১২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক সিন্ডিকেট বিপাকে: জেল সুপার নেছার আলমের কঠোর পদক্ষেপে বদলে গেছে কক্সবাজার জেলা কারাগার

প্রতিনিধির নাম:

কক্সবাজার থেকে ফিরে রোস্তম মল্লিক

বদলে গেছে কক্সবাজার জেলা কারাগারের চিত্র। আগের চেয়ে বেড়েছে সেবার মান। পাশাপাশি করোনাকালীন সময়েও কারা অভ্যন্তরের সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র ও স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে বিদ্যমান থাকায় মহাখুশি কারাবন্দিরা।
বর্তমান জেল সুপার নেছার আলমের সুদক্ষ পরিচালনায় কক্সবাজার জেলা কারাগার এখন দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত মডেল কারাগার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এমনটাই জানালেন সদ্য জামিনে মুক্ত বেশ কয়েকজন কারাবন্দি। তাদের মতে, বর্তমান জেল সুপার মোঃ নেছার আলমের যোগ্য নেতৃত্বে ও কঠোর পদক্ষেপে কক্সবাজার জেলা কারাগার বাংলাদেশের অন্যান্য কারাগারের তুলনায় ব্যাতিক্রম এক নজির সৃষ্টি করেছে। “রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” এ শ্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে কক্সবাজার জেলা কারাগারে ভেতরে বাইরে কর্মরতরা কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা একাগ্রচিত্তে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। জেলার,ডেপুটি জেলার ,সুবেদার, প্রধান কারারক্ষী ও কারারক্ষীরা বন্দীদের আন্তরিক সেবা দান ও ভাল ব্যবহার দিয়ে নজির সৃষ্টি করেছেন। কারাগারের স্বার্থ রক্ষায় তারা অতন্দ্র প্রহরীর ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে।
গত ২৬/৯/২০২০ ইং তারিখে মোঃ নেছার আলম জেল সুপার হিসেবে যোগদান করার পর থেকে কারা অধিদপ্তরের বিধি বিধান অনুসরণ করেই এই কারাগারটি পরিচালিত হচ্ছে। বিধি মোতাবেক প্রাপ্য সকল সুবিধা বন্দিদের সমানভাবে দেয়া হচ্ছে। সেখানে টাকার বিনিময়ে আলাদা কোনো সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই । বিশেষ করে জেল সুপারের নেতৃত্বে কারাগারে শান্তি-শৃংখলা সৃষ্টি, কারা মনিটরিং, অসুস্থ বন্দিদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, কারা ক্যান্টিনে ন্যায্যমূল্যের ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক তদারকি, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, সর্বোপরি বন্দীদের মৌলিক চাহিদাসমূহ পৌঁছে দিতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন কারাগারের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শতভাগ সততায় অবিচল থেকে এই করাগারটিকে তুর্নীতি ও মাতকমুক্ত মডেল কারাগারে রুপান্তর করতে রাত দিন কাজ করে যাচ্ছেন জেল সুপার মোঃ নেছার আলম।
এদিকে বর্তমানে কারাগারে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ২ জন চিকিৎসক নিয়োজিত রয়েছেন। এসব চিকিৎসক প্রতিদিন রোগিদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। সেখান থেকে প্রকৃত অসুস্থ রোগিদের কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। কারা হাসপাতালে কোন সুস্থ্য রোগিকে একদিনের জন্যেও রাখা হয়না বলে জানিয়েছেন অনেক মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দী।
সদ্য কারামুক্ত চেইন্দা পাহাড়তলী এলাকার নুরুল হুদা ও হাবিবুর রহমান জানান, তারা একটি মামলায় বেশ কিছুদিন কারান্তরীন ছিল। বর্তমানে কারাগারের পরিবেশ বেশ চমৎকার। কারাগারে প্রত্যেক বন্দিদের সমান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে কারা কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, সদ্য কারামুক্ত চকরিয়া গান্ধিপাড়ার দোস্ত মোহাম্মদ ও মাষ্টার হাফেজ আহমদ জানান, কারাগারে উন্নতমানের খাবার দেয়া হয় বন্দিদের। কারা কর্তৃপক্ষ খুব সুন্দরভাবে কারাগারে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। টেকনাফ নাইট্যং পাড়ার আব্দুর রহমান সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমার দেখা মতে কোনো মাদক সিন্ডিকেট বাড়তি কোনো সুযোগ-সুবিধা তথা আরাম আয়াশে থাকতে না পারে সেজন্য জেল সুপার সর্বদা সজাগ রয়েছেন। প্রতিদিন তিনি কারাগারের সকল ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং বন্দি মাদক সিন্ডিকেটের কারণে কারো অসুবিধা হচ্ছে না কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ খবর নেন। শুধু তাই নয়, মাদক সিন্ডিকেটযেন কোন প্রকার অনৈতিক কর্মকান্ড করতে না পারে সেজন্য কারারক্ষীদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ কারণে মাদক সিন্ডিকেট বিপাকে পড়েছে। তারা কোন প্রকার বেআইনী সুযোগ সুবিধা না পেয়ে জেল সুপার নেছার আলমকে বদলী করার পাঁয়তারা শুরু করেছেন।
শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা কারাগারে কথা হয় রামুর মন্ডল পাড়ার ছকিনা বেগমের সাথে। তিনি এসেছেন তার কারাবন্দী স্বামীর জন্যই পিসিতে টাকা দিতে। তিনি জানান, করোনার অজুহাতে দীর্ঘ দিন ধরে বন্দীদের সাথে স্বজন দের দেখা স্বাক্ষাত বন্ধ রাখা খুবই অমানবিক।
ডেপুটি জেলার এম. মনির হোসেন বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে কারা বন্দিদের প্রত্যক্ষ সেবা প্রদান করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কারাগারে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তথা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, এমন কার্যক্রম যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে আমরা সকলেই সজাগ রয়েছি।
জেল সুপার মোঃ নেছার আলম বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কারাগারে বিগত দীর্ঘ দিন ধরে আমি কর্মরত আছি। কাঠামো ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আমার সার্বিক প্রচেষ্টায় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় কারাগারের উন্নয়নের চিত্র পাল্টে দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছি। কারাগারের সেবার মান বাড়িয়েছি। কারাগারে মাদকের প্রবেশ যাতে না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। এখনো অনিয়ম-দুর্নীতির কোন প্রশ্নই আসে না। যদি কারাগারের কোন সদস্য অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
[উল্লেখ্য কক্সবাজার জেলা কারাগারে বন্দী ধারনক্ষমতা ৮শ’ ৩০ জন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে বন্দী রয়েছেন ৪ হাজার ৪১ জন। ধারন ক্ষমতার প্রায় ৫ গুন বেশি বন্দী নিয়ে মানব সেবায় নজির সৃষ্টি করা উক্ত কারাগারে মায়ের সাথে বীনা অপরাধে জেল খাটা শিশুদের রোজ দুইবার তরল দুধ দেওয়া হচ্ছে বলে জানাগেছে।
এদিকে দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ থাকায় বিধি মোতাবেক প্রত্যেক বন্দী মোবাইলে কথা বলছেন। কারাগারে ৩০০ জন বন্দি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ৬ তলা নতুন ভবন উদ্বোধন হওয়ায় বন্দিদের দীর্ঘদিনের শোয়ার জায়গার সমস্যার সমাধান অনেকাংশে হয়েছে। তাছাড়া আইসিআরসি কর্তৃক কারাগারের বাহিরে ২ টি ও বাহিরে ২ টি গভীর নলকূপ স্থাপন প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও কারা পরিদর্শক মুজিবুর রহমান বলেন, দক্ষ জেল সুপার নেছার আলমের নেতৃতে কারাগারে শান্তি-শৃংখলা বিরাজ করছে। কঠোর মনিটরিং, অসুস্থ বন্দিদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, কারা ক্যান্টিনে ন্যায্যমূল্যের ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক তদারকি, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, পয়োঃ নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সর্বোপরি কারা বন্দীদের মৌলিক চাহিদাসমূহ শতভাগ বাস্তবায়ন করতে কারা কর্মকর্তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। সেক্ষেত্রে তারা প্রশংসার দাবী রাখেন।

এ বিষয়ে কথা বললে দক্ষ জেল সুপার নেছার আলম এ প্রতিবেদককে বলেন , কারা বন্দীরা সমাজ ও দেশের বোঝা নয়, কারামুক্ত হলেই তারা হবেন পরিবার ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ। ফেলে আসা অতীতের সব উশৃঙ্খল পথ ছেড়ে অলোর পথে ফিরিয়ে আনতে এসব হাজতি-কয়েদির কারাভ্যন্তরে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন, প্রশিক্ষণ দানসহ ও করা হচ্ছে জনহিতকর নানা প্রকার মোটিভেশন । শিশুদের বিনোদনের জন্য কারাগারে নির্মাণ করা হয়েছে অভ্যন্তরীন পার্ক। মায়ের অপরাধে বিনা কারণে জেলে থাকা এসব শিশুদের জন্য রয়েছে ডে-কেয়ার (পরিচর্যা) সেন্টার। শিক্ষকরা রোজ তাদের প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা দিয়ে চলেছেন। কারাভ্যন্তরে এসব কর্মসুচি বাস্তবায়নকারীদের বেশীরভাগই হচ্ছেন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত ও স্বেচ্ছাশ্রমে আগ্রহীরা। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন কারাভ্যন্তরে নবসাজে পাল্টাচ্ছে তার চিত্র। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, ধর্মীয় শিক্ষা, গণশিক্ষা, বৈদ্যুতিক শিক্ষা, সেলাই কাজ, নর সুন্দর, রান্না, হস্ত শিল্প ও সবুজ শ্যামল কারাগারটির ভেতরের সৌন্দর্য যে কোন পর্যটন,অবকাশ ও বিনোদন কেন্দ্রকেও হার মানাবে। পৃথিবীর দীর্ঘ বেলাভূমি কক্সবাজার সৈকতের অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে আরেক সুন্দর কক্সবাজার কারাগার কৃষিতেও ঘটাচ্ছে বিপ্লব। সেখানকার উৎপাদিত শীতকালীন সবজি বন্দিরা খেয়ে ফুরাতে পারেন না।

কক্সবাজর জেলা কারাগার ঘুরে দেখাগেছে, ফুলে ফলে ভরপুর কক্সবাজার কারাগারটিতে শীত মৌসুমে অনায়াসে মেলে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, গাঁজর, খিরা (শশা), টমেটো, কাঁচা মরিচ, বেগুন ও নানা জাতের শাক সবজি। নিজেরাই উৎপাদন করে তরতাজা এসব নির্ভেজাল সবজি খেয়ে পরম তৃপ্ত বন্দিরা । এ ছাড়া আগের ছোট্ট পরিসরের অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘরটি বর্তমানে স¤প্রসারিত হয়েছে। সেখানে নির্মিত হয়েছে বিশালাকারের শেড। পর্যাপ্ত পানি ব্যবস্থার পাশাপাশি সংকট নিরসনে প্রতিটি ওয়ার্ডে এক হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংকি বসিয়ে দিয়েছেন জেল সুপার নেছার আলম। এ জন্য বন্দীরা তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞ প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২
১৮৫ বার পড়া হয়েছে

মাদক সিন্ডিকেট বিপাকে: জেল সুপার নেছার আলমের কঠোর পদক্ষেপে বদলে গেছে কক্সবাজার জেলা কারাগার

আপডেট সময় ০৪:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২

কক্সবাজার থেকে ফিরে রোস্তম মল্লিক

বদলে গেছে কক্সবাজার জেলা কারাগারের চিত্র। আগের চেয়ে বেড়েছে সেবার মান। পাশাপাশি করোনাকালীন সময়েও কারা অভ্যন্তরের সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র ও স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে বিদ্যমান থাকায় মহাখুশি কারাবন্দিরা।
বর্তমান জেল সুপার নেছার আলমের সুদক্ষ পরিচালনায় কক্সবাজার জেলা কারাগার এখন দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত মডেল কারাগার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এমনটাই জানালেন সদ্য জামিনে মুক্ত বেশ কয়েকজন কারাবন্দি। তাদের মতে, বর্তমান জেল সুপার মোঃ নেছার আলমের যোগ্য নেতৃত্বে ও কঠোর পদক্ষেপে কক্সবাজার জেলা কারাগার বাংলাদেশের অন্যান্য কারাগারের তুলনায় ব্যাতিক্রম এক নজির সৃষ্টি করেছে। “রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” এ শ্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে কক্সবাজার জেলা কারাগারে ভেতরে বাইরে কর্মরতরা কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা একাগ্রচিত্তে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। জেলার,ডেপুটি জেলার ,সুবেদার, প্রধান কারারক্ষী ও কারারক্ষীরা বন্দীদের আন্তরিক সেবা দান ও ভাল ব্যবহার দিয়ে নজির সৃষ্টি করেছেন। কারাগারের স্বার্থ রক্ষায় তারা অতন্দ্র প্রহরীর ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে।
গত ২৬/৯/২০২০ ইং তারিখে মোঃ নেছার আলম জেল সুপার হিসেবে যোগদান করার পর থেকে কারা অধিদপ্তরের বিধি বিধান অনুসরণ করেই এই কারাগারটি পরিচালিত হচ্ছে। বিধি মোতাবেক প্রাপ্য সকল সুবিধা বন্দিদের সমানভাবে দেয়া হচ্ছে। সেখানে টাকার বিনিময়ে আলাদা কোনো সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই । বিশেষ করে জেল সুপারের নেতৃত্বে কারাগারে শান্তি-শৃংখলা সৃষ্টি, কারা মনিটরিং, অসুস্থ বন্দিদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, কারা ক্যান্টিনে ন্যায্যমূল্যের ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক তদারকি, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, সর্বোপরি বন্দীদের মৌলিক চাহিদাসমূহ পৌঁছে দিতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন কারাগারের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শতভাগ সততায় অবিচল থেকে এই করাগারটিকে তুর্নীতি ও মাতকমুক্ত মডেল কারাগারে রুপান্তর করতে রাত দিন কাজ করে যাচ্ছেন জেল সুপার মোঃ নেছার আলম।
এদিকে বর্তমানে কারাগারে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ২ জন চিকিৎসক নিয়োজিত রয়েছেন। এসব চিকিৎসক প্রতিদিন রোগিদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। সেখান থেকে প্রকৃত অসুস্থ রোগিদের কারা হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। কারা হাসপাতালে কোন সুস্থ্য রোগিকে একদিনের জন্যেও রাখা হয়না বলে জানিয়েছেন অনেক মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দী।
সদ্য কারামুক্ত চেইন্দা পাহাড়তলী এলাকার নুরুল হুদা ও হাবিবুর রহমান জানান, তারা একটি মামলায় বেশ কিছুদিন কারান্তরীন ছিল। বর্তমানে কারাগারের পরিবেশ বেশ চমৎকার। কারাগারে প্রত্যেক বন্দিদের সমান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে কারা কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, সদ্য কারামুক্ত চকরিয়া গান্ধিপাড়ার দোস্ত মোহাম্মদ ও মাষ্টার হাফেজ আহমদ জানান, কারাগারে উন্নতমানের খাবার দেয়া হয় বন্দিদের। কারা কর্তৃপক্ষ খুব সুন্দরভাবে কারাগারে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। টেকনাফ নাইট্যং পাড়ার আব্দুর রহমান সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমার দেখা মতে কোনো মাদক সিন্ডিকেট বাড়তি কোনো সুযোগ-সুবিধা তথা আরাম আয়াশে থাকতে না পারে সেজন্য জেল সুপার সর্বদা সজাগ রয়েছেন। প্রতিদিন তিনি কারাগারের সকল ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং বন্দি মাদক সিন্ডিকেটের কারণে কারো অসুবিধা হচ্ছে না কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ খবর নেন। শুধু তাই নয়, মাদক সিন্ডিকেটযেন কোন প্রকার অনৈতিক কর্মকান্ড করতে না পারে সেজন্য কারারক্ষীদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ কারণে মাদক সিন্ডিকেট বিপাকে পড়েছে। তারা কোন প্রকার বেআইনী সুযোগ সুবিধা না পেয়ে জেল সুপার নেছার আলমকে বদলী করার পাঁয়তারা শুরু করেছেন।
শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা কারাগারে কথা হয় রামুর মন্ডল পাড়ার ছকিনা বেগমের সাথে। তিনি এসেছেন তার কারাবন্দী স্বামীর জন্যই পিসিতে টাকা দিতে। তিনি জানান, করোনার অজুহাতে দীর্ঘ দিন ধরে বন্দীদের সাথে স্বজন দের দেখা স্বাক্ষাত বন্ধ রাখা খুবই অমানবিক।
ডেপুটি জেলার এম. মনির হোসেন বলেন, আমি যোগদানের পর থেকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে কারা বন্দিদের প্রত্যক্ষ সেবা প্রদান করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কারাগারে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তথা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, এমন কার্যক্রম যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে আমরা সকলেই সজাগ রয়েছি।
জেল সুপার মোঃ নেছার আলম বলেন, কারাগার একটি স্পর্শকাতর সরকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কারাগারে বিগত দীর্ঘ দিন ধরে আমি কর্মরত আছি। কাঠামো ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আমার সার্বিক প্রচেষ্টায় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় কারাগারের উন্নয়নের চিত্র পাল্টে দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছি। কারাগারের সেবার মান বাড়িয়েছি। কারাগারে মাদকের প্রবেশ যাতে না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। এখনো অনিয়ম-দুর্নীতির কোন প্রশ্নই আসে না। যদি কারাগারের কোন সদস্য অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
[উল্লেখ্য কক্সবাজার জেলা কারাগারে বন্দী ধারনক্ষমতা ৮শ’ ৩০ জন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে বন্দী রয়েছেন ৪ হাজার ৪১ জন। ধারন ক্ষমতার প্রায় ৫ গুন বেশি বন্দী নিয়ে মানব সেবায় নজির সৃষ্টি করা উক্ত কারাগারে মায়ের সাথে বীনা অপরাধে জেল খাটা শিশুদের রোজ দুইবার তরল দুধ দেওয়া হচ্ছে বলে জানাগেছে।
এদিকে দেখা সাক্ষাৎ বন্ধ থাকায় বিধি মোতাবেক প্রত্যেক বন্দী মোবাইলে কথা বলছেন। কারাগারে ৩০০ জন বন্দি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ৬ তলা নতুন ভবন উদ্বোধন হওয়ায় বন্দিদের দীর্ঘদিনের শোয়ার জায়গার সমস্যার সমাধান অনেকাংশে হয়েছে। তাছাড়া আইসিআরসি কর্তৃক কারাগারের বাহিরে ২ টি ও বাহিরে ২ টি গভীর নলকূপ স্থাপন প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও কারা পরিদর্শক মুজিবুর রহমান বলেন, দক্ষ জেল সুপার নেছার আলমের নেতৃতে কারাগারে শান্তি-শৃংখলা বিরাজ করছে। কঠোর মনিটরিং, অসুস্থ বন্দিদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা, কারা ক্যান্টিনে ন্যায্যমূল্যের ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক তদারকি, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, পয়োঃ নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সর্বোপরি কারা বন্দীদের মৌলিক চাহিদাসমূহ শতভাগ বাস্তবায়ন করতে কারা কর্মকর্তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। সেক্ষেত্রে তারা প্রশংসার দাবী রাখেন।

এ বিষয়ে কথা বললে দক্ষ জেল সুপার নেছার আলম এ প্রতিবেদককে বলেন , কারা বন্দীরা সমাজ ও দেশের বোঝা নয়, কারামুক্ত হলেই তারা হবেন পরিবার ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ। ফেলে আসা অতীতের সব উশৃঙ্খল পথ ছেড়ে অলোর পথে ফিরিয়ে আনতে এসব হাজতি-কয়েদির কারাভ্যন্তরে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিনোদন, প্রশিক্ষণ দানসহ ও করা হচ্ছে জনহিতকর নানা প্রকার মোটিভেশন । শিশুদের বিনোদনের জন্য কারাগারে নির্মাণ করা হয়েছে অভ্যন্তরীন পার্ক। মায়ের অপরাধে বিনা কারণে জেলে থাকা এসব শিশুদের জন্য রয়েছে ডে-কেয়ার (পরিচর্যা) সেন্টার। শিক্ষকরা রোজ তাদের প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা দিয়ে চলেছেন। কারাভ্যন্তরে এসব কর্মসুচি বাস্তবায়নকারীদের বেশীরভাগই হচ্ছেন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত ও স্বেচ্ছাশ্রমে আগ্রহীরা। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন কারাভ্যন্তরে নবসাজে পাল্টাচ্ছে তার চিত্র। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, ধর্মীয় শিক্ষা, গণশিক্ষা, বৈদ্যুতিক শিক্ষা, সেলাই কাজ, নর সুন্দর, রান্না, হস্ত শিল্প ও সবুজ শ্যামল কারাগারটির ভেতরের সৌন্দর্য যে কোন পর্যটন,অবকাশ ও বিনোদন কেন্দ্রকেও হার মানাবে। পৃথিবীর দীর্ঘ বেলাভূমি কক্সবাজার সৈকতের অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে আরেক সুন্দর কক্সবাজার কারাগার কৃষিতেও ঘটাচ্ছে বিপ্লব। সেখানকার উৎপাদিত শীতকালীন সবজি বন্দিরা খেয়ে ফুরাতে পারেন না।

কক্সবাজর জেলা কারাগার ঘুরে দেখাগেছে, ফুলে ফলে ভরপুর কক্সবাজার কারাগারটিতে শীত মৌসুমে অনায়াসে মেলে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, গাঁজর, খিরা (শশা), টমেটো, কাঁচা মরিচ, বেগুন ও নানা জাতের শাক সবজি। নিজেরাই উৎপাদন করে তরতাজা এসব নির্ভেজাল সবজি খেয়ে পরম তৃপ্ত বন্দিরা । এ ছাড়া আগের ছোট্ট পরিসরের অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘরটি বর্তমানে স¤প্রসারিত হয়েছে। সেখানে নির্মিত হয়েছে বিশালাকারের শেড। পর্যাপ্ত পানি ব্যবস্থার পাশাপাশি সংকট নিরসনে প্রতিটি ওয়ার্ডে এক হাজার লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংকি বসিয়ে দিয়েছেন জেল সুপার নেছার আলম। এ জন্য বন্দীরা তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞ প্রকাশ করেন।