি বা প্রকল্পের সভাপতি) করা হয়। প্রকল্পগুলোর সার্বিক তদারকীর দায়িত্বভার স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষেদের চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের।

গত ১৩, ১৪, ১৬, ১৮ এবং ১৯ মে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে নানান অনিয়ম ও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। কোনও কোনও প্রকল্পে গিয়ে একজন শ্রমিকের উপস্থিতিও পাওয়া যায় নি। প্রকল্প বাস্তবায়নের তথ্য সংক্রান্ত সাইনবোর্ডও টাঙানো হয় নি অনেক প্রকেল্প। সকাল আটটা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত শ্রমিকদের কাজ করার কথা।

১৩ মে বেলা নয়টা ৩৫ মিনিটের সময় মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত উপজেলা সদরের মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে (বাওড়ের ধার) তেলিপুকুর তোতা মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত মাটি দ্বারা রাস্তা সংস্কার প্রকল্পের কাজে ৬১ জন (নারী ও পুরুষ) শ্রমিকের কাজ করার কথা। কিন্তু সেখানে পাওয়া গেল মাত্র ২৪ জন। ৩৭ জন শ্রমিক ছিলেন অনুপস্থিত। এই প্রকল্পে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের গিয়ে একই চিত্র চোখে পড়লো। বেলা তিনটা পর্যন্ত কাজ করার কথা থাকলেও সোয়া একটার সময় গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি। প্রায় প্রতিবছরই এই রাস্তাটিতে প্রকল্প নেওয়া হয়। তবে স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটিতে মাটি দেওয়ার প্রয়োজন নেই বললেই চলে। পুরো রাস্তায় মাটি দেওয়াও হচ্ছে না। এখানে ৬৭ হাজার ৩২০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

মহম্মদপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল আক্তার কাফুর উজ্জল বলেন, ‘আমরা অনুপস্থিত শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করছি। তাদেরকে বাদ দিয়ে যারা উপস্থিত থাকছে, কাজে আসছে তাদের তালিকা তৈরি করে বিলের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেবো।’

১৪ মে বেলা সোয়া দশটায় পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নের বলভদ্রপুর গ্রামের আদায় বিশ^াসের বাড়ি থেকে শংকর মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ৭৯ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও সেখানে গিয়ে একজন শ্রমিকের হদিসও পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আব্দুর রহিম জানান, কয়েকদিন ১৭-১৮ জন শ্রমিক কোদাল দিয়ে চেছে-ছুলে কয়েক জায়গায় ড্রেসিং করেছে। এই রাস্তাটির কোথাও মাটি দেওয়া হয়নি। একই দিন সোয়া ১২টায় ওই প্রকল্পে গিয়ে শ্রমিক শূণ্যই পাওয়া যায়। এখানে ৭৮ হাজার ২১০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

পলাশবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ সিকান্দার আলী বলেন ‘বর্ষাকালে মাটি দিলে কাদা হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। সে কারণে চেছেছুলে ভালো করা হয়।’

১৬ মে সকাল ১০টা ২৮ মিনিটের সময় দীঘা ইউনিয়নের সিন্দাইন সাইফারের বাড়ি থেকে দোয়াল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজ দেখতে গিয়ে সেখানে নয়জনকে ছায়ায় বসে গল্প করতে দেখা যায়। এখানে ২৫ জন শ্রমিকের কাজ করা কথা থাকলেও ১৬ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এখানে ২৪ হাজার ৭৫০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

একই ইউনিয়নের নাগড়িপাড়া হুমায়নের বাড়ি থেকে কুমরুল মনোয়ারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্প দেখানো হয়েছে। স্থানীয় আনিচ মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত কাচা রাস্তা রয়েছে। এরপর কার্পেটিং রাস্তা। এখানে ২৮ জন শ্রমিকের কাজের কথা থাকলেও কাউকেই পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আব্দুল বারিক মোল্যার ছেলে হুমায়ন জানান, ‘এই রাস্তায় বিপ্লব নামের এক ব্যক্তি মাটি দেয়। সেই রাস্তায় প্রকল্পের শ্রমিকরা কয়েকদিন এসে কোদাল দিয়ে চাছা-ছোলা করে চলে গেছে।’ এদিন বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেখানে গিয়ে একজন শ্রমিককেও পাওয়া যায়নি। এখানে ২৭ হাজার ৭২০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা। এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আনিচ শিকদার বলেন, ‘স্থানীয় একজন রাস্তায় মাটি দিয়েছিল, প্রকল্পের শ্রমিকরা সেই মাটি সমতল করে দিয়েছে।’

এই ইউনিয়নের ভাটরা বুলবুলের ফার্ম থেকে নায়েবের জমি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে দুপুর সোয়া ১২টার সময় গিয়ে কোনো শ্রমিকের দেখা মেলেনি। এই রাস্তার কিছু কিছু জায়গার ঘাস-দুবলা শ্রমিকরা কোদাল দিয়ে চেছে দুই পাঁশে রেখে দিয়েছে। সেখানে ২৫ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও কোনো শ্রমিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পরে প্রকল্পের শ্রমিকদের সরদার আব্দুর রাজ্জাক ফকির সেখানে আসেন। তিনি জানান, ‘এই রাস্তাটির ঘাস-দুবলো চাচে পরিস্কার করা হচ্ছে।’ এখানে ২৪ হাজার ৭৫০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

একই ইউনিয়নের ভাটরা ব্রীজ থেকে বিলঝলমল শুকুরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি বিলঝলমল শুকুরের বাড়ি পর্যন্ত নয় বরং সোনাপুর-নাগড়িপাড়া পর্যন্ত। দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে সেখানে গিয়ে ২৯ জন শ্রমিকের মধ্যে ১৮ জনকে কাজ করতে দেখা গেছে। ১১ জন ছিলেন অনুপস্থিত। তবে মাটি দেওয়ার থেকে কোদাল দিয়ে চেছে রাস্তা সমান করার কাজ বেশি। এখানে ২৮ হাজার ৭১০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

এদিন দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে দীঘা ইউনিয়নের আউনাড়া আহম্মেদেরে বাড়ি থেকে বাদশার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে গিয়ে একজন শ্রমিককেও পাওয়া যায়নি। এখানে ৫০ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা। আহম্মেদের বাড়ি থেকে বাদশার বাড়ি পর্যন্ত এই রাস্তায় একটি বসতি পরিবারও নেই। বাদশার বাড়ি কার্পেটিং রাস্তার সাথে মেশা। এ রাস্তাটিতে যে পরিমাণ মাটি দেওয়া হয়েছে তা ৫০ জন শ্রমিকের দুই দিনের কাজও নয়। এখানে ৪৯ হাজার ৫০০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

এ বিষয়ে বক্তব্য চাইলে দীঘা ইউপির চেয়ারম্যান খোকন মিয়া বলেন, ‘এটা নিয়ে পরে আপনার সাথে কথা বলবো।’

১৮ মে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের সময় বিনোদপুর ইউনিয়নের ঘল্লিয়া কবরস্থানে মাটি ভরাট প্রকল্পে গিয়ে একজন শ্রমিককে পাওয়া যায়নি। এখানে ৫১ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা। কবরস্থান ঘুরে কোথাও এক ঝুড়ি মাটি দেওয়ার চিহ্ন চোখে পড়েনি। এখানে ৫০ হাজার ৪৯০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

বিনোদপুর ইউপি চেয়ারম্যান শিকদার মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতির সাথে কথা বলেন।’ পরে প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য জাহাঙ্গির আলমের সাথে বললে তিনি জানান, ঈদগাঁয় মাটি দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের তথ্যমতে ‘ঘুল্লিয়া গোরস্থানে মাটি ভরাট’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের নাম ভুল হয়েছে।’

১৮ মে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের সময় নহাটা ইউনিয়নের নিভৃত-দুর্গম এলাকা নবনগর উত্তমের বাড়ি থেকে খোকনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজ দেখতে গিয়ে কোনো শ্রমিককেই পাওয়া যায়নি। এখানে ৫৮ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা। এই রাস্তার কয়েক স্থানে কিছু মাটি দেওয়া হয়েছে। এখানে ৫৭ হাজার ৪২০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

নহাটা ইউপির চেয়ারম্যান তৈয়েবুর রহমান তুরাব জানেন না কবে শেষ হবে প্রকল্পের কাজ। তিনি জানেন কাজ শেষ হয়ে গেছে। তিনি খোঁজ খবর নিয়ে জানাবেন বলে জানান।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আপনি আগে চেয়ারম্যানদের বক্তব্য নেন। ইউএনও স্যারের সাথে কথা না বলে এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমটির সভাপতি পলাশ মন্ডল বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার চলমান কর্মসূচি দেখভাল বা তদারকীর কথা। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৩:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪
২৬১ বার পড়া হয়েছে

মহম্মদপুরে সাড়ে তিন কোটি টাকার ইজিপিপি প্রকল্পে ব্যাপক ঘাপলা!

আপডেট সময় ০৩:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪

প্রবাদ বাক্যে ‘সরষের মধ্যে ভূত’! থাকলেও মাগুরার মহম্মদপুরে যেন ‘তথ্যের মধ্যে ভূত’! লুকিয়ে রয়েছে। প্রকল্পের তথ্য দিতে নারাজ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মমিনুল ইসলাম। ইউএনও স্যারের সাথে আলোচনা করে তথ্য দেওয়া হবে বলে জানালেও গত ২৪ এপ্রিল থেকে গত ১২ মে পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ দিনেও তিনি কোনো তথ্য দেননি। এ প্রেক্ষিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধানে নামেন আমাদের এ প্রতিনিধি। প্রকল্প অনুসন্ধানে উঠে আসে ব্যাপক অনিয়ম ও অসঙ্গতির চিত্র। যা ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ প্রবাদ বাক্যকেও হার মানায়!

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫১টি প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে শুরু হয়েছে গত ১৫ এপ্রিল থেকে। মূলত: কাজ শুরু হয় আরও দুই থেকে তিনদিন পরে। এসব প্রকল্পে অনিয়ম, অসঙ্গতি ও শুভঙ্করের ফাঁকির চিত্র উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার মানুষ। এসব প্রকল্প ঘিরে নানান প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহল থেকে। প্রকল্প এলাকায় তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড বা বিলবোর্ড লাগানোর কথা থাকলেও কোথাও তা দেখা যায়নি। অত্যন্ত গোপণীয়তার সাথে এ কর্মসূচি নামকাওয়াস্তে বাস্তবায়নের অভিযোগও রয়েছে। গত ২০২২-২৩ অর্থ বছরে আবেদন করেও প্রকল্পের তথ্য মেলেনি।

সুত্রমতে, উপজেলার আট ইউনিয়নে ২০২৩-২৪ ইজিপিপি কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫১টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এতে মোট শ্রমিক সংখ্যা দুই হাজার ৬৬১ জন। মাথাপিছু দৈনিক ৪০০ টাকা মুজুরী হিসেবে দুই হাজার ৬৬১ জন শ্রমিকের ৩৩ দিনে টাকার অংক দাড়ায় সাড়ে তিন কোটিরও বেশি। এরমধ্যে বাবুখালী ইউনিয়নে ছয়টি প্রকল্পে ৩৬০ জন শ্রমিক, বিনোদপুরে ছয়টি প্রকল্পে ৩৬৫ জন শ্রমিক, দীঘায় আটটি প্রকল্পে ২৫৯ জন শ্রমিক, রাজাপুরে চারটি প্রকল্পে ২৫১ জন শ্রমিক, বালিদিয়ায় আটটি প্রকল্পে ৩৫৬জন শ্রমিক, মহম্মদপুর সদরে পাঁচটি প্রকল্পে ৩৭১ জন শ্রমিক, পলাশবাড়ীয়ায় আটটি প্রকল্পে ৩৬৯ জন শ্রমিক এবং নহাটা ইউনিয়নে ছয়টি প্রকল্পে ৩৮৪ জন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৫১টি প্রকল্পে মোট শ্রমিক সংখ্যা দুই হাজার ৬৬১ জন। এসব প্রকল্পে অধিকাংশেই নানান অনিয়ম ও অসঙ্গতি রয়েছে। যে রাস্তায় এ প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজন নেই, সেরকম রাস্তাতেও প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ জরাজীর্ণ অনেক কাচা রাস্তা থাকলেও সেখানে এই প্রকল্প নেওয়া হয়নি। প্রকল্পগুলোতে যে পরিমাণ শ্রমিক কাজ করার কথা তার থেকে অনেক কম শ্রমিক কাজ করছেন। কাগজে কলমে সব ঠিকঠাক রাখা হলেও বাস্তব চিত্রে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। এসব প্রকল্পে শুভঙ্করের ফাঁকি চলছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজিমন তদন্ত করলে এসব প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৫১টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দুই হাজার ছয়শ’ ৬১ জন শ্রমিক (নারী ও পুরুষ) নিয়োগ দেওয়া হয়। বিভিন্ন রাস্তায় মাটি ভরাটের জন্য সপ্তাহে ছয়দিন (শনি থেকে বৃহস্পতিবার) দৈনিক চারশ’ টাকা মুজুরীতে এসব শ্রমিকদের সকাল আটটা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত মোট সাত ঘণ্টা কাজ করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত কোনো সাইনবোর্ড বা বিলবোর্ডও কোথাও দেখা যায়নি। গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৫১ জন ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যকে প্রকল্পের চেয়ারম্যান (পিআইসি বা প্রকল্পের সভাপতি) করা হয়। প্রকল্পগুলোর সার্বিক তদারকীর দায়িত্বভার স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষেদের চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের।

গত ১৩, ১৪, ১৬, ১৮ এবং ১৯ মে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে নানান অনিয়ম ও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। কোনও কোনও প্রকল্পে গিয়ে একজন শ্রমিকের উপস্থিতিও পাওয়া যায় নি। প্রকল্প বাস্তবায়নের তথ্য সংক্রান্ত সাইনবোর্ডও টাঙানো হয় নি অনেক প্রকেল্প। সকাল আটটা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত শ্রমিকদের কাজ করার কথা।

১৩ মে বেলা নয়টা ৩৫ মিনিটের সময় মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত উপজেলা সদরের মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে (বাওড়ের ধার) তেলিপুকুর তোতা মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত মাটি দ্বারা রাস্তা সংস্কার প্রকল্পের কাজে ৬১ জন (নারী ও পুরুষ) শ্রমিকের কাজ করার কথা। কিন্তু সেখানে পাওয়া গেল মাত্র ২৪ জন। ৩৭ জন শ্রমিক ছিলেন অনুপস্থিত। এই প্রকল্পে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের গিয়ে একই চিত্র চোখে পড়লো। বেলা তিনটা পর্যন্ত কাজ করার কথা থাকলেও সোয়া একটার সময় গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি। প্রায় প্রতিবছরই এই রাস্তাটিতে প্রকল্প নেওয়া হয়। তবে স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটিতে মাটি দেওয়ার প্রয়োজন নেই বললেই চলে। পুরো রাস্তায় মাটি দেওয়াও হচ্ছে না। এখানে ৬৭ হাজার ৩২০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

মহম্মদপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল আক্তার কাফুর উজ্জল বলেন, ‘আমরা অনুপস্থিত শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করছি। তাদেরকে বাদ দিয়ে যারা উপস্থিত থাকছে, কাজে আসছে তাদের তালিকা তৈরি করে বিলের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেবো।’

১৪ মে বেলা সোয়া দশটায় পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নের বলভদ্রপুর গ্রামের আদায় বিশ^াসের বাড়ি থেকে শংকর মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ৭৯ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও সেখানে গিয়ে একজন শ্রমিকের হদিসও পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আব্দুর রহিম জানান, কয়েকদিন ১৭-১৮ জন শ্রমিক কোদাল দিয়ে চেছে-ছুলে কয়েক জায়গায় ড্রেসিং করেছে। এই রাস্তাটির কোথাও মাটি দেওয়া হয়নি। একই দিন সোয়া ১২টায় ওই প্রকল্পে গিয়ে শ্রমিক শূণ্যই পাওয়া যায়। এখানে ৭৮ হাজার ২১০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

পলাশবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ সিকান্দার আলী বলেন ‘বর্ষাকালে মাটি দিলে কাদা হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। সে কারণে চেছেছুলে ভালো করা হয়।’

১৬ মে সকাল ১০টা ২৮ মিনিটের সময় দীঘা ইউনিয়নের সিন্দাইন সাইফারের বাড়ি থেকে দোয়াল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজ দেখতে গিয়ে সেখানে নয়জনকে ছায়ায় বসে গল্প করতে দেখা যায়। এখানে ২৫ জন শ্রমিকের কাজ করা কথা থাকলেও ১৬ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এখানে ২৪ হাজার ৭৫০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

একই ইউনিয়নের নাগড়িপাড়া হুমায়নের বাড়ি থেকে কুমরুল মনোয়ারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্প দেখানো হয়েছে। স্থানীয় আনিচ মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত কাচা রাস্তা রয়েছে। এরপর কার্পেটিং রাস্তা। এখানে ২৮ জন শ্রমিকের কাজের কথা থাকলেও কাউকেই পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আব্দুল বারিক মোল্যার ছেলে হুমায়ন জানান, ‘এই রাস্তায় বিপ্লব নামের এক ব্যক্তি মাটি দেয়। সেই রাস্তায় প্রকল্পের শ্রমিকরা কয়েকদিন এসে কোদাল দিয়ে চাছা-ছোলা করে চলে গেছে।’ এদিন বেলা সাড়ে ১১টার সময় সেখানে গিয়ে একজন শ্রমিককেও পাওয়া যায়নি। এখানে ২৭ হাজার ৭২০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা। এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আনিচ শিকদার বলেন, ‘স্থানীয় একজন রাস্তায় মাটি দিয়েছিল, প্রকল্পের শ্রমিকরা সেই মাটি সমতল করে দিয়েছে।’

এই ইউনিয়নের ভাটরা বুলবুলের ফার্ম থেকে নায়েবের জমি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে দুপুর সোয়া ১২টার সময় গিয়ে কোনো শ্রমিকের দেখা মেলেনি। এই রাস্তার কিছু কিছু জায়গার ঘাস-দুবলা শ্রমিকরা কোদাল দিয়ে চেছে দুই পাঁশে রেখে দিয়েছে। সেখানে ২৫ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও কোনো শ্রমিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। পরে প্রকল্পের শ্রমিকদের সরদার আব্দুর রাজ্জাক ফকির সেখানে আসেন। তিনি জানান, ‘এই রাস্তাটির ঘাস-দুবলো চাচে পরিস্কার করা হচ্ছে।’ এখানে ২৪ হাজার ৭৫০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

একই ইউনিয়নের ভাটরা ব্রীজ থেকে বিলঝলমল শুকুরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি বিলঝলমল শুকুরের বাড়ি পর্যন্ত নয় বরং সোনাপুর-নাগড়িপাড়া পর্যন্ত। দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে সেখানে গিয়ে ২৯ জন শ্রমিকের মধ্যে ১৮ জনকে কাজ করতে দেখা গেছে। ১১ জন ছিলেন অনুপস্থিত। তবে মাটি দেওয়ার থেকে কোদাল দিয়ে চেছে রাস্তা সমান করার কাজ বেশি। এখানে ২৮ হাজার ৭১০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

এদিন দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে দীঘা ইউনিয়নের আউনাড়া আহম্মেদেরে বাড়ি থেকে বাদশার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে গিয়ে একজন শ্রমিককেও পাওয়া যায়নি। এখানে ৫০ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা। আহম্মেদের বাড়ি থেকে বাদশার বাড়ি পর্যন্ত এই রাস্তায় একটি বসতি পরিবারও নেই। বাদশার বাড়ি কার্পেটিং রাস্তার সাথে মেশা। এ রাস্তাটিতে যে পরিমাণ মাটি দেওয়া হয়েছে তা ৫০ জন শ্রমিকের দুই দিনের কাজও নয়। এখানে ৪৯ হাজার ৫০০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

এ বিষয়ে বক্তব্য চাইলে দীঘা ইউপির চেয়ারম্যান খোকন মিয়া বলেন, ‘এটা নিয়ে পরে আপনার সাথে কথা বলবো।’

১৮ মে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের সময় বিনোদপুর ইউনিয়নের ঘল্লিয়া কবরস্থানে মাটি ভরাট প্রকল্পে গিয়ে একজন শ্রমিককে পাওয়া যায়নি। এখানে ৫১ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা। কবরস্থান ঘুরে কোথাও এক ঝুড়ি মাটি দেওয়ার চিহ্ন চোখে পড়েনি। এখানে ৫০ হাজার ৪৯০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

বিনোদপুর ইউপি চেয়ারম্যান শিকদার মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতির সাথে কথা বলেন।’ পরে প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য জাহাঙ্গির আলমের সাথে বললে তিনি জানান, ঈদগাঁয় মাটি দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের তথ্যমতে ‘ঘুল্লিয়া গোরস্থানে মাটি ভরাট’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের নাম ভুল হয়েছে।’

১৮ মে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের সময় নহাটা ইউনিয়নের নিভৃত-দুর্গম এলাকা নবনগর উত্তমের বাড়ি থেকে খোকনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজ দেখতে গিয়ে কোনো শ্রমিককেই পাওয়া যায়নি। এখানে ৫৮ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা। এই রাস্তার কয়েক স্থানে কিছু মাটি দেওয়া হয়েছে। এখানে ৫৭ হাজার ৪২০ ঘণফুট মাটি দেওয়ার কথা।

নহাটা ইউপির চেয়ারম্যান তৈয়েবুর রহমান তুরাব জানেন না কবে শেষ হবে প্রকল্পের কাজ। তিনি জানেন কাজ শেষ হয়ে গেছে। তিনি খোঁজ খবর নিয়ে জানাবেন বলে জানান।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আপনি আগে চেয়ারম্যানদের বক্তব্য নেন। ইউএনও স্যারের সাথে কথা না বলে এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমটির সভাপতি পলাশ মন্ডল বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার চলমান কর্মসূচি দেখভাল বা তদারকীর কথা। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’