০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকারঘেঁষা ইসলামি দলগুলোর নতুন জোট গঠনের চেষ্টা

প্রতিনিধির নাম:

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে নানা রকম মেরুকরণ হচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য রয়েছে, এ ধরনের ১৫-২০টি দলের একটি জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এর প্রায় সব কটিই ইসলামি দল। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক কিছু দল নিয়ে আরেকটি জোট গঠনের উদ্যোগ রয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের। এতে ইসলামি দলের বাইরের দলও থাকতে পারে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আট মাসের মতো বাকি আছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর শরিকেরা সংবিধান মেনে শেখ হাসিনার অধীনে আরেকটি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

অন্যদিকে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামি দলগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে এ তৎপরতা আরও বাড়বে বলে ইসলামি দলগুলোর নেতাদের অনেকে বলছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও ইসলামি দলগুলোকে কাছে রাখার লক্ষ্যে নানা কৌশল নিয়েছে।

জোটের চেষ্টায় ইসলামী আন্দোলন

চরমোনাইয়ের পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কয়েক মাস ধরে ধর্মভিত্তিক ইসলামি দলসহ অন্য কিছু দল নিয়ে একটি জোট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এখনো তা চূড়ান্ত রূপ পায়নি।দলটির সূত্র জানায়, তাদের প্রধান লক্ষ্য কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোকে নিয়ে জোট করা। ইসলামি দলের বাইরেও কিছু দলকে তারা জোটে রাখতে চায়। তবে কোনো জোট করলে সরকার ক্ষিপ্ত হয় কি না, এমন চিন্তাও রয়েছে এ উদ্যোগে থাকা কয়েকটি দলের নেতাদের। সে চিন্তা থেকে তাঁরা কিছুটা সময় নিতে চাইছেন।

ইসলামী আন্দোলনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আশরাফ আলী আকন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের দল এখন পাঁচ সিটির ভোট নিয়ে ব্যস্ত। এরপর জোট গঠনের বিষয়টি তাঁরা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।আগামী বৃহস্পতিবার একটা বৈঠক আছে। এতে জোটের রূপরেখা ঠিক হবে। এরপরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, জোট গঠনের ব্যাপারে ১৫-২০টি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

সরকারের ঘনিষ্ঠদের উদ্যোগ

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য আছে, এমন ১৫টি দল নিয়ে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (আইডিএ) নামের একটি জোটের আত্মপ্রকাশ হয়েছিল ২০১৭ সালে। এর প্রধান নেতা বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। কো-চেয়ারম্যান তরীকত ফেডারেশনের সাবেক নেতা এম এ আউয়াল। এই জোটের আর অস্তিত্ব নেই। তিনটি দল ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেই বিকল্পধারার সঙ্গে ভিড়ে যায়। ১১টি দলের নেতা ছিলেন এম এ আউয়াল নিজেই।এর মধ্যে হত্যা মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন তিনি। এখন জামিনে মুক্ত হয়ে আবার ইসলামিক গণতান্ত্রিক পার্টি গঠন করেছেন এম এ আউয়াল। বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট এবং ইসলামিক ফ্রন্ট নিয়ে আরেকটি নতুন জোটের আলোচনা চলছে বলে জানান এম এ আউয়াল। এর মধ্যে ইসলামি দলের বাইরে প্রয়াত নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপির সঙ্গেও তাদের আলোচনা হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে জোট ঘোষণার চেষ্টা আছে।

এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আছেন, এমন একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সংকেত পেয়েই এই জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। মিছবাহুর রহমান চৌধুরীও ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের মিত্র হিসেবে আছেন।

মিছবাহুর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার একটা বৈঠক আছে। এতে জোটের রূপরেখা ঠিক হবে। এরপরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, জোট গঠনের ব্যাপারে ১৫-২০টি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিএনপি ভোটে এলে তাদের জোটের কৌশল এক রকম হবে। আর নির্বাচনে বিএনপি না এলে হবে অন্য রকম।

জাপা বিকল্প গন্তব্য

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নামসর্বস্ব ৫৯টি দল নিয়ে এক জোট করেছিলেন। সেই জোটে বেশির ভাগই ছিল ইসলামি দল। এর নাম দেওয়া হয়েছিল সম্মিলিত জাতীয় জোট। সংসদ নির্বাচনের দেড় বছর পরই এরশাদ মারা যান। পরে এই জোটের অস্তিত্বের কথা আর শোনা যায় না।

আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা) আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থাকবে—এ কথা এখনো প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়নি জাপা। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমেই দলটি ভোটে অংশ নেবে—এমনটাই মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, শেষ পর্যন্ত কিছু ধর্মভিত্তিক ইসলামি দলকে জাপার সঙ্গে ভিড়িয়ে দেওয়ার চিন্তাও সরকারের রয়েছে। এর মধ্যে জাকের পার্টিসহ কিছু দল থাকতে পারে। তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের প্রথম আলোকে বলেন, এবার জোট করলে তাঁরা ফলপ্রসূ কিছু করবেন। আগের মতো সংখ্যায় বেশি দেখিয়ে ঢাউস কোনো জোট নয়, কার্যকর জোট চান তিনি।

ধর্মভিত্তিক ইসলামি দল

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইসলামি দল ১০টি। এর মধ্যে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দল আছে ৬টি। সেগুলো হলো ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও খেলাফত মজলিস।

চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন ছাড়া বাকি পাঁচটি দলই হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই পাঁচ দল একসময় বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিল। নানামুখী চাপে ওই পাঁচ দলের কোনোটিই এখন বিএনপির সঙ্গে নেই। এর বাইরে তরিকতপন্থী দলগুলো হচ্ছে জাকের পার্টি, তরীকত ফেডারেশন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তরীকতপন্থী এই দলগুলোর সখ্য দীর্ঘদিনের।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির আন্দোলনের পটভূমিতে আওয়ামী লীগ তাদের ঘনিষ্ঠ ইসলামি দলগুলোর জোট গঠনের চেষ্টায় সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম এবং কিছু ইসলামি দলের ওপর সরকারের একটা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এর বাইরেও ইসলামি দলে যারা রয়েছে, তাদের ওপরও একটা নিয়ন্ত্রণ সৃষ্টির চেষ্টা থাকবে ক্ষমতাসীনদের।

হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে বৈঠক, বিভিন্ন ইসলামি দলের কর্মসূচিতে উপস্থিতি দেখা যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে ধর্মীয় দলগুলোর একটা বৈরী সম্পর্ক ছিল। তারা মনে করত আওয়ামী লীগ ধর্মকর্ম মানে না। কিন্তু এখন তারা দেখছে উল্টোটা। আওয়ামী লীগ বরং ইসলামের জন্য অনেক কিছু করছে।’

ভোটের রাজনীতির কারণে নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—বড় দুই দলের কাছে ইসলামি দলগুলোর কদর বাড়ে। ইসলামি দলগুলোরও দলীয় স্বার্থের পাশাপাশি নানা রকম স্বার্থের চিন্তা থাকে। ফলে এসব দলের মধ্যে নানা মেরুকরণের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের আনুকূল্যও থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৪৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০২৩
৪৫১ বার পড়া হয়েছে

সরকারঘেঁষা ইসলামি দলগুলোর নতুন জোট গঠনের চেষ্টা

আপডেট সময় ১১:৪৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০২৩

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে নানা রকম মেরুকরণ হচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য রয়েছে, এ ধরনের ১৫-২০টি দলের একটি জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এর প্রায় সব কটিই ইসলামি দল। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক কিছু দল নিয়ে আরেকটি জোট গঠনের উদ্যোগ রয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের। এতে ইসলামি দলের বাইরের দলও থাকতে পারে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আট মাসের মতো বাকি আছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর শরিকেরা সংবিধান মেনে শেখ হাসিনার অধীনে আরেকটি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

অন্যদিকে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামি দলগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে এ তৎপরতা আরও বাড়বে বলে ইসলামি দলগুলোর নেতাদের অনেকে বলছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও ইসলামি দলগুলোকে কাছে রাখার লক্ষ্যে নানা কৌশল নিয়েছে।

জোটের চেষ্টায় ইসলামী আন্দোলন

চরমোনাইয়ের পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কয়েক মাস ধরে ধর্মভিত্তিক ইসলামি দলসহ অন্য কিছু দল নিয়ে একটি জোট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এখনো তা চূড়ান্ত রূপ পায়নি।দলটির সূত্র জানায়, তাদের প্রধান লক্ষ্য কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোকে নিয়ে জোট করা। ইসলামি দলের বাইরেও কিছু দলকে তারা জোটে রাখতে চায়। তবে কোনো জোট করলে সরকার ক্ষিপ্ত হয় কি না, এমন চিন্তাও রয়েছে এ উদ্যোগে থাকা কয়েকটি দলের নেতাদের। সে চিন্তা থেকে তাঁরা কিছুটা সময় নিতে চাইছেন।

ইসলামী আন্দোলনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আশরাফ আলী আকন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের দল এখন পাঁচ সিটির ভোট নিয়ে ব্যস্ত। এরপর জোট গঠনের বিষয়টি তাঁরা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।আগামী বৃহস্পতিবার একটা বৈঠক আছে। এতে জোটের রূপরেখা ঠিক হবে। এরপরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, জোট গঠনের ব্যাপারে ১৫-২০টি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

সরকারের ঘনিষ্ঠদের উদ্যোগ

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য আছে, এমন ১৫টি দল নিয়ে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (আইডিএ) নামের একটি জোটের আত্মপ্রকাশ হয়েছিল ২০১৭ সালে। এর প্রধান নেতা বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। কো-চেয়ারম্যান তরীকত ফেডারেশনের সাবেক নেতা এম এ আউয়াল। এই জোটের আর অস্তিত্ব নেই। তিনটি দল ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেই বিকল্পধারার সঙ্গে ভিড়ে যায়। ১১টি দলের নেতা ছিলেন এম এ আউয়াল নিজেই।এর মধ্যে হত্যা মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন তিনি। এখন জামিনে মুক্ত হয়ে আবার ইসলামিক গণতান্ত্রিক পার্টি গঠন করেছেন এম এ আউয়াল। বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট এবং ইসলামিক ফ্রন্ট নিয়ে আরেকটি নতুন জোটের আলোচনা চলছে বলে জানান এম এ আউয়াল। এর মধ্যে ইসলামি দলের বাইরে প্রয়াত নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপির সঙ্গেও তাদের আলোচনা হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে জোট ঘোষণার চেষ্টা আছে।

এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আছেন, এমন একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সংকেত পেয়েই এই জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। মিছবাহুর রহমান চৌধুরীও ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের মিত্র হিসেবে আছেন।

মিছবাহুর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার একটা বৈঠক আছে। এতে জোটের রূপরেখা ঠিক হবে। এরপরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, জোট গঠনের ব্যাপারে ১৫-২০টি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিএনপি ভোটে এলে তাদের জোটের কৌশল এক রকম হবে। আর নির্বাচনে বিএনপি না এলে হবে অন্য রকম।

জাপা বিকল্প গন্তব্য

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নামসর্বস্ব ৫৯টি দল নিয়ে এক জোট করেছিলেন। সেই জোটে বেশির ভাগই ছিল ইসলামি দল। এর নাম দেওয়া হয়েছিল সম্মিলিত জাতীয় জোট। সংসদ নির্বাচনের দেড় বছর পরই এরশাদ মারা যান। পরে এই জোটের অস্তিত্বের কথা আর শোনা যায় না।

আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জাপা) আওয়ামী লীগের সঙ্গেই থাকবে—এ কথা এখনো প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়নি জাপা। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমেই দলটি ভোটে অংশ নেবে—এমনটাই মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, শেষ পর্যন্ত কিছু ধর্মভিত্তিক ইসলামি দলকে জাপার সঙ্গে ভিড়িয়ে দেওয়ার চিন্তাও সরকারের রয়েছে। এর মধ্যে জাকের পার্টিসহ কিছু দল থাকতে পারে। তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের প্রথম আলোকে বলেন, এবার জোট করলে তাঁরা ফলপ্রসূ কিছু করবেন। আগের মতো সংখ্যায় বেশি দেখিয়ে ঢাউস কোনো জোট নয়, কার্যকর জোট চান তিনি।

ধর্মভিত্তিক ইসলামি দল

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইসলামি দল ১০টি। এর মধ্যে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দল আছে ৬টি। সেগুলো হলো ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও খেলাফত মজলিস।

চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন ছাড়া বাকি পাঁচটি দলই হেফাজতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই পাঁচ দল একসময় বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিল। নানামুখী চাপে ওই পাঁচ দলের কোনোটিই এখন বিএনপির সঙ্গে নেই। এর বাইরে তরিকতপন্থী দলগুলো হচ্ছে জাকের পার্টি, তরীকত ফেডারেশন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তরীকতপন্থী এই দলগুলোর সখ্য দীর্ঘদিনের।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির আন্দোলনের পটভূমিতে আওয়ামী লীগ তাদের ঘনিষ্ঠ ইসলামি দলগুলোর জোট গঠনের চেষ্টায় সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম এবং কিছু ইসলামি দলের ওপর সরকারের একটা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এর বাইরেও ইসলামি দলে যারা রয়েছে, তাদের ওপরও একটা নিয়ন্ত্রণ সৃষ্টির চেষ্টা থাকবে ক্ষমতাসীনদের।

হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে বৈঠক, বিভিন্ন ইসলামি দলের কর্মসূচিতে উপস্থিতি দেখা যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে ধর্মীয় দলগুলোর একটা বৈরী সম্পর্ক ছিল। তারা মনে করত আওয়ামী লীগ ধর্মকর্ম মানে না। কিন্তু এখন তারা দেখছে উল্টোটা। আওয়ামী লীগ বরং ইসলামের জন্য অনেক কিছু করছে।’

ভোটের রাজনীতির কারণে নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—বড় দুই দলের কাছে ইসলামি দলগুলোর কদর বাড়ে। ইসলামি দলগুলোরও দলীয় স্বার্থের পাশাপাশি নানা রকম স্বার্থের চিন্তা থাকে। ফলে এসব দলের মধ্যে নানা মেরুকরণের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের আনুকূল্যও থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।