প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা: মলয় কুমার শুরের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে না কেন?
স্টাফ রিপোর্টার
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা উইংএর পরিচালক মলয় কুমার শুর এর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়লেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। । প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সকল প্রকল্পের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা এবং বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা পরিকল্পনা শাখার মাধ্যমে অনুমোদিত হয়ে থাকে। ডা: মলয় কুমার শুর পরিকল্পনা শাখার পরিচালকের দাত্বিভার গ্রহনের পর হতে পিডিদের সাথে আঁতাত করে আর্থিক সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন ও লোপাট করে চলেছেন।
সুত্রমতে,প্রকল্পের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) অনুমোদন করার দায়িত্ব “হোপের”। আর হোপের নিকট নথি উপস্থাপন করে ডা: মলয় কুমার শুর। আর পিডিরা এপিপি অনুমোদন পাওয়ার পর দরপত্র আহ্বান করে এবং অনুমোদিত দরটিকে বেইস ধরে ক্রয় কর্ম সম্পাদন করে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী পিডি কর্তৃক এপিপি জমা দেয়ার পর হোপের পক্ষে পরিচালকের দায়িত্ব হল সে গুলি যথাযথভাবে যাচাই বাছাই করে স্পেসিফিকেশন, দর, নীতিমালা সঠিক আছে কি না সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নথি উপরে উঠানো। কিন্তু মলয় কুমার শুর আর্থিক সুবিধা গ্রহনের মাধ্যমে কোন প্রকার যাচাই/বাছাই ছাড়াই পিডি কর্তৃক প্রস্তাবিত এপিপি হোপ (হেড অব প্রকিউরমেন্ট এনটিটি) কর্তৃক অনুমোদন করাইয়া দিয়ে দেয়। যথাযথভাবে যাচাই বাছাই না হওয়ায় ৫০ টাকার মাল ১০০ টাকায় ক্রয় করা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক বিধি বিধান অনুসরন করা হয় না। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়।
দুর্নীতির ফিরিস্তি:
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িতব্য ” ওসঢ়ৎড়াবসবহঃ ড়ভ ঝড়পরড়-ঊপড়হড়সরপ ধহফ খরাবষরযড়ড়ফ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ড়ভ ঞৎরনধষ চবড়ঢ়ষব ঃযৎড়ঁময ওহঃবমৎধঃবফ খরাবংঃড়পশ চৎড়লবপঃ” এর জন্য চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থ বসরের মোট ৮ টি প্যাকেজের জন্য সর্বমোট ১,১৩,৯৮,৬৮,০০০/ টাকার এপিপি অনুমোদন করা হয়েছে। (কপি সংযুক্ত)। উক্ত এপিপিতে উল্লেখিত ঐরময ণরবষফরহম ঈৎড়ংংনৎবফ যবরভবৎ ক্রয়ের জন্য একই স্পেসিফিকেশনে মোট ২,৪১৬+৩,০০০+৩,০৪৪-মোট ৮,৪৫০ টি গরুর বাছুর ক্রয়ের জন্য ১৪,৭৩,৭৬,০০০/-১’৮,৩০,০০,০০০/-+১৮,৫৬,৮৪,০০০/-= ৫১,৬০,৬০,০০০/- টাকার ৩টি প্যাকেজ করা হয়েছে। যা ডেলিগেশন অব ফাইনানশিয়াল রুলের পরিপন্থী। কারন ডেলিগেশন অব ফাইনানশিয়াল রুলে সুস্পষ্ঠ উল্লেখ করা রয়েছে আর্থিক ক্ষমতা এড়ানোর জন্য কোন ভাবে “স্পিলিটআপ” করা যাবে না।কিন্তু ডা: মলয় কুমার শুর প্রায় কোটি টাকার সুবিধা নিয়ে কোন প্রকার বাজার দর যাছাই/বাছাই ছাড়াই পিডি কর্তৃক দাখিল কৃত হুবুহু এপিপি অনুমোদন করে দিয়েছে। আর এই ৩টি প্যাকেজ যদি একত্রে করে একটি প্যাকেজের দরপত্র আহবান করা হয় তাহলে নিয়ম অনুযায়ী মাননীয় মন্ত্রীর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে আর সেক্ষেত্রে পিডির থলের বিড়াল বেড়িয়ে যাবে। কারন একই পন্থায় পিডি প্রতিটির গরুর জন্য ৬১,০০০/ টাকার এপিপি অনুমোদন করাইয়া গরুর ক্রয় করেছিল যার অধিকাংশই ছিল রুগ্ন, শীর্ন ও অসুস্থ। দরপত্রে প্রতিটি বাছুর ৬১,০০০/- টাকা দেখানো হলোও সরবরাহ নেয়া হয়েছে সে সকল বাচ্চুর গরুর মূল্য সব সাকুল্যে ২৫-৩০ হাজার টাকা। ফলে মোট ৮,৪৫০ টি গরুর বাছুর ক্রয়ে অতিরিক্ত ২৬ কোটি ১৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার এপিপি অনুমোদন করা হয়েছে।
একইভাবে পশুখাদ্য ক্রয় করার জন্য মোট ৩টি প্যকেজে মোট ৯,৯৭,৫৮,০০০/-+১৯,৩৭,৫২,০০০/- +১৯,৯৫,০০,০০০/ মোট= ৪৯,৩০,১০,০০০/ টাকার ৯,৪৩২ মেঃটন খাবার ক্রয়ের এপিপি অনুমোদন করা হয়েছে। (কপি সংযুক্ত),। প্রতি কেজি খাবারের মূল্য অনুমোদন করা হয়েছে ৫২/৫০ টাকা। অথচ একই খাবার বাজার হতে ক্রয় করা হলে পাওয়া যাবে প্রতি কেজি ৪০/০০ টাকায়। এ ক্ষেত্রে মোট ৯,৪৩২ মেঃটন খাবারে অতিরিক্ত অনুমোদন করা হয়েছে ১১ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা। মেডিসিন/ভিটামিন ক্রয় প্রায় সকল ক্ষেত্রে এ প্রকল্পের ন্যয় সকল প্রকল্পে একই ঘটনা করা হচ্ছে। এর বিনিময়ে ডা: মলয় কুমার শুর পাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। মোট কথা সকল ক্ষেত্রে (সব প্রকল্পে) কোন প্রকার সরকারী আর্থিক বিধি বিধান অনুসরন না করেই ডা: মলয় কুমার শুর শত শত কোটি টাকার এপিপি অবৈধভাবে অনুমোদন করিয়ে দিয়েছে যা তদন্ত করলেই প্রমানিত হবে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ডা: মলয় কুমার শুরের সেল ফোনে কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। (চলবে)











