১২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট এখন দুর্নীতির আখড়া: অবৈধ ব্যাচকে বৈধতা দিতে আড়ম্বরপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের আয়োজন!

প্রতিনিধির নাম:

 

বিশেষ প্রতিবেদক

ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের একটি প্রাচীনতম মেরিটাইম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে গত অর্ধশতক ধরে মার্চেন্ট জাহাজে নাবিক প্রশিক্ষন প্রদান করে জাহাজে সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হলো গতবছরের শেষ দিকে কোন ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই ১৭৭ জন নাবিককে স্পেশাল ব্যাচ এর নাম করে সমুদ্রগামী জাহাজের প্রশিক্ষণ প্রদান করা। এই স্পেশাল ব্যাচকে বিশেষ ব্যবস্থায় ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে অনাবাসিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
মূলত সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর কতৃক আয়োজিত প্রায় ২০ হাজার ছাত্রদের মধ্য থেকে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের জন্য নাবিক নির্বাচিত করে থাকে। এর মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের দরিদ্র এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেরিটাইম প্রশিক্ষণ নিশ্চিত হয়। কিন্তু গত বছর নজিরবিহীন ভাবে কোন পরীক্ষা ছাড়াই প্রায় দুইশত শিক্ষার্থীকে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়া হয় যা পুরো জাতির সাথে প্রতারণার শামিল।
তদন্ত করে জানা গেছে যে, এর সাথে ওতপ্রতভাবে একটি কুচক্রী মহল জড়িত ছিলেন। যাদের মধ্যে ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা এবং ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট এর চিফ নটিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মোঃ মেহেদী হাসান। তদন্তে আরো জানা যায়, তারা টাকার বিনিময়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরকে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে এই অবৈধ ব্যাচটি প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট এর অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান এবং চিফ নটিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মোঃ মেহেদী হাসান এই অবৈধ ব্যাচটিকে বৈধতা প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সেই তৎপরতার অংশ হিসেবে আগামী মে মাসের ৫ তারিখ এই স্পেশাল ব্যাচের আড়ম্বরপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণত পাসিং আউট অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহন মন্ত্রী, নৌপরিবহন সচিব এবং নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু এই অবৈধ স্পেশাল ব্যাচকে বৈধতা প্রদানের জন্য পাসিং আউটে নিয়মিত অতিথীরা ছাড়াও সংসদ সদস্য সহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, এই অনুষ্ঠানের পেছনেও রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। তদন্তে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ভর্তিচ্ছু প্রায় তিনশত নাবিক এর কাছ থেকে প্রতারক মহল ছয় থেকে আট লক্ষ টাকা করে স্পেশাল ব্যাচে ভর্তি করিয়ে দেয়ার নামে তুলে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এর সাথে সরাসরি জড়িত আছে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান এবং চিফ নটিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মেহেদী হাসান। তারা নৌ প্রতিমন্ত্রীর এপিএস বাশারের মাধ্যমে পরবর্তী স্পেশাল ব্যাচ চালু করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে আর কোন স্পেশাল ব্যাচ হবে না মর্মে চিঠি জারি করা হলেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। প্রথম স্পেশাল ব্যাচের জাঁকজমকপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই অবৈধ স্পেশাল ব্যাচকে বৈধ চালু ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাঁয়তারা করছে। এই জাঁকজমকপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের মূল কারিগর অধ্যক্ষ আতাউর রহমান। তদন্তে আরো বেরিয়ে এসেছে যে, ইতিমধ্যে মোঃ মেহেদী হাসান চট্টগ্রামে নামে বেনামে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন যার অর্থের মূল উৎস অবৈধ ব্যাচের ভর্তি ইচ্ছুক প্রশিক্ষনার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বুকিং মানি ।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে মোঃ মেহেদী হাসান বিভিন্ন সরকারি শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে (নৌ মন্ত্রীর এপিএস বাসার এর বদৌলতে) সেই তদন্ত রিপোর্ট কখনোই আলোর মুখ দেখেনি। এ থেকে বুঝা যায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে মোঃ মেহেদী হাসানের যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে মাত্র পাঁচ বছরে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করার পরেও কেন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি তা সত্যিই বিস্ময়কর !
দেশের একমাত্র সরকারি নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এবং মেরিটাইম সেক্টর এর এই ভয়াবহ দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য অবিলম্বে এই অবৈধ স্পেশাল ব্যাচ প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। এছাড়াও ভবিষ্যতে যাতে কোন কুচক্রী মহল এই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হতে না পারে তার জন্য সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এর সাথে জড়িত সকল সরকারি কর্মচারী এবং দালাল চক্রকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট এখন দুর্নীতির আখড়া:
অবৈধ ব্যাচকে বৈধতা দিতে আড়ম্বরপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের আয়োজন!

বিশেষ প্রতিবেদক

ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের একটি প্রাচীনতম মেরিটাইম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে গত অর্ধশতক ধরে মার্চেন্ট জাহাজে নাবিক প্রশিক্ষন প্রদান করে জাহাজে সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হলো গতবছরের শেষ দিকে কোন ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই ১৭৭ জন নাবিককে স্পেশাল ব্যাচ এর নাম করে সমুদ্রগামী জাহাজের প্রশিক্ষণ প্রদান করা। এই স্পেশাল ব্যাচকে বিশেষ ব্যবস্থায় ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে অনাবাসিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
মূলত সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর কতৃক আয়োজিত প্রায় ২০ হাজার ছাত্রদের মধ্য থেকে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের জন্য নাবিক নির্বাচিত করে থাকে। এর মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের দরিদ্র এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেরিটাইম প্রশিক্ষণ নিশ্চিত হয়। কিন্তু গত বছর নজিরবিহীন ভাবে কোন পরীক্ষা ছাড়াই প্রায় দুইশত শিক্ষার্থীকে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়া হয় যা পুরো জাতির সাথে প্রতারণার শামিল।
তদন্ত করে জানা গেছে যে, এর সাথে ওতপ্রতভাবে একটি কুচক্রী মহল জড়িত ছিলেন। যাদের মধ্যে ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা এবং ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট এর চিফ নটিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মোঃ মেহেদী হাসান। তদন্তে আরো জানা যায়, তারা টাকার বিনিময়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরকে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে এই অবৈধ ব্যাচটি প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট এর অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান এবং চিফ নটিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মোঃ মেহেদী হাসান এই অবৈধ ব্যাচটিকে বৈধতা প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সেই তৎপরতার অংশ হিসেবে আগামী মে মাসের ৫ তারিখ এই স্পেশাল ব্যাচের আড়ম্বরপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণত পাসিং আউট অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহন মন্ত্রী, নৌপরিবহন সচিব এবং নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু এই অবৈধ স্পেশাল ব্যাচকে বৈধতা প্রদানের জন্য পাসিং আউটে নিয়মিত অতিথীরা ছাড়াও সংসদ সদস্য সহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, এই অনুষ্ঠানের পেছনেও রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। তদন্তে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ভর্তিচ্ছু প্রায় তিনশত নাবিক এর কাছ থেকে প্রতারক মহল ছয় থেকে আট লক্ষ টাকা করে স্পেশাল ব্যাচে ভর্তি করিয়ে দেয়ার নামে তুলে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এর সাথে সরাসরি জড়িত আছে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান এবং চিফ নটিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মেহেদী হাসান। তারা নৌ প্রতিমন্ত্রীর এপিএস বাশারের মাধ্যমে পরবর্তী স্পেশাল ব্যাচ চালু করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে আর কোন স্পেশাল ব্যাচ হবে না মর্মে চিঠি জারি করা হলেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। প্রথম স্পেশাল ব্যাচের জাঁকজমকপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই অবৈধ স্পেশাল ব্যাচকে বৈধ চালু ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাঁয়তারা করছে। এই জাঁকজমকপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের মূল কারিগর অধ্যক্ষ আতাউর রহমান। তদন্তে আরো বেরিয়ে এসেছে যে, ইতিমধ্যে মোঃ মেহেদী হাসান চট্টগ্রামে নামে বেনামে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন যার অর্থের মূল উৎস অবৈধ ব্যাচের ভর্তি ইচ্ছুক প্রশিক্ষনার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বুকিং মানি ।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে মোঃ মেহেদী হাসান বিভিন্ন সরকারি শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে (নৌ মন্ত্রীর এপিএস বাসার এর বদৌলতে) সেই তদন্ত রিপোর্ট কখনোই আলোর মুখ দেখেনি। এ থেকে বুঝা যায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে মোঃ মেহেদী হাসানের যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে মাত্র পাঁচ বছরে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করার পরেও কেন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি তা সত্যিই বিস্ময়কর !
দেশের একমাত্র সরকারি নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এবং মেরিটাইম সেক্টর এর এই ভয়াবহ দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য অবিলম্বে এই অবৈধ স্পেশাল ব্যাচ প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। এছাড়াও ভবিষ্যতে যাতে কোন কুচক্রী মহল এই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হতে না পারে তার জন্য সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এর সাথে জড়িত সকল সরকারি কর্মচারী এবং দালাল চক্রকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:২৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪
২৪৯২ বার পড়া হয়েছে

ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট এখন দুর্নীতির আখড়া: অবৈধ ব্যাচকে বৈধতা দিতে আড়ম্বরপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের আয়োজন!

আপডেট সময় ১১:২৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪

 

বিশেষ প্রতিবেদক

ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের একটি প্রাচীনতম মেরিটাইম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে গত অর্ধশতক ধরে মার্চেন্ট জাহাজে নাবিক প্রশিক্ষন প্রদান করে জাহাজে সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হলো গতবছরের শেষ দিকে কোন ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই ১৭৭ জন নাবিককে স্পেশাল ব্যাচ এর নাম করে সমুদ্রগামী জাহাজের প্রশিক্ষণ প্রদান করা। এই স্পেশাল ব্যাচকে বিশেষ ব্যবস্থায় ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে অনাবাসিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
মূলত সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর কতৃক আয়োজিত প্রায় ২০ হাজার ছাত্রদের মধ্য থেকে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের জন্য নাবিক নির্বাচিত করে থাকে। এর মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের দরিদ্র এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেরিটাইম প্রশিক্ষণ নিশ্চিত হয়। কিন্তু গত বছর নজিরবিহীন ভাবে কোন পরীক্ষা ছাড়াই প্রায় দুইশত শিক্ষার্থীকে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়া হয় যা পুরো জাতির সাথে প্রতারণার শামিল।
তদন্ত করে জানা গেছে যে, এর সাথে ওতপ্রতভাবে একটি কুচক্রী মহল জড়িত ছিলেন। যাদের মধ্যে ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা এবং ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট এর চিফ নটিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মোঃ মেহেদী হাসান। তদন্তে আরো জানা যায়, তারা টাকার বিনিময়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরকে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে এই অবৈধ ব্যাচটি প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট এর অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান এবং চিফ নটিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মোঃ মেহেদী হাসান এই অবৈধ ব্যাচটিকে বৈধতা প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সেই তৎপরতার অংশ হিসেবে আগামী মে মাসের ৫ তারিখ এই স্পেশাল ব্যাচের আড়ম্বরপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণত পাসিং আউট অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহন মন্ত্রী, নৌপরিবহন সচিব এবং নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু এই অবৈধ স্পেশাল ব্যাচকে বৈধতা প্রদানের জন্য পাসিং আউটে নিয়মিত অতিথীরা ছাড়াও সংসদ সদস্য সহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, এই অনুষ্ঠানের পেছনেও রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। তদন্তে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ভর্তিচ্ছু প্রায় তিনশত নাবিক এর কাছ থেকে প্রতারক মহল ছয় থেকে আট লক্ষ টাকা করে স্পেশাল ব্যাচে ভর্তি করিয়ে দেয়ার নামে তুলে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এর সাথে সরাসরি জড়িত আছে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান এবং চিফ নটিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মেহেদী হাসান। তারা নৌ প্রতিমন্ত্রীর এপিএস বাশারের মাধ্যমে পরবর্তী স্পেশাল ব্যাচ চালু করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে আর কোন স্পেশাল ব্যাচ হবে না মর্মে চিঠি জারি করা হলেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। প্রথম স্পেশাল ব্যাচের জাঁকজমকপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই অবৈধ স্পেশাল ব্যাচকে বৈধ চালু ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাঁয়তারা করছে। এই জাঁকজমকপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের মূল কারিগর অধ্যক্ষ আতাউর রহমান। তদন্তে আরো বেরিয়ে এসেছে যে, ইতিমধ্যে মোঃ মেহেদী হাসান চট্টগ্রামে নামে বেনামে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন যার অর্থের মূল উৎস অবৈধ ব্যাচের ভর্তি ইচ্ছুক প্রশিক্ষনার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বুকিং মানি ।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে মোঃ মেহেদী হাসান বিভিন্ন সরকারি শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে (নৌ মন্ত্রীর এপিএস বাসার এর বদৌলতে) সেই তদন্ত রিপোর্ট কখনোই আলোর মুখ দেখেনি। এ থেকে বুঝা যায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে মোঃ মেহেদী হাসানের যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে মাত্র পাঁচ বছরে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করার পরেও কেন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি তা সত্যিই বিস্ময়কর !
দেশের একমাত্র সরকারি নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এবং মেরিটাইম সেক্টর এর এই ভয়াবহ দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য অবিলম্বে এই অবৈধ স্পেশাল ব্যাচ প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। এছাড়াও ভবিষ্যতে যাতে কোন কুচক্রী মহল এই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হতে না পারে তার জন্য সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এর সাথে জড়িত সকল সরকারি কর্মচারী এবং দালাল চক্রকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট এখন দুর্নীতির আখড়া:
অবৈধ ব্যাচকে বৈধতা দিতে আড়ম্বরপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের আয়োজন!

বিশেষ প্রতিবেদক

ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের একটি প্রাচীনতম মেরিটাইম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে গত অর্ধশতক ধরে মার্চেন্ট জাহাজে নাবিক প্রশিক্ষন প্রদান করে জাহাজে সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হলো গতবছরের শেষ দিকে কোন ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই ১৭৭ জন নাবিককে স্পেশাল ব্যাচ এর নাম করে সমুদ্রগামী জাহাজের প্রশিক্ষণ প্রদান করা। এই স্পেশাল ব্যাচকে বিশেষ ব্যবস্থায় ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে অনাবাসিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
মূলত সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর কতৃক আয়োজিত প্রায় ২০ হাজার ছাত্রদের মধ্য থেকে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের জন্য নাবিক নির্বাচিত করে থাকে। এর মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের দরিদ্র এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেরিটাইম প্রশিক্ষণ নিশ্চিত হয়। কিন্তু গত বছর নজিরবিহীন ভাবে কোন পরীক্ষা ছাড়াই প্রায় দুইশত শিক্ষার্থীকে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়া হয় যা পুরো জাতির সাথে প্রতারণার শামিল।
তদন্ত করে জানা গেছে যে, এর সাথে ওতপ্রতভাবে একটি কুচক্রী মহল জড়িত ছিলেন। যাদের মধ্যে ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা এবং ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট এর চিফ নটিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মোঃ মেহেদী হাসান। তদন্তে আরো জানা যায়, তারা টাকার বিনিময়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরকে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে এই অবৈধ ব্যাচটি প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউট এর অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান এবং চিফ নটিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মোঃ মেহেদী হাসান এই অবৈধ ব্যাচটিকে বৈধতা প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সেই তৎপরতার অংশ হিসেবে আগামী মে মাসের ৫ তারিখ এই স্পেশাল ব্যাচের আড়ম্বরপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণত পাসিং আউট অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহন মন্ত্রী, নৌপরিবহন সচিব এবং নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু এই অবৈধ স্পেশাল ব্যাচকে বৈধতা প্রদানের জন্য পাসিং আউটে নিয়মিত অতিথীরা ছাড়াও সংসদ সদস্য সহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, এই অনুষ্ঠানের পেছনেও রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। তদন্তে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ভর্তিচ্ছু প্রায় তিনশত নাবিক এর কাছ থেকে প্রতারক মহল ছয় থেকে আট লক্ষ টাকা করে স্পেশাল ব্যাচে ভর্তি করিয়ে দেয়ার নামে তুলে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এর সাথে সরাসরি জড়িত আছে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন আতাউর রহমান এবং চিফ নটিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মেহেদী হাসান। তারা নৌ প্রতিমন্ত্রীর এপিএস বাশারের মাধ্যমে পরবর্তী স্পেশাল ব্যাচ চালু করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে আর কোন স্পেশাল ব্যাচ হবে না মর্মে চিঠি জারি করা হলেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। প্রথম স্পেশাল ব্যাচের জাঁকজমকপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই অবৈধ স্পেশাল ব্যাচকে বৈধ চালু ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাঁয়তারা করছে। এই জাঁকজমকপূর্ণ পাসিং আউট অনুষ্ঠানের মূল কারিগর অধ্যক্ষ আতাউর রহমান। তদন্তে আরো বেরিয়ে এসেছে যে, ইতিমধ্যে মোঃ মেহেদী হাসান চট্টগ্রামে নামে বেনামে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন যার অর্থের মূল উৎস অবৈধ ব্যাচের ভর্তি ইচ্ছুক প্রশিক্ষনার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বুকিং মানি ।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে মোঃ মেহেদী হাসান বিভিন্ন সরকারি শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে (নৌ মন্ত্রীর এপিএস বাসার এর বদৌলতে) সেই তদন্ত রিপোর্ট কখনোই আলোর মুখ দেখেনি। এ থেকে বুঝা যায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে মোঃ মেহেদী হাসানের যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে মাত্র পাঁচ বছরে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করার পরেও কেন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি তা সত্যিই বিস্ময়কর !
দেশের একমাত্র সরকারি নাবিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এবং মেরিটাইম সেক্টর এর এই ভয়াবহ দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য অবিলম্বে এই অবৈধ স্পেশাল ব্যাচ প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। এছাড়াও ভবিষ্যতে যাতে কোন কুচক্রী মহল এই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হতে না পারে তার জন্য সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এর সাথে জড়িত সকল সরকারি কর্মচারী এবং দালাল চক্রকে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।