১১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা থেকে সিটি কর্পোরেশনের বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা !

প্রতিনিধির নাম:

 

বিশেষ প্রতিবেদক

অবাক হচ্ছেন ? ঘটনা কিন্তু একদম সত্যি। দাউদ হোসেন, ২৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা।শিক্ষা ক্যাডারের বেনিফিসিয়ারি কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন তিনি। ২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর যশোর সরকারি সিটি কলেজে প্রথম পদায়ন হয় । দেড় বছরের মাথায় মাউশির সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন পান সহকারি পরিচালক (কলেজ -২ )এর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আবুল বাশারের অধীনে। সেখান থেকে তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রীর একান্ত সচিব মন্মথ রন্জন বাড়ৈ এর হাত ধরে নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরে। এরইমধ্যে পদোন্নতি পাওয়ায় টাঙ্গাইল সরকারি কুমুদিনী কলেজে পদায়ন হয় তার। কিন্তু দুই বছরে তিনদিনও কলেজ যেতে হয়নি তাকে। কারণ- বাড়ৈ এর আর্শীবাদ ছিল তার উপর। এ ব্যাপারে সে সময়ে পত্র পত্রিকায় যথেষ্ট লেখালেখি হওয়ায় তাকে নড়িয়া সরকারি কলেজ, সেখান থেকে গৌরিপুর মুন্সি ফজলুর রহমান কলেজ, কুমিল্লা। ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগ সরকার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এপিএস। সেখান থেকে একই প্রতিমন্ত্রী তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে তিনি তথ্য প্রতিমন্ত্রীর এপিএস হিসেবে পদায়ন পান। ১০ মাসের মত এপিএস থাকার পর তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন যে, ছাত্র জীবনে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সে বিএনপি জামাতের সময়ে ছাত্রদলের এফ রহমান হলের ক্যাডার ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে ভোলপাল্টিয়ে তিনি ছাত্রলীগে যোগ দেন। এ কথা জানার পর হাইব্রীড এ ক্যাডারকে তিনি তার মন্ত্রণালয় থেকে বের করে দেন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করে উপপরিচালক, জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটে বদলীর আদেশ হয়। কিন্তু পদবীর তথ্য গোপন করে বদলী হওয়ায় সেখানে তিনি যোগ দিতে পারেননি। অবশেষে গত ১২ আগস্ট ২০২০ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জানাযায় যে, তিনি শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন। পদায়নের আদেশ দেখেই বোঝা যায় তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে। যেনতেন ভাবে টাকা উপার্জনই তার মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য যে.নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরে থাকাকালীন সময়ে তিনি বিপুল টাকার মালিক হন। একং চাকরির মাত্র ৪ বছরে তিনি রাজধানীর কাজী পাড়ায় ডুপ্লেক্স বাড়ি, এলিয়ন গাড়িসহ নামে বেনামে বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর সম্পত্তির মালিক হন।
এই কর্মকর্তা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে পদায়ন পেয়েছেন এ খবর শোনামাত্রই নগর ভবনে মিশ্্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এমন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যদি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে আসীন হন তবে মেয়র শেখ তাপস দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন তা বাধাগ্রস্থ হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০
২১৪ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা থেকে সিটি কর্পোরেশনের বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা !

আপডেট সময় ০৫:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

 

বিশেষ প্রতিবেদক

অবাক হচ্ছেন ? ঘটনা কিন্তু একদম সত্যি। দাউদ হোসেন, ২৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা।শিক্ষা ক্যাডারের বেনিফিসিয়ারি কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন তিনি। ২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর যশোর সরকারি সিটি কলেজে প্রথম পদায়ন হয় । দেড় বছরের মাথায় মাউশির সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন পান সহকারি পরিচালক (কলেজ -২ )এর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আবুল বাশারের অধীনে। সেখান থেকে তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রীর একান্ত সচিব মন্মথ রন্জন বাড়ৈ এর হাত ধরে নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরে। এরইমধ্যে পদোন্নতি পাওয়ায় টাঙ্গাইল সরকারি কুমুদিনী কলেজে পদায়ন হয় তার। কিন্তু দুই বছরে তিনদিনও কলেজ যেতে হয়নি তাকে। কারণ- বাড়ৈ এর আর্শীবাদ ছিল তার উপর। এ ব্যাপারে সে সময়ে পত্র পত্রিকায় যথেষ্ট লেখালেখি হওয়ায় তাকে নড়িয়া সরকারি কলেজ, সেখান থেকে গৌরিপুর মুন্সি ফজলুর রহমান কলেজ, কুমিল্লা। ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগ সরকার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এপিএস। সেখান থেকে একই প্রতিমন্ত্রী তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে তিনি তথ্য প্রতিমন্ত্রীর এপিএস হিসেবে পদায়ন পান। ১০ মাসের মত এপিএস থাকার পর তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন যে, ছাত্র জীবনে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সে বিএনপি জামাতের সময়ে ছাত্রদলের এফ রহমান হলের ক্যাডার ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে ভোলপাল্টিয়ে তিনি ছাত্রলীগে যোগ দেন। এ কথা জানার পর হাইব্রীড এ ক্যাডারকে তিনি তার মন্ত্রণালয় থেকে বের করে দেন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করে উপপরিচালক, জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটে বদলীর আদেশ হয়। কিন্তু পদবীর তথ্য গোপন করে বদলী হওয়ায় সেখানে তিনি যোগ দিতে পারেননি। অবশেষে গত ১২ আগস্ট ২০২০ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জানাযায় যে, তিনি শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন। পদায়নের আদেশ দেখেই বোঝা যায় তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে। যেনতেন ভাবে টাকা উপার্জনই তার মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য যে.নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরে থাকাকালীন সময়ে তিনি বিপুল টাকার মালিক হন। একং চাকরির মাত্র ৪ বছরে তিনি রাজধানীর কাজী পাড়ায় ডুপ্লেক্স বাড়ি, এলিয়ন গাড়িসহ নামে বেনামে বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর সম্পত্তির মালিক হন।
এই কর্মকর্তা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে পদায়ন পেয়েছেন এ খবর শোনামাত্রই নগর ভবনে মিশ্্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এমন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যদি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে আসীন হন তবে মেয়র শেখ তাপস দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন তা বাধাগ্রস্থ হবে।