আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে আইসের চাহিদা তৈরি হওয়ায় চোরাই পথে বিপুল পরিমাণে এই মাদক দেশে আসছে। মূলত ইয়াবা ব্যবসায়ীরাই চোরাই পথে মিয়ানমার থেকে এই মাদক নিয়ে আসছেন।
চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে দেশে ৬৬ কেজি আইস বা ক্রিস্টাল ম্যাথ উদ্ধার হয়েছে। এই তথ্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)। সরকারি এই সংস্থা বলছে, ২০১৯ সালের শুরুর দিকেও দেশে অপ্রচলিত মাদক ছিল আইস। তবে এখন এটি অপ্রচলিত কোনো মাদক নয়। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরের মাদকসেবীরা আইসের প্রতি ঝুঁকছে। শুরুতে ‘পরীক্ষামূলকভাবে’ ইয়াবার চালানের সঙ্গে অল্প পরিমাণে আইস আসত। এখন আইস আনতে বিপুল টাকা খরচ করছেন ইয়াবার কারবারিরা। কারণ, ইয়াবার চেয়ে এই মাদক বিক্রি করলে কারবারিদের লাভ বেশি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, গত চার মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে আইস উদ্ধারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাই বলে দিচ্ছে দেশে বিপুল পরিমাণে এই মাদক ঢুকছে। চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে উদ্ধার হওয়া ৬৬ কেজি আইসের মধ্যে ৯টি চালানই ছিল এক কেজির বেশি। এসব চালান ধরা পড়েছে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায়। এর আগে ২০২০ সালে দেশে আইস উদ্ধার হয়েছিল মাত্র ৬৫ গ্রাম। তবে ২০২১ সালে আইস উদ্ধার করা হয় ৩৬ কেজি ৭৯৪ গ্রাম। আর ২০২২ সালে আইস উদ্ধার হয় ১১৩ কেজি ৩৩১ গ্রাম।
জাতিসংঘের মাদক এবং অপরাধবিষয়ক সংস্থার (ইউএনওডিসি) বলেছে, বাজারে যত মাদক ঢোকে, তার মাত্র ১০ শতাংশ উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ফরেনসিক ল্যাবের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক দুলাল কৃষ্ণ সাহা প্রথম আলোকে বলেন, দেশে আইসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে, ইয়াবাতে ম্যাথঅ্যামফিটামিন (একধরনের রাসায়নিক উপাদান) থাকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। আর আইসে ম্যাথঅ্যামফিটামিন থাকে ৯৬ শতাংশ। এটি অল্প পরিমাণে সেবনে সাময়িকভাবে শারীরিক ও মানসিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এ কারণে ইয়াবাসেবীরা ইয়াবার চেয়ে আইস সেবনে আগ্রহী হচ্ছে।











