০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুদকে অভিযোগ: কুমিল্লা-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের সম্পদের পাহাড়!

প্রতিনিধির নাম:

স্টাফ রিপোর্টার

কুমিল্লার ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা -৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এম. এ জাহেরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যসে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। গতকাল ২৭ মার্চ ২০২৪ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ব্যারিষ্টার শামীমুর রহমান এই অভিযোগটি জমা দিয়েছেন। যার এস আর নং (অভিযোগ) ২৪-১৮ তারিখ: ২৭/০৩/২০২৪ ইং।

অভিযোগের বর্ণনায় জানা যায়, এম. এ জাহের মল্লিকা ট্রেডার্স ও মল্লিকা ফিলিং স্টেশনের মালিক। তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে টাকার বিনিময়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকায় নিজেকে বাংলাদেশের একজন বড় দানবীর নেতা হিসাবে প্রচার করেন। বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে টাকা রোজগার করে অঢেল সম্পদ অর্জন করছেন। কিন্তু নিয়মিত আয়কর পরিশোধ করেন না। মেসার্স মল্লিকা ট্রেডার্স ও এম এ. জাহেরের নামে কুমিল্লার আল-বারাকা ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক সমূহে সার্চ দিলেই শতশত কোটি টাকার লেন দেনের তথ্য পাওয়া যাবে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ঢাকার ধানমন্ডি ২নং রোডে অফিসসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় একডজন ফ্ল্যাট রয়েছে। যার অনুকূলে প্রকৃত আয়কর না দিয়ে অবৈধ ভাবে নিয়ন্ত্রন করে চলেছেন। তার পরিবারের ৪টি গাড়ী চলমান। শান-শওকত ও রাজকীয় চলাফেরা দেখে বিস্মিত হতে হয়। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন সম্পদের পাহাড় গড়লেও তা যেন দেখার কেউ নেই। তার কুমিল্লার বাগিচাগাঁও এ দু’টি বাড়ী, সিলেট সদরে চাঁদ মহল নামে বাড়ী এবং কুমিল্লা শহরের চকবাজারে ৬ তলা বাড়ীর সন্ধান পাওয়াগেছে। কুমিল্লা এবং ব্রাহ্মনবাড়ীয়ায় তাদের দু’টি পেট্রোল পাম্প আছে। গ্রামের বাড়ী-ব্রাহ্মনপাড়ার মল্লিকাদীঘি গ্রামে নিয়মবর্হিভূত ভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র ব্যতিরেকেই ইটের ভাটা স্থাপন করেছেন । এছাড়া কক্সবাজারে ১০ কোটি বিনিয়োগ করে একটি হোটেল নির্মাণ করেছেন। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে মিটার জাঁলিয়াতি ও গ্যাস চুরি করার কারণে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের নজির পাওয়া গেলেও টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মুখবন্ধ করে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

সংসদ সদস্য এম. এ জাহের আওয়ামী লীগের পরিচয় বহনে ব্যবসা বাণিজ্য করেন কিন্তু বিএনপি এবং জামায়াতের ছত্রছায়ায় রাজনীতি করছেন। রাতদিন ২৪ ঘন্টা বিএনপি‘র নেতাকর্মী ও চোরাচালানকারীদের নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এম. এ জাহের আর আপন বড় ভাইয়ের নামে আবু তাহের কালেজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। এ সব প্রতিষ্ঠানের নামে ভর্তি বাণিজ্য ও পরীক্ষা বাণিজ্য করে কোটি কোটি আত্মসাৎ করে চলেছেন।

অভিযোগনামার শেষপ্রান্তে দেশকে দুর্নীদিমুক্ত করতে এসব তথ্য যাচাই বাছাই করে দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান ও তদন্তের পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য দুদক চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানান হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য এম এ জাহেরকে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:৩৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪
২০৫ বার পড়া হয়েছে

দুদকে অভিযোগ: কুমিল্লা-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের সম্পদের পাহাড়!

আপডেট সময় ০৪:৩৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার

কুমিল্লার ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা -৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এম. এ জাহেরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যসে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। গতকাল ২৭ মার্চ ২০২৪ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ব্যারিষ্টার শামীমুর রহমান এই অভিযোগটি জমা দিয়েছেন। যার এস আর নং (অভিযোগ) ২৪-১৮ তারিখ: ২৭/০৩/২০২৪ ইং।

অভিযোগের বর্ণনায় জানা যায়, এম. এ জাহের মল্লিকা ট্রেডার্স ও মল্লিকা ফিলিং স্টেশনের মালিক। তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে টাকার বিনিময়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকায় নিজেকে বাংলাদেশের একজন বড় দানবীর নেতা হিসাবে প্রচার করেন। বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে টাকা রোজগার করে অঢেল সম্পদ অর্জন করছেন। কিন্তু নিয়মিত আয়কর পরিশোধ করেন না। মেসার্স মল্লিকা ট্রেডার্স ও এম এ. জাহেরের নামে কুমিল্লার আল-বারাকা ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক সমূহে সার্চ দিলেই শতশত কোটি টাকার লেন দেনের তথ্য পাওয়া যাবে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ঢাকার ধানমন্ডি ২নং রোডে অফিসসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় একডজন ফ্ল্যাট রয়েছে। যার অনুকূলে প্রকৃত আয়কর না দিয়ে অবৈধ ভাবে নিয়ন্ত্রন করে চলেছেন। তার পরিবারের ৪টি গাড়ী চলমান। শান-শওকত ও রাজকীয় চলাফেরা দেখে বিস্মিত হতে হয়। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন সম্পদের পাহাড় গড়লেও তা যেন দেখার কেউ নেই। তার কুমিল্লার বাগিচাগাঁও এ দু’টি বাড়ী, সিলেট সদরে চাঁদ মহল নামে বাড়ী এবং কুমিল্লা শহরের চকবাজারে ৬ তলা বাড়ীর সন্ধান পাওয়াগেছে। কুমিল্লা এবং ব্রাহ্মনবাড়ীয়ায় তাদের দু’টি পেট্রোল পাম্প আছে। গ্রামের বাড়ী-ব্রাহ্মনপাড়ার মল্লিকাদীঘি গ্রামে নিয়মবর্হিভূত ভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র ব্যতিরেকেই ইটের ভাটা স্থাপন করেছেন । এছাড়া কক্সবাজারে ১০ কোটি বিনিয়োগ করে একটি হোটেল নির্মাণ করেছেন। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে মিটার জাঁলিয়াতি ও গ্যাস চুরি করার কারণে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের নজির পাওয়া গেলেও টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মুখবন্ধ করে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

সংসদ সদস্য এম. এ জাহের আওয়ামী লীগের পরিচয় বহনে ব্যবসা বাণিজ্য করেন কিন্তু বিএনপি এবং জামায়াতের ছত্রছায়ায় রাজনীতি করছেন। রাতদিন ২৪ ঘন্টা বিএনপি‘র নেতাকর্মী ও চোরাচালানকারীদের নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এম. এ জাহের আর আপন বড় ভাইয়ের নামে আবু তাহের কালেজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। এ সব প্রতিষ্ঠানের নামে ভর্তি বাণিজ্য ও পরীক্ষা বাণিজ্য করে কোটি কোটি আত্মসাৎ করে চলেছেন।

অভিযোগনামার শেষপ্রান্তে দেশকে দুর্নীদিমুক্ত করতে এসব তথ্য যাচাই বাছাই করে দুদক কর্তৃক অনুসন্ধান ও তদন্তের পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য দুদক চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানান হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সংসদ সদস্য এম এ জাহেরকে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।