০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কে হচ্ছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরবর্তী মহাপরিচালক?

প্রতিনিধির নাম:

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা: এমদাদুল হক তালুকদারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৭ ফেব্রুয়ারি। নতুন ডিজি মার্চে দায়িত্ব নেবেন। এর মধ্যেই নতুন ডিজি নিয়োগের তৎপরতা শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে যেকোনো দিন নতুন ডিজি নিয়োগের আদেশ হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান ডিজি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাবেন, নাকি নতুন করে কোনো কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হবে- এ নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা। ডিজি হওয়ার লাইনে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসনসহ আরো ওপর মহলে যে যার মতো করে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। ডিজি হওয়ার লাইনে প্রতিযোগিতায় থাকা অনেকেই আবার একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতেও নেমেছেন। সবমিলিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে। তবে প্রাণিসম্পদ খাত সংশ্লিষ্টরা চাচ্ছেন যোগ্যরাই অধিদফতরের শীর্ষ পদে আসীন হোক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব বরাবর চিঠি দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শাহীনা ফেরদৌসী। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘… মহাপরিচালক (গ্রেড-১) পদে পদোন্নতির প্রস্তাব বিবেচনার নিমিত্ত বিসিএস পশুসম্পদ) ক্যাডারের সংযুক্ত তালিকায় বর্ণিত ৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা চলমান/তদন্তাধীন আছে কি না-এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ চিঠির সাথে ৫ জন কর্মকর্তার তালিকা দেয়া হয়। তারা হলেন- ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার (মহাপরিচালক), ড. অমলেন্দু ঘোষ (চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার-টক্সিকোলজি অ্যান্ড জুরিসপ্রুডেন্স অনুবিভাগ), ডা: রাস মোহন অধিকারী (পরিচালক-প্রাণিসম্পদ ঔষধাগার), ডা: মো: আতাউর রহমান ভূঁইয়া (পরিচালক এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি কলেজের অধ্যক্ষ) এবং ডা: মোহাম্মদ রেয়াজুল হক (পরিচালক-প্রশাসন)। দুদক থেকে তদন্ত রিপোর্ট মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উইংয়ে পৌঁছেছে কি না, জানা নেই। তবে বর্তমান ডিজি ডা: এমদাদুল হক তালুকদারের মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এ পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। ডেইরি ও পোলট্রিসহ প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সংস্থাটি মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। রাজস্বসহ প্রায় দুই ডজন প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার কেনাকাটাসহ খামারি সহায়তামূলক কর্মসূচি চলমান। সংস্থাটির মহাপরিচালক ডা: মো: ইমদাদুল হক তালুকদার চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে অবসরে যাবেন। তবে তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার জন্য জোর তদবির করছেন। এক বছরেরও বেশি ডিজির দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা অনেক চেষ্টা তদবির করেও গ্রেড-২ থেকে গ্রেড-১-এ পদোন্নতি পাননি। তবে শীর্ষ পদটি ধরে রাখার লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে বলে তার অনুসারীরা মনে করছেন। তারা বলছেন, বর্তমান ডিজির বাড়ি গোপালগঞ্জে হওয়ায় আলাদা সুবিধা পেতে পারেন ৯ম বিসিএস (পশু) ক্যাডার কর্মকর্তা এমদাদুল হক তালুকদার। তবে প্রাণিসম্পদ জোরদারকরণ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্বপালনকালে মানহীন পণ্য কেনাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতির নানা ফিরিস্তি নিয়ে মন্ত্রণালয় ও দুদকসহ বিভিন্ন দফতরে জমা শক্ত অভিযোগ মোকাবেলা করতে হচ্ছে তাকে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের এক প্রকল্প পরিচালক ডা: আজিজুল ইসলামকে (বরখাস্ত) প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে ফৌজদারি মামলা (সিআর মামলা ১৬,২০২৪) এবং অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রসহ নানা অভিযোগে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা যায়।
ডিজির লাইনে থাকা আরেক কর্মকর্তা ডা: মলয় কুমার সুর। তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিকল্পনা শাখার পরিচালক। বর্তমান ডিজির সাথে তিনিও ওই মামলার আসামি বলে জানা যায়।
অন্য দিকে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের শীর্ষ পদে (ডিজি) যেতে তৎপর রয়েছেন পরিচালক (প্রশাসন) ডা: রেয়াজুল হক জসিম। এর আগে তিনি পরিচালকসহ (উৎপাদন) বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ বিসিএসের কর্মকর্তা হিসেবে তার নাম গ্রেডেশন তালিকায় থাকলেও তাকে নিয়েও নানা প্রচার-প্রচারণা রয়েছে কর্মকর্তাদের। চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকাকালে অনিয়মে জড়ানোর পাশাপাশি তার হাত ধরে বাংলাদেশে অবৈধভাবে গোশত আমদানি শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও তাকে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবেও প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মকর্তারা। এমন কী তিনি বিসিএস ক্যাডার নন বলেও অনেকে দাবি করছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের একটি অংশ বলছেন, ৯ম বিসিএস থেকে ১৯ বিসিএসের মাঝখানে পশু ক্যাডারে কোনো বিসিএস হয়নি। কিন্তু ডা: রেয়াজুল নামের শেষে ‘বিশেষ বিসিএস’ উল্লেখ করলেও তা কততম তা বলতে পারেন না। তিনি অবসরে যাবেন ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর। একই ব্যাচের (বিশেষ বিসিএস) ডা: মোহাম্মদ জাকির হোসেনও রয়েছেন ডিজি হওয়ার লাইনে। তিনি অবসরে যাবেন ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশেষ বিসিএস থেকে ডিজি না হলে পরবর্তী ১৯তম বিসিএসের শীর্ষে রয়েছেন ডা: মো: আবু সুফিয়ান। বর্তমানে তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (হিসাব, বাজেট ও নিরীক্ষা শাখা) হিসেবে কর্মরত আছেন। এরপর নাম রয়েছেন, ডা: মলয় কুমার সুর (পরিচালক-পরিকল্পনা শাখা), ডা: এ বি এম খালেদুজ্জামান (পরিচালক, উৎপাদন), ডা: শাহিনুর আলম (পরিচালক, সম্প্রসারণ) ডা: আনন্দ কুমার অধিকারীর (পরিচালক-কৃত্রিম প্রজনন) নাম। শেষ পর্যন্ত ডিজি হবেন কে, তা নিয়ে নিশ্চিত করে বলা না গেলেও এ নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে। সারা দেশে থাকা কর্মকর্তারাও অপেক্ষায় আছেন, কে হচ্ছেন পরবর্তী সংস্থা প্রধান।
মহাপরিচালক নিয়োগে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, অধিদফতরের চাহিদা মোতাবেক ডিপার্টমেন্টের উন্নয়ন, উৎপাদন প্রবাহ অব্যাহত রাখা এবং নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে যোগ্য ব্যক্তিকে মহাপরিচালক নিয়োগ প্রদান করা হবে। দল বা ব্যক্তি বিশেষ নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতেই শীর্ষ এ পদটি পূরণ করা হবে। যার নেতৃত্বে প্রাণিসম্পদ খাত এগিয়ে যাবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৫১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
১৬২ বার পড়া হয়েছে

কে হচ্ছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরবর্তী মহাপরিচালক?

আপডেট সময় ০১:৫১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা: এমদাদুল হক তালুকদারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৭ ফেব্রুয়ারি। নতুন ডিজি মার্চে দায়িত্ব নেবেন। এর মধ্যেই নতুন ডিজি নিয়োগের তৎপরতা শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে যেকোনো দিন নতুন ডিজি নিয়োগের আদেশ হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান ডিজি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাবেন, নাকি নতুন করে কোনো কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হবে- এ নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা। ডিজি হওয়ার লাইনে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসনসহ আরো ওপর মহলে যে যার মতো করে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। ডিজি হওয়ার লাইনে প্রতিযোগিতায় থাকা অনেকেই আবার একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতেও নেমেছেন। সবমিলিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে। তবে প্রাণিসম্পদ খাত সংশ্লিষ্টরা চাচ্ছেন যোগ্যরাই অধিদফতরের শীর্ষ পদে আসীন হোক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব বরাবর চিঠি দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শাহীনা ফেরদৌসী। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘… মহাপরিচালক (গ্রেড-১) পদে পদোন্নতির প্রস্তাব বিবেচনার নিমিত্ত বিসিএস পশুসম্পদ) ক্যাডারের সংযুক্ত তালিকায় বর্ণিত ৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা চলমান/তদন্তাধীন আছে কি না-এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ চিঠির সাথে ৫ জন কর্মকর্তার তালিকা দেয়া হয়। তারা হলেন- ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার (মহাপরিচালক), ড. অমলেন্দু ঘোষ (চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার-টক্সিকোলজি অ্যান্ড জুরিসপ্রুডেন্স অনুবিভাগ), ডা: রাস মোহন অধিকারী (পরিচালক-প্রাণিসম্পদ ঔষধাগার), ডা: মো: আতাউর রহমান ভূঁইয়া (পরিচালক এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি কলেজের অধ্যক্ষ) এবং ডা: মোহাম্মদ রেয়াজুল হক (পরিচালক-প্রশাসন)। দুদক থেকে তদন্ত রিপোর্ট মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উইংয়ে পৌঁছেছে কি না, জানা নেই। তবে বর্তমান ডিজি ডা: এমদাদুল হক তালুকদারের মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এ পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। ডেইরি ও পোলট্রিসহ প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সংস্থাটি মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। রাজস্বসহ প্রায় দুই ডজন প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার কেনাকাটাসহ খামারি সহায়তামূলক কর্মসূচি চলমান। সংস্থাটির মহাপরিচালক ডা: মো: ইমদাদুল হক তালুকদার চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে অবসরে যাবেন। তবে তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার জন্য জোর তদবির করছেন। এক বছরেরও বেশি ডিজির দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা অনেক চেষ্টা তদবির করেও গ্রেড-২ থেকে গ্রেড-১-এ পদোন্নতি পাননি। তবে শীর্ষ পদটি ধরে রাখার লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে বলে তার অনুসারীরা মনে করছেন। তারা বলছেন, বর্তমান ডিজির বাড়ি গোপালগঞ্জে হওয়ায় আলাদা সুবিধা পেতে পারেন ৯ম বিসিএস (পশু) ক্যাডার কর্মকর্তা এমদাদুল হক তালুকদার। তবে প্রাণিসম্পদ জোরদারকরণ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্বপালনকালে মানহীন পণ্য কেনাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতির নানা ফিরিস্তি নিয়ে মন্ত্রণালয় ও দুদকসহ বিভিন্ন দফতরে জমা শক্ত অভিযোগ মোকাবেলা করতে হচ্ছে তাকে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের এক প্রকল্প পরিচালক ডা: আজিজুল ইসলামকে (বরখাস্ত) প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে ফৌজদারি মামলা (সিআর মামলা ১৬,২০২৪) এবং অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রসহ নানা অভিযোগে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা যায়।
ডিজির লাইনে থাকা আরেক কর্মকর্তা ডা: মলয় কুমার সুর। তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিকল্পনা শাখার পরিচালক। বর্তমান ডিজির সাথে তিনিও ওই মামলার আসামি বলে জানা যায়।
অন্য দিকে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের শীর্ষ পদে (ডিজি) যেতে তৎপর রয়েছেন পরিচালক (প্রশাসন) ডা: রেয়াজুল হক জসিম। এর আগে তিনি পরিচালকসহ (উৎপাদন) বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ বিসিএসের কর্মকর্তা হিসেবে তার নাম গ্রেডেশন তালিকায় থাকলেও তাকে নিয়েও নানা প্রচার-প্রচারণা রয়েছে কর্মকর্তাদের। চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকাকালে অনিয়মে জড়ানোর পাশাপাশি তার হাত ধরে বাংলাদেশে অবৈধভাবে গোশত আমদানি শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও তাকে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবেও প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মকর্তারা। এমন কী তিনি বিসিএস ক্যাডার নন বলেও অনেকে দাবি করছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের একটি অংশ বলছেন, ৯ম বিসিএস থেকে ১৯ বিসিএসের মাঝখানে পশু ক্যাডারে কোনো বিসিএস হয়নি। কিন্তু ডা: রেয়াজুল নামের শেষে ‘বিশেষ বিসিএস’ উল্লেখ করলেও তা কততম তা বলতে পারেন না। তিনি অবসরে যাবেন ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর। একই ব্যাচের (বিশেষ বিসিএস) ডা: মোহাম্মদ জাকির হোসেনও রয়েছেন ডিজি হওয়ার লাইনে। তিনি অবসরে যাবেন ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশেষ বিসিএস থেকে ডিজি না হলে পরবর্তী ১৯তম বিসিএসের শীর্ষে রয়েছেন ডা: মো: আবু সুফিয়ান। বর্তমানে তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (হিসাব, বাজেট ও নিরীক্ষা শাখা) হিসেবে কর্মরত আছেন। এরপর নাম রয়েছেন, ডা: মলয় কুমার সুর (পরিচালক-পরিকল্পনা শাখা), ডা: এ বি এম খালেদুজ্জামান (পরিচালক, উৎপাদন), ডা: শাহিনুর আলম (পরিচালক, সম্প্রসারণ) ডা: আনন্দ কুমার অধিকারীর (পরিচালক-কৃত্রিম প্রজনন) নাম। শেষ পর্যন্ত ডিজি হবেন কে, তা নিয়ে নিশ্চিত করে বলা না গেলেও এ নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে। সারা দেশে থাকা কর্মকর্তারাও অপেক্ষায় আছেন, কে হচ্ছেন পরবর্তী সংস্থা প্রধান।
মহাপরিচালক নিয়োগে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, অধিদফতরের চাহিদা মোতাবেক ডিপার্টমেন্টের উন্নয়ন, উৎপাদন প্রবাহ অব্যাহত রাখা এবং নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে যোগ্য ব্যক্তিকে মহাপরিচালক নিয়োগ প্রদান করা হবে। দল বা ব্যক্তি বিশেষ নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতেই শীর্ষ এ পদটি পূরণ করা হবে। যার নেতৃত্বে প্রাণিসম্পদ খাত এগিয়ে যাবে।