০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের গায়ে ময়লার গন্ধ!

প্রতিনিধির নাম:

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মতিঝিল এলাকার (৯ নম্বর ওয়ার্ড) বর্জ্য সংগ্রহের ইজারা পেয়েছে মেসার্স বিল্লাল এন্টারপ্রাইজ। কাগজে-কলমে এ প্রতিষ্ঠানের মালিক বিল্লাল হোসেনের নাম থাকলেও ময়লাবাণিজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক স্থানীয় কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক। তিনি বিল্লাল হোসেনের নামে বর্জ্য সংগ্রহের ইজারা নিয়েছেন। বিনিময়ে প্রতি মাসে বিল্লাল হোসেনকে ময়লা থেকে আয়ের নামমাত্র একটি অংশ দিয়ে দেন। একইভাবে ৫০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুম মোল্লা বেসরকারি সার্ভিস হটিয়ে নিজের চাচাতো ভাই রমজান আলীর নামে নিয়েছেন ইজারা। ব্যবসা দেখাশোনার জন্য তিনিও রমজানকে মাসিক ভিত্তিতে কিছু টাকা দেন।

শুধু ডিএসসিসির এই দুটি ওয়ার্ডেই নয়, ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রায় সবগুলোতেই টেন্ডারের মাধ্যমে ময়লাবাণিজ্য কবজায় নিয়েছেন

ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। কৌশলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী এবং পছন্দের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এ বাণিজ্য করছেন তারা।  অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মতিঝিল এলাকার ময়লার ঠিকাদারি পাওয়া বিল্লাল হোসেন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি না হলেও কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন। বিল্লাল হোসেনের নাম থাকলেও কাউন্সিলরের হয়ে এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করেন নুরুল ইসলাম চৌধুরী (নুরু)। এক সময়কার যুবদলের প্রভাবশালী এ নেতা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হকের ডান হাত হিসেবে সাবার কাছে পরিচিত।

বিল্লাল এন্টারপ্রাইজের মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এ কাজ মূলত নূরু ভাই আর আমি দেখি।’ কাউন্সিলর সঙ্গে আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি তা স্বীকার করেন। এদিকে কাউন্সিলর মাসুম মোল্লা ও তার চাচাতো ভাই রমজান আলীর মোবাইলে কল দিলেও তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ‘কাউন্সিলর সাব নিজেই পরিচিত একটা নাম দিয়ে একাই এই কাজ নিয়েছেন। এর লাভের সব টাকাই কাউন্সিলর পান। নামমাত্র একটা অংশ বিল্লালকে দেন, যা অনেকটা বেতনের মতো। পরিচালনার জন্য নূরুকে ভালো একটা অ্যামাউন্ট দেন।’

এভাবে কাজ করতে পারেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি তো সরাসরি করি না। আমি সুপারিশ করি। এটা বিল্লাল করপোরেশনের নামের কাজ। আমি তদারকি করি। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে সেটা দেখি।’

যাত্রাবাড়ী এলাকায় টানা ১৮ বছর ধরে বেসরকারি ভ্যান সার্ভিসের মাধ্যমে ময়লা সংগ্রহের কাজ করেছেন মো. মনির হোসেন কমল। তার দাবি, ২০২২ সালেও বর্জ্য সংগ্রহের অনুমতি পান তিনি। কিন্তু ৮ দিন পরই অনুমোদন বাতিল করে তা দিয়ে দেওয়া হয় ৫০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুম মোল্লার চাচাতো ভাই রমজান আলীকে। তবে রমজান আলী মূলত এ ব্যবসা দেখাশোনা করেন। বিনিময়ে মতিঝিলের বিল্লালের মতোই আয়ের একটা অংশ পান। গত বৃহস্পতিবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে গিয়ে মাসুম মোল্লাকে পাওয়া যায়নি। কাউন্সিলর ও তার চাচাতো ভাই রমজান আলীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনেও একাধিকবার কল করে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

ডিএসসিসির ২৩ এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ময়লার ঠিকাদারি পেয়েছে ইমপেক্স কনস্ট্রাকশন। যার মালিক সাইফুর রহমান সোহেল। তবে এই প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লার ঠিকাদারি নিয়েছেন কাউন্সিলর নিজেই। সাইফুর রহমান সোহেলের ফোন নম্বরে কল দিলে অন্য এক ব্যক্তি রিসিভ করে জানান, শুধু ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্জ্য সংগ্রহ করেন তারা। এ প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নিজে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করেন কি না জানতে চাইলে তিনি তা স্বীকার করেন।

কাউন্সিলরদের হয়ে ময়লা বাণিজ্য করছেন যারা

ডিএসসিসি এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডে বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ করছে মা ট্রেডার্স, যার মালিক মঈনুল হক। ২ নম্বর ওয়ার্ডে শামসউদ্দিন আহমেদের আহমেদ এন্টারপ্রাইজ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইলিয়াস বাবুর ইয়াসিন টিম্বার অ্যান্ড ট্রেডার্স, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আলমগীর হোসেনের আলমগীর ট্রেডিং কোং, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে রাসেল সরকারের পরিবর্তন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে শাহরিয়ার সাদিকের এসআর এন্টারপ্রাইজ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুল বাসিত খানের খান অ্যান্ড সন্স, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিম রেজার আনায়া এন্টারপ্রাইজ, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে মেসবাহ উদ্দিনের স্বপন এন্টারপ্রাইজ, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে আরপি ম্যানুফ্যাকচারিং, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আবইয়াজ কনস্ট্রাকশন, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে হাওলাদার কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে খান এন্টারপ্রাইজ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইকুসেন্স কনস্ট্রাকশন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিম এন্টারপ্রাইজ, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ম্যাস করপোরেশন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে আর কে বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স, এইচএম করপোরেশন, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে মারুফ ইন্টারন্যাশনাল, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে সাদ এন্টারপ্রাইজ, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে মাস্টার এন্টারপ্রাইজ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ক্লিনিং সলিউশন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইব্রাহিম এন্টারপ্রাইজ, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে রবিন করপোরেশন, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে কে কে ট্রেডিং, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে তানিসা এন্টারপ্রাইজ, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে শাহজালাল এন্টারপ্রাইজ, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে রাহা স্টিল ট্রেডিং করপোরেশন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে এমআর ট্রেডার্স, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে শিকদার এন্টারপ্রাইজ, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে শহিদ এন্টারপ্রাইজ, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে ফ্রেন্ডস ওয়েলফেয়ার, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে টপ ক্লিনিং সিটিং সার্ভিস, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে নিউ জেনারেশন এন্টারপ্রাইজ, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস ট্রেডিং, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে আমিন ট্রেডিং করপোরেশন, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভ্যারিয়েডস বিল্ডার্স লিমিটেড, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে এসআর এন্টারপ্রাইজ, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে নাদিয়া এন্টারপ্রাইজ, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে শিকদার এন্টারপ্রাইজ, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে মীনা এন্টারপ্রাইজ, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে সুকুল এন্টারপ্রাইজ, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে টুকু এন্টারপ্রাইজ, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে আয়াত ট্রেডিং করপোরেশন, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে ক্লিনিং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে এমএস ট্রেডার্স, ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে শ্যামপুর যুব উন্নয়ন সমিতি, ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডে অনিক এন্টারপ্রাইজ, ৬০ নম্বর ওয়ার্ডে এসএম এন্টারপ্রাইজ, ৬১ নম্বর ওয়ার্ডে হাজী এন্টারপ্রাইজ, ৬২ নম্বর ওয়ার্ডে হোম কেয়ার সার্ভিস, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট, ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডে লাবিবা এন্টারপ্রাইজ, ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডে খোশেদা এন্টারপ্রাইজ, ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাপ্তি এন্টারপ্রাইজ, ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে মা এন্টারপ্রাইজ, ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে গোল্ড মইন এন্টারপ্রাইজ, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন মাণ্ডা, ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে ক্লিন মাণ্ডা, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে স্নিগ্ধা এন্টারপ্রাইজ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে আরোয়া এন্টারপ্রাইজ ময়লা সংগ্রহ করছেন। তা ছাড়া ৩১, ৬৯, ৭০ এবং ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিবন্ধনের কাজ চলমান আছে।

বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজে জড়িত ডিএসসিসি এলাকার অন্তত ১৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা প্রত্যেকেই জানিয়েছেন এ ব্যবসার মূল সুবিধাভোগী ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তবে যেসব ওয়ার্ডে বিএনপিপন্থি কাউন্সিলর রয়েছেন, সেখানে এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে। ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে এমন ৩টি ওয়ার্ডের কথা জানাতে পেরেছে সূত্রগুলো।

কাউন্সিলরদের নিয়ন্ত্রণে বিল বেড়েছে

নিয়ম অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় পরিবারপ্রতি ময়লার বিল মাসে ১০০ টাকা নেওয়া কথা। আর ছোট দোকানে থেকে প্রতি মাসে ৩০ টাকা করে নেওয়ার কথা। কিন্তু কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের প্রভাব খাটিয়ে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। ধানমন্ডি, লালবাগ, পরিবাগ, ইস্কাটন ও মতিঝিলসহ বেশ কিছু এলাকায় ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। হোটেলগুলো থেকে ৫০০ থেকে শুরু করে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

ডিএসসিসি এলাকায় ৪৫৮ কোটি টাকার ময়লা বাণিজ্য

শুধু ঢাকার দক্ষিণ অংশে বছরে ময়লার বিল হয় ৫০১ কোটি টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় হোল্ডিং রয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৫টি। এ এলাকায় ৪ তলা থেকে ১২ তলার বিল্ডিং সংখ্যাই বেশি। গড়ে বিল্ডিংগুলো ৫ তলা করে ধরা হলে ২৫ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ পরিবার বসবাস করে। প্রতি পরিবারের ময়লার বিল গড়ে ১৫০ টাকা করে ধরা হলে প্রতি মাসে ময়লার বিল আসে ৩৭ কোটি ৭৮ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা। সে হিসাবে বছরে এ টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫৩ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব মতে, ঢাকার দক্ষিণ অংশে প্রায় ৪ হাজার রেস্টুরেন্ট আছে। প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ময়লার বিল নেওয়া হচ্ছে রেস্টুরেন্ট থেকে। অনেক রেস্টুরেন্ট থেকে দৈনিক ৫০ থেকে ১০০ টাকাও নেওয়া হয়। যদি রেস্টুরেন্টগুলোর ময়লার বিল গড়ে ১ হাজার টাকা ধরা হয় তবে মাসে আসে ৪০ লাখ আসে। প্রতি বছর যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বাদ দিলেও ডিএসসিসি এলাকায় ময়লাবাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় বছরে ৪৫৮ কোটি টাকারও বেশি।

আইন কী বলে

স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ (সিটি করপোরেশন)-এর ধারা ৯ (২) (জ) অনুযায়ী, ‘কোনো ব্যক্তি মেয়র বা কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হওয়ার অথবা মেয়র বা কাউন্সিলর পদে থাকবার যোগ্য হবেন না যদি তিনি বা তাহার পরিবারের কোনো সদস্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের কার্য সম্পাদনের বা মালামাল সরবরাহের জন্য ঠিকাদার হন বা ইহার জন্য নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন বা সিটি করপোরেশনের কোনো বিষয়ে তাহার কোনো প্রকার আর্থিক স্বার্থ থাকে বা তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অত্যাবশ্যক কোনো দ্রব্যের ডিলার হন।’

কাউন্সিলরদের ময়লাবাণিজ্যের বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো কাউন্সিলরকেই প্রাথমিক ময়লা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভিন্ন নামে অনুমতি নেওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস  বলেন, ‘কাউন্সিলরদের নাম সরাসরি থাকলে সেটা ভিন্ন বিষয়। আমরা যতটুকু জানি, কাউন্সিলররা সরাসরি জড়িত নন। আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেই। কিন্তু বেনামে থাকলে, সেটার পেছনে কে আছেন, তা যাচাই করা সম্ভব হয় না।’

ময়লার বাড়তি বিল সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘বাসাবাড়ি থেকে ময়লার বিল ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। কোথাও ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ দোকানের ক্ষেত্রে ৩০ টাকা। কিন্তু দোকান বড় হলে মার্কেট কমিটির সঙ্গে বসে আলোচনা করে নেওয়ার বিধান আছে। তবে সেটা নিশ্চয়ই এত টাকা না। আর হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে যেহেতু বেশি বর্জ্য উৎপাদন হয়, তাই সেখানে আলোচনা সাপেক্ষে সহনীয় রেট নির্ধারণ করে নিতে হবে। প্রথমবার যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে, দ্বিতীয়বার তাদেরকে আর ইজারা দেওয়া হয়নি।’

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০২৩
২০০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের গায়ে ময়লার গন্ধ!

আপডেট সময় ০৫:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০২৩

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মতিঝিল এলাকার (৯ নম্বর ওয়ার্ড) বর্জ্য সংগ্রহের ইজারা পেয়েছে মেসার্স বিল্লাল এন্টারপ্রাইজ। কাগজে-কলমে এ প্রতিষ্ঠানের মালিক বিল্লাল হোসেনের নাম থাকলেও ময়লাবাণিজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক স্থানীয় কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক। তিনি বিল্লাল হোসেনের নামে বর্জ্য সংগ্রহের ইজারা নিয়েছেন। বিনিময়ে প্রতি মাসে বিল্লাল হোসেনকে ময়লা থেকে আয়ের নামমাত্র একটি অংশ দিয়ে দেন। একইভাবে ৫০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুম মোল্লা বেসরকারি সার্ভিস হটিয়ে নিজের চাচাতো ভাই রমজান আলীর নামে নিয়েছেন ইজারা। ব্যবসা দেখাশোনার জন্য তিনিও রমজানকে মাসিক ভিত্তিতে কিছু টাকা দেন।

শুধু ডিএসসিসির এই দুটি ওয়ার্ডেই নয়, ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রায় সবগুলোতেই টেন্ডারের মাধ্যমে ময়লাবাণিজ্য কবজায় নিয়েছেন

ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। কৌশলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী এবং পছন্দের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এ বাণিজ্য করছেন তারা।  অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মতিঝিল এলাকার ময়লার ঠিকাদারি পাওয়া বিল্লাল হোসেন কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি না হলেও কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন। বিল্লাল হোসেনের নাম থাকলেও কাউন্সিলরের হয়ে এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করেন নুরুল ইসলাম চৌধুরী (নুরু)। এক সময়কার যুবদলের প্রভাবশালী এ নেতা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হকের ডান হাত হিসেবে সাবার কাছে পরিচিত।

বিল্লাল এন্টারপ্রাইজের মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এ কাজ মূলত নূরু ভাই আর আমি দেখি।’ কাউন্সিলর সঙ্গে আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি তা স্বীকার করেন। এদিকে কাউন্সিলর মাসুম মোল্লা ও তার চাচাতো ভাই রমজান আলীর মোবাইলে কল দিলেও তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ‘কাউন্সিলর সাব নিজেই পরিচিত একটা নাম দিয়ে একাই এই কাজ নিয়েছেন। এর লাভের সব টাকাই কাউন্সিলর পান। নামমাত্র একটা অংশ বিল্লালকে দেন, যা অনেকটা বেতনের মতো। পরিচালনার জন্য নূরুকে ভালো একটা অ্যামাউন্ট দেন।’

এভাবে কাজ করতে পারেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি তো সরাসরি করি না। আমি সুপারিশ করি। এটা বিল্লাল করপোরেশনের নামের কাজ। আমি তদারকি করি। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে সেটা দেখি।’

যাত্রাবাড়ী এলাকায় টানা ১৮ বছর ধরে বেসরকারি ভ্যান সার্ভিসের মাধ্যমে ময়লা সংগ্রহের কাজ করেছেন মো. মনির হোসেন কমল। তার দাবি, ২০২২ সালেও বর্জ্য সংগ্রহের অনুমতি পান তিনি। কিন্তু ৮ দিন পরই অনুমোদন বাতিল করে তা দিয়ে দেওয়া হয় ৫০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুম মোল্লার চাচাতো ভাই রমজান আলীকে। তবে রমজান আলী মূলত এ ব্যবসা দেখাশোনা করেন। বিনিময়ে মতিঝিলের বিল্লালের মতোই আয়ের একটা অংশ পান। গত বৃহস্পতিবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে গিয়ে মাসুম মোল্লাকে পাওয়া যায়নি। কাউন্সিলর ও তার চাচাতো ভাই রমজান আলীর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনেও একাধিকবার কল করে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

ডিএসসিসির ২৩ এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ময়লার ঠিকাদারি পেয়েছে ইমপেক্স কনস্ট্রাকশন। যার মালিক সাইফুর রহমান সোহেল। তবে এই প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লার ঠিকাদারি নিয়েছেন কাউন্সিলর নিজেই। সাইফুর রহমান সোহেলের ফোন নম্বরে কল দিলে অন্য এক ব্যক্তি রিসিভ করে জানান, শুধু ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্জ্য সংগ্রহ করেন তারা। এ প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নিজে বর্জ্য সংগ্রহের কাজ করেন কি না জানতে চাইলে তিনি তা স্বীকার করেন।

কাউন্সিলরদের হয়ে ময়লা বাণিজ্য করছেন যারা

ডিএসসিসি এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডে বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ করছে মা ট্রেডার্স, যার মালিক মঈনুল হক। ২ নম্বর ওয়ার্ডে শামসউদ্দিন আহমেদের আহমেদ এন্টারপ্রাইজ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইলিয়াস বাবুর ইয়াসিন টিম্বার অ্যান্ড ট্রেডার্স, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আলমগীর হোসেনের আলমগীর ট্রেডিং কোং, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে রাসেল সরকারের পরিবর্তন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে শাহরিয়ার সাদিকের এসআর এন্টারপ্রাইজ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুল বাসিত খানের খান অ্যান্ড সন্স, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিম রেজার আনায়া এন্টারপ্রাইজ, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে মেসবাহ উদ্দিনের স্বপন এন্টারপ্রাইজ, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে আরপি ম্যানুফ্যাকচারিং, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে আবইয়াজ কনস্ট্রাকশন, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে হাওলাদার কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে খান এন্টারপ্রাইজ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইকুসেন্স কনস্ট্রাকশন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিম এন্টারপ্রাইজ, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ম্যাস করপোরেশন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে আর কে বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স, এইচএম করপোরেশন, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে মারুফ ইন্টারন্যাশনাল, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে সাদ এন্টারপ্রাইজ, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে মাস্টার এন্টারপ্রাইজ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ক্লিনিং সলিউশন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইব্রাহিম এন্টারপ্রাইজ, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে রবিন করপোরেশন, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে কে কে ট্রেডিং, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে তানিসা এন্টারপ্রাইজ, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে শাহজালাল এন্টারপ্রাইজ, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে রাহা স্টিল ট্রেডিং করপোরেশন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে এমআর ট্রেডার্স, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে শিকদার এন্টারপ্রাইজ, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে শহিদ এন্টারপ্রাইজ, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে ফ্রেন্ডস ওয়েলফেয়ার, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে টপ ক্লিনিং সিটিং সার্ভিস, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে নিউ জেনারেশন এন্টারপ্রাইজ, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস ট্রেডিং, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে আমিন ট্রেডিং করপোরেশন, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভ্যারিয়েডস বিল্ডার্স লিমিটেড, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে এসআর এন্টারপ্রাইজ, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে নাদিয়া এন্টারপ্রাইজ, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে শিকদার এন্টারপ্রাইজ, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে মীনা এন্টারপ্রাইজ, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে সুকুল এন্টারপ্রাইজ, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে টুকু এন্টারপ্রাইজ, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে আয়াত ট্রেডিং করপোরেশন, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে ক্লিনিং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে এমএস ট্রেডার্স, ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে শ্যামপুর যুব উন্নয়ন সমিতি, ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডে অনিক এন্টারপ্রাইজ, ৬০ নম্বর ওয়ার্ডে এসএম এন্টারপ্রাইজ, ৬১ নম্বর ওয়ার্ডে হাজী এন্টারপ্রাইজ, ৬২ নম্বর ওয়ার্ডে হোম কেয়ার সার্ভিস, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট, ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডে লাবিবা এন্টারপ্রাইজ, ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডে খোশেদা এন্টারপ্রাইজ, ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাপ্তি এন্টারপ্রাইজ, ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে মা এন্টারপ্রাইজ, ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে গোল্ড মইন এন্টারপ্রাইজ, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন মাণ্ডা, ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে ক্লিন মাণ্ডা, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে স্নিগ্ধা এন্টারপ্রাইজ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে আরোয়া এন্টারপ্রাইজ ময়লা সংগ্রহ করছেন। তা ছাড়া ৩১, ৬৯, ৭০ এবং ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিবন্ধনের কাজ চলমান আছে।

বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজে জড়িত ডিএসসিসি এলাকার অন্তত ১৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা প্রত্যেকেই জানিয়েছেন এ ব্যবসার মূল সুবিধাভোগী ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তবে যেসব ওয়ার্ডে বিএনপিপন্থি কাউন্সিলর রয়েছেন, সেখানে এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে। ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে এমন ৩টি ওয়ার্ডের কথা জানাতে পেরেছে সূত্রগুলো।

কাউন্সিলরদের নিয়ন্ত্রণে বিল বেড়েছে

নিয়ম অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় পরিবারপ্রতি ময়লার বিল মাসে ১০০ টাকা নেওয়া কথা। আর ছোট দোকানে থেকে প্রতি মাসে ৩০ টাকা করে নেওয়ার কথা। কিন্তু কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের প্রভাব খাটিয়ে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। ধানমন্ডি, লালবাগ, পরিবাগ, ইস্কাটন ও মতিঝিলসহ বেশ কিছু এলাকায় ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। হোটেলগুলো থেকে ৫০০ থেকে শুরু করে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

ডিএসসিসি এলাকায় ৪৫৮ কোটি টাকার ময়লা বাণিজ্য

শুধু ঢাকার দক্ষিণ অংশে বছরে ময়লার বিল হয় ৫০১ কোটি টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় হোল্ডিং রয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৫টি। এ এলাকায় ৪ তলা থেকে ১২ তলার বিল্ডিং সংখ্যাই বেশি। গড়ে বিল্ডিংগুলো ৫ তলা করে ধরা হলে ২৫ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ পরিবার বসবাস করে। প্রতি পরিবারের ময়লার বিল গড়ে ১৫০ টাকা করে ধরা হলে প্রতি মাসে ময়লার বিল আসে ৩৭ কোটি ৭৮ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা। সে হিসাবে বছরে এ টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫৩ কোটি ৪১ লাখ ১০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব মতে, ঢাকার দক্ষিণ অংশে প্রায় ৪ হাজার রেস্টুরেন্ট আছে। প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ময়লার বিল নেওয়া হচ্ছে রেস্টুরেন্ট থেকে। অনেক রেস্টুরেন্ট থেকে দৈনিক ৫০ থেকে ১০০ টাকাও নেওয়া হয়। যদি রেস্টুরেন্টগুলোর ময়লার বিল গড়ে ১ হাজার টাকা ধরা হয় তবে মাসে আসে ৪০ লাখ আসে। প্রতি বছর যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বাদ দিলেও ডিএসসিসি এলাকায় ময়লাবাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় বছরে ৪৫৮ কোটি টাকারও বেশি।

আইন কী বলে

স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ (সিটি করপোরেশন)-এর ধারা ৯ (২) (জ) অনুযায়ী, ‘কোনো ব্যক্তি মেয়র বা কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হওয়ার অথবা মেয়র বা কাউন্সিলর পদে থাকবার যোগ্য হবেন না যদি তিনি বা তাহার পরিবারের কোনো সদস্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের কার্য সম্পাদনের বা মালামাল সরবরাহের জন্য ঠিকাদার হন বা ইহার জন্য নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন বা সিটি করপোরেশনের কোনো বিষয়ে তাহার কোনো প্রকার আর্থিক স্বার্থ থাকে বা তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অত্যাবশ্যক কোনো দ্রব্যের ডিলার হন।’

কাউন্সিলরদের ময়লাবাণিজ্যের বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো কাউন্সিলরকেই প্রাথমিক ময়লা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভিন্ন নামে অনুমতি নেওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস  বলেন, ‘কাউন্সিলরদের নাম সরাসরি থাকলে সেটা ভিন্ন বিষয়। আমরা যতটুকু জানি, কাউন্সিলররা সরাসরি জড়িত নন। আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেই। কিন্তু বেনামে থাকলে, সেটার পেছনে কে আছেন, তা যাচাই করা সম্ভব হয় না।’

ময়লার বাড়তি বিল সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘বাসাবাড়ি থেকে ময়লার বিল ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। কোথাও ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ দোকানের ক্ষেত্রে ৩০ টাকা। কিন্তু দোকান বড় হলে মার্কেট কমিটির সঙ্গে বসে আলোচনা করে নেওয়ার বিধান আছে। তবে সেটা নিশ্চয়ই এত টাকা না। আর হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে যেহেতু বেশি বর্জ্য উৎপাদন হয়, তাই সেখানে আলোচনা সাপেক্ষে সহনীয় রেট নির্ধারণ করে নিতে হবে। প্রথমবার যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে, দ্বিতীয়বার তাদেরকে আর ইজারা দেওয়া হয়নি।’