০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফৌজদারী মামলার আসামী ডা: মলয় কুমার হতে চান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক!

প্রতিনিধির নাম:

নিজস্ব প্রতিবেদক
আর মাত্র একদিন পরে অর্থাৎ ২৭/২/২০২৪ ইং তারিখে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদটি শুন্য হবে। কারণ এ পদে এতদিন চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার নিয়মিত চাকুরী শেষে আগামীকাল হতে অবসরে যাবেন। দূর্নীতি দমন কমিশনে দূর্নীতির মামলা চলমান থাকায় তিনি নিয়মিত ডিজি (গ্রেড-১) হতে পারেন নি।
সরকারী নিয়ম ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং ০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০১৭.২১-৯৭ তারিখ-১৮/৪/২০২৩ ইং অনুযায়ী সকল প্রকৃত শুন্যপদ সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিধি অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগ বা পদোন্নতি বা প্রেষনের মাধ্যমে পূরন করার ত্বড়িত ব্যবস্থা গ্রহন করিতে হইবে তবে পদেও দায়িত্ব যদি এ রুপ হয় যে, পদ পূরনের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা পর্যন্ত পদটি শুন্য রাখা জনস্বার্থে সমীচিন নয়, তাহলে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ পূর্বক চলতি দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
জনপ্রশাসনের উক্ত প্রজ্ঞাপনে ৭ নং কলামে উল্লেখ রয়েছে চলতি দায়িত্ব প্রদানের মেয়াদ ৬ মাসের অধিক হবে না। তবে ৬ মাসের অধিক মেয়াদের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের অনুমোদন গ্রহন করতে হবে। এছাড়া ৮ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে যে, এধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে (উচ্চ পদের চলতি দায়িত্ব প্রদানের বেলায়) জ্যেষ্ঠতা, কর্মদক্ষতা ও সন্তোষজনক চাকুরীর ভিত্তিতে পদোন্নতির যোগ্যতা বিবেচনা করেই চলতি দায়িত্ব প্রদান করিতে হবে। একই অনুচ্ছেদের ৭ নং শর্তে উল্লেখ করা রয়েছে যে, “কোন কর্মচারীর নামে বিভাগীয় বা ফৌজদারী মামলার কার্যধারা চলমান থাকিলে তাকে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা যাইবে না”।
তথ্য মতে বর্তমান গ্রেডেশন তালিকার ৪র্থ কর্মকর্তা (৯০৪) পরিচালক, পরিকল্পনা ডা: মলয় কুমার সুরের নামে ঢাকার সিএমএম আদালত-১৫ তে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অপর একজন কর্মকর্তা ডা: মো: আজিজুল ইসলাম ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন যার নং ১৬/২৪, তারিখ ১৬/১/২০২৪ ইং। উক্ত মামলায় ডা: মলয় কুমার সুরকে ২ নং আসামী করা হয়েছে। আদালত উক্ত মামলাটি অ্যাডিশনাল আইজিপি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন( পিবিআই)-কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী তারিখ নির্দ্ধারন করা হয়েছে আগামী ২৪/৩/২৪ ইং ।
প্রসংগত উল্লেখ্য যে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে পদোন্নতির পূর্বশর্ত হলো পূর্ব পদে অথাৎ পরিচালক পদে ন্যুনতম ১ বছরের চাকুরীর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সে অনুযায়ী বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার পরিচালক পদে ১ বছরের অধিক চাকুরীর অভিজ্ঞতা থাকলেও বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিজি ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদারের দুদুকে মামলা থাকায় তিনি এসএসবি’র সভার বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি।
সুত্রমতে এই সুযোগে মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ভুলতথ্য দিয়ে এবং নানাপথে রাজনৈতিক তদবীর করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদের চলতি দায়িত্ব প্রাপ্তির জোর তদবীর চালাচ্ছেন বর্তমান গ্রেডেশন তালিকার ৪র্থ কর্মকর্তা (৯০৪) পরিচালক (পরিকল্পনা) ডা: মলয় কুমার সুর। তিনি তদন্তাধীন ফৌজদারী মামলার আসামী হয়েও কিভাবে গ্রেড-১ এর মত শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হতে চাচ্ছেন সেটাই কারো বোধগম্য নয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
৬৭৬ বার পড়া হয়েছে

ফৌজদারী মামলার আসামী ডা: মলয় কুমার হতে চান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক!

আপডেট সময় ০৫:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
আর মাত্র একদিন পরে অর্থাৎ ২৭/২/২০২৪ ইং তারিখে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদটি শুন্য হবে। কারণ এ পদে এতদিন চলতি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার নিয়মিত চাকুরী শেষে আগামীকাল হতে অবসরে যাবেন। দূর্নীতি দমন কমিশনে দূর্নীতির মামলা চলমান থাকায় তিনি নিয়মিত ডিজি (গ্রেড-১) হতে পারেন নি।
সরকারী নিয়ম ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং ০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০১৭.২১-৯৭ তারিখ-১৮/৪/২০২৩ ইং অনুযায়ী সকল প্রকৃত শুন্যপদ সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিধি অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগ বা পদোন্নতি বা প্রেষনের মাধ্যমে পূরন করার ত্বড়িত ব্যবস্থা গ্রহন করিতে হইবে তবে পদেও দায়িত্ব যদি এ রুপ হয় যে, পদ পূরনের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা পর্যন্ত পদটি শুন্য রাখা জনস্বার্থে সমীচিন নয়, তাহলে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ পূর্বক চলতি দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
জনপ্রশাসনের উক্ত প্রজ্ঞাপনে ৭ নং কলামে উল্লেখ রয়েছে চলতি দায়িত্ব প্রদানের মেয়াদ ৬ মাসের অধিক হবে না। তবে ৬ মাসের অধিক মেয়াদের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের অনুমোদন গ্রহন করতে হবে। এছাড়া ৮ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে যে, এধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে (উচ্চ পদের চলতি দায়িত্ব প্রদানের বেলায়) জ্যেষ্ঠতা, কর্মদক্ষতা ও সন্তোষজনক চাকুরীর ভিত্তিতে পদোন্নতির যোগ্যতা বিবেচনা করেই চলতি দায়িত্ব প্রদান করিতে হবে। একই অনুচ্ছেদের ৭ নং শর্তে উল্লেখ করা রয়েছে যে, “কোন কর্মচারীর নামে বিভাগীয় বা ফৌজদারী মামলার কার্যধারা চলমান থাকিলে তাকে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা যাইবে না”।
তথ্য মতে বর্তমান গ্রেডেশন তালিকার ৪র্থ কর্মকর্তা (৯০৪) পরিচালক, পরিকল্পনা ডা: মলয় কুমার সুরের নামে ঢাকার সিএমএম আদালত-১৫ তে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অপর একজন কর্মকর্তা ডা: মো: আজিজুল ইসলাম ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন যার নং ১৬/২৪, তারিখ ১৬/১/২০২৪ ইং। উক্ত মামলায় ডা: মলয় কুমার সুরকে ২ নং আসামী করা হয়েছে। আদালত উক্ত মামলাটি অ্যাডিশনাল আইজিপি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন( পিবিআই)-কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী তারিখ নির্দ্ধারন করা হয়েছে আগামী ২৪/৩/২৪ ইং ।
প্রসংগত উল্লেখ্য যে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে পদোন্নতির পূর্বশর্ত হলো পূর্ব পদে অথাৎ পরিচালক পদে ন্যুনতম ১ বছরের চাকুরীর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সে অনুযায়ী বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার পরিচালক পদে ১ বছরের অধিক চাকুরীর অভিজ্ঞতা থাকলেও বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিজি ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদারের দুদুকে মামলা থাকায় তিনি এসএসবি’র সভার বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি।
সুত্রমতে এই সুযোগে মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ভুলতথ্য দিয়ে এবং নানাপথে রাজনৈতিক তদবীর করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদের চলতি দায়িত্ব প্রাপ্তির জোর তদবীর চালাচ্ছেন বর্তমান গ্রেডেশন তালিকার ৪র্থ কর্মকর্তা (৯০৪) পরিচালক (পরিকল্পনা) ডা: মলয় কুমার সুর। তিনি তদন্তাধীন ফৌজদারী মামলার আসামী হয়েও কিভাবে গ্রেড-১ এর মত শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হতে চাচ্ছেন সেটাই কারো বোধগম্য নয়।