০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিসিকে বিধিবিধান ভংগ করে ১৬ পদে কর্মকর্তা নিয়োগ: ভুঁইফোড় কোম্পানীর অভিজ্ঞতা সনদে নিয়োগ পেলেন ১০ ডিএম!

প্রতিনিধির নাম:

 

রোস্তম মল্লিক:

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প করপোরেশন ( বিসিক) এ বিধি বিধান ভংগ করে রাতের আঁধারে ১৬ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগে কোটি টাকার গোপন লেন দেন হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন একটি পক্ষ।
অভিযোগ অনুসন্ধানে জানাগেছে, গত ২০১৯ সালের ২১ আগষ্ট বিসিকের মহাব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক পরিচালক, ,প্রধান নকশাবিদ, উপনিয়ন্ত্রক, উপপ্রধান প্রকৌশলী, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা,ডিএমসহ অন্যান্য শুন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। পরবতীর্তে তাদের লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা গ্রহন করা হলেও নিয়োগ ঝুলিয়ে রাখা হয়। এই সুযোগে একটি চক্র প্রার্থীদের সাথে নিয়োগ দানের শর্তে চেয়ারম্যানের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।
হঠাৎ করে গত ২৭ আগষ্ট ২০২০ বিসিকের অফিস আদেশ স্মারক নং ৩৬.০২.০০০০.০০১.১১.০১৩.১৯/১৩৯৫ মোতাবেক ১৬ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। নিয়োগকৃত পদের মধ্যে রয়েছে ,সহকারী নিয়ন্ত্রক ১জন, বিশেষজ্ঞ ৩জন, উপব্যবস্থাপক ১২ জন।
এই নিয়োগ কর্মটি এতটাই গোপনে সমাধা করা হয়েছে যে, সেটি বিসিক কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে অথবা বিসিকের ওয়েব সাইটেও প্রদর্শন করা হয়নি। এই নিয়োগে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে তা অনুসন্ধানে জানাগেছে, ২১ আগষ্ট ২০১৯ তারিখের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সার্কুলারে প্রচারিত শর্তসমূহ পালন করা হয়নি। যেমন,উপ-ব্যবস্থাপক ( ১ম শ্রেণীর অফিসার ) পদে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বলে বলা আছে। অথচ ওই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৩ জনের মধ্যে ১০ জনেরই বাস্তবিক সেই অভিজ্ঞতা নেই । তারা বেসরকারী -ভূঁইফোড় কিছূ প্রতিষ্ঠান থেকে অভিজ্ঞতা (১ম শ্রেণীর কর্মকর্তার) সনদ এনে জমা দিয়েছেন। আর সেসব সনদ ও প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে কোনরুপ খোঁজখবর না নিয়ে বা সনদগুলো যাচাই বাছাই না করেই তাদের নিয়োগ দান করা হয়েছে। তারা যেসব অভিজ্ঞতা সনদ জমা দিয়েছেন তা উক্ত পদের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। তাদের এসব সনদ পুণ: যাচাই বাছাই করলেই সেটি প্রমাণিত হবে।
অপরদিকে গত ২৪ মার্চ ২০২০ ইং তারিখে বিসিক স্মারক নং ৩৬.০২.০০০০.০০৩.০১.০০৩.১৯/৬৯৮ মোতাবেক মহাব্যবস্থাপক পদে অখিল রঞ্জন তরফদারকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এই নিয়োগেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের বত্যয় ঘটানো হয়েছে। ২১ আগষ্ট ২০১৯ তারিখের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সার্কুলারে প্রচারিত শর্তে বলা আছে যে, মহাব্যবস্থাপক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে উপমহাব্যবস্থাপক অথবা তৎসম পদে ৪ বছরের অভিজ্ঞতাসহ কোন সরকারী,আধা সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত,আধা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা কাজে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু দেখা গেছে নিয়োগ পাওয়া অখিল রঞ্জন তরফদারের সেই অভিজ্ঞতা নেই। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের এজিএম ছিলেন মাত্র। এক্ষেত্রেও অনিয়ম,দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মাদ আব্দুস ছালাম বলেন, বিধি -বিধিান অনুস্মরণ করেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ অর্থ লেন দেনের কোন সুযোগ নেই। যারা এসব কথা ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিধি বিধান ভংগকরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দেওয়া এই নিয়োগ বাতিল ও নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শিল্প মন্ত্রী, শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও শিল্প সচিবের পদক্ষেপ কামনা করেছেন বিসিকের দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০
১৮৩ বার পড়া হয়েছে

বিসিকে বিধিবিধান ভংগ করে ১৬ পদে কর্মকর্তা নিয়োগ: ভুঁইফোড় কোম্পানীর অভিজ্ঞতা সনদে নিয়োগ পেলেন ১০ ডিএম!

আপডেট সময় ০৫:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

 

রোস্তম মল্লিক:

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প করপোরেশন ( বিসিক) এ বিধি বিধান ভংগ করে রাতের আঁধারে ১৬ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগে কোটি টাকার গোপন লেন দেন হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন একটি পক্ষ।
অভিযোগ অনুসন্ধানে জানাগেছে, গত ২০১৯ সালের ২১ আগষ্ট বিসিকের মহাব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক পরিচালক, ,প্রধান নকশাবিদ, উপনিয়ন্ত্রক, উপপ্রধান প্রকৌশলী, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা,ডিএমসহ অন্যান্য শুন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। পরবতীর্তে তাদের লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা গ্রহন করা হলেও নিয়োগ ঝুলিয়ে রাখা হয়। এই সুযোগে একটি চক্র প্রার্থীদের সাথে নিয়োগ দানের শর্তে চেয়ারম্যানের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।
হঠাৎ করে গত ২৭ আগষ্ট ২০২০ বিসিকের অফিস আদেশ স্মারক নং ৩৬.০২.০০০০.০০১.১১.০১৩.১৯/১৩৯৫ মোতাবেক ১৬ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। নিয়োগকৃত পদের মধ্যে রয়েছে ,সহকারী নিয়ন্ত্রক ১জন, বিশেষজ্ঞ ৩জন, উপব্যবস্থাপক ১২ জন।
এই নিয়োগ কর্মটি এতটাই গোপনে সমাধা করা হয়েছে যে, সেটি বিসিক কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে অথবা বিসিকের ওয়েব সাইটেও প্রদর্শন করা হয়নি। এই নিয়োগে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে তা অনুসন্ধানে জানাগেছে, ২১ আগষ্ট ২০১৯ তারিখের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সার্কুলারে প্রচারিত শর্তসমূহ পালন করা হয়নি। যেমন,উপ-ব্যবস্থাপক ( ১ম শ্রেণীর অফিসার ) পদে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বলে বলা আছে। অথচ ওই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৩ জনের মধ্যে ১০ জনেরই বাস্তবিক সেই অভিজ্ঞতা নেই । তারা বেসরকারী -ভূঁইফোড় কিছূ প্রতিষ্ঠান থেকে অভিজ্ঞতা (১ম শ্রেণীর কর্মকর্তার) সনদ এনে জমা দিয়েছেন। আর সেসব সনদ ও প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে কোনরুপ খোঁজখবর না নিয়ে বা সনদগুলো যাচাই বাছাই না করেই তাদের নিয়োগ দান করা হয়েছে। তারা যেসব অভিজ্ঞতা সনদ জমা দিয়েছেন তা উক্ত পদের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। তাদের এসব সনদ পুণ: যাচাই বাছাই করলেই সেটি প্রমাণিত হবে।
অপরদিকে গত ২৪ মার্চ ২০২০ ইং তারিখে বিসিক স্মারক নং ৩৬.০২.০০০০.০০৩.০১.০০৩.১৯/৬৯৮ মোতাবেক মহাব্যবস্থাপক পদে অখিল রঞ্জন তরফদারকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এই নিয়োগেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের বত্যয় ঘটানো হয়েছে। ২১ আগষ্ট ২০১৯ তারিখের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সার্কুলারে প্রচারিত শর্তে বলা আছে যে, মহাব্যবস্থাপক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে উপমহাব্যবস্থাপক অথবা তৎসম পদে ৪ বছরের অভিজ্ঞতাসহ কোন সরকারী,আধা সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত,আধা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা কাজে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু দেখা গেছে নিয়োগ পাওয়া অখিল রঞ্জন তরফদারের সেই অভিজ্ঞতা নেই। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের এজিএম ছিলেন মাত্র। এক্ষেত্রেও অনিয়ম,দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মাদ আব্দুস ছালাম বলেন, বিধি -বিধিান অনুস্মরণ করেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ অর্থ লেন দেনের কোন সুযোগ নেই। যারা এসব কথা ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিধি বিধান ভংগকরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দেওয়া এই নিয়োগ বাতিল ও নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শিল্প মন্ত্রী, শিল্প প্রতিমন্ত্রী ও শিল্প সচিবের পদক্ষেপ কামনা করেছেন বিসিকের দেশ প্রেমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।