নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম বিতর্ক হয় দেশ স্বাধীনের বছরখানেকের মধ্যে। ১৯৭২ সালের সংবিধানে চতুর্থ তফসিলে নতুন নির্বাচন তৎকালীন সরকারের অধীন অনুষ্ঠানের বিধান করা হয়। এ নিয়ে গণপরিষদে আলোচনার সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সুপারিশ করেন।
তিনি স্বাধীনতাসংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে এটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁর প্রস্তাব নাকচ করে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনকালে আওয়ামী লীগ সরকার ‘কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে। গণপরিষদে আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করা হয়।
বাস্তবতা হচ্ছে, এরপরও ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত এ দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন পুরোপুরি বিতর্কমুক্ত থাকেনি। এরপর দেশে বহু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, কমবেশি বিতর্ক হয়েছে সব নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, এ নিয়ে তাই বিরোধের অবসান হয়নি কখনো।
২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগের পর দেশের আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এই বিরোধ আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে। বিএনপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, বাম দলের জোটসহ বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন নির্বাচন বর্জনের ডাক দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও তার জোটসঙ্গীরা দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন প্রশ্নে অনড়।
এর মধ্যে কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে নির্বাচনকালীন সরকারে দলটির অন্তর্ভুক্তি বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব এই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে এটি জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ‘চক্রান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য হচ্ছে আওয়ামী লীগ সম্পাদকের কথায় আস্থা রাখা বা বিশ্বাস করার প্রশ্নই উঠতে পারে না।
বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য, তার পক্ষে-বিপক্ষে বহু কিছু বলা যায়। কিন্তু এই বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই যে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এই আলোচনার অবকাশও রয়েছে। নির্বাচন বর্জন বা একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিন্তার পাশাপাশি দুটি প্রধান দলেরই এসব বিবেচনা করে দেখা উচিত।












