০৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে শিক্ষা সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে সরকারী চাকুরী লাভ!

প্রতিনিধির নাম:

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীতে শিক্ষা সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে সরকারী চাকুরী লাভের অভিযোগ পাওয়াগেছে। গত ২৪/০৯/২০১২ইং তারিখে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন’র কার্যালয় এর স্বারক নং সিএস/পটুয়া/৩য়-৪র্থ শ্রেণীর একটি নিয়োগপত্র ২০১২/১৯৩১ এর আদেশে সুপারিশকৃত নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীর নাম মোঃ আবুল কালাম, পিতাঃ মোসলেম শিকদার, মাতাঃ মোসাঃ নুরজাহান, স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রামঃ ভাজনা কদমতলা, পোঃ মির্জাগঞ্জ, উপজেলাঃ মির্জাগঞ্জ, জেলাঃ পটুয়াখালী। পদবীঃ এমএলএসএস, যোগদানকৃত অফিস: উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্স মির্জাগঞ্জ পটুয়াখালী। বর্তমান কর্মস্থানঃ অফিস সহায়ক চালিতাবুনিয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী।
তার নিয়োগ পত্র সংক্রান্ত কাগজপত্র যাছাই করে দেখা যায়, জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেছেন। তার নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন দরগাহ শরীফ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৯০ সালে মাধ্যমিক স্কুল সাটির্ফিকেট পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ হতে ১৯৮৮-৮৯ শিক্ষা বর্ষে ১৯৯০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হন। তখন তার টেবুলেশন সিটে জন্ম তারিখ দেওয়া আছে: ৩১/০৬/১৯৭৫ ইং। অত:পর তিনি ঢাকা গিয়ে গার্মেন্টেসে চাকুরী করেন। ২০১২ সালে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসে এমএলএসএস পদে কর্মরত তার শশুর এর মাধ্যমে আবুল কালাম এর জাল কাগজপত্র তৈরী করে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন।
সরকারী চাকুরীতে যোগদানের আগে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ লেখা আছে: ১৯৭৯ ইং । সেই জাতীয় পরিচয় পত্র গোপন করে নতুন করে ০৫/০২/১৯৮৩ ইং সালের ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে অপর একটি জাতীয় পরিচয় তৈরী করেন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সনের এস.এস.সি পরীক্ষার ফেল করার ব্যক্তি ১৯৯৭ সালে ৮ম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখাইয়া পূর্ব মির্জাগঞ্জ এস.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ৮ম শ্রেণীর একটি জাল সাটির্ফিকেট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে তার জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে ০৫/০২/১৯৮৩ইং তারিখ। এই জাল সাটির্ফিকেট দিয়ে তিনি আবুল কালাম সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন।
এখানেই তিনি থেমে থাকেন নি। তিনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ এর একটি অনলাইন কপিতে দেখা যায় জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৯১৪০১৪৬০৫২ পিন নম্বরঃ-১৯৭৯২৬৯৭৪০৮৮৬২৫১২ শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক জন্মস্থান ঢাকা। জাল জালিয়াতি করার অপর একটি জন্ম নিবন্ধন কপিতে দেখা যায় তার জন্ম ০৫/০২/১৯৮৩ইং জন্ম নিবন্ধন নম্বর: ১৯৮৩৭৮১৭৬৮১১০০৪৭১। এসব ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করেছেন শুধু সরকারী চাকুরী পেতে।
এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ স্বাস্থ্যমন্ত্রী,স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক,পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:০৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
১৯৫ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীতে শিক্ষা সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে সরকারী চাকুরী লাভ!

আপডেট সময় ০৮:০৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীতে শিক্ষা সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে সরকারী চাকুরী লাভের অভিযোগ পাওয়াগেছে। গত ২৪/০৯/২০১২ইং তারিখে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন’র কার্যালয় এর স্বারক নং সিএস/পটুয়া/৩য়-৪র্থ শ্রেণীর একটি নিয়োগপত্র ২০১২/১৯৩১ এর আদেশে সুপারিশকৃত নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীর নাম মোঃ আবুল কালাম, পিতাঃ মোসলেম শিকদার, মাতাঃ মোসাঃ নুরজাহান, স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রামঃ ভাজনা কদমতলা, পোঃ মির্জাগঞ্জ, উপজেলাঃ মির্জাগঞ্জ, জেলাঃ পটুয়াখালী। পদবীঃ এমএলএসএস, যোগদানকৃত অফিস: উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্স মির্জাগঞ্জ পটুয়াখালী। বর্তমান কর্মস্থানঃ অফিস সহায়ক চালিতাবুনিয়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী।
তার নিয়োগ পত্র সংক্রান্ত কাগজপত্র যাছাই করে দেখা যায়, জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেছেন। তার নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন দরগাহ শরীফ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৯০ সালে মাধ্যমিক স্কুল সাটির্ফিকেট পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ হতে ১৯৮৮-৮৯ শিক্ষা বর্ষে ১৯৯০ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হন। তখন তার টেবুলেশন সিটে জন্ম তারিখ দেওয়া আছে: ৩১/০৬/১৯৭৫ ইং। অত:পর তিনি ঢাকা গিয়ে গার্মেন্টেসে চাকুরী করেন। ২০১২ সালে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন অফিসে এমএলএসএস পদে কর্মরত তার শশুর এর মাধ্যমে আবুল কালাম এর জাল কাগজপত্র তৈরী করে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন।
সরকারী চাকুরীতে যোগদানের আগে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ লেখা আছে: ১৯৭৯ ইং । সেই জাতীয় পরিচয় পত্র গোপন করে নতুন করে ০৫/০২/১৯৮৩ ইং সালের ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে অপর একটি জাতীয় পরিচয় তৈরী করেন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সনের এস.এস.সি পরীক্ষার ফেল করার ব্যক্তি ১৯৯৭ সালে ৮ম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখাইয়া পূর্ব মির্জাগঞ্জ এস.এম. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ৮ম শ্রেণীর একটি জাল সাটির্ফিকেট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে তার জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে ০৫/০২/১৯৮৩ইং তারিখ। এই জাল সাটির্ফিকেট দিয়ে তিনি আবুল কালাম সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেন।
এখানেই তিনি থেমে থাকেন নি। তিনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ এর একটি অনলাইন কপিতে দেখা যায় জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৯১৪০১৪৬০৫২ পিন নম্বরঃ-১৯৭৯২৬৯৭৪০৮৮৬২৫১২ শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক জন্মস্থান ঢাকা। জাল জালিয়াতি করার অপর একটি জন্ম নিবন্ধন কপিতে দেখা যায় তার জন্ম ০৫/০২/১৯৮৩ইং জন্ম নিবন্ধন নম্বর: ১৯৮৩৭৮১৭৬৮১১০০৪৭১। এসব ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করেছেন শুধু সরকারী চাকুরী পেতে।
এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ স্বাস্থ্যমন্ত্রী,স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক,পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে।