কাস্টম কর্মকর্তা ড. তাজুল ইসলাম এতো টাকা কোথায় পান?
রোস্তম মল্লিক
সংবাদ মাধ্যমে বহুল আলোচিত সমালোচিত কাস্টম কর্মকর্তা ড. তাজুল ইসলাম। নিজ এলাকার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণে লালন পালন করেন নিজস্ব ক্যাডার ও সন্ত্রাসী বাহিনী। অদৃশ্য ক্ষমতায় ড.তাজুল এখন বড়ই দাপুটে। প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিতে বুক কাঁপে না তার। নিজেকে সকল ক্ষমতার অধিকারী মনে করা ড. তাজুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। শত অভিযোগ পাত্তাও পায় না তাজুলের অদৃশ্য ক্ষমতার কাছে।
ড. তাজুল ইসলামের ক্ষমতার যাতাকলে পৃষ্ট হয়ে,মযয়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার এক বাসিন্দা মেহেদী হাসান খান ২০২৪ সালের ১৯ শে মার্চ দেশের প্রায় সবগুলো ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার হেড অফিস এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ মোট ২৬ টি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে তাজুলের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, যখন তখন হত্যার হুমকি এবং অবৈধ সম্পদের পাহাড় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ।
অভিযোগপত্রে মেহেদী হাসান খান উল্লেখ করেন, নাগরিক হিসেবে আমার কিছু মৌলিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু দুঃখ ও গভীর উদ্বেগের বিষয়, আপনার অনুগত কর্মকর্তা, ড. তাজুল ইসলাম একজন সরকারি ক্ষমতার তীব্র অপব্যবহারকারী কর্মকর্তা। যা তিনি আমার নাগরিক জীবনে বারবার আমাকে ও আমার বাবাকে হত্যার হুমকি প্রদানের মাধ্যমে প্রমাণিত করেছেন। সমাজে উনার হুমকি ধামকিসহ সামাজিক ও পারিবারিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া লোকটির নানাবিধ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কিত কর্মকান্ড তাকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করেছে ।
২০২৪ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি আমার দাখিলকৃত অভিযযোগপত্র প্রাপ্তির পর ড.তাজুল আরো বেপরোয়া, ক্ষিপ্ত ও হিংস্র হয়ে আমার পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নোঙ্গর কমিউনিটি সেন্টার ও আমার গ্রামের বাড়ীতে গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যার নিমিত্তে ৭০ জন সন্ত্রাসী পাঠান। এ খবর শুনে ভয়ে আতঙ্কে আমরা বাড়ী থেকে পলায়ন করি। আমাদেরকে না পেয়ে উনার পালিত সন্ত্রসী বাহিনী আমার চাচাতো ভাইয়ের নিকট তাদের আক্রোশ ও হিংস্রতার কথা জানিয়ে যায়। পরে সন্ত্রাসী গােলাম মোস্তফা আমার ব্যক্তিগত ফোনে কল করে বলে, “তাজুল স্যার সরকারি ফান্ডের টাকা লুটপাট
করেছে, আমাদের ফুলবাড়ীয়াতেতো লুটপাট করছে না। সরকারি ফান্ড থেকে লুটপাট করে এখানে (ফুলবাড়ীয়ায়) এনে দিচ্ছেন এলাকার লোকজনকে সরকারি চাকরি দিচ্ছেন। আঃ মালেক সরকার যতদিন এমপি আছে ততদিন ড.তাজুল ও আঃ মালেক সরকারের বিরুদ্ধে কোন কথা বলা যাবে না। এই বলে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে পুনরায় গত ০৯ ই মার্চের কলেজ কর্তৃক (মাননীয় সংসদ সদস্যের সংবর্ধনা) অনুষ্ঠানে গোলাম মোস্তফা পুণরায় প্রকাশ্য জনসভায় ড.তাজুল,আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আমান উল্লাহ, ইউএনও,ফুলবাড়িয়া থানার ওসি এবং সাংসদ সদস্য’র উপস্থিতিতে আমাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নোঙ্গর কমিউনিটি সেন্টারে তালা মেরে দেওয়ার হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় আমরা দেশের উত্তম নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র তথা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও নিরাপদ বোধ করছি না। জীবননাশের আশঙ্কায় গত ১ মাস যাবৎ আমি আমার প্রিয় জন্মস্থান ফুলবাড়িয়ায় পর্যন্ত যেতে পারছি না। এমন আতঙ্ক ও উদ্বেগ নিয়ে স্বাধীন দেশের কোন নাগরিক, আমি এবং আমার বাবা সাবেক সামরিক কর্মকর্তার বেঁচে থাকা অত্যন্ত লজ্জা ও অপমানের।
“জোবায়ের রহমান তৌহিদ” নামক তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে বারবার ফোন কলে,ম্যাসেঞ্জারে এবং পরবর্তীতে আমার বাড়ীতে এসে প্রাণ নাশের হুমকি ধামকি দেয়। সেই সন্ত্রাসীকে ২০২৪ সালের ৯ মার্চ ফুলবাড়িয়া কলেজ কর্তৃক এমপির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ড.তাজুল বক্তৃতা দেওয়ার সময় ড.তাজুলের পিছনে সন্ত্রাসী কায়দায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এমতাবস্থায় আমরা চরম উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কের মাঝে দিনাতিপাত করছি। তাঁর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথমেই আমিরুল ইসলাম কাজল আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ২৫/৩০ জন সন্ত্রাসী সাথে নিয়ে গিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি প্রদান করে আসে। এতে আমার বাবা অবঃ সামরিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন চরম উদ্বিগ্নতায় ভোগেন। ড.তাজুলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শোয়েব একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্ব দেন।
কাস্টম কর্মকর্তা ড. তাজুল ইসলাম এর একক প্রচেষ্টায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছে বলে সমগ্র উপজেলা জুড়ে প্রচারিত। জাতীয় নির্বাচন চলাকালীন সময়ে উনার বাড়ীটা নির্বাচনী কেন্দ্র ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গুঞ্জন রয়েছে নির্বাচনের আগের রাতে প্রশাসনের লােকজন নিয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় মিটিং করেন এবং নির্বাচনের দিন ভােট গণনার সময় উপজেলা পরিষদে অবস্থান নেন। ড.তাজুল ফুলবাড়ীয়ার রাজনীতিতে এক ত্রাসের নাম। ড.তাজুলকে ফুলবাড়ীয়ার অভিভাবক হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বয়ং স্থানীয় সাংসদকে প্রত্যেকটা প্রোগ্রামে বলতে দেখা যায়। নির্বাচনের দিন বেসরকারিভাবে রেজাল্ট গণনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়ের সাথে সাথে ঐ রাতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী, ড.তাজুলের বাড়ীতে মিষ্টি ও ফুলের মালা নিয়ে হাজির হন। পরবর্তীতে সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই ঐ দিন সকালেই ড.তাজুলকে উনার নয়াপল্টেনের অফিসে ফুলের তোড়া নিয়ে শুভেচ্ছা জানান এমপি মহোদয়। এই শুভেচ্ছা বার্তা তাজুলের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী সামাজিক যোগাযােগ মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচারণা চালায়। এমতাবস্থায় একজন সরকারি চাকুরীজীবির হাতে সংসদ সদস্যসহ ফুলবাড়ীয়ার ছয় লক্ষ মানুষ আজ জিম্মি। কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপােষক ও পতিতাবৃত্তির সাথে জড়িত রাকিব নামের এক ব্যক্তিকে সমর্থন দেন ড.তাজুল ইসলাম, যা পুরো উপজেলা জুড়েই ব্যাপক প্রচারিত। এই রাকিবকেও গত ০৯ তারিখের জনসভায় ড.তাজুলের বক্তব্য দেয়ার সময় তার পিছনে দেখা যায় । ফুলবাড়িয়া উপজেলাতে এখন উনার পরিবার একটি বিখ্যাত কবিরাজ পরিবারে পরিণত হয়েছে। চাকুরী,অসুস্থ রোগীর আরােগ্য লাভ,রাজনৈতিক জয়লাভসহ নানাবিধ বিষয়ে উনার পরিবারের দোয়া বা আশীর্বাদ ছাড়া কেউ সাফল্য লাভ করে না।
কাস্টম কর্মকর্তা ড. তাজুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া কলেজ গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি হযয়েছেন কিন্তু বিকৃত রুচির এই সরকারি কর্মকর্তা আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কোন মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রমোট করেননি। এমনকি আজ পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থীর খবর পর্যন্ত নেননি। কলেজের কোন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীকে সে আজ পর্যন্ত কোন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ তো দুরের কথা কোন সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে কলেজ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে বলে আমাদের জানা নেই। কিন্তু ড.তাজুলের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনীদের যেমন করেছেন প্রমোট তেমনি প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে তার গায়ে গায়ে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে সন্ত্রাসী বাহিনী।
ড.তাজুল প্রকাশ্য জনসভায় বলেছেন, ফুলবাড়ীয়া কলেজের গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি সরকার তাকে বানিয়েছে। কিন্তু জনমনে প্রচারিত ড.তাজুল বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে তার অসৎ উদ্দেশ্য চরিতাথর্, কলেজ কেন্দ্রিক রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী লালন পালন,লোকাল রাজনীতির সাথে ওতোপ্রোতভাবে লেগে থাকতে এবং এই কলেজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও ট্যাক্সের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি পর্যায় থেকে চাঁদাবাজি করতেই এই গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি হয়েছেন।
ড.তাজুল প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন তিনি ফুলবাড়ীয়া কলেজ সরকারীকরণ করবেন । কলেজ সরকারীকরণের মত এই ক্ষমতা তার দায়িত্বশীল জায়গা থেকে আদৌ সম্ভব কিনা? নাকি কলেজে উনার কর্তৃত্ব ধরে রাখতে ছাত্র-শিক্ষক তথা ফুলবাড়ীয়ার সাধারণ মানুষের সাথে এই প্রতারণামূলক কৌশল বেছে নিয়েছেন ?
ফুলবাড়িয়া কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে তিনি পঞ্চশ হাজার লোকের রাজসিক ভোজন, লক্ষ লক্ষ টাকায় তারকাদের ভাড়া করে নিয়ে আসা এবং তার সেই অনুষ্ঠানের বাকি অংশের খরচের প্রায় পঞ্চাশ লাখ কোথায় পেলেন? এই টাকার উৎস কি তা জানতে চান এলাকাবাসী। ফুলবাড়িয়া কলেজের ব্যানারে বহিরাগতদের নিয়ে শ্রীপুর গলফ রিসোর্টে জমিদারি বনভোজনের ১৫ লক্ষ টাকা কোথায় পেলেন ? গত ছয় মাসে ফুলবাড়িয়া কলেজে দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ,মসজিদ নির্মাণ এবং বিশ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তার নামের ফলকসহ কলেজ গেইট নির্মাণ করেছেন। সেই টাকার উৎস কি?
২০২৪ সালের ৯ মার্চ দেশের এক ঝাঁক জনপ্রিয় অভিনেতা, অভিনেত্রী, ও শিল্পী এনে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কোটি টাকা খরচের উৎস কি? নগদ দশ লক্ষ টাকা করে ঘুষ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সাত’শ ছেলেমেয়ের চাকুরী প্রদানের নাম করে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। তিনি বীর মুক্তিযােদ্ধা আবুল হোসেন তালুকদার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান পৃষ্ঠপাষক। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কোটি- কোটি টাকা দান করা হয়। সেই টাকার উৎস কি?
“অৎরংব ংঃঁফবহঃ অংংড়পরধঃরড়হ” এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তিনি এবং এই এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ছাত্র ছাত্রীদের বৃত্তির লক্ষ লক্ষ টাকার যোগান দেয়া হয়। সেই টাকা কোথা থেকে আসে? একই দিনে সতেরটি সংগঠনকে লক্ষাধিক টাকার অধিক করে বিশ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যের খেলাধুলার সামগ্রী ও দশজন হতদরিদ্রকে বিশ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যের দশটি ইলেকট্রনিক অটোগাড়ি প্রদান করে প্রায় অর্ধ কোটি ব্যয় করা হয়। এই টাকা তিনি কোথায় পেলেন?
২০১৭ সালের ২৭শে জুন কৈয়ারচালা- ভালুকজান,চাঁদপুর ঈদগাহ মাঠে তার নিজের নগদ পনের লক্ষ টাকা অর্থায়নে মিনার নির্মাণ করে প্রথম আলোচনায় আসেন তিনি । তার গ্রামের বাড়ীতে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স তালুকদার বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সেই টাকার উৎস কি? বিদেশে প্রায় সময়ই নিজের ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা করানোর এত অর্থ কোথা থেকে পান তিনি? বেসরকারিভাবে করোনা মহামারি চলাবস্থায় তিনি করোনার টিকা কিভাবে ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করলেন? সরকারি টিকা এনে নিজেকে সেই টিকার যোগানদাতা বা আয়োজক দাবি করে সরকারের একটি সফল প্রোগ্রামকে বিতর্কিত করেছিলেন তিনি। তার বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন রয়েছে । উল্লেখ্য, সরকারি গেজেটে অন্যান্য গ্রামে একাধিক মুক্তিযোদ্ধা থাকলেও বাঁশদী গ্রামে মাত্র একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।
একজন সরকারি চাকুরীজীবি হয়ে ২০২৪ সালের ৭ই জানয়ারির জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয়ের ব্যাপারে নেপথ্যের কারিগর হলেন কিভাবে? ইতিপূর্বেও ড.তাজুলের বিরুদ্ধে ২শ কোটি টাকা দুর্নীতির মামলা হয়েছিল দুদকে। এছাড়াও তিনি ভিকারুননিসা স্কুল এ্যান্ড কলেজে গভর্নিং বোর্ডের সদস্য থাকাকালীন ভর্তি বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকায় তাকে উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হয়। নির্ধারিত বাজার মূল্যের চেয়েও আট থেকে দশ গুণ অধিক মূল্যে নিজ এলাকায় কয়েক একর জমি কিনেছেন। দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ড.তাজুলের একাধিক বাড়ি,গাড়ি, ফ্ল্যাট, মার্কেট নিজস্ব মালিকানা ও শেয়ারে একাধিক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ০৯ ই মার্চ নব-নির্বাচিত সাংসদ আঃ মালেক সরকার এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দিন বলেন, ড.তাজুল ইসলাম চাইলে তিনি সামনের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারভীন সুলতানাও বলেন, ড.তাজুল ইসলামের সমর্থন পেলেই তিনি সামনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একইভাবে উপজলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রুহুল আমিনও বলেন, ফুলবাড়িয়ার অন্যতম অভিভাবক ড.তাজুল ইসলাম সমর্থন দিলে তিনিও নির্বাচন করবেন। গত পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করা গোলাম মোস্তফা বলেন, ড.তাজুল ইসলাম সমর্থন দিলে আগামী পৌর নির্বাচন করবেন। ড.তাজুল যে ফুলবাড়ীয়ায় রাজনীতির প্রধান নিয়ন্ত্রক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
সাংবাদিকদের লাঞ্চিত করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী একাধিকবার মানব বন্ধন করতেও দেখা গেছে বিগত সময়ে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হােসেন তালুকদার ফাউন্ডেশন কর্তৃক শিক্ষা বৃত্তির অনুষ্ঠানে দেশ বরেণ্য বিভিন্ন ব্যক্তির অংশ গ্রহণে ২০১৮ সালের ১০ই মার্চ রোজ শনিবার সম্পুর্ন নিজস্ব অর্থায়নে বেশ রাজসিক ভঙ্গিতে আয়োজন করা হয় কোটি টাকার বাজেটের বিনিময়ে এবং এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তিনি পুরো ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা সক্ষমতার জানান দেন । আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্থ এক সরকারী কর্মচারি গণি মিয়ার স্বেচ্ছাচারী কর্মকান্ড ও নানান দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফুলবাড়ীয়ার সচেতন মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদসহ বেশ কয়েকবার মানববন্ধন করেছেন। কিন্তু তার খুঁটির জোর এই ড.তাজুল,যা উপজেলা জুড়ে বর্তমানে প্রচারিত। প্রত্যেক মাসে উপজেলা পরিষদের দুর্নীতির ভাগ বাটোয়ারা ড.তাজুলকে পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব এই দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মচারী। ড.তাজুলকে দেশি মুরগী,মন্ডার আড়ালে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে দুই যুগ যাবৎ উপজেলা পরিষদে এক ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তুলছেন এই গণি মিঞা। ড.তাজুল ও গণি মিঞা’রা দুর্নীতির মাধ্যমে একই সূতোয় গাঁথা। প্রতিবছর উপজলার সকল মুক্তিযোদ্ধা ও অসহায় পরিবারের মাঝে ভারী ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা যায় ড.তাজুলকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর ঈদের পূর্বে উপজেলার ৪১০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও ১৭০০ জন অসহায় গরীবদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেন। প্রত্যেকটি প্যাকেটে প্রায় দুই হাজার টাকার উপহার সামগ্রী ছিলো। এছাড়া উনার নিজ গ্রামে এই আয়োজন করায় উপজেলার অন্যান্য গ্রাম থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধা ও অসহায়দের আসা-যাওয়া বাবদ গাড়ী ভাড়ার টাকাও তিনিই দেন। ঈদ উপহারের নাম করে একজন সরকারি চাকুরীজীবির এই বিপুল পরিমাণ অর্থে ব্যায়ের আয়ের উৎস কি? স্থানীয় পর্যায়ে মানুষকে হেনস্তা করতে তার সরকারি চাকুরীর প্রভাব খাটান তিনি। পান থেকে চুন খসলেই সে ট্যাক্সের গাড়ী পাঠিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকেন। ফুলবাড়িয়া উপজলার প্রাণকেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু চত্বরের পিছনের অংশ, যেখানে একসময় সমাজ কল্যাণ অফিস ছিল। সেই ভগ্ন ঘরটিতে বাগান করার কথা থাকলেও এখন সেখানে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ড.তাজুলের একান্ত আজ্ঞাবহ গণি মিঞার সহযোগিতায় ড.তাজুল তার রাজনৈতিক চেম্বার বানানোর জন্য দেয়াল তুলেছেন। এ নিয়েও তার বিরুদ্ধে ফুলবাড়ীয়ার সচেতন মহল নিন্দার ঝড় তুলেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ড.তাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেন নি।
কাস্টম কর্মকর্তা ড. তাজুল ইসলামের উল্লেখিত অর্থ-সম্পদের আয়ের উতস কি তা খতিয়ে দেখার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যানের পদক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।











