০৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা দেওয়ার নামে উম্মে ফাতেমা রোজীর কোটি টাকা প্রতারণা

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা দেওয়ার নামে উম্মে ফাতেমা রোজী নামে এক অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী নারী ভুয়া ভিসা, মেডিকেয়ার/ হেলথ কার্ড এবং ভার্জিন এয়ার লাইন্সের টিকেট প্রদান করে রাজধানীর বনশ্রীর মোঃ খাইরুল ইসলাম নামে এক আইনজীবী ও তার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই প্রতারক রোজীর সাথে ভূক্তভোগীদের দীর্ঘ ১০ বছরের অধিক সময় ধরে পারবারিক সম্পর্ক বিদ্যমান ছিলো। এর এক পর্যায়ে প্রতারক রোজী এদেরকে অস্ট্রেলিয়ান (সাব ক্লাস ৮৩৫) মাইগ্রেশন ভিসা দেওয়ার কথা জানান এবং নিজেকে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ভিসা অফিসার বলে দাবী করেন। প্রথমে প্রতারক রোজীর নিজ মায়ের একটি ভিসার কপি তাদেরকে প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে একের পর এক করে ছয়টি ভিসার কাগজ প্রদান করেন এবং বলেন যে করোনার কারনে অনলাইনে তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ আছে। তাই সকল ডকুমেন্টস ইমেইলের মাধ্যমে আদান প্রদান করতে হবে। বিভিন্ন সময় একাধিক ভূয়া মেইল আইডি থেকে তারা ডকুমেন্টস গুলো প্রদান করতেন এবং এম্বাসিতে মৌখিক ভাইবা দেওয়ার পরিবর্তে ফোনের মাধ্যমে তারা ভাইবা নেন।
এর কিছুদিন পরে যখন ভার্জিন বিমানের ভূয়া টিকেট দেওয়া হয় তখন ভুক্তভোগীরা ভার্জিন এয়ার লাইন্সের হেডকোয়ার্টারে মেইলের মাধ্যমে জানতে পারেন যে তাদের কোনো বিমান বর্তমানে এ রুটে নেই । এরপর প্রতারক রোজীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তখন সে বিভিন্ন ধরনের কথা বলতে থাকেন এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে ২ মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত ঢাকা ও সাইবার ট্র্যাইব্যুনালে ২ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানাযায়, প্রতারক চক্রের গডমাদার উম্মে ফাতেমা রোজী, পিতা-মৃত রাজ্জাক মিয়া, অস্ট্রেলিয়া পাসপোর্ট নং-চঅ ৯৭৪০৩১২ । ও তার মাতা ফরিদা ইয়াসমীন, স্বামী-মৃত রাজ্জাক মিয়া, ছোট ভাই রাকিব হাসান মিতুল, পিতা-মৃত রাজ্জাাক মিয়া,সর্ব সাং-ভারুকাঠী (মিয়া বাড়ী), থানা ও জেলা-ঝালকাঠী। ঢাকার ঠিকানা-প্লট নং-৭৩ (৫ম তলা), রোড নং-৫/২, ব্লক-ডি, দক্ষিন বনশ্রী, থানা-খিলগাঁও , ঢাকা। ১ ও ৩নং প্রতারক বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া অবস্থান করছে।
বিগত ২২/০৩/২০২১ইং ২নং প্রতারক ফরিদা ইয়াসমিন বাদীমোঃ খাইরুল ইসলামের বাসায় আসে এবং বলে যে অস্ট্রেলিয়া সরকার প্রত্যেক সিনিয়র সিটিজেনদেরকে জবষধঃরাব ঝঢ়ড়হংড়ৎ গরমৎধঃরড়হ ঝঁনপষধংং (৮৩৫), চবৎসধহবহঃ জবংরফবহপব ারংধ এর মাধ্যমে ৫টি করে আবেদনের সুযোগ দিয়েছে এবং সাথে সাথে তার মেয়ে ১নং অভিযুক্তকে মোবাইল মেসেঞ্জারের মাধ্যমে কথা বলায় এবং উম্মে ফাতেমা রোজীও একই কথা বলে। প্রতি ভিসার জন্য খরচ হবে ২৩,০০,০০০/- টাকা এখন প্রত্যেক আবেদন বাবদ ৩,০০,০০০/- টাকা দিতে হবে ও পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র তার মেইলে পাঠাতে হবে। উম্মে ফাতেমা রোজী নিজেকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনী হাইকমিশন অফিসের কনস্যূলার জেনারেল হিসাবে কর্মরত আছেন বলে জানায় ২ ও ৩নং প্রতারক। উম্মে ফাতেমা রোজী আরও জানায়, আমার মা অর্থাৎ ফরিদা ইয়াসমীন এর জন্যও আবেদন করেছি। দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্কের কারনে তাদের কথায় বিশ্বাস করে রাজী হয়ে বাদী মোঃ খাইরুল ইসলাম পরিবারের পাসপোর্টসহ ২ ভাইও পরিবার,আতœীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধব মিলে ৩৫ জন ব্যক্তির যাবতীয় কাগজপত্র উম্মে ফাতেমা রোজীর মেইলে প্রেরন করেন। অতঃপর মেইলের মাধ্যমে আবেদন ফাইল নম্বর প্রের, কোভিড-১৯ টেষ্ট রিপোর্ট এর জন্য মেইল প্রেরন, কোভিড রিপোর্ট প্রদান, ইন্টারভিউ এর জন্য মেইল প্রেরন, কোভিড এর কারেনে দোভাষীর মাধ্যমে ফোনে ইন্টারভিউ গ্রহন, মেইলে অস্ট্রেলিয়া ভিসার জন্য ফরম-৪৭, ফরম-২৬ ও মেডিকেয়ার ফরম পাঠায় তা স্বাক্ষর করে পাঠানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এ সকর কার্যক্রম চলাকালে উম্মে ফাতেমা রোজীর পাঠানো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর ২টি একাউন্ট নম্বর পাঠায় যা-(১) আল্লাহর দান গার্মেন্টস, চলতি হিসাব নম্বর-২০৫০১৫৭০১০০৩৯৫২০০ রমনা শাখা, ঢাকা ও (২) মারিয়া আক্তার , সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর-৪৪০৫২ কিশোরগঞ্জ শাখা। উক্ত ২টি এ্যাকাউন্টে বিগত ৩১/০৩/২০২১ ইং হতে ০৮/০৬/২০২১ই তারিখ পর্যন্ত আল্লার দান গার্মেন্টস নামীয় হিসাব নম্বরে ৩২,০৯,৬০০/- টাকা এবং মারিয়া আক্তার নামীয় সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরে ২৬,৭৮,০০০/- টাকা সহ সর্ব মোট ৫৮,৮৭,৬০০/- টাকা ভিসা আবেদন, এয়ার টিকিট ও বাসা ভাড়া বাবদ জমা দেন মোঃ খাইরুল ইসলাম । এছাড়া বাংলাদেশে তাদের টাকার প্রয়োজন হওয়ায় উম্মে ফাতেমা রোজীর নির্দেশনা মোতাবেক ফরিদা ইয়াসমীনকে বিগত ১৫/০৪/২০২১ইং তারিখ নগদ ১০,০০,০০০/-(দশ লক্ষ) ও বিগত ০৪/০৫/২০২১ইং তারিখ নগদ ১০,০০,০০০/-(দশ লক্ষ) সর্ব মোট ২০,০০,০০০/-(কুড়ি লক্ষ) টাকা প্রদান করেন। উম্মে ফাতেমা রোজীকে ভিসা লেবেলের জন্য অনুরোধ করিলে তিনি ২২জন ব্যক্তির জন্য ঠঋঝ এষড়নধষ ইধহমষধফবংয খঃফ এ ভিসা লেবেল পাঠানো হয়েছে বলে জানায় বাকীদেরকে অস্ট্রেলিয়া গিয়ে লাগাতে হবে কারন স্পেশাল বিমান এর ব্যবস্থা হয়েছে যা ২১-৩০শে জুন পর্যন্ত চলবে তাই এত স্বল্প সময়ে ভিসা লেবেল পৌছবে না। মোঃ খাইরুল ইসলামকে বিশ্বাস করানোর জন্য বিগত ০৭/০৪/২০২১ইং তারিখ তার মা ফরিদা ইয়াসমীনের ভিসার অনলাইন কপি পাঠায়। অতঃপর ১৫/০৪/২০২১ইং তারিখ মোঃ খাইরুল ইসলামের ভিসা ও ধাপে ধাপে অন্যান্যদের ভিসা, মেডিকেয়ার কার্ড, হেলথ কেয়ার কার্ড ও বিমানের টিকিট পাঠায়।
বিগত ০৬/০৬/২০২১ইং তারিখ মেইল এর মাধ্যমে ১৪/০৬/২০২১ইং তারিখ ভিসা লেবেল লাগানোর জন্য ঠঋঝ এষড়নধষ ইধহমষধফবংয খঃফ গুলশানে যেতে বলে। অতঃপর ১৩/০৬/২০২১ইং তারিখ পূনরায় মেইলে মাধ্যমে জানায় যে, ১৪/০৬/২০২১ইং তারিখ অস্ট্রেলিয়ার রানীর জন্মদিন উপলক্ষে ঠঋঝ এষড়নধষ ইধহমষধফবংয খঃফ বন্ধ থাকবে তাই ১৭/০৬/২০২১ইং তারিখ যেতে বলে। মোঃ খাইরুল ইসলাম বিগত ১৭/০৬/২০২১ইং তারিখ ঠঋঝ এষড়নধষ ইধহমষধফবংয খঃফ গুলশানে গিয়ে দেখেন উক্ত অফিস বন্ধ।তখন তিনি উম্মে ফাতেমা রোজী ও ফরিদা ইয়াসমীনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন কিন্তু তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তারা মোঃ খাইরুল ইসলামের নম্বর ব্লক করে দেয়। অতঃপর মোঃ খাইরুল ইসলাম বিভিন্ন ভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, উম্মে ফাতেমা রোজী তাদেরকে অস্ট্রেলিয়ার জাল ভিসা, জাল মেডিকেয়ার কাড, জাল হেলথ কেয়ার কার্ড, স্পেশাল ফ্লাইটের কথা বলে ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া বিমানের জাল টিকিট প্রদান করেছে এবং ভিসা লেবেল লাগানোর জন্য ভিএফএস গ্লোবাল বাংলাদেশ লিঃ এর নামে মেইল প্রেরন, ভিএফএস এর অফিসার সেজে মোবাইল করা, অস্ট্রেলিয়ার প্রধান মন্ত্রীর স্বাক্ষর সংযুক্ত করে জাল এ্যাওয়ার্ড তৈরী করে পাঠানো, অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন মন্ত্রীর নামে মেইল খোলে মন্ত্রী সেজে মেইল করা, নিজেদের অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন অফিসের কনস্যূলার জেনারেল, ভিসা অফিসার পরিচয় দিয়ে মেইল করাসহ ভিসা বাবদ নগদ ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর ২টি এ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা জমা নিয়ে তা বিদেশে পাচার করে মানি লন্ডারিং করেছে। বাদী মোঃ খাইরুল ইসলাম এ কিষয়ে বিজ্ঞ মূখ্য মহানগর হাকিম আদালত ঢাকাতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন যা বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে খিলগাঁও থানার মামলা নং-০২ তারিখ-০১/০৭/২০২১ইং ধারা-৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯/৩৪ পেনাল কোড হিসাবে রেকর্ডভূক্ত হয় এবং বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। এছাড়াও কম্পিউটার ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে জালিয়াতি করে আন্তর্জাতিক বার কোড ভিসার উপরে প্রদান করিয়া ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারনা করার জন্য উম্মে ফাতেমা রোজীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২২(২)/২৩(২)/২৪(২)/৩০(৩) ধারা মোতাবেক আরও ১টি মামলা দায়ের করা হয় যা তদন্তাধীন আছে। উম্মে ফাতেমা রোজী প্রতারনা ও জালিয়াতির জন্য যে সব ই-মেইল ব্যবহার করেছে সেগুলো হলো-ঊ-সধরষ ওফ-ঁভৎড়ংু@যড়ঃসধরষ.পড়স,ঊ-সধরষ ওফ-উধারফঊসধরষু১৯৮০@যড়ঃসধরষ.পড়স,ঊ-সধরষ ওফ-ঐরহফঢ়ধষথলধহফঁ@যড়ঃসধরষ.পড়স,ঊ-সধরষ ওফ-গবমধহথরসধঁং৩৪১৫@যড়ঃসধরষ.পড়স
ঊ-সধরষ রফ- গরপযধবষথঅঁংঢ়ধংংঢ়ড়ৎঃ@যড়ঃসধরষ.পড়স,ঊ-সধরষ ওফ-ঔঁষরধ পধড়১৯৭১@যড়ঃসধরষ.পড়স
ঊ-সধরষ ওফ-পড়হংঁষধৎমবহবৎধষথংুফরসসর@যড়ঃসধরষ.পড়স,ঊ-সধরষ ওফ-ধষবী১৯৯৯৯১৯৯০@যড়ঃসধরষ.পড়স,ঊ-সধরষ ওফ-াভংষঃফথফযধশধনফ@যড়ঃসধরষ.পড়স

সর্ব শেষ জানাগেছে, বাদী মোঃ খাইরুল ইসলাম এর মামলাগুলো তুলে নেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বসেই নানা প্রকার অপতৎপরতা চালাচ্ছে উম্মে ফাতেমা রোজী ও তার দোসররা। তারা থানা পুলিশের ওপরও প্রভাব বিস্তার করেছে। বাদী মো: খাইরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সকল সদস্যকে খুন গুম করার হুমকিও দিচ্ছে। ফলে চরম নিরাপত্তাহীন দিন -রাত কাটাচ্ছেন। বাদী মো: খাইরুল ইসলাম এই প্রতারক চক্রের দুষ্টান্তমুলক শাস্তি ও তার পরিবারের জান মালের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:২৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১
৩৩৮ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা দেওয়ার নামে উম্মে ফাতেমা রোজীর কোটি টাকা প্রতারণা

আপডেট সময় ০৪:২৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১

রোস্তম মল্লিক

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা দেওয়ার নামে উম্মে ফাতেমা রোজী নামে এক অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী নারী ভুয়া ভিসা, মেডিকেয়ার/ হেলথ কার্ড এবং ভার্জিন এয়ার লাইন্সের টিকেট প্রদান করে রাজধানীর বনশ্রীর মোঃ খাইরুল ইসলাম নামে এক আইনজীবী ও তার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই প্রতারক রোজীর সাথে ভূক্তভোগীদের দীর্ঘ ১০ বছরের অধিক সময় ধরে পারবারিক সম্পর্ক বিদ্যমান ছিলো। এর এক পর্যায়ে প্রতারক রোজী এদেরকে অস্ট্রেলিয়ান (সাব ক্লাস ৮৩৫) মাইগ্রেশন ভিসা দেওয়ার কথা জানান এবং নিজেকে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ভিসা অফিসার বলে দাবী করেন। প্রথমে প্রতারক রোজীর নিজ মায়ের একটি ভিসার কপি তাদেরকে প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে একের পর এক করে ছয়টি ভিসার কাগজ প্রদান করেন এবং বলেন যে করোনার কারনে অনলাইনে তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ আছে। তাই সকল ডকুমেন্টস ইমেইলের মাধ্যমে আদান প্রদান করতে হবে। বিভিন্ন সময় একাধিক ভূয়া মেইল আইডি থেকে তারা ডকুমেন্টস গুলো প্রদান করতেন এবং এম্বাসিতে মৌখিক ভাইবা দেওয়ার পরিবর্তে ফোনের মাধ্যমে তারা ভাইবা নেন।
এর কিছুদিন পরে যখন ভার্জিন বিমানের ভূয়া টিকেট দেওয়া হয় তখন ভুক্তভোগীরা ভার্জিন এয়ার লাইন্সের হেডকোয়ার্টারে মেইলের মাধ্যমে জানতে পারেন যে তাদের কোনো বিমান বর্তমানে এ রুটে নেই । এরপর প্রতারক রোজীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তখন সে বিভিন্ন ধরনের কথা বলতে থাকেন এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে ২ মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত ঢাকা ও সাইবার ট্র্যাইব্যুনালে ২ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানাযায়, প্রতারক চক্রের গডমাদার উম্মে ফাতেমা রোজী, পিতা-মৃত রাজ্জাক মিয়া, অস্ট্রেলিয়া পাসপোর্ট নং-চঅ ৯৭৪০৩১২ । ও তার মাতা ফরিদা ইয়াসমীন, স্বামী-মৃত রাজ্জাক মিয়া, ছোট ভাই রাকিব হাসান মিতুল, পিতা-মৃত রাজ্জাাক মিয়া,সর্ব সাং-ভারুকাঠী (মিয়া বাড়ী), থানা ও জেলা-ঝালকাঠী। ঢাকার ঠিকানা-প্লট নং-৭৩ (৫ম তলা), রোড নং-৫/২, ব্লক-ডি, দক্ষিন বনশ্রী, থানা-খিলগাঁও , ঢাকা। ১ ও ৩নং প্রতারক বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া অবস্থান করছে।
বিগত ২২/০৩/২০২১ইং ২নং প্রতারক ফরিদা ইয়াসমিন বাদীমোঃ খাইরুল ইসলামের বাসায় আসে এবং বলে যে অস্ট্রেলিয়া সরকার প্রত্যেক সিনিয়র সিটিজেনদেরকে জবষধঃরাব ঝঢ়ড়হংড়ৎ গরমৎধঃরড়হ ঝঁনপষধংং (৮৩৫), চবৎসধহবহঃ জবংরফবহপব ারংধ এর মাধ্যমে ৫টি করে আবেদনের সুযোগ দিয়েছে এবং সাথে সাথে তার মেয়ে ১নং অভিযুক্তকে মোবাইল মেসেঞ্জারের মাধ্যমে কথা বলায় এবং উম্মে ফাতেমা রোজীও একই কথা বলে। প্রতি ভিসার জন্য খরচ হবে ২৩,০০,০০০/- টাকা এখন প্রত্যেক আবেদন বাবদ ৩,০০,০০০/- টাকা দিতে হবে ও পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র তার মেইলে পাঠাতে হবে। উম্মে ফাতেমা রোজী নিজেকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনী হাইকমিশন অফিসের কনস্যূলার জেনারেল হিসাবে কর্মরত আছেন বলে জানায় ২ ও ৩নং প্রতারক। উম্মে ফাতেমা রোজী আরও জানায়, আমার মা অর্থাৎ ফরিদা ইয়াসমীন এর জন্যও আবেদন করেছি। দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্কের কারনে তাদের কথায় বিশ্বাস করে রাজী হয়ে বাদী মোঃ খাইরুল ইসলাম পরিবারের পাসপোর্টসহ ২ ভাইও পরিবার,আতœীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধব মিলে ৩৫ জন ব্যক্তির যাবতীয় কাগজপত্র উম্মে ফাতেমা রোজীর মেইলে প্রেরন করেন। অতঃপর মেইলের মাধ্যমে আবেদন ফাইল নম্বর প্রের, কোভিড-১৯ টেষ্ট রিপোর্ট এর জন্য মেইল প্রেরন, কোভিড রিপোর্ট প্রদান, ইন্টারভিউ এর জন্য মেইল প্রেরন, কোভিড এর কারেনে দোভাষীর মাধ্যমে ফোনে ইন্টারভিউ গ্রহন, মেইলে অস্ট্রেলিয়া ভিসার জন্য ফরম-৪৭, ফরম-২৬ ও মেডিকেয়ার ফরম পাঠায় তা স্বাক্ষর করে পাঠানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এ সকর কার্যক্রম চলাকালে উম্মে ফাতেমা রোজীর পাঠানো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর ২টি একাউন্ট নম্বর পাঠায় যা-(১) আল্লাহর দান গার্মেন্টস, চলতি হিসাব নম্বর-২০৫০১৫৭০১০০৩৯৫২০০ রমনা শাখা, ঢাকা ও (২) মারিয়া আক্তার , সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর-৪৪০৫২ কিশোরগঞ্জ শাখা। উক্ত ২টি এ্যাকাউন্টে বিগত ৩১/০৩/২০২১ ইং হতে ০৮/০৬/২০২১ই তারিখ পর্যন্ত আল্লার দান গার্মেন্টস নামীয় হিসাব নম্বরে ৩২,০৯,৬০০/- টাকা এবং মারিয়া আক্তার নামীয় সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরে ২৬,৭৮,০০০/- টাকা সহ সর্ব মোট ৫৮,৮৭,৬০০/- টাকা ভিসা আবেদন, এয়ার টিকিট ও বাসা ভাড়া বাবদ জমা দেন মোঃ খাইরুল ইসলাম । এছাড়া বাংলাদেশে তাদের টাকার প্রয়োজন হওয়ায় উম্মে ফাতেমা রোজীর নির্দেশনা মোতাবেক ফরিদা ইয়াসমীনকে বিগত ১৫/০৪/২০২১ইং তারিখ নগদ ১০,০০,০০০/-(দশ লক্ষ) ও বিগত ০৪/০৫/২০২১ইং তারিখ নগদ ১০,০০,০০০/-(দশ লক্ষ) সর্ব মোট ২০,০০,০০০/-(কুড়ি লক্ষ) টাকা প্রদান করেন। উম্মে ফাতেমা রোজীকে ভিসা লেবেলের জন্য অনুরোধ করিলে তিনি ২২জন ব্যক্তির জন্য ঠঋঝ এষড়নধষ ইধহমষধফবংয খঃফ এ ভিসা লেবেল পাঠানো হয়েছে বলে জানায় বাকীদেরকে অস্ট্রেলিয়া গিয়ে লাগাতে হবে কারন স্পেশাল বিমান এর ব্যবস্থা হয়েছে যা ২১-৩০শে জুন পর্যন্ত চলবে তাই এত স্বল্প সময়ে ভিসা লেবেল পৌছবে না। মোঃ খাইরুল ইসলামকে বিশ্বাস করানোর জন্য বিগত ০৭/০৪/২০২১ইং তারিখ তার মা ফরিদা ইয়াসমীনের ভিসার অনলাইন কপি পাঠায়। অতঃপর ১৫/০৪/২০২১ইং তারিখ মোঃ খাইরুল ইসলামের ভিসা ও ধাপে ধাপে অন্যান্যদের ভিসা, মেডিকেয়ার কার্ড, হেলথ কেয়ার কার্ড ও বিমানের টিকিট পাঠায়।
বিগত ০৬/০৬/২০২১ইং তারিখ মেইল এর মাধ্যমে ১৪/০৬/২০২১ইং তারিখ ভিসা লেবেল লাগানোর জন্য ঠঋঝ এষড়নধষ ইধহমষধফবংয খঃফ গুলশানে যেতে বলে। অতঃপর ১৩/০৬/২০২১ইং তারিখ পূনরায় মেইলে মাধ্যমে জানায় যে, ১৪/০৬/২০২১ইং তারিখ অস্ট্রেলিয়ার রানীর জন্মদিন উপলক্ষে ঠঋঝ এষড়নধষ ইধহমষধফবংয খঃফ বন্ধ থাকবে তাই ১৭/০৬/২০২১ইং তারিখ যেতে বলে। মোঃ খাইরুল ইসলাম বিগত ১৭/০৬/২০২১ইং তারিখ ঠঋঝ এষড়নধষ ইধহমষধফবংয খঃফ গুলশানে গিয়ে দেখেন উক্ত অফিস বন্ধ।তখন তিনি উম্মে ফাতেমা রোজী ও ফরিদা ইয়াসমীনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন কিন্তু তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তারা মোঃ খাইরুল ইসলামের নম্বর ব্লক করে দেয়। অতঃপর মোঃ খাইরুল ইসলাম বিভিন্ন ভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, উম্মে ফাতেমা রোজী তাদেরকে অস্ট্রেলিয়ার জাল ভিসা, জাল মেডিকেয়ার কাড, জাল হেলথ কেয়ার কার্ড, স্পেশাল ফ্লাইটের কথা বলে ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া বিমানের জাল টিকিট প্রদান করেছে এবং ভিসা লেবেল লাগানোর জন্য ভিএফএস গ্লোবাল বাংলাদেশ লিঃ এর নামে মেইল প্রেরন, ভিএফএস এর অফিসার সেজে মোবাইল করা, অস্ট্রেলিয়ার প্রধান মন্ত্রীর স্বাক্ষর সংযুক্ত করে জাল এ্যাওয়ার্ড তৈরী করে পাঠানো, অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন মন্ত্রীর নামে মেইল খোলে মন্ত্রী সেজে মেইল করা, নিজেদের অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন অফিসের কনস্যূলার জেনারেল, ভিসা অফিসার পরিচয় দিয়ে মেইল করাসহ ভিসা বাবদ নগদ ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর ২টি এ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা জমা নিয়ে তা বিদেশে পাচার করে মানি লন্ডারিং করেছে। বাদী মোঃ খাইরুল ইসলাম এ কিষয়ে বিজ্ঞ মূখ্য মহানগর হাকিম আদালত ঢাকাতে পিটিশন মামলা দায়ের করেন যা বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে খিলগাঁও থানার মামলা নং-০২ তারিখ-০১/০৭/২০২১ইং ধারা-৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯/৩৪ পেনাল কোড হিসাবে রেকর্ডভূক্ত হয় এবং বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। এছাড়াও কম্পিউটার ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে জালিয়াতি করে আন্তর্জাতিক বার কোড ভিসার উপরে প্রদান করিয়া ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারনা করার জন্য উম্মে ফাতেমা রোজীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২২(২)/২৩(২)/২৪(২)/৩০(৩) ধারা মোতাবেক আরও ১টি মামলা দায়ের করা হয় যা তদন্তাধীন আছে। উম্মে ফাতেমা রোজী প্রতারনা ও জালিয়াতির জন্য যে সব ই-মেইল ব্যবহার করেছে সেগুলো হলো-ঊ-সধরষ ওফ-ঁভৎড়ংু@যড়ঃসধরষ.পড়স,ঊ-সধরষ ওফ-উধারফঊসধরষু১৯৮০@যড়ঃসধরষ.পড়স,ঊ-সধরষ ওফ-ঐরহফঢ়ধষথলধহফঁ@যড়ঃসধরষ.পড়স,ঊ-সধরষ ওফ-গবমধহথরসধঁং৩৪১৫@যড়ঃসধরষ.পড়স
ঊ-সধরষ রফ- গরপযধবষথঅঁংঢ়ধংংঢ়ড়ৎঃ@যড়ঃসধরষ.পড়স,ঊ-সধরষ ওফ-ঔঁষরধ পধড়১৯৭১@যড়ঃসধরষ.পড়স
ঊ-সধরষ ওফ-পড়হংঁষধৎমবহবৎধষথংুফরসসর@যড়ঃসধরষ.পড়স,ঊ-সধরষ ওফ-ধষবী১৯৯৯৯১৯৯০@যড়ঃসধরষ.পড়স,ঊ-সধরষ ওফ-াভংষঃফথফযধশধনফ@যড়ঃসধরষ.পড়স

সর্ব শেষ জানাগেছে, বাদী মোঃ খাইরুল ইসলাম এর মামলাগুলো তুলে নেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বসেই নানা প্রকার অপতৎপরতা চালাচ্ছে উম্মে ফাতেমা রোজী ও তার দোসররা। তারা থানা পুলিশের ওপরও প্রভাব বিস্তার করেছে। বাদী মো: খাইরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সকল সদস্যকে খুন গুম করার হুমকিও দিচ্ছে। ফলে চরম নিরাপত্তাহীন দিন -রাত কাটাচ্ছেন। বাদী মো: খাইরুল ইসলাম এই প্রতারক চক্রের দুষ্টান্তমুলক শাস্তি ও তার পরিবারের জান মালের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির কাছে আবেদন জানিয়েছেন।