বিদ্যুত খাত ধ্বংসের ষড়যন্ত্র : নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি গিলে খাচ্ছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোরশেদুল আলম সিন্ডিকেট!
রোস্তম মল্লিক
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্র হিসাবে শতভাগ বিদ্যুতায়নের দেশ হিসাবে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই নাম লেখালেও এ খাতকে ধ্বংস করার জন্য বিএনপি-জামায়াতপন্থী প্রকৌশলীরা সুকৌশলে লুটপাট, অনিয়মের মাধ্যমে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খাতের রাষ্ট্রয়াত্ব কোম্পানি নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী লিমিটেড সরকারী প্রতিষ্ঠান হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৫ বছর একই ব্যক্তি প্রকৌঃ এ এম খোরশেদুল আলম ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে স্বৈরাচারীভাবে তার রাজত্ব পরিচালনা করে যাচ্ছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি-জামায়াতপন্থী প্রকৌশলীদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন অশুভ এক সিন্ডিকেট। খোরেশদুল সিন্ডিকেটের নানা অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে ভোরের পাতার তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।
নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী লিমিটেড এর সার্ভিস রুল অনুযায়ী সরকার চাইলে বিশেষ বিবেচনায় সর্বোচ্চ ৬৫ বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করতে পারবে। এ অবস্থায় সরকারি চাকরির নির্ধারিত বয়স ৬৫ এর বেশি হলেও সরকার তা করতে পারে। তবে এ এম মোরশেদুল আলম অনেক পূর্ব থেকেই বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার (প্রাঃ) কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসাবে পূর্ণকালীন নিয়োগ পেয়েছেন কিন্তু তারপরও নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে দেউলিয়া করে নিজের আখের গোছাতে এবং সিএমসি, চায়না কে প্রতিষ্ঠিত করিতে মরিয়া ভূমিকা পালন করছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খোরশেদুল আলমের অনৈতিক কার্যক্রমের বিশ্বস্থ সহযোগী ও কোম্পানীতে অনৈতিক বিভিন্ন সুবিধাপ্রাপ্তরা সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রকৌঃ মিজানুর রহমান (সাবেক ছাত্রদল নেতা), নির্বাহী পরিচালক প্রকৌঃ আখতার হোসেন, হিসাব ও অর্থ হাবিবুর রহমান (জামায়াত পন্থী), নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) মাসুদুর রহমান, মানবসম্পদ বিভাগের এনামুল হক, প্রকৌঃ মশিউর রহমান (কট্টর বিএনপি পন্থী), প্রকৌঃ আব্দুস সামাদ (আশুগঞ্জ কোম্পানির জামায়াত নেতা ), প্রকৌঃ মোশারফ হোসেন (আশুগঞ্জ কোম্পানীর জামায়াত নেতা), প্রকৌঃ রবিউল আওয়াল (আশুগঞ্জ কোম্পানির জামায়াত নেতা), প্রকৌঃ সাইফুল ইসলাম (কট্টর আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী), প্রকৌঃ সাইফুদ্দীন আহসান, প্রকৌঃ মোহাইমেনুল ইসলাম , প্রকৌঃ তানবীর রহমান (বিএনপি পন্থী), প্রকৌঃ আবদুল্লাহ কোরাইশী, প্রকৌঃ আসাদ হালিম (শিবির নেতা), ব্যবস্থাপক ফারহানসহ আরও বেশকিছু কর্মকর্তা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা (যেমনঃ আর্থিক সুবিধা দেওয়া, বেনামে কোম্পানির গাড়ি দেওয়া, আত্মীয় স্বজনদের নিয়ম বহিঃভূতভাবে চাকুরী দেওয়া, উপঢৌকন প্রদান করা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাকে বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণে প্রেরণ করা) দেওয়ার মাধ্যমে সন্তুষ্ট রেখে চরম আর্থিক অনিয়ম এবং অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের মাধ্যমে কোয়ালিটি মেইন্টেইন না করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী লিমিটেড (নওপাজেকো)-কে দেউলিয়া করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ২০১৪ সালে প্রকৌঃ এ এম খোরশেদুল আলমের বয়স ৬২ বছরে হলে তিনি নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী লিমিটেড-কে ব্যবহার করে নিজে আমৃত্যু বিদ্যুৎ খাতে চাকুরী করার লক্ষ্যে এবং নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী লিমিটেডকে দেউলিয়া করার লক্ষ্যে বিশ্বস্থ ইপিসি ঠিকাদার চায়না ন্যাশনাল মেশিনারী ইম্পোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিমসি), চায়না-কে সাথে নিয়ে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার (প্রাঃ) কোম্পানী লিমিটেড (বিসিপিসিএল) গঠন করে, যার চেয়ারম্যান মুখ্য সচিব এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌঃ এ এম খোরশেদুল আলম। এছাড়াও ২০২০ সাথে নবায়নযোগ্য জ্বালানী থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চায়না ন্যাশনাল মেশিনারী ইম্পোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিমসি), চায়না-কে এর সাথে আরেকটি নতুন কোম্পানি বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড গঠন করে, যার চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ সচিব এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌঃ এ এম খোরশেদুল আলম। কিন্তু বাংলাদেশের কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর ১০৯ ধারায় উল্লেখ আছে, একজন ব্যক্তি একাধিক সরকারি/ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ব্যবস্থাপক হিসাবে কাজ করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে প্রকৌঃ এ. এম. খোরশেদুল আলম কোম্পানি আইন ভংগ করে একাধারে তিনটি কোম্পানির নির্বাহী প্রধান হিসাবে দীর্ঘদিন অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ) নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা/ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ এম খোরশেদুুল আলম বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানী (প্রাঃ) লিমিটেড ও বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে কাজ করছেন। উক্ত তিনটি কোম্পানিই রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এন্ড ফার্মস (আরজেএসসি)তে রেজিস্ট্রার্ডকৃত।
এদিকে, বিদ্যুত বিভাগের সকল কোম্পানীর নির্বাহী প্রধানের পদবী “ব্যবস্থাপনা পরিচালক” হলেও শুধুমাত্র নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রধানের পদবী “ব্যবস্থাপনা পরিচালক” এর পদ বিলুপ্তি করে/নাম পরিবর্তন করে/ আত্মীকরণ করে “প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা” করা হয়েছে। দ্যা কোম্পানি এ্যাক্ট (বাংলাদেশ) ১৯৯৪ এ ‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়োগ পদ্ধতি ও অন্যান্য শর্তাদি থাকলেও “প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা’ বলে কোন পদের কথা উল্লেখ নাই। তবে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এন্ড ফার্মস (আরজেএসসি)তে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গবসড়ৎধহফঁস ধহফ অৎঃরপষবং ড়ভ অংংড়পরধঃরড়হ ড়ভ ঘড়ৎঃয-ডবংঃ চড়বিৎ এবহবৎধঃরড়হ ঈড়সঢ়ধহু খরসরঃবফ-এর ১০০ (এ) নং ধারা এ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এর ব্যাপারে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ক্ষেত্রে দ্যা কোম্পানি এ্যাক্ট (বাংলাদেশ) ১৯৯৪ এ উল্লেখিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদের সকল নিয়ম ও শর্ত প্রযোজ্য হইবে তাহা স্পষ্ট থাকলেও তা মানছেন না প্রকৌশলী এ এম খোরশেদুল আলম। নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী লিমিটেড এর সার্ভিস রুল অনুযায়ী যদি কেউ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে তাহলে সে তার নিজ বেসিকের ২০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত ভাতা প্রাপ্ত হবে, তবে তা ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকার অধিক হতে পারবে না। কিন্তু প্রকৌঃ এ এম খোরশেদুল আলম নিজে ২০১৪ সাল থেকে বেতন ছাড়াও প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৭,৫০,০০০/- (সাড়ে সাত লক্ষ) টাকা ভাতা হিসাবে নিচ্ছে। যা নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানির সার্ভিস রুলের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
অপরদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসাবে দায়িত্বে বসে তিনি বেসরকারি সিএমসি, চায়না কে প্রতিষ্ঠিত করিতে মরিয়া ভূমিকা পালন করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড এখন পর্যন্ত ০৩ (তিন) টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট করেছে তারমধ্যে তিনটি প্রকল্প এর ইপিসি ঠিকাদার সিএমসি, চায়না। পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প ওপেন টেল্ডারে প্রকিউরমেন্ট করেছে, তারমধ্যে একটি পেয়েছে সিএমসি-চায়না, একটি পেয়েছে আইসোলাক্স-স্পেন, দুইটি পেয়েছে সাংহাই ইলেকট্রিক চায়না, একটি পেয়েছে মারুবেনী-জাপান। এখানে স্পষ্ট বোঝা যায় ওপেন টেণ্ডার পদ্ধতিতে প্রকিউরমেন্ট করলে সিএমসি,চায়না এর স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়, ফলে সিএমসি-চায়না কে ০৩ (তিন) টি বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্প ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট পদ্ধতি এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে। তদুপরি সিএমসি-চায়না এর সাথে ৫০:৫০ মালিকানায় দুইটি যৌথ বেসরকারি কোম্পানি গঠন করে মালিকানার মতো বিশাল সুবিধা দিয়েছে। নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড এর নির্মিত আটটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে সাতটি বিদ্যুত কেন্দ্রের সাবকন্ট্রাক্টর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই) যার পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন আশরাফ উদ্দিন সরকার, যিনি নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড এর এমডি/সিইও প্রকৌঃ এ এম খোরশেদুল আলমের আপন ভগ্নিপতি। শুধুমাত্র ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের সাবকন্ট্রাক্টর এল এন্ড টি, ভারত উল্লেখ্য উক্ত প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌঃ কামাল আহমেদকে অবসরে যেতে বাধ্য করে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের এমডি/সিইও প্রকৌঃ এ এম খোরশেদুল আলম। পরবর্তীতে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টেন্ডারে এল এন্ড টি, ভারত সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও ভারতীয় কোম্পানি বলে এবং ওই কোম্পিানির সাথে অনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় এসইসি, চায়নকে কাজ প্রদান করা হয়। সিএমসি চায়না কিভাবে দুইটি কোম্পানীর যৌথভাবে মালিকপক্ষ হয় ? যৌথভাবে মালিক হয় কিভাবে ইপিসি ঠিকাদার হয়? রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান হলেও কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো হাজার হাজার কোটি টাকার মেগাপ্রজেক্ট ডিপিএম’র মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে খোদ প্রশ্ন তুলেছেন নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির একাধিক কর্মকর্তারা।
এদিকে. নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির সিরাজগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র (ইউনিট-০১) প্রজেক্ট এর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ছিল চায়না ন্যাশনাল মেশিনারী ইম্পোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি, চায়না), এবং সাব-ঠিকাদার হিসাবে কাজ করেছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই)। সিরাজগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রজেক্ট (ইউনিট-১) এর পর খুলনা সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র (১৫০ মেগাওয়াট) প্রজেক্ট এর ইন্টারন্যাশনাল ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পায় আইসোল্যাক্স, স্পেন। যখন খোরশেদুল আলম বুঝতে পারলেন যে ইন্টারন্যাশনাল ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে পছন্দের কোম্পানিকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়, অতঃপর খোরশেদুল আলম সিরাজগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র (ইউনিট (০২ ও ০৩) প্রজেক্ট দুইটি ইন্টারন্যাশনাল ওপেন টেন্ডারের না করে ডিপিএম’র মাধ্যমে সরাসরি চায়না ন্যাশনাল মেশিনারী ইম্পোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি), চায়না-কে ইলিসি ঠিকাদার হিসাবে কাজ দেওয়া হয়, যা সরকারের প্রকিউরমেন্ট নীতির চরম লঙ্ঘন। এখানেও সাব-কন্ট্রাক্টর হিসাবে কাজ করেছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স। খুলনা কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র (৭৫ মেগাওয়াট) প্রজেক্ট ইন্টারন্যাশনাল ওপেন টেন্ডারের এর মাধ্যমে ইপিসি ঠিকাদার হিসাবে সাংহাই ইলেক্ট্রিক গ্রুপ কোম্পানি লিঃ, চায়না পায়। এখানেও সাব-কন্ট্রাক্টর হিসাবে কাজ করে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স। বিদ্যুত বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান. ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (ঘউঊ) এর উত্থান মূলত বিদ্যুৎ সেক্টর থেকে এবং তা প্রকৌঃ এ এম খোরশেদুল আলমের হাত ধরে। নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির আওতাধীন ভেড়ামারা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতীত সিরাজগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে (ইউনিট-১, ২ ও ৩), খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সকল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এর সাব-কন্ট্রাক্টর হিসাবে কাজ করেছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স। মধুমতি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে (১০০ মেগাওয়াট) প্রজেক্টটি ডিপিএম’র সরাসরি সিএমসি চায়নাকে দেওয়া হয়। এখানে সাব-কন্ট্রাক্টর হিসাবে কাজ করে এনডিই। সাব কন্ট্রাকটর হিসাবে কাজ করা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি বিএনপি-জামায়াতপন্থী বলেও জানা গেছে। এনডিই’র চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এবং ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান মুস্তাফিজের সঙ্গে এ এম খোরশেদুল আলমের বিশেষ ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলেও দাবি করেছে একাধিক সূত্র।
এদিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চায়না ন্যাশনাল মেশিনারী ইম্পোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিমসি), চায়না এর সাথে নতুন কোম্পানি “বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড” গঠন করেছে মালিকানা ও কোন প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ব্যতিরেকে কাজ দেওয়ার জন্য। নতুন কোম্পানির সকল কাজ নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির কর্মকর্তারা সম্পাদন করলেও অর্ধেক মালিকানা পেয়ে যাচ্ছে সিএমসি, চায়না। অথচ নবায়নযোগ্য জ্বালানী থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের সক্ষমতা রয়েছে। এমনকি দাতা সংস্থাসমূহ সহজ শর্তে ঋণ দিতেও প্রস্তুত। সিমেন্স, জার্মানীর সাথে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড পায়রা’তে ৩,৬০০ মেগায়োট এলএনজি বেস বিদ্যুৎ কেন্দ্রে করার জন্য চুক্তি করেছিল কয়েক বছর আগে। অথচ, সিমেন্স, জার্মানীর সাথের সেই চুক্তি ভঙ্গ করে সেই ৩,৬০০ মেগাওয়াট এলএনজি বেস বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রজেক্ট থেকে সিমেন্স, জার্মানী বাদ দিয়ে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারী ইম্পোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিমসি), চায়নাকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড এর অধীনে প্রজেক্ট নির্মাণের নীল নক্সা এর কাজ শুরু করা হয়েছে।
এলক্ষ্যে, গত জুলাই মাস থেকে গোপনে উক্ত প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক হিসাবে প্রকৌঃ সাইফুদ্দিন এহসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ, বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড কোম্পানি গঠনের সময়ে শুধুমাত্র ১,৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্মাণের কথা উল্লেখ্য করে কোম্পানী গঠন করা হয়েছিল। সরকারি জমি সরকারী প্রতিষ্ঠান নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের নামে লীজ নিয়ে, লীজ এর “জমি হস্তান্তর যোগ্য নহে” শর্ত ভঙ্গ করে বেসরকারি কোম্পানি “বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানী (প্রাঃ) লিমিটেড / বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড” এর নামে হস্তান্তর করে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যবহার করে প্রজেক্টের জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজ সম্পাদন করে প্রজেক্ট ম্যাচুউর করার পর প্রজেক্ট নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী থেকে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড/বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড কোম্পানীতে হস্তান্তর করে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারী ইম্পোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিমসি), চায়না-এর কাছে শতাংশ মালিকানা তুলে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চায়না ন্যাশনাল মেশিনারী ইম্পোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিমসি), চায়না-কে ইপিসি ঠিকাদারী দেওয়া হচ্ছে নামে ও বেনামে। ফলে, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়াররা প্রজেক্টের কাজ করলেও নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী উক্ত প্রজেক্টের মালিক হচ্ছে না। ফলে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়ারদের প্রমোশনের জন্য কোন পদ সৃষ্টি হচ্ছে না, ফলে কেউ প্রমোশন পাচ্ছে না। ফলে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানা গেছে। সেই ক্ষোভ প্রশমনের জন্য কোম্পানীতে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বাংলাদেশ পানি ও বিদ্যুৎ প্রকৌশলী সমিতি বা অন্যান্য কোন সংগঠন গঠন করেতে দেওয়া হচ্ছে না। মূলত বিদ্যুত খাতে বিশেষ করে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের কোনো সংগঠন করতে দেয়া হচ্ছে না। এছাড়াও, কর্মকর্তাদের প্রমোশনের ব্যাপারে সিনিয়রিটি ব্রেক করে ইঞ্জিনিয়ারদের চাপে রেখেছে এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী সমর্থক কর্মকর্তাদের প্রধান্য দিচ্ছে যেন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে সাহস করে কেউ কথা না বলতে পারে। প্রায় ২৫ জন কর্মকর্তার প্রত্যেক’কে বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ হারে প্রতিমাসে ৬০হাজার থেকে শুরু করে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা অতিরিক্ত ভাতা হিসাবে দিচ্ছে, যেন কর্মকর্তারা আর্থিক সুবিধা প্রাপ্ত হয়ে প্রকৌঃ এ এম খোরশেদুল আলমের অনৈতিক কার্যক্রমের ব্যাপারে নিরব থাকে। অথচ প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকার বেশি টাকা দেওয়ার বিধান নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির চাকুরিবিধিতে নেই।
অপরদিকে, নিয়োগ জালিয়াতিতেও নাম লিখিয়েছে বিতর্কিত প্রকৌশলী এ এম খোরশেদুল আলম। কোম্পানিটিতে দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত করলেও এখন পর্যন্ত কর্মচারি নিয়োগে কোন বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি। তবে চার শতাধিক কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগসহ প্রভাবশালী আমলারা কম বেশি নিয়োগ প্রদান করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন ও পরীক্ষা ছাড়া কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিছু বিজ্ঞাপন ছাড়া ও চাকুরি বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষাগতযোগ্যতা না থাকার পরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা নিয়োগে প্রমোশনে পরিচালক (পিডি) নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় জামায়াত-বিএনপি পন্থীদের প্রধান্য দেওয়া হয়েছে। আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জামায়াতপন্থী প্রকৌঃ মোঃ আব্দুস সামাদ-কে প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে কোম্পানীর প্ল্যানিং ও ডিজাইন ডিপার্মেন্ট এর প্রধান হিসাবে নিয়োগ নেওয়া হয়েছিল এবং পরে তাকে নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশলী) বানানো হয়েছে। আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আরেক জামায়াতপন্থী প্রকৌঃ মোঃ মোশারফ হোসেনকে প্রধান প্রকৌশলী (প্ল্যান্ট ম্যানেজার) হিসাবে কোম্পানীর ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জামায়াতপন্থী প্রকৌঃ মোঃ রবিউল আওয়াল-কে তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে কোম্পানীর ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাবেক বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলামের ছেলে, বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের হুমায়ুন কবিরের মেয়ে, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে, কোম্পানি বোর্ডের সদস্য সদরুল ইসলামের ছেলে, কোম্পানীর প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমানের ছেলে, কোম্পানীর প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর কবিরের ছেলে, নির্বাহী পরিচালক প্রকৌঃ আখতার আহমেদের ছেলে, দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলামের ছেলে, কোম্পানীর নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) মাসুদুর রহমানের ভাতিজি-সহ প্রভাবশালী অনেকের স্বজনেরা নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাকুরীর সার্কুলার ব্যাতি রেখে সরাসরি বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার (প্রাঃ) কোম্পানিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার পরও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও কোম্পানি বোর্ডের সাবেক সদস্য আব্দুছ রুহুল্লাহের ভাগ্নী প্রকৌঃ রিফাত সুলতানা, হিসাব ও অর্থ বিভাগ এর মহাব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান (জামায়াতপন্থী) এর ভাই মোঃ সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদের মেয়ে প্রকৌঃ শেহরিন-সহ অনেকের নিয়োগে চরম অনিয়ম করা হয়েছে। চাকুরিবিধিমালা এর অভিজ্ঞতা হ্রাস করে বোর্ড থেকে স্পেশাল অনুমোদন নিয়ে অডিট এর উপমহাব্যবস্থাপক জামায়াতপন্থী হাবিবুর রহমানকে হিসাব ও অর্থ বিভাগ এর মহাব্যবস্থাপক পদে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। কোম্পানি বোর্ড অনেকটাই প্রকৌঃ এ এম খোরশেদুল আলমের হাতের পুতুল বলে মনে করেন নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। প্রকৌঃ এ এম খোরশেদুল আলমের নিজ জেলা জামালপুর-এর মানুষ কোম্পানীতে সবচেয়ে বেশি (জেলাভিত্তিক) চাকুরী করে। এছাড়া, প্রকৌঃ এ এম খোরশেদুল আলমের এর বিশ্বস্থ কর্মকর্তাদের বয়স ৬০ বছর পার হওয়ার পরেও তারা কোম্পানীতে বিধি বহির্ভূত সুবিধায় নিয়মিত/অনিয়মিত কর্মকর্তা হিসাবে বা কোম্পানীর কন্সাল্টেন্ট হিসাবে বহাল তবিয়তে আছে। কোম্পানীতে আওয়ামীলীগপন্থী কর্মকর্তা ও হিন্দু কর্মকর্তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুবিধা বঞ্ছিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সাবেক কোম্পানি সেক্রেটারি দীপক কুমার ঢালী কোম্পানীতে ব্যাপক কাজ করলেও তাকে কন্সাল্টেন্ট হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। বিএনপি-জামায়াত পন্থীদের বিভিন্ন সুবিধাদি দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পদায়নে অসৎ, এন্টি আওয়ামী লীগ পন্থী ও অনুগত্যকারী কর্মকর্তারা পছন্দের তালিকায় রয়েছে। কারণ প্রকল্প পরিচালকদের মাধ্যমে প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা সহজ হয়। মধুমতি প্রকল্পে জুনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী ও অসৎ কর্মকর্তা তানবীর রহমান (বিএনপি পন্থী) -কে প্রকল্প পরিচালক হিসাবে পদায়ন করেছিল। রূপসা প্রকল্পে আওয়ামী লীগ বিরোধী ও অসৎ কর্মকর্তা প্রকৌঃ মসিউর রহমানকে প্রকল্প পরিচালক হিসাবে পদায়ন করা হয়েছে এবং সম্প্রতি রূপসা প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর সৎ কর্মকর্তা প্রকৌঃ হাসমত আলীকে বদলী করে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা প্রকৌঃ আসাদ হালিমকে ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসাবে পদায়ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য প্রকৌঃ হাসমত আলী অটিস্টিক বাচ্চা থাকার পরেও তাকে উপজেলা লেভেলে পদায়ন করা হয় শুধুমাত্র সৎ হওয়ার কারণে। সাধারণত অটিস্টিক বাচ্চা থাকলে ঢাকায় বা অটিস্টিক বাচ্চার যতœ করার সুবিধা রয়েছে এমন জায়গায় পদায়নের প্রচলিত নিমম মেনে চলা হয়। অসৎ ও অত্যন্ত অনুগত প্রকৌঃ আবদুল্লাহ কোরাইশীকে পায়রা ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন প্রজেক্ট এর পিডি হিসাবে ডেপুটেশনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য ট্রান্সমিশন লাইনের জন্য ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন হলেও প্রকৌঃ আবদুল্লাহ কোরাইশী মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার।
উল্লেখ্য, পায়রা ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন প্রজেক্ট বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড নির্মাণ করছে। অথচ, বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড কোম্পানি গঠনের সময়ে শুধুমাত্র ১,৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক পায়রা বিদ্যুৎ নির্মাণের কথা উল্লেখ্য করে কোম্পানী গঠন করা হয়েছিল, উচ্চ প্রজেক্ট করার একমাত্র সক্ষমতা ও আইনগত অধিকার শুধুমাত্র পাওয়ার শ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিডিসিপি) এর হয়েছে। প্রকৌঃ আবদুল্লাহ কোরাইশী উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পদে সবার পিছনে (একই ব্যাচের) যোগদানের পরেও প্রকৌঃ আবদুল্লাহ কোরাইশীকে নির্বাঠী প্রকৌশলী হিসাবে প্রমোশনের সময়ে ব্যাচের প্রথম করা হয় শুধুমাত্র আনুগতা ও ঘুষখোর হওয়ার কারণে। প্রকৌঃ আবদুল্লাহ তোরাষ্টনী এর আগের স্যাডের প্রকৌঃ মাইনুদ্দিনকে দ্বিতীয় করা হয়। বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এর সেন্ট্রাল কাউন্সিল মেম্বার প্রকৌঃ মনির হোসেন অন্য সিরিয়াল প্রমোশনের সময় তিন ধাপ পিছিয়ে দেওয়া হয় শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে। এভাবেই নিজের পছন্দ অনুযায়ী ইঞ্জিনিয়ারদের প্রমোশন দিয়ে থাকে যেন ইঞ্জিনিয়াররা কথা বলতে হয় পায়। সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে প্রকৌঃ আবদুল্লাহ কোরাইশী ও প্রকৌঃ অরুণ কুমার দত্তকে প্রমোশন দেওয়া হয়। দুইজনাকে প্রমোশন দিয়ে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড কোম্পানি এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুইজনকে প্রমোশন দেওয়ার সময় কমপক্ষে ১০ জনকে ভাইভা এর জন্য কল করার নিয়ম থাকলেও এবং ভাইভা কলের সকল নিয়ম পূর্ণ করার পরও অন্যায়ভাবে ৪ জনের ভাইভা নেওয়া হয় নাই। ভেড়ামাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম পিএন্ডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌঃ মাইনুদ্দিন ইসলাম সরকার, পিএন্ডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ও সাবেক ছাত্র লীগ নেতা প্রকৌঃ মনির হোসেন, খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌঃ শফিকুল ইসলাম পদোন্নতির যোগ্যতা থাকার পরও দুই বছর আগে পূর্ণ হওয়ার পরেও তাদের ভাইভা এর জন্য কল করা হয় নাই। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা প্রকৌঃ আবু জাফর সিদ্দীকিকে পরপর চারবার ভাইভা নিয়েও প্রমোশন দেওয়া হয় নাই, তার অনেক জুনিয়র কর্মকর্তা সাবেক শিবির নেতা প্রকৌঃ আসাদ হালিমকে প্রথমবারে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। এমন কি পিএন্ডি ডিপার্টমেন্ট এর প্রধান প্রকৌশলী পদে আছেন সাইফুল ইসলাম, যিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা প্রকৌঃ আবু জাফর সিদ্দীকি এর জুনিয়র। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও সরকারের কট্টর সমালোচক ও এন্টি আওয়ামী লীগ হিসাবে পরিচিত প্রকৌঃ সাইফুল ইসলামকে পদায়ন করা হয়েছে প্রকৌঃ খোরশেদুল আলমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (টিএমই) হিসাবে। উল্লেখ্য যে, তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে বর্তমানে চারটি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার প্রকৌঃ খোরশেদুল আলমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (টিএমই), প্ল্যানিং ও ডিজাইন ডিপার্টমেন্ট এর চিফ ইঞ্জিনিয়ার (অতিরিক্ত দায়িত্ব), ভেড়ামারা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের লং টার্ম সার্ভিস এগ্রিমেন্ট প্রজেক্ট এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এবং পায়রা ১,৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (অতিরিক্ত দায়িত্ব)। অতিরিক্ত এইসব দায়িত্বের জন্য প্রতিমাসে ১ লাখ টাকা ভাতা তুলেন প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কয়েকবার ফোন করা হলেও নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটিডের বিতর্কিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী এ এম খোরশেদুল আলম ফোন ধরেননি। এমনকি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তিনি কোনো জবাব দেননি।











