০২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দলীয় নেতার পরিচয়ে ব্যাংকের মধ্যে রাজনৈতিক কার্যালয়!
কুমিল্লা শহরে বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের কান্দিরপাড় শাখায় ব্যাংক কার্যালয়ের মধ্যে একটি কক্ষ রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তাও সেটি আবার খোদ ব্যাংকের ম্যানেজারের পাশের কক্ষটি। ব্যাংকিং আইনের পরিপন্থী এ কাজে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক নুরে আলম সিদ্দিকীর ইচ্ছাতেই হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকরা।
যমুনা ব্যাংকের গ্রাহকদের দাবি, ব্যবস্থাপক নূরে আলম সিদ্দিকীর পাশের রুমটি মূলত স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত কামাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন। লেনদেন চলাকালীন সময়েও ঐ রুমটিতে লোকজন নিয়ে রাজনৈতিক নানা কাজকর্ম চলে বলে দাবি তাদের। যেখানে নিয়মিত ব্যাংকটির ব্যবস্থাপকও দীর্ঘ সময় নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। যার ফলে প্রতিনিয়ত ব্যাংকটির শাখাতে আসা গ্রাহকদের লেনদেনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত ও জটিলতা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
অভিযোগ আছে একজন মন্ত্রীর পিএস পরিচয় দেয়া কামাল হোসেন যমুনা ব্যাংকের কান্দিরপাড় শাখাতে শুধু রাজনৈতিক কার্যালয় খুলেই ক্ষ্যান্ত হননি, ব্যাংকটিতে তিনি ব্যবস্থাপক নুরে আলম সিদ্দিকীর সাথে সমন্বয় করে অনৈতিকভাবে লেনদেনও করে থাকেন। যেখানে প্রত্যক্ষভাবে ব্যবস্থাপক নূরে আলম সিদ্দিকীও আর্থিকভাবে লাভবান হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ব্যাংকের মধ্যে দখল করা কক্ষটিতে প্রতিনিয়ত পুরো কুমিল্লার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের টেন্ডার ভাগাভাগি হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। যেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আনাগোনা ও সরব উপস্থিতি থাকে। নির্মানাধীন বহুতল ভবনটির দ্বিতীয় তলায় বর্তমানে যমুনা ব্যাংকের শাখা পরিচালিত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যমুনা ব্যাংকের কান্দিরপাড় শাখায় এসব অস্বাভাবিক কার্যক্রম এবং নিয়মিত আড্ডা, রাজনৈতিক লোকজনের আনাগোনা, বিভিন্ন লেনদেনের জন্য ব্যাংকের শাখা অফিসটি কুমিল্লায় বেশ পরিচিত। এছাড়া কান্দিরপাড় শাখার ব্যবস্থাপক নূরে আলম সিদ্দিকী যমুনা ব্যাংকে যোগদান করার পর তার নামে খোদ যমুনা ব্যাংকেই ৩৭ টি ব্যাংক হিসাব এবং কামাল হোসেনের নামে ৩৬ টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। বেসরকারি একটি ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপকের এবং তার ব্যবসায়িক বন্ধু কামাল হোসেনের এতগুলো ব্যাংক হিসাব থাকাটা ব্যাংকিং আইনে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে নূরে আলম সিদ্দিকীর ও কামাল হোসেনের বিভিন্ন ব্যাংকে ১০০টির অধিক ব্যাংক হিসাব রয়েছে। অভিযোগ আছে, এসব ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ইপিজি টেন্ডার বাণিজ্য ও নানা ভাবে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা করে আসছে নূরে আলম সিদ্দিকী।
সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন ধরনের সরকারি টাকা যেমন ইপিজি টেন্ডার এর পে অর্ডার, বিভিন্ন ধরনের ভাতা, উৎসব বোনাস ও ব্যাংকের বিভিন্ন হেডের মাধ্যমে সরকারি ফান্ড আত্মসাৎ করে তা নিজের নামে আনার জন্য এতগুলো ব্যাংক হিসাব খুলেছেন নূরে আলম সিদ্দিকী। এছাড়া তিনি ব্যাংকে বিভিন্ন প্রবাসী গ্রাহক ও স্থানীয় গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে তাদের বিনা অনুমতিতে অর্থ উত্তোলন করে শেয়ার ব্যবসা, বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসা ও নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন বলেও দাবি স্থানীয়দের। মূলত নূরে আলম সিদ্দিকীর বাড়ি কুমিল্লায় হওয়ায় তিনি এসব অপকর্ম করে আসছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা।
উল্লেখ্য, এর আগেও যমুনা ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক নিজের নামে ও বিভিন্ন নামে হিসাব খুলে প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত টাকা পে অর্ডার এর মাধ্যমে ক্লিয়ারিং করে নিজের ব্যাংক হিসাবে এনে অর্থ আত্মসাৎ করেন। যা অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমানে দুদকে মামলা চলমান রয়েছে।
এছাড়া কুমিল্লা কান্দিরপাড় শাখার ব্যবস্থাপক খোদ ব্যাংকেই নিয়মিত মাদক সেবন করেন বলে অভিযোগ করেন সহকর্মীরা। ইয়াবা এবং ফেনসিডিল সহ বেশ কয়েকবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হলেও রাজনৈতিক প্রভাবে বারবার ছাড়া পেয়ে যান। সহকর্মীরা দাবি করেন এই ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে হেড অফিস সবকিছু জানার পরেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অসহায় কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতার কাছে। ক্ষমতার দাপট দেখানো যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নূরে আলম সিদ্দিকী ও তার বিশেষ বন্ধু কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ব্যাংক একাউন্ট থাকা এবং লেনদেন অস্বাভাবিক হওয়ায় তা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরে অনুসন্ধান চলছে বলেও জানা গেছে।
এসব বিষয়ে জানতে যমুনা ব্যাংক কুমিল্লা কান্দিরপাড় শাখার ব্যবস্থাপক নূরে আলম সিদ্দিকীকে ফোন করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। অপরদিকে কামাল হোসেনও ফোন ধরেননি।
ট্যাগস :

















