১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৪ বছর একই পদে তারপরও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ : বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের খুঁটির জোর কোথায়?

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক
শারীরিকভাবে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনে প্রায় অক্ষম। একটানা ১৪ বছর রয়েছেন একই পদে। ধামাচাপা পড়ে আছে তার অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ। একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেট তৈরী করে ড্রেজিং বিভাগের বরাদ্দকৃত শত শত কোটি টাকা করেছেন লুটপাট। তারপরও তিনি পেয়েছেন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। একই বলে কপাল! কথা উঠেছে যে, নৌখাত ভিত্তিক দেশের বৃহত্তম একটি শিপিং কোম্পানী ও ঠিকাদারের স্বার্থ রক্ষায় তাকে পুন: এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর এই মহাক্ষমতাধর শিপিং কোম্পানীর মালিকের কথায়ই নাকি চলছে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়। অবাক ব্যাপারই বটে।
মহাস্যেভাগ্যবান এই কর্মকর্তার নাম মো: আব্দুল মতিন। বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী তিনি। চাকুরীর বয়সপূর্ণ হওয়ায় ২০২১ সালের ৩০ জুন তিনি পিআরএলএ যান। তদস্থলে দায়িত্ব পান ড্রেজিং বিভাগের অতি:প্রধান প্রকৌশলী মো: রকিবুল ইসলাম তালুকদার । যার দপ্তর আদেশ নং ১০৮৩/২০২১ তারিখ: ২৭/০৬/২০২১ইং। তাকে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দপ্তরাদেশ পেয়ে মো: রকিবুল ইসলাম তালুকদার দায়িত্ব গ্রহনপূর্বক ফাইল ওয়ার্ক শুরু করেন। কিন্তু ২২ জুলাই ২০২১ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে পিআরএল ভোগরত প্রকৌশলী আব্দুল মতিনকে এক বছরের চক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হয়। যার স্মারক নং চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা -০৫.০০.০০০০.১৪৬.১৭.৩১৪। ফলে তিনি আবার প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে ফিরে আসেন। চলতি দায়িত্বপালনরত অতি: প্রধান প্রকৌশলী মো: রকিবুল ইসলাম তালুকদারকে গত ২৭/০৭/২০২১ইং তারিখে বিআইডব্লিউটিএর আইসিটি বিভাগে পদায়ন করা হয় । যার দপ্তর আদেশ নং ১২৩৬/২০২১। এঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা বিস্মিত হয়েছেন। তাদের প্রশ্ন ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করার পরও কেন প্রকৌশলী আব্দুল মতিনকে আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো?
একাধিক সুত্রে জানাগেছে, প্রকৌশলী মো: আব্দুল মতিন ২০০৬ সালে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। এরপর তিনি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করে একটানা ১৪ বছর একই পদে অবস্থান করেন। ৩০ জুন ২০২১ তিনি পিআরএলএ যান। আবার ১২ জুলাই ২০২১ তিনি এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ লাভ করেন। এই ১৪ বছরে তিনি ড্রেজিং বিভাগের টেন্ডার খাতে অনিয়ম -দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। কথিত আছে যে, তার এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেশের স্বার্থে নয় বরং একজন ঠিকাদার কাম শিপিং ব্যবসায়ীর স্বার্থেই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের বাড়ী একই অঞ্চলে হওয়ায় তিনি খুব সহজেই প্রতিমন্ত্রীর আনুকুল্য পেয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের একাধিক সুত্রে জানাগেছে, প্রতিবছর ড্রেজিং খাতের চলমান প্রকল্পে যে পরিমাণ বাজেট দেওয়া হয় বাস্তবে তার ৬০% কাজ করা হয়। বাকি ৪০% কেবল খাতা কলমে বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। ঠিকাদারদের সাথে যোগসাজসে এই টাকা ভাগাভাগি করে নেন প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মতিন ও তার অধ:স্তন কর্মকর্তারা।
বিগত ১৪ বছরের ফাইলপত্র পরীক্ষা-নীরিক্ষা ( অডিট) করলেই এই দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে বলে দাবী করা হয়। (চলবে)

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫৮:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অগাস্ট ২০২১
১৭৮ বার পড়া হয়েছে

১৪ বছর একই পদে তারপরও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ : বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের খুঁটির জোর কোথায়?

আপডেট সময় ১০:৫৮:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অগাস্ট ২০২১

রোস্তম মল্লিক
শারীরিকভাবে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনে প্রায় অক্ষম। একটানা ১৪ বছর রয়েছেন একই পদে। ধামাচাপা পড়ে আছে তার অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ। একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেট তৈরী করে ড্রেজিং বিভাগের বরাদ্দকৃত শত শত কোটি টাকা করেছেন লুটপাট। তারপরও তিনি পেয়েছেন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। একই বলে কপাল! কথা উঠেছে যে, নৌখাত ভিত্তিক দেশের বৃহত্তম একটি শিপিং কোম্পানী ও ঠিকাদারের স্বার্থ রক্ষায় তাকে পুন: এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর এই মহাক্ষমতাধর শিপিং কোম্পানীর মালিকের কথায়ই নাকি চলছে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়। অবাক ব্যাপারই বটে।
মহাস্যেভাগ্যবান এই কর্মকর্তার নাম মো: আব্দুল মতিন। বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী তিনি। চাকুরীর বয়সপূর্ণ হওয়ায় ২০২১ সালের ৩০ জুন তিনি পিআরএলএ যান। তদস্থলে দায়িত্ব পান ড্রেজিং বিভাগের অতি:প্রধান প্রকৌশলী মো: রকিবুল ইসলাম তালুকদার । যার দপ্তর আদেশ নং ১০৮৩/২০২১ তারিখ: ২৭/০৬/২০২১ইং। তাকে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দপ্তরাদেশ পেয়ে মো: রকিবুল ইসলাম তালুকদার দায়িত্ব গ্রহনপূর্বক ফাইল ওয়ার্ক শুরু করেন। কিন্তু ২২ জুলাই ২০২১ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে পিআরএল ভোগরত প্রকৌশলী আব্দুল মতিনকে এক বছরের চক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হয়। যার স্মারক নং চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা -০৫.০০.০০০০.১৪৬.১৭.৩১৪। ফলে তিনি আবার প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে ফিরে আসেন। চলতি দায়িত্বপালনরত অতি: প্রধান প্রকৌশলী মো: রকিবুল ইসলাম তালুকদারকে গত ২৭/০৭/২০২১ইং তারিখে বিআইডব্লিউটিএর আইসিটি বিভাগে পদায়ন করা হয় । যার দপ্তর আদেশ নং ১২৩৬/২০২১। এঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা বিস্মিত হয়েছেন। তাদের প্রশ্ন ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করার পরও কেন প্রকৌশলী আব্দুল মতিনকে আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো?
একাধিক সুত্রে জানাগেছে, প্রকৌশলী মো: আব্দুল মতিন ২০০৬ সালে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। এরপর তিনি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করে একটানা ১৪ বছর একই পদে অবস্থান করেন। ৩০ জুন ২০২১ তিনি পিআরএলএ যান। আবার ১২ জুলাই ২০২১ তিনি এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ লাভ করেন। এই ১৪ বছরে তিনি ড্রেজিং বিভাগের টেন্ডার খাতে অনিয়ম -দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। কথিত আছে যে, তার এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেশের স্বার্থে নয় বরং একজন ঠিকাদার কাম শিপিং ব্যবসায়ীর স্বার্থেই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের বাড়ী একই অঞ্চলে হওয়ায় তিনি খুব সহজেই প্রতিমন্ত্রীর আনুকুল্য পেয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের একাধিক সুত্রে জানাগেছে, প্রতিবছর ড্রেজিং খাতের চলমান প্রকল্পে যে পরিমাণ বাজেট দেওয়া হয় বাস্তবে তার ৬০% কাজ করা হয়। বাকি ৪০% কেবল খাতা কলমে বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। ঠিকাদারদের সাথে যোগসাজসে এই টাকা ভাগাভাগি করে নেন প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মতিন ও তার অধ:স্তন কর্মকর্তারা।
বিগত ১৪ বছরের ফাইলপত্র পরীক্ষা-নীরিক্ষা ( অডিট) করলেই এই দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে বলে দাবী করা হয়। (চলবে)