০১:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণপূর্ত অধিদপ্তরে উচ্চতরপদে সরাসরি নিয়োগ এবং বেআইনি পদোন্নতি!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সরাসরি ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগের মতো তুঘলকি কান্ড ঘটেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরে । শুধু তাই নয় , বরং বেআইনিভাবে এসব ব্লক পোস্টে নিয়োগপ্রাপ্তরা পেয়েছেন পদোন্নতিও । আর এ সকল ভাগ্যবান কয়েকজন প্রকৌশলী হলেন সমীরণ মিস্ত্রি , জাহাঙ্গীর আলম , জিয়াউর রহমান , মোঃ আবু তালেব, নাফিজ প্রমুখ ।

জানা যায় , ২০১২ সালে গোপালগঞ্জের শেখ পরিবারের আশীর্বাদপুষ্ট সমীরণ মিস্ত্রি , জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন প্রকৌশলী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হবার সুবাদে সরকারি চাকরিতে বিসিএস পরীক্ষা বাইপাস করে উচ্চতর পদে নিয়োগ পান । বিসিএসের মাধ্যমে একজন কর্মকর্তা নবম গ্রেডে নিয়োগ পেলেও এসব ভাগ্যবান প্রকৌশলী শেখ হাসিনার আশীর্বাদে সরাসরি ষষ্ট গ্রেডে নিয়োগ পেয়েছেন ।

এ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএসের মতো কোনো প্রিলি কিংবা লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়নি । বরং পিএসসি বাধ্য হয়ে শুধুমাত্র ভাইবার মাধ্যমে এ সকল প্রকৌশলীর নাম সুপারিশ করে । বিজ্ঞজনের প্রশ্ন , কি এমন হলো যে কোন লিখিত ও প্রিলি ছাড়াই পিএসসিকে শুধুমাত্র ভাইবার মাধ্যমে কর্মকর্তা সুপারিশ করতে হয়েছে ?

এ নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে গণপূর্তের বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট বাধ্য হয়ে নিয়োগের রায় প্রদান করেন এবং বাদী কর্মকর্তাদের পদসমূহ সংরক্ষণের আদেশ দেন ।
এমনকি আদালতের এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এ সকল কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে এবং পদ সংরক্ষণকারী কর্মকর্তাদের উপরে তাদের জেষ্ঠ্যতা প্রদান করা হয়েছে ।

চাকরিবিধি অনুযায়ী উচ্চতর পদে (নবম গ্রেডের উপর কোন পদে ) সরাসরি নিয়োগ হলে তাদের কোন পদোন্নতির বিধি নেই । তাদের পদোন্নতি দিতে হলে নতুন করে তাদের জন্য বিধি তৈরী করতে হবে । অর্থাৎ , উচ্চতর কোন পদে সরাসরি নিয়োগ হলে সেটি মূলত ব্লক পদ হিসেবে বিবেচিত হয় । কিন্তু অদৃশ্য শক্তির ইশারায় কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তাদেরকে পঞ্চম গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে ।

এদিকে এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিআইডাব্লিউটিএতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছেন । অথচ , গণপূর্ত অধিদপ্তরে ২০১৬ সালে বাস্তবে যোগদান করলেও ব্যাক ডেট দিয়ে ২০১২ সালে যোগদান দেখিয়েছেন যা আদালত অবমাননার শামিল । তারা যে সময়ে চাকরিতে যোগদান করেছেন সে সময়ে আদালত কর্তৃক নিয়োগের বিষয়ে স্থগিতাদেশ ছিল । এই ব্যাকডেটে যোগদান করে একদিকে আদালত অবমাননা করেছেন ,অন্যদিকে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম গণপূর্ত থেকে চার বছরের এককালীন বকেয়া টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন । ফলে রাষ্ট্রের টাকা তিনি দুই সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে একই সময়ে বেতন হিসেবে উত্তোলন করেছেন যা একটি চরম দুর্নীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ ।

আদালত অবমাননা করে স্থগিতাদেশের মধ্যে যোগদান করে বাস্তবে চাকরি না করে বকেয়া বেতন হিসেবে অর্থ উত্তোলন রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদের একটি চরম দৃষ্টান্ত ।

ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর এসকল কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগের বিরুদ্ধে গণপূর্তের বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ মহামান্য হাইকোর্টে মামলা করেছেন । মামলাটির শুনানি আগামী নভেম্বর মাসের প্রথমার্ধে । এ সকল দুর্নীতির বিষয়ে শেখ হাসিনা , সাবেক গণপূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার ,আইইবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া , রফিকুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনসহ নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদককে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞজনেরা মত প্রকাশ করেছেন । তারা যে অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে চাকরি না করেই নিয়েছেন তা তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে জমাদান করার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ মত দিয়েছেন । এছাড়াও তাদের পদোন্নতি কিভাবে হলো তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত করতে দুদকের প্রতি তারা উম্মুক্ত আহ্বান জানিয়েছেন ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৪৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৩০৯ বার পড়া হয়েছে

গণপূর্ত অধিদপ্তরে উচ্চতরপদে সরাসরি নিয়োগ এবং বেআইনি পদোন্নতি!

আপডেট সময় ১০:৪৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রোস্তম মল্লিক

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সরাসরি ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগের মতো তুঘলকি কান্ড ঘটেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরে । শুধু তাই নয় , বরং বেআইনিভাবে এসব ব্লক পোস্টে নিয়োগপ্রাপ্তরা পেয়েছেন পদোন্নতিও । আর এ সকল ভাগ্যবান কয়েকজন প্রকৌশলী হলেন সমীরণ মিস্ত্রি , জাহাঙ্গীর আলম , জিয়াউর রহমান , মোঃ আবু তালেব, নাফিজ প্রমুখ ।

জানা যায় , ২০১২ সালে গোপালগঞ্জের শেখ পরিবারের আশীর্বাদপুষ্ট সমীরণ মিস্ত্রি , জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন প্রকৌশলী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হবার সুবাদে সরকারি চাকরিতে বিসিএস পরীক্ষা বাইপাস করে উচ্চতর পদে নিয়োগ পান । বিসিএসের মাধ্যমে একজন কর্মকর্তা নবম গ্রেডে নিয়োগ পেলেও এসব ভাগ্যবান প্রকৌশলী শেখ হাসিনার আশীর্বাদে সরাসরি ষষ্ট গ্রেডে নিয়োগ পেয়েছেন ।

এ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিসিএসের মতো কোনো প্রিলি কিংবা লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়নি । বরং পিএসসি বাধ্য হয়ে শুধুমাত্র ভাইবার মাধ্যমে এ সকল প্রকৌশলীর নাম সুপারিশ করে । বিজ্ঞজনের প্রশ্ন , কি এমন হলো যে কোন লিখিত ও প্রিলি ছাড়াই পিএসসিকে শুধুমাত্র ভাইবার মাধ্যমে কর্মকর্তা সুপারিশ করতে হয়েছে ?

এ নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে গণপূর্তের বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্ট বাধ্য হয়ে নিয়োগের রায় প্রদান করেন এবং বাদী কর্মকর্তাদের পদসমূহ সংরক্ষণের আদেশ দেন ।
এমনকি আদালতের এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এ সকল কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে এবং পদ সংরক্ষণকারী কর্মকর্তাদের উপরে তাদের জেষ্ঠ্যতা প্রদান করা হয়েছে ।

চাকরিবিধি অনুযায়ী উচ্চতর পদে (নবম গ্রেডের উপর কোন পদে ) সরাসরি নিয়োগ হলে তাদের কোন পদোন্নতির বিধি নেই । তাদের পদোন্নতি দিতে হলে নতুন করে তাদের জন্য বিধি তৈরী করতে হবে । অর্থাৎ , উচ্চতর কোন পদে সরাসরি নিয়োগ হলে সেটি মূলত ব্লক পদ হিসেবে বিবেচিত হয় । কিন্তু অদৃশ্য শক্তির ইশারায় কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তাদেরকে পঞ্চম গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে ।

এদিকে এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিআইডাব্লিউটিএতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চাকরি করেছেন । অথচ , গণপূর্ত অধিদপ্তরে ২০১৬ সালে বাস্তবে যোগদান করলেও ব্যাক ডেট দিয়ে ২০১২ সালে যোগদান দেখিয়েছেন যা আদালত অবমাননার শামিল । তারা যে সময়ে চাকরিতে যোগদান করেছেন সে সময়ে আদালত কর্তৃক নিয়োগের বিষয়ে স্থগিতাদেশ ছিল । এই ব্যাকডেটে যোগদান করে একদিকে আদালত অবমাননা করেছেন ,অন্যদিকে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম গণপূর্ত থেকে চার বছরের এককালীন বকেয়া টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন । ফলে রাষ্ট্রের টাকা তিনি দুই সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে একই সময়ে বেতন হিসেবে উত্তোলন করেছেন যা একটি চরম দুর্নীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ ।

আদালত অবমাননা করে স্থগিতাদেশের মধ্যে যোগদান করে বাস্তবে চাকরি না করে বকেয়া বেতন হিসেবে অর্থ উত্তোলন রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদের একটি চরম দৃষ্টান্ত ।

ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর এসকল কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগের বিরুদ্ধে গণপূর্তের বিসিএস কর্মকর্তাবৃন্দ মহামান্য হাইকোর্টে মামলা করেছেন । মামলাটির শুনানি আগামী নভেম্বর মাসের প্রথমার্ধে । এ সকল দুর্নীতির বিষয়ে শেখ হাসিনা , সাবেক গণপূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার ,আইইবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া , রফিকুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনসহ নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদককে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞজনেরা মত প্রকাশ করেছেন । তারা যে অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে চাকরি না করেই নিয়েছেন তা তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে জমাদান করার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ মত দিয়েছেন । এছাড়াও তাদের পদোন্নতি কিভাবে হলো তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত করতে দুদকের প্রতি তারা উম্মুক্ত আহ্বান জানিয়েছেন ।