ফিরে দেখা মাগুরার রাজনীতি: সোহরাব হোসেন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর কালো মাণিক!
রোস্তম মল্লিক
মোঃ সোহরাব হোসেন ১৯২২ সালে মাগুরার ভায়না গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের জন্ম নেন। ১৯৪৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ফরংঃরহপঃরড়হ সহ বিএসসি অনার্স পাস করেন। তারপর তিনি যশোর জেলা স্কুলে অংকের টিচার হিসাবে যোগদান করেন।
১৯৪৮ সনে তিনি শিক্ষকতা পেশা ত্যাগ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মোল্লা জালাল উদ্দিনের সাথে এলএলবি পড়া শুরু করেন। তখন থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তার বন্ধুত্ব তৈরি হয়। তারা সোহরাওয়াদী সাহেবের সাথে রাজনীতিতে যোগ দেন।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং এলএলবি পাস করে ১৯৫৪ সালে মাগুরা বারে যোগদান করেন এবং মাগুরা আওয়ামী লীগ তৈরি করেন। ছাত্র জীবনে তিনি কমরেড আব্দুল হক এবং তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিলেন।
১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি মাগুরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সোহরাব হোসেন পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কৃষি সম্পাদক ছিলেন।এ ছাড়া ১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি বৃহত্তর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে মাগুরা নড়াইল আসন থেকে জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি ৬ দফা আন্দোলনে যোগদান করেন। পাকিস্তান পার্লামেন্টে তিনি বাংলাদেশের যেসব পাওনা, সেগুলি দেয়ার জন্য স্পিকারের সাথে আর্গুমেন্ট করেছেন অনেকবার। ১৯৭০ সালের সাধারণত নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি মুজিবনগর সরকারের অন্যতম নির্ধারক এর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী সরকারের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয় যশোরে। সেই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে যারা স্বাক্ষর করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন সোহরাব হোসেন, তিনি একজন বাংলাদেশের অন্যতম ফাউন্ডিং ফাদার।
সোহরাব হোসেন স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে মাগুরা ১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রথম মন্ত্রী পরিষদের বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোহরাব হোসেনকে ডেকে এনে রিলিফ ও রিহাবিলিটেশনের মন্ত্রিত্বও দেন।
জানামতে বৃহত্তর যশোর জেলা থেকে উনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। উনি ছাড়া মাগুরা থেকে বা বৃহত্তর যশোর জেলা থেকে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জানামতে আর কেউ হয়নি। সোহরাব হোসেন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর কালো মানিক











