১২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি টাকায় শিল্পকলার মহাপরিচালকের জন্মদিন

প্রতিনিধির নাম:
রামেন্দু মজুমদার শিল্পকলা একাডেমির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘পরিষদ’–এর সদস্য

সংশ্লিষ্ট নথি বলছে, গত বছর ঢাকার অনুষ্ঠানের জন্য দুটি ভাউচারে ৪ লাখ ও ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা অগ্রিম উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে মহাপরিচালকের তৎকালীন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবদুল রাকিবিল বারীর অনুকূলে চার লাখ, জেলা কালচারাল অফিসার আবু ছালেহ মো. আবদুল্লাহর অনুকূলে একটি চেকে ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এসব টাকার বড় অংশ শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিল্পীদের সম্মানী বাবদ দেওয়া হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অনুষ্ঠান আয়োজন, আপ্যায়নসহ অন্যান্য খাতে বাকি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এসব টাকার একটি অংশ নয়ছয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিল্পকলার একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয় দিবস বাদে বিশেষ কোনো দিবস পালন করতে হলে একাডেমির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘পরিষদ’–এর অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ১৩ জানুয়ারির কর্মসূচি পালনের বিষয়ে কোনো ধরনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার একাধিক মেয়াদে পরিষদের সদস্য হিসেবে রয়েছেন। ১৩ জানুয়ারি ‘দেশব্যাপী শহীদ মিনার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি’র বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পরিষদ এসব ব্যাপারে কিছুই জানে না। পরিষদকে কিছুই জানানো হয় না। শিল্পকলা যে কর্মসূচি দেয়, পরিষদ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকে। রামেন্দু মজুমদার বলেন, বছরের শুরুতেই শিল্পকলার সব কর্মসূচির তথ্য পরিষদকে জানানো উচিত। কিন্তু এখানে যেটা হয় একাডেমি কর্মসূচি জমা দেয় মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে ওদের টাকা দিয়ে দেয়। সুতরাং পরিষদের এখানে কোনো ভূমিকা নেই।

মহাপরিচালকের লিখিত চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকার বাইরে জেলা পর্যায়েও এ কর্মসূচি পালন করে শিল্পকলা একাডেমি। একাডেমির জেলা পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব অনুষ্ঠানের খরচ দেওয়া হয় স্থানীয় তহবিল থেকে।

সরকারি টাকায় মহাপরিচালকের জন্মদিন উদ্‌যাপনের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসান মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি  বলেন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো এবং শহীদ মিনার পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে সারা দেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শহীদ মিনার পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শহীদ মিনার পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সঙ্গে একাডেমির মহাপরিচালকের জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নেই।

শিল্পকলা একাডেমি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন। এ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর পদাধিকারবলে একাডেমির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘পরিষদ’–এর সহসভাপতি। জন্মদিন উদ্‌যাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আবুল মনসুর বলেন, তিনি পরিষদের একটি সভায় অংশ নিয়েছেন। ১৩ জানুয়ারি কর্মসূচি পালনের এমন সিদ্ধান্ত আগে অনুমোদন হয়েছে কি না তার জানা নেই। তবে এ ধরনের কর্মসূচি নিতে হলে পরিষদের অনুমোদন থাকা উচিত।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২২
১৭৭ বার পড়া হয়েছে

সরকারি টাকায় শিল্পকলার মহাপরিচালকের জন্মদিন

আপডেট সময় ১২:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২২
রামেন্দু মজুমদার শিল্পকলা একাডেমির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘পরিষদ’–এর সদস্য

সংশ্লিষ্ট নথি বলছে, গত বছর ঢাকার অনুষ্ঠানের জন্য দুটি ভাউচারে ৪ লাখ ও ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা অগ্রিম উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে মহাপরিচালকের তৎকালীন ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবদুল রাকিবিল বারীর অনুকূলে চার লাখ, জেলা কালচারাল অফিসার আবু ছালেহ মো. আবদুল্লাহর অনুকূলে একটি চেকে ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এসব টাকার বড় অংশ শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিল্পীদের সম্মানী বাবদ দেওয়া হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অনুষ্ঠান আয়োজন, আপ্যায়নসহ অন্যান্য খাতে বাকি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এসব টাকার একটি অংশ নয়ছয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিল্পকলার একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাতীয় দিবস বাদে বিশেষ কোনো দিবস পালন করতে হলে একাডেমির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘পরিষদ’–এর অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ১৩ জানুয়ারির কর্মসূচি পালনের বিষয়ে কোনো ধরনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার একাধিক মেয়াদে পরিষদের সদস্য হিসেবে রয়েছেন। ১৩ জানুয়ারি ‘দেশব্যাপী শহীদ মিনার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি’র বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পরিষদ এসব ব্যাপারে কিছুই জানে না। পরিষদকে কিছুই জানানো হয় না। শিল্পকলা যে কর্মসূচি দেয়, পরিষদ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকে। রামেন্দু মজুমদার বলেন, বছরের শুরুতেই শিল্পকলার সব কর্মসূচির তথ্য পরিষদকে জানানো উচিত। কিন্তু এখানে যেটা হয় একাডেমি কর্মসূচি জমা দেয় মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে ওদের টাকা দিয়ে দেয়। সুতরাং পরিষদের এখানে কোনো ভূমিকা নেই।

মহাপরিচালকের লিখিত চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকার বাইরে জেলা পর্যায়েও এ কর্মসূচি পালন করে শিল্পকলা একাডেমি। একাডেমির জেলা পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব অনুষ্ঠানের খরচ দেওয়া হয় স্থানীয় তহবিল থেকে।

সরকারি টাকায় মহাপরিচালকের জন্মদিন উদ্‌যাপনের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসান মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি  বলেন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো এবং শহীদ মিনার পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে সারা দেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শহীদ মিনার পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শহীদ মিনার পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সঙ্গে একাডেমির মহাপরিচালকের জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নেই।

শিল্পকলা একাডেমি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন। এ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর পদাধিকারবলে একাডেমির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘পরিষদ’–এর সহসভাপতি। জন্মদিন উদ্‌যাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আবুল মনসুর বলেন, তিনি পরিষদের একটি সভায় অংশ নিয়েছেন। ১৩ জানুয়ারি কর্মসূচি পালনের এমন সিদ্ধান্ত আগে অনুমোদন হয়েছে কি না তার জানা নেই। তবে এ ধরনের কর্মসূচি নিতে হলে পরিষদের অনুমোদন থাকা উচিত।