০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আউট সোর্সিং জনবল নিয়োগে পরিচালক তুহিনের ২৫ কোটি টাকার টার্গেট

প্রতিনিধির নাম:

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে আউট সোর্সিং পদ্ধতিতে প্রতিটি উপজেলায় ১ জন করে এ আই টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৪৯৫ টি পদের অনুমোদন দিয়েছে। তদপ্রেক্ষিতে প্রকল্প পরিচালক মো: শাহজামান খান তুহিন কৃত্রিম প্রজনন জনবল সরবরাহ করার জন্য ঠিকাদার নিয়োগের পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। দরপত্র দলিলে এমন কিছু শর্ত প্রদান করেছেন যে, ৩/৪ টির বেশী কোন আউট সোর্সিং প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহন করতে পারবে না। কারণ পরিচালক মো: শাহজামান খান তুহিন বগুড়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে আগেই চুক্তি করেছেন যে, ঐ প্রতিষ্ঠানকে তিনি কাজ দিবেন। এমন কি জনবল সিলেক্ট করবেন তিনি নিজে। সে প্রক্রিয়়ার অংশ হিসাবে দেশের প্রত্যক উপজেলায় চিঠি দিয়েছেন ৩ জন করে অভিজ্ঞ এ আই টেকনিশিয়ানের তালিকা প্রদান করার জন্য।
উদ্দ্যোশ্য হলো ঠিকাদার নিয়োগের সাথে সাথে ঠিকাদারের কাজটা এগিয়ে রাখা এবং প্রার্থীদের নিকট হতে দরদাম ঠিক করে রাখা। যে কাজটি করার কথা ঠিকাদারের সে কাজটি হাজার হাজার টাকা খরচ করে করছেন পরিচালক মো: শাহজামান খান তুহিন ।
সুত্রমতে প্রাণিসস্পদ অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৫ হাজারের অধিক এ আই টেকনিশিয়ান রয়েছে এবং প্রত্যেকেই প্রশিক্ষিত। নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদার কর্তৃক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করার পর এদের মধো হতে প্রায় সকলেই আবেদন করবেন। তখন বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করে তাদের বায়োডাটা সহ ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে পরিচালকের নিকট জমা দিবেন। কিন্তু সুচতুর দুর্নীতিবাজ কর্মকতা পরিচালক মো: শাহজামান খান তুহিন অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেই সে প্রক্রিয়়া শেষ করে রাখছেন।

সুত্রমতে রাজস্ব খাতের অধীনে সৃষ্ট আউট সোর্সিং এ নিয়োগযোগ্য পদ সমুহ মহাপরিচালকের দপ্তর হতে সম্পাদন করার কথা। যেমন পুর্বেও করা হয়েছিল । কিন্তু পরিচালক মো: শাহজামান খান তুহিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে় নিজেই ঠিকাদার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সকল প্রক্রিয়়া চুড়ান্ত করার কাজ করছেন। যার একমাত্র লক্ষ্য ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার বাণিজ্য করা।
উল্লেখ্য যে, পরিচালক মো: শাহজামান খান তুহিন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৎকালীন মন্ত্রী মির্জা আজমের ভাগ্নে পরিচয়ে আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসাবে ডিও লেটার নিয়ে পরিচালক পদে পদোন্নতি নিয়েছিলেন এবং বিসিএস লাইভস্টক একাডেমীর পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করেন। এমন কি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে তুহিনকে আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসাবে উল্লেখ করা আছে। যা তার এসএসবির ছাডপত্র যাচাই করলেই প্রমানিত হবে।
সেই মো: শাহজামান খান তুহিন ৫ই আগষ্টের পটপরিবর্তনের সাথে সাথে নিজেকে সবচেয়ে বড় জাতীয়তাবাদী দাবী করে তদবিরের মাধ্যমে অধিদপ্তরের সবচেয়ে লাভজনক পরিচালক এ আই এর পরিচালক পদটি দখল করে নিয়েছেন। এ পদে আসতে তাকে প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছিল বলেও কথিত আছে। অথচ এই মো: শাহজামান খান তুহিন ৪ঠা আগস্টে কথিত শান্তি মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং হাসিনা সরকারে পক্ষে স্লোগান দিয়েছিলেন।

মো: শাহজামান খান তুহিন পরিচালক এ আই হিসাবে বদলীর আদেশ প্রাপ্তির পর পরই তার বিরোধিতা করে অধিদপ্তরে বিএনপিপন্থী কর্মকতা-কর্মচারীরা মিছিল মিটিং করে আদেশ বাতিল করার জন্য দাবী জানায় কিন্তু তৎকালীন মহাপরিচালকের কারণে আন্দোলনকারীরা পরে চুপ হয়ে যায়।
কথিত আছে মো: শাহজামান খান তুহিন পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েই প্রায় ২০ কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের দরপত্র আহ্ববান করে নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে বেসরকারী খাতে সরবরাহকারীকে কাজ দিয়ে নিন্মমানের কন্টেইনার ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে ৫ কোটি টাকার অধিক ঘুষ নিয়ে়ছিলেন। কন্টেইনার গুলি ল্যাব পরীক্ষা করলেই প্রমানিত হবে যে সেগুলো নিন্মমানের ছিল।
অধিদপ্তরের সকল পর্যায়ের কর্মকতা-কর্মচারীদের একই কথা দুর্নীতিবাজ এ পরিচালককে অবিলম্বে অন্যত্রে বদলী করে তার সকল অনিয়মের তদন্ত করা হোক এবং আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে এ আই টেকনিশিয়ান নিয়োগের কাজটি মহাপরিচালকের নিয়়ন্ত্রনে নিয়ে আসা হোক। এ ক্ষেত্রে তারা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৩৭:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
৪১৮ বার পড়া হয়েছে

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আউট সোর্সিং জনবল নিয়োগে পরিচালক তুহিনের ২৫ কোটি টাকার টার্গেট

আপডেট সময় ১১:৩৭:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে আউট সোর্সিং পদ্ধতিতে প্রতিটি উপজেলায় ১ জন করে এ আই টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৪৯৫ টি পদের অনুমোদন দিয়েছে। তদপ্রেক্ষিতে প্রকল্প পরিচালক মো: শাহজামান খান তুহিন কৃত্রিম প্রজনন জনবল সরবরাহ করার জন্য ঠিকাদার নিয়োগের পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। দরপত্র দলিলে এমন কিছু শর্ত প্রদান করেছেন যে, ৩/৪ টির বেশী কোন আউট সোর্সিং প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহন করতে পারবে না। কারণ পরিচালক মো: শাহজামান খান তুহিন বগুড়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে আগেই চুক্তি করেছেন যে, ঐ প্রতিষ্ঠানকে তিনি কাজ দিবেন। এমন কি জনবল সিলেক্ট করবেন তিনি নিজে। সে প্রক্রিয়়ার অংশ হিসাবে দেশের প্রত্যক উপজেলায় চিঠি দিয়েছেন ৩ জন করে অভিজ্ঞ এ আই টেকনিশিয়ানের তালিকা প্রদান করার জন্য।
উদ্দ্যোশ্য হলো ঠিকাদার নিয়োগের সাথে সাথে ঠিকাদারের কাজটা এগিয়ে রাখা এবং প্রার্থীদের নিকট হতে দরদাম ঠিক করে রাখা। যে কাজটি করার কথা ঠিকাদারের সে কাজটি হাজার হাজার টাকা খরচ করে করছেন পরিচালক মো: শাহজামান খান তুহিন ।
সুত্রমতে প্রাণিসস্পদ অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৫ হাজারের অধিক এ আই টেকনিশিয়ান রয়েছে এবং প্রত্যেকেই প্রশিক্ষিত। নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদার কর্তৃক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রদান করার পর এদের মধো হতে প্রায় সকলেই আবেদন করবেন। তখন বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করে তাদের বায়োডাটা সহ ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে পরিচালকের নিকট জমা দিবেন। কিন্তু সুচতুর দুর্নীতিবাজ কর্মকতা পরিচালক মো: শাহজামান খান তুহিন অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেই সে প্রক্রিয়়া শেষ করে রাখছেন।

সুত্রমতে রাজস্ব খাতের অধীনে সৃষ্ট আউট সোর্সিং এ নিয়োগযোগ্য পদ সমুহ মহাপরিচালকের দপ্তর হতে সম্পাদন করার কথা। যেমন পুর্বেও করা হয়েছিল । কিন্তু পরিচালক মো: শাহজামান খান তুহিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে় নিজেই ঠিকাদার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সকল প্রক্রিয়়া চুড়ান্ত করার কাজ করছেন। যার একমাত্র লক্ষ্য ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার বাণিজ্য করা।
উল্লেখ্য যে, পরিচালক মো: শাহজামান খান তুহিন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৎকালীন মন্ত্রী মির্জা আজমের ভাগ্নে পরিচয়ে আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসাবে ডিও লেটার নিয়ে পরিচালক পদে পদোন্নতি নিয়েছিলেন এবং বিসিএস লাইভস্টক একাডেমীর পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করেন। এমন কি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে তুহিনকে আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসাবে উল্লেখ করা আছে। যা তার এসএসবির ছাডপত্র যাচাই করলেই প্রমানিত হবে।
সেই মো: শাহজামান খান তুহিন ৫ই আগষ্টের পটপরিবর্তনের সাথে সাথে নিজেকে সবচেয়ে বড় জাতীয়তাবাদী দাবী করে তদবিরের মাধ্যমে অধিদপ্তরের সবচেয়ে লাভজনক পরিচালক এ আই এর পরিচালক পদটি দখল করে নিয়েছেন। এ পদে আসতে তাকে প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছিল বলেও কথিত আছে। অথচ এই মো: শাহজামান খান তুহিন ৪ঠা আগস্টে কথিত শান্তি মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং হাসিনা সরকারে পক্ষে স্লোগান দিয়েছিলেন।

মো: শাহজামান খান তুহিন পরিচালক এ আই হিসাবে বদলীর আদেশ প্রাপ্তির পর পরই তার বিরোধিতা করে অধিদপ্তরে বিএনপিপন্থী কর্মকতা-কর্মচারীরা মিছিল মিটিং করে আদেশ বাতিল করার জন্য দাবী জানায় কিন্তু তৎকালীন মহাপরিচালকের কারণে আন্দোলনকারীরা পরে চুপ হয়ে যায়।
কথিত আছে মো: শাহজামান খান তুহিন পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েই প্রায় ২০ কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের দরপত্র আহ্ববান করে নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে বেসরকারী খাতে সরবরাহকারীকে কাজ দিয়ে নিন্মমানের কন্টেইনার ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে ৫ কোটি টাকার অধিক ঘুষ নিয়ে়ছিলেন। কন্টেইনার গুলি ল্যাব পরীক্ষা করলেই প্রমানিত হবে যে সেগুলো নিন্মমানের ছিল।
অধিদপ্তরের সকল পর্যায়ের কর্মকতা-কর্মচারীদের একই কথা দুর্নীতিবাজ এ পরিচালককে অবিলম্বে অন্যত্রে বদলী করে তার সকল অনিয়মের তদন্ত করা হোক এবং আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে এ আই টেকনিশিয়ান নিয়োগের কাজটি মহাপরিচালকের নিয়়ন্ত্রনে নিয়ে আসা হোক। এ ক্ষেত্রে তারা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।