১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠিতে জি এস জাকিরের ত্রাসের রাজত্ব!

প্রতিনিধির নাম:

 

ঝালকাঠির মূর্তিমান এক আতংকের নাম জি এস জাকির। তার নাম শুনলেই এখন কন্ঠ শুকিয়ে যায় সাধারন মানুষের। ভয়ে কেঁপে ওঠে শহর, নগর,জনপদ। শাসক দলের গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে না থাকলেও তার ক্ষমতা অসীম। কালো টাকা আর বিত্ত্বের পাহাড়ে তার বসবাস। শহর নিয়ন্ত্রণের জন্য গড়ে তুলেছেন জি এস বাহিনী ও কিশোর গ্যাং। তারা অবৈধ অস্ত্র নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি লাখ টাকার বাইক হাঁকিয়ে চষে বেড়ায় ঝালকাঠি শহর। মাদক ব্যবসা,বালি ব্যবসা, টেন্ডারবাজী, ঠিকাদারী , কলেজের সামনে সরকারী জমিতে মাকের্ট তুলে ভাড়া আদায়, ম্যাজিক গাড়ীর রুট পারমিট প্রদান,টেম্পু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজী করে জিরো থেকে হিরো বনেগেছেন তিনি। সর্বশেষ বনেগেছেন পৌর কাউন্সিলর। এক কথায় ঝালকাঠিতে এখন তার ত্রাসের রাজত্ব চলছে।
এলাকাবাসী এ বিষয়টি বহুবার জানিয়েছেন এলাকার সংসদ সদস্য,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ,পৌর মেয়র ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। কিন্ত জি এস জাকিরের লোমটিও স্পর্শ করতে পারেন নি তারা। আর পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনতো তার কাছে নস্যিমাত্র। তাহলে তার ক্ষমতার উৎস কোথায় ? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজেও মিলছে না কোন সমাধান।
ঝালকাঠি নালিশী আদালতে রিফাত হাসান রুবেল এর দায়েরকৃত একটি মামলার বিবরণে জানা যায়, গত কুরবানী ঈদের দিনে জি এস জাকির তার বেআইনী অস্ত্রধারী বাহিনী নিয়ে ঝালকাঠির সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মরহুম বেলায়েত হোসেনের বাড়ীতে হামলা চারিয়ে ব্যাপক ভাংচুর,বোমাবাজী ও বাড়ীর সদস্যদের মারপিট করে গুরুতর জখম করেন। তিনি নিজে কোমর থেকে পিস্তল বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করেন।
বিগত পৌরসভা নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ না করায় এই হামলা চালানো হয়। এই হামলায় সাবেক পৌর চেয়ারম্যানের সন্তানরা গুরুতর আহত হন। এ বিষয়ে ঝালকাঠি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানার ওসি মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বলেন, জি এস জাকির বা তার কোন লোকর বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার গ্রীন সিগন্যাল তাদের কাছে নেই। ফলে থানা থেকে ফিরে আসেন ক্ষতিগ্রস্থরা। পরবর্তীতে তারা এ বিষয়ে ঝালকাঠি নালিশী আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি গ্রহন করেন এবং তদন্ত করে প্রতিবেদন দানের জন্য ঝালকাটি পিবিআইকে আদেশ দেন। মামলা নং দ্রুত বিচার ১৩/২২ তারিখ ১৪/০৭/২০২২ইং। ধারা-দ্রুত বিচার আইন ২০০২ এর (২) ই (৬)৩৩ সহ বিস্ফোরক দ্রব্যদি আইন ১৯০৮ এর ৩/৬ আইন। এ মামলা দায়েরের পর জি এস জাকির আরো ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে স্বপরিবারে হত্যা করার হুমকি দিয়ে চলেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী সুত্রে আরো জানাগেছে, জি এস জাকির কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পুর্বে এলাকায় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসাবে কাজ করতেন। কলেজে জি এস থাকাকালে এলাকায় তার প্রভাব সৃষ্টি হয়। এরপর এই এলাকার জনগনের মাথার মুকুট জননেতা ,সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নাম ভাংগিয়ে স্বঘোষিত রাজনৈতিক নেতা বনে যান। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তার। এরপর ঝালকাঠি শহরের গোটা এলাকা তার হাতের মুঠিতে চলে আসে।
এলাকাবাসী জি এস জাকিরের বিরুদ্ধে বর্তমানে যে সব অভিযোগ জোর তদন্তের দাবী তুলেছেন সেগুলো হলো: জি এস বাহিনী ও কিশোর গ্যাং বাহিনী লালন পালন, মাদক বাণিজ্য, হিন্দুদের জমি দখল , অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার, বেশুমার চাদাবাজী, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে কমিশন আদায়, বালি বাণিজ্যে একক নিয়ন্ত্রণ, সরকারি কলেজের সামনে মার্কেট তুলে ভাড়া আদায়, ম্যাজিক গাড়ীর রুট পারমিট বাণিজ্য, টেম্পু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজী ইত্যাদি।
তিনি কত সম্পদের মালিক?
একাধিক সুত্রমতে জি এস জাকির এখন কম করে হলেও শত কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক। অর এসব সম্পদ ও টাকার বৈধ কোন আয়ের উৎস নেই। তিনি এলাকার অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল করে আগলপয়সা ভিকনায় একটি ইট ভাটা প্রতিষ্ঠা করেছেন যার ৭৫% জমিই জবরদখল করা। এই ইট ভাটার নাম (এম আর ভি) । এই ভাটার বর্তমান মূল্য ১০ কোটি টাকার কম নয়। এ ছাড়া নামে বেনামে আরো অগাধ সম্পদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স রয়েছে। বিগত পৌর নির্বাচনে তিনি ৩ কোটি টাকা খরচ করেন বলে প্রচার আছে। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলেই তার থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।
এ সব বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তারা আমার অনেক পুরানো শক্রু। আমি তাদের প্রতিহিংসার শিকার।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগিরা অনতিবিলম্বে এই জিএস জাকিরকে গ্রেফতার করে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সহযোগী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অবৈধ পথে অর্জিত সম্পদের হিসাব নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী , আইজিপি, র‌্যাব এর মহাপরিচালক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের পদক্ষেপ কামনা করেছেন। (আগামী পর্বে পড়–ন তার জমি দখল, হামলা-মামলা ও অতীত অপকর্ম কাহিনী।)

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৩৪:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ জুলাই ২০২২
৪৯৩ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠিতে জি এস জাকিরের ত্রাসের রাজত্ব!

আপডেট সময় ১২:৩৪:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ জুলাই ২০২২

 

ঝালকাঠির মূর্তিমান এক আতংকের নাম জি এস জাকির। তার নাম শুনলেই এখন কন্ঠ শুকিয়ে যায় সাধারন মানুষের। ভয়ে কেঁপে ওঠে শহর, নগর,জনপদ। শাসক দলের গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে না থাকলেও তার ক্ষমতা অসীম। কালো টাকা আর বিত্ত্বের পাহাড়ে তার বসবাস। শহর নিয়ন্ত্রণের জন্য গড়ে তুলেছেন জি এস বাহিনী ও কিশোর গ্যাং। তারা অবৈধ অস্ত্র নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি লাখ টাকার বাইক হাঁকিয়ে চষে বেড়ায় ঝালকাঠি শহর। মাদক ব্যবসা,বালি ব্যবসা, টেন্ডারবাজী, ঠিকাদারী , কলেজের সামনে সরকারী জমিতে মাকের্ট তুলে ভাড়া আদায়, ম্যাজিক গাড়ীর রুট পারমিট প্রদান,টেম্পু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজী করে জিরো থেকে হিরো বনেগেছেন তিনি। সর্বশেষ বনেগেছেন পৌর কাউন্সিলর। এক কথায় ঝালকাঠিতে এখন তার ত্রাসের রাজত্ব চলছে।
এলাকাবাসী এ বিষয়টি বহুবার জানিয়েছেন এলাকার সংসদ সদস্য,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ,পৌর মেয়র ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। কিন্ত জি এস জাকিরের লোমটিও স্পর্শ করতে পারেন নি তারা। আর পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনতো তার কাছে নস্যিমাত্র। তাহলে তার ক্ষমতার উৎস কোথায় ? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজেও মিলছে না কোন সমাধান।
ঝালকাঠি নালিশী আদালতে রিফাত হাসান রুবেল এর দায়েরকৃত একটি মামলার বিবরণে জানা যায়, গত কুরবানী ঈদের দিনে জি এস জাকির তার বেআইনী অস্ত্রধারী বাহিনী নিয়ে ঝালকাঠির সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মরহুম বেলায়েত হোসেনের বাড়ীতে হামলা চারিয়ে ব্যাপক ভাংচুর,বোমাবাজী ও বাড়ীর সদস্যদের মারপিট করে গুরুতর জখম করেন। তিনি নিজে কোমর থেকে পিস্তল বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করেন।
বিগত পৌরসভা নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ না করায় এই হামলা চালানো হয়। এই হামলায় সাবেক পৌর চেয়ারম্যানের সন্তানরা গুরুতর আহত হন। এ বিষয়ে ঝালকাঠি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানার ওসি মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বলেন, জি এস জাকির বা তার কোন লোকর বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার গ্রীন সিগন্যাল তাদের কাছে নেই। ফলে থানা থেকে ফিরে আসেন ক্ষতিগ্রস্থরা। পরবর্তীতে তারা এ বিষয়ে ঝালকাঠি নালিশী আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি গ্রহন করেন এবং তদন্ত করে প্রতিবেদন দানের জন্য ঝালকাটি পিবিআইকে আদেশ দেন। মামলা নং দ্রুত বিচার ১৩/২২ তারিখ ১৪/০৭/২০২২ইং। ধারা-দ্রুত বিচার আইন ২০০২ এর (২) ই (৬)৩৩ সহ বিস্ফোরক দ্রব্যদি আইন ১৯০৮ এর ৩/৬ আইন। এ মামলা দায়েরের পর জি এস জাকির আরো ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে স্বপরিবারে হত্যা করার হুমকি দিয়ে চলেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী সুত্রে আরো জানাগেছে, জি এস জাকির কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পুর্বে এলাকায় ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসাবে কাজ করতেন। কলেজে জি এস থাকাকালে এলাকায় তার প্রভাব সৃষ্টি হয়। এরপর এই এলাকার জনগনের মাথার মুকুট জননেতা ,সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নাম ভাংগিয়ে স্বঘোষিত রাজনৈতিক নেতা বনে যান। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তার। এরপর ঝালকাঠি শহরের গোটা এলাকা তার হাতের মুঠিতে চলে আসে।
এলাকাবাসী জি এস জাকিরের বিরুদ্ধে বর্তমানে যে সব অভিযোগ জোর তদন্তের দাবী তুলেছেন সেগুলো হলো: জি এস বাহিনী ও কিশোর গ্যাং বাহিনী লালন পালন, মাদক বাণিজ্য, হিন্দুদের জমি দখল , অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার, বেশুমার চাদাবাজী, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে কমিশন আদায়, বালি বাণিজ্যে একক নিয়ন্ত্রণ, সরকারি কলেজের সামনে মার্কেট তুলে ভাড়া আদায়, ম্যাজিক গাড়ীর রুট পারমিট বাণিজ্য, টেম্পু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজী ইত্যাদি।
তিনি কত সম্পদের মালিক?
একাধিক সুত্রমতে জি এস জাকির এখন কম করে হলেও শত কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক। অর এসব সম্পদ ও টাকার বৈধ কোন আয়ের উৎস নেই। তিনি এলাকার অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল করে আগলপয়সা ভিকনায় একটি ইট ভাটা প্রতিষ্ঠা করেছেন যার ৭৫% জমিই জবরদখল করা। এই ইট ভাটার নাম (এম আর ভি) । এই ভাটার বর্তমান মূল্য ১০ কোটি টাকার কম নয়। এ ছাড়া নামে বেনামে আরো অগাধ সম্পদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স রয়েছে। বিগত পৌর নির্বাচনে তিনি ৩ কোটি টাকা খরচ করেন বলে প্রচার আছে। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলেই তার থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।
এ সব বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তারা আমার অনেক পুরানো শক্রু। আমি তাদের প্রতিহিংসার শিকার।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগিরা অনতিবিলম্বে এই জিএস জাকিরকে গ্রেফতার করে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সহযোগী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অবৈধ পথে অর্জিত সম্পদের হিসাব নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী , আইজিপি, র‌্যাব এর মহাপরিচালক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের পদক্ষেপ কামনা করেছেন। (আগামী পর্বে পড়–ন তার জমি দখল, হামলা-মামলা ও অতীত অপকর্ম কাহিনী।)