এক ড্রাইভারের ভাগ্য বদলের অবিশ্বাস্য কাহিনী!
পর্ব-২:
নাফিস আহমেদ
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য একজন এমপির ড্রাইভার ২৫ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকেন ৩৫ হাজার টাকা ভাড়ার ফ্ল্যাটে। স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও সংসারের পেছনে ব্যয় করেন লক্ষাধিক টাকা। নিজ গ্রামের বাড়িতে বড় বড় গরু কুরবানী দেন। গ্রামবাসীর মধ্যে শাড়ি,লুঙ্গী,কম্বল বিতরণ করেন। পিতা ও ভাইকে কিনে দিয়েছেন লেটেস্ট মডেলের গাড়ি। রেন্ট এ কারে ভাড়া দিয়েছেন ২ খানা হায়েস মাইক্রোবাস। মাত্র ৫ বছর এমপির ড্রাইভার পদে চাকুরী করে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।
নিজ গ্রামে দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। দিয়েছেন ডেইরি ফার্ম। নিজ নামে মুক্তি পানির ডিলারশীপ নিয়েছেন। ঢাকার মোহাম্মদপুর বসিলা ভেড়িবাঁধ এলাকায় যৌথ উদ্যোগে নির্মাণ করছেন ১০ তলা বাড়ি। তিনি প্রায় সময়ই থাকেন ফাইভ স্টার নয়তো থ্রি স্টার হোটেলে। এমপির লাইসেন্স করা অস্ত্র, গাড়ি ও মোবাইল ব্যবহার করে প্রশাসনে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাকুরির তদবীর করেন। তার জীবন জাপনের স্টাইল দেখলে মনে হয় তিনি কোন শিল্পপতি বা সরকারি বড় কোন কর্মকর্তা।
ভাগ্যবান এই ড্রাইভারকে নিয়ে আমাদের আজকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। চলুন প্রথমেই জেনে নেই তার প্রকৃত পরিচয়। তথ্য বলছে,এই ড্রাইভারের নাম মো: ইমরান শেখ। তার পিতার নাম: ইসাহাক শেখ। স্ত্রীর নাম: রেহানা বেগম। দুই সন্তানের জনক তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস ও মাগুরা-১ আসনের সাবেক এমপি সাইফুজ্জামান শিখরের ব্যক্তিগত ড্রাইভার তিনি।
এমপির ড্রাইভার হওয়ার পরই তার ভাগ্য বদলে গেছে। ফরিদপুর জেলার তুলাগ্রাম গ্রামে পৈতৃক নিবাস হলেও থাকেন ঢাকা পশ্চিম আগারগাঁও এর ৬0 ফিট এলাকার আলীশান ফ্ল্যাটে। তার বিরুদ্ধে পাওয়াগেছে লোমহর্ষক সব তথ্য। একজন ড্রাইভার হয়ে তিনি কিভাবে কোটি কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক হয়েছেন তা এক বিরাট রহস্য। সেই রহস্য উদঘাটনে আমরা সক্রিয় হলেই বেরিয়ে আসে তার থলের বিড়াল।
জানা যায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর এপিএস শিখরের ড্রাইভার থাকাকালে তার গাড়ি ব্যবহার করে নানা প্রকার অবৈধ কারবার,ঠিকাদারী,চাকরির তদবীর ও মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সেই টাকায় ঢাকা,ফরিদপুর ছাড়াও মাগুরাতেও অনেক সম্পদ গড়েছেন। তার স্ত্রী ও ছেলের নামে মাগুরা স্টেডিয়াম মার্কেটে ২ টি দোকানের পজেশন ক্রয় করেছেন। সেখানে বাড়ি করার জন্য ১০ শতাংশ জমিও কিনেছেন। ফরিদপুর শহরের হেলিপ্যাড মার্কেটে তার পুত্র রিপন শেখের নামে ২ টি দোকান ক্রয় করেছেন। আক্কাছের মোড়ে ২ টি দোকান ক্রয় করেছেন। বাহার মোড়ে ৩ টি দোকান ও একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
শোনা যায়,তার পিতা ইসহাক শেখ এক সময় রিকসা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এর পর নদী ও বিল বাওড় থেকে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। সেই ইসাহাক শেখ এখন রাজকীয় জীবন যাপন করেন। এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ড্রাইভার ইমরানের বৈধ অবৈধ ৩ টি স্ত্রী রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর নাম রেহানা,দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম শিলা,তৃতীয় স্ত্রীর নাম রাণী। স্ত্রীদের তিনি পৃথক পৃথক স্থানে রেখে ভোরণ পোষন দেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে সবার কাছে খালাডো বোন হিসাবে পরিচয় দেন। তার ঘরে তিনটি সন্তান রয়েছে। এলাকাবাসী সুত্রে আরো প্রকাশ,ড্রাইভার ইমরান প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ড্রাইভারী চাকরী ছেড়ে দিলেও পিএম দপ্তর কর্তৃক ইস্যুকৃত আইডি কার্ড এখনো জমা দেননি। ৫ বছর যাবৎ সেটি অপব্যবহার করছেন।
সুত্র মতে তিনি ফরিদপুর অঞ্চলের সবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে তার কাছে তথ্য পাচার করেন।
এলাকার বিএনপি নেতা মন্ত্রীর ভাই বাবর হোসেনের বাসার কাজের মেয়ে রেহানাকে বিয়ে করে,এলজিইডিতে মাস্টার রোলে ড্রাইভার পদে চাকুরী পান। এরপর তিনি এপিএস-২ শিখরের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তার ড্রাইভার বনে যান। তারপর থেকেই তদবীর বাণিজ্য আর শিখরের নামে বিভিন্ন শিল্পপতি,ব্যবসায়ী ,সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করে টাকা ও সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। তিনি এলজিইডিতে ও পিএম এর দপ্তরে চাকুরী করা কালে সরকারী 1 খানা মটর সাইকেল চুরি করেন। তা এখনো জমা দেননি। মটর সাইকেল তার শ্যালক মুন্সীগঞ্জে ব্যবহার করছেন। তার বিরুদ্ধে আরো অনেক জঘন্য অভিযোগ আমাদের হাতে এসেছে। সেগুলো অনুসন্ধান করা হচ্ছে।











