০৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি থেকে ওসি সবার নামে ভুয়া আইডি: ৭৭১ নারীর সঙ্গে চ্যাট করছিল পঞ্চম শ্রেণি ফেল আনোয়ার

প্রতিনিধির নাম:

নাম মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (৩০)। গাইবান্ধা সদরের খোলাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ফেল করার পর পড়াশোনা আর করেনি। তবে ফেসবুকে নানা রকম পরিচয়। পুলিশের ওসি, রাষ্ট্রপতি, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, অভিনেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি আছে তার। ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন ভুয়া আইডি থেকে ৭৭১ নারীর সঙ্গে আনোয়ারের চ্যাট করার তথ্য পাওয়া গেছে।সাইবার প্রতারণার অভিযোগে আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) গাইবান্ধা সদর থানার ইসলাম প্রিন্টিং প্রেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আনোয়ার গাইবান্ধা সদর থানার খোলাবাড়ি গ্রামের সাইদার হোসেনের ছেলে।

মহসীন জানান, ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির নামেও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেছে আনোয়ার। তার এই ভুয়া আইডির তালিকায় আছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খান, চিত্রনায়ক শান্ত খান, অভিনেতা ও মডেল আব্দুন নুর সজল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তবে রাষ্ট্রপতি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আইডি বর্তমানে ডিজঅ্যাবল অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাকিগুলো সবই সচল আছে। এসব আইডি থেকে আনোয়ার ওই ব্যক্তি সেজেই বিভিন্ন পোস্ট ও ছবি দেয়। আর ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে চ্যাট করে।

নায়িকা হতেও আনোয়ারের কাছে ধরনা

চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খানের নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলে আনোয়ার। ওই আইডিতে নিজেকে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে দাবি করে সে। সেই পরিচয় দেখে তার সঙ্গে বিভিন্ন মেয়ে ম্যাসেঞ্জারে কথা বলে। মূলত নায়িকা হওয়ার জন্যই তারা যোগাযোগ করতো। আনোয়ার নায়িকা বানাবে বলে তাদের ছবি পাঠাতে বলতো। ছবি দেখে কাউকে কাউকে নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে দিনের পর দিন কথা চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে গিয়ে কোনও কোনও মেয়ে নিজেরাই যোগাযোগ বন্ধ করে দিত। আর মাঝে মাঝে ধরা পরে যাওয়ার ভয়ে আনোয়ার নিজেই কোনও কোনও মেয়েকে ব্লক করে দিতো। আর বাকিদের আরও স্লিম হতে হবে, স্মার্ট হতে হবে ইত্যাদি বলে এড়িয়ে যেতো।

ইউটিউব দেখে দেখে ‘ফেসবুক মাস্টার’

আনোয়ার চাকরি করে ইসলাম প্রিন্টিং প্রেস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে, প্রিন্টিং মেশিনের হেলপার হিসেবে। প্রিন্টিং প্রেসে কাজের ফাঁকে সে ইউটিউব দেখে ফেসবুকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কলাকৌশল শেখে। খোলাবাড়ি গ্রাম ও দাশ বেকারি মোড় এলাকায় সে ‘ফেসবুক মাস্টার’ নামেই পরিচিত। আইডি, পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে তা উদ্ধার করা, পেজ ভেরিফিকেশন, রিপোর্ট কিংবা স্ট্রাইক খাওয়া পেজ রিকভারসহ ফেসবুকের যেকোনও সমস্যার সহজ সমাধান হয়ে ওঠে আনোয়ার।

মেয়েদের ফেসবুক আইডি-পাসওয়ার্ড হ্যাক

কারও ফেসবুক আইডি, পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে তা উদ্ধার করে দেয় আনোয়ার। এজন্য তার কাছে বিভিন্ন মেয়েরা আইডি, পাসওয়ার্ড উদ্ধারের জন্য যোগাযোগ করতো। কিন্তু যেসব আইডি সে উদ্ধার করে দিতো সেগুলো সব আনোয়ারের হয়ে যেত! পরে আনোয়ার সে আইডি ব্যবহার করতো। যেসব আইডি একটু পুরনো হয়েছে সেসব আইডির নাম পরিবর্তন করেই গণ্যমান্য ব্যক্তির নামে ভুয়া আইডি খুলতো। এসব ভুয়া আইডি রিপোর্ট করে বন্ধ করলেও কিছুদিন পর আবারও তা রিকভার করে ফেলে আনোয়ার।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪
১৪৭ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রপতি থেকে ওসি সবার নামে ভুয়া আইডি: ৭৭১ নারীর সঙ্গে চ্যাট করছিল পঞ্চম শ্রেণি ফেল আনোয়ার

আপডেট সময় ০৯:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪

নাম মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (৩০)। গাইবান্ধা সদরের খোলাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ফেল করার পর পড়াশোনা আর করেনি। তবে ফেসবুকে নানা রকম পরিচয়। পুলিশের ওসি, রাষ্ট্রপতি, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, অভিনেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি আছে তার। ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন ভুয়া আইডি থেকে ৭৭১ নারীর সঙ্গে আনোয়ারের চ্যাট করার তথ্য পাওয়া গেছে।সাইবার প্রতারণার অভিযোগে আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) গাইবান্ধা সদর থানার ইসলাম প্রিন্টিং প্রেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আনোয়ার গাইবান্ধা সদর থানার খোলাবাড়ি গ্রামের সাইদার হোসেনের ছেলে।

মহসীন জানান, ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির নামেও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলেছে আনোয়ার। তার এই ভুয়া আইডির তালিকায় আছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খান, চিত্রনায়ক শান্ত খান, অভিনেতা ও মডেল আব্দুন নুর সজল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তবে রাষ্ট্রপতি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আইডি বর্তমানে ডিজঅ্যাবল অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাকিগুলো সবই সচল আছে। এসব আইডি থেকে আনোয়ার ওই ব্যক্তি সেজেই বিভিন্ন পোস্ট ও ছবি দেয়। আর ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে চ্যাট করে।

নায়িকা হতেও আনোয়ারের কাছে ধরনা

চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খানের নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলে আনোয়ার। ওই আইডিতে নিজেকে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে দাবি করে সে। সেই পরিচয় দেখে তার সঙ্গে বিভিন্ন মেয়ে ম্যাসেঞ্জারে কথা বলে। মূলত নায়িকা হওয়ার জন্যই তারা যোগাযোগ করতো। আনোয়ার নায়িকা বানাবে বলে তাদের ছবি পাঠাতে বলতো। ছবি দেখে কাউকে কাউকে নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে দিনের পর দিন কথা চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে গিয়ে কোনও কোনও মেয়ে নিজেরাই যোগাযোগ বন্ধ করে দিত। আর মাঝে মাঝে ধরা পরে যাওয়ার ভয়ে আনোয়ার নিজেই কোনও কোনও মেয়েকে ব্লক করে দিতো। আর বাকিদের আরও স্লিম হতে হবে, স্মার্ট হতে হবে ইত্যাদি বলে এড়িয়ে যেতো।

ইউটিউব দেখে দেখে ‘ফেসবুক মাস্টার’

আনোয়ার চাকরি করে ইসলাম প্রিন্টিং প্রেস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে, প্রিন্টিং মেশিনের হেলপার হিসেবে। প্রিন্টিং প্রেসে কাজের ফাঁকে সে ইউটিউব দেখে ফেসবুকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কলাকৌশল শেখে। খোলাবাড়ি গ্রাম ও দাশ বেকারি মোড় এলাকায় সে ‘ফেসবুক মাস্টার’ নামেই পরিচিত। আইডি, পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে তা উদ্ধার করা, পেজ ভেরিফিকেশন, রিপোর্ট কিংবা স্ট্রাইক খাওয়া পেজ রিকভারসহ ফেসবুকের যেকোনও সমস্যার সহজ সমাধান হয়ে ওঠে আনোয়ার।

মেয়েদের ফেসবুক আইডি-পাসওয়ার্ড হ্যাক

কারও ফেসবুক আইডি, পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে তা উদ্ধার করে দেয় আনোয়ার। এজন্য তার কাছে বিভিন্ন মেয়েরা আইডি, পাসওয়ার্ড উদ্ধারের জন্য যোগাযোগ করতো। কিন্তু যেসব আইডি সে উদ্ধার করে দিতো সেগুলো সব আনোয়ারের হয়ে যেত! পরে আনোয়ার সে আইডি ব্যবহার করতো। যেসব আইডি একটু পুরনো হয়েছে সেসব আইডির নাম পরিবর্তন করেই গণ্যমান্য ব্যক্তির নামে ভুয়া আইডি খুলতো। এসব ভুয়া আইডি রিপোর্ট করে বন্ধ করলেও কিছুদিন পর আবারও তা রিকভার করে ফেলে আনোয়ার।