১০:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে বিএনপির শ্লোগান: বিসিকে ওরা কারা?

প্রতিনিধির নাম:

মাসুদ রানা

বিসিক শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আমির হোসেন এর ২৭ মার্চ ২০২৪ তারিখের দেয়া ফেইসবুক পোষ্টটি একাগ্রচিত্তে অবলোকন অনেক কিছুর ইংগিত বহন করে, দায়িত্বজ্ঞানহীনদের জন্য এটা কিছুই নয়। নব্য আওয়ামী লীগারদের অপকর্ম খুবই সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে দ্বিচারীতার নগ্ন স্বরূপ। বিসিক ভবনের প্রবেশমুখে ঝুলানো ব্যানারের এক পার্শ্বে জাতির পিতার ছবি, অন্য পার্শ্বে প্রধান মন্ত্রীর ছবি। ভেতরে লিখা রয়েছে একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার, সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার। যারা এ শ্লোগান ধারণ করে তারা কোন অবস্থাতেই জাতির পিতা এবং প্রধান মন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের যোগ্যতা রাখতে পারে না। জাতি জানতে চায় জাতির পিতা ও প্রধান মন্ত্রির ছবি ব্যবহার করে বিএনপির শ্লোগান ব্যবহার-এরা কারা? এদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে কারা?

বিসিকের শীর্ষ প্রশাসনে রাজাকার শিরোনামে একাধিক অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সরকারের কোন মহল থেকে ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে তদীয় অনুসারীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠার অশনি সংকেত দেয়ার চেষ্টা করেছে এ জাতীয় একটি ব্যানার ঝুলানোর দৃষ্টতা দেখিয়ে। ২৯ জনের ছবি সম্বলিত ব্যানার বিসিক পরিচালক পর্ষদের একজনের নজরে পড়েনি তা মেনে নেয়ার সুযোগ নেই। স্পষ্টতই প্রমাণ মিলে বিসিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে থাকার। বিসিক কর্তৃপক্ষের কর্মকান্ড সুনির্দিষ্ট ভাবে প্রমাণ বহন করে তারা ক্ষমতাসীন সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার ক্ষেত্রে নীরব সমর্থক। অভাব দেখা দিয়েছে তাদের পেশাদারী মনোভাবের এবং আন্তরিকতার। তারা সুশৃংখল ভাবে দপ্তর পরিচালনায় অনাগ্রহী। সরকারী কর্মচারী আচরণ বিধিমালা এবং কর্মচারী চাকুরী প্রবিধানমালার বিধি-বিধান তাদের অজানা থাকার কথা নয়-তথাপি তারা নীরবতা পালন করে আছেন সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য। সুকৌশলে অস্থির পরিবেশ তৈরীর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অন্যতম কুশীলব হিসাবে কাজ করছে বিসিক পরিচালক পর্ষদের একাধিক সদস্য এবং চিহ্নিত কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

যার উদাহরণ অনেকগুলোর মধ্যে কয়েকটি অন্যতম। সম্প্রতি বিসিকের মোঃ আব্দুল হালিম নামের একজন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীর এখতিয়ার বহির্ভুত কর্মকান্ডের বিষয়ে একাধিক অনলাইন পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে –যেখানে উক্ত কর্মচারী বিসিক সার্ভিস রুলস ১৯৮৯ এর ১ (২) ধারার সরকার অনুমোদিত গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে প্রচারিত সংজ্ঞার পরিবর্তন করে নিজের খেয়াল খুশী মতো বে-আইনী লিখা লিখেছেন, যা একটি গুরুতর অসাদচরণ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিসিক কর্তৃপক্ষ তার এ ধরণের আচরণের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বিসিক কর্তৃপক্ষের নিকট হতে কর্মচারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং তাকে কর্মচারীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ক কার্যক্রম হতে বিরত রাখতে হলে অফিস আদেশ জারীর মাধ্যমে তা করতে হবে-এ ধরণের ঔদ্ধর্ত্যপূর্ণ লিখা লিখার পরও তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়ায় বিসিক কর্তৃপক্ষ তার পক্ষ অবলম্বন করেছেন বা তাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন বললে অত্যুক্তি হবে না।

ফেইসবুক পোষ্ট দেখে সংবাদ সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিকের প্রশাসনবিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে,বিসিকের মোট কর্মচারীর সংখ্যা ১৪৭৪ জন। মোঃ জহির উদ্দিনের নের্তৃতে প্রদর্শিত ব্যানারে প্রচারে-বিসিকের সকল কর্মচারীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ২৯ জন। বাকী ১৪৪৫ জন কর্মচারী কোন প্রতিষ্ঠানের তা বিসিক কর্তৃপক্ষ ব্যানারে প্রদর্শিত ২৯ জনের নিকট হতে জানতে চাওয়া অপরিহার্য একটি ব্যাপার। বিসিক কর্তৃপক্ষ সংবাদ প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত এ ব্যাপারে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। মোঃ আব্দুল হালিম, মোঃ জহির উদ্দিন গংদের আচরণে বিসিকে সংঘাত সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠছে কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষাভাবে পক্ষপাতমূলক আচরণে এবং নিষ্কিয়তার কারণে। জাতির পিতার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানের শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে শিল্পমন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরসহ দেশের জনগণ এমনটিই প্রত্যাশা করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪
৩২৪ বার পড়া হয়েছে

জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে বিএনপির শ্লোগান: বিসিকে ওরা কারা?

আপডেট সময় ০১:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪

মাসুদ রানা

বিসিক শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আমির হোসেন এর ২৭ মার্চ ২০২৪ তারিখের দেয়া ফেইসবুক পোষ্টটি একাগ্রচিত্তে অবলোকন অনেক কিছুর ইংগিত বহন করে, দায়িত্বজ্ঞানহীনদের জন্য এটা কিছুই নয়। নব্য আওয়ামী লীগারদের অপকর্ম খুবই সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে দ্বিচারীতার নগ্ন স্বরূপ। বিসিক ভবনের প্রবেশমুখে ঝুলানো ব্যানারের এক পার্শ্বে জাতির পিতার ছবি, অন্য পার্শ্বে প্রধান মন্ত্রীর ছবি। ভেতরে লিখা রয়েছে একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার, সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার। যারা এ শ্লোগান ধারণ করে তারা কোন অবস্থাতেই জাতির পিতা এবং প্রধান মন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের যোগ্যতা রাখতে পারে না। জাতি জানতে চায় জাতির পিতা ও প্রধান মন্ত্রির ছবি ব্যবহার করে বিএনপির শ্লোগান ব্যবহার-এরা কারা? এদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে কারা?

বিসিকের শীর্ষ প্রশাসনে রাজাকার শিরোনামে একাধিক অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সরকারের কোন মহল থেকে ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে তদীয় অনুসারীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠার অশনি সংকেত দেয়ার চেষ্টা করেছে এ জাতীয় একটি ব্যানার ঝুলানোর দৃষ্টতা দেখিয়ে। ২৯ জনের ছবি সম্বলিত ব্যানার বিসিক পরিচালক পর্ষদের একজনের নজরে পড়েনি তা মেনে নেয়ার সুযোগ নেই। স্পষ্টতই প্রমাণ মিলে বিসিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে থাকার। বিসিক কর্তৃপক্ষের কর্মকান্ড সুনির্দিষ্ট ভাবে প্রমাণ বহন করে তারা ক্ষমতাসীন সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার ক্ষেত্রে নীরব সমর্থক। অভাব দেখা দিয়েছে তাদের পেশাদারী মনোভাবের এবং আন্তরিকতার। তারা সুশৃংখল ভাবে দপ্তর পরিচালনায় অনাগ্রহী। সরকারী কর্মচারী আচরণ বিধিমালা এবং কর্মচারী চাকুরী প্রবিধানমালার বিধি-বিধান তাদের অজানা থাকার কথা নয়-তথাপি তারা নীরবতা পালন করে আছেন সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য। সুকৌশলে অস্থির পরিবেশ তৈরীর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অন্যতম কুশীলব হিসাবে কাজ করছে বিসিক পরিচালক পর্ষদের একাধিক সদস্য এবং চিহ্নিত কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

যার উদাহরণ অনেকগুলোর মধ্যে কয়েকটি অন্যতম। সম্প্রতি বিসিকের মোঃ আব্দুল হালিম নামের একজন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীর এখতিয়ার বহির্ভুত কর্মকান্ডের বিষয়ে একাধিক অনলাইন পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে –যেখানে উক্ত কর্মচারী বিসিক সার্ভিস রুলস ১৯৮৯ এর ১ (২) ধারার সরকার অনুমোদিত গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে প্রচারিত সংজ্ঞার পরিবর্তন করে নিজের খেয়াল খুশী মতো বে-আইনী লিখা লিখেছেন, যা একটি গুরুতর অসাদচরণ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিসিক কর্তৃপক্ষ তার এ ধরণের আচরণের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বিসিক কর্তৃপক্ষের নিকট হতে কর্মচারীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং তাকে কর্মচারীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ক কার্যক্রম হতে বিরত রাখতে হলে অফিস আদেশ জারীর মাধ্যমে তা করতে হবে-এ ধরণের ঔদ্ধর্ত্যপূর্ণ লিখা লিখার পরও তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়ায় বিসিক কর্তৃপক্ষ তার পক্ষ অবলম্বন করেছেন বা তাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন বললে অত্যুক্তি হবে না।

ফেইসবুক পোষ্ট দেখে সংবাদ সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিকের প্রশাসনবিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে,বিসিকের মোট কর্মচারীর সংখ্যা ১৪৭৪ জন। মোঃ জহির উদ্দিনের নের্তৃতে প্রদর্শিত ব্যানারে প্রচারে-বিসিকের সকল কর্মচারীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ২৯ জন। বাকী ১৪৪৫ জন কর্মচারী কোন প্রতিষ্ঠানের তা বিসিক কর্তৃপক্ষ ব্যানারে প্রদর্শিত ২৯ জনের নিকট হতে জানতে চাওয়া অপরিহার্য একটি ব্যাপার। বিসিক কর্তৃপক্ষ সংবাদ প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত এ ব্যাপারে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। মোঃ আব্দুল হালিম, মোঃ জহির উদ্দিন গংদের আচরণে বিসিকে সংঘাত সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠছে কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষাভাবে পক্ষপাতমূলক আচরণে এবং নিষ্কিয়তার কারণে। জাতির পিতার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানের শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে শিল্পমন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরসহ দেশের জনগণ এমনটিই প্রত্যাশা করে।