০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুয়া বিল ভাউচারে হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকা: ১৫ বছর যাবত ডা: জাহাঙ্গীর আলমের গ্রাসে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডে কোনো রেজিস্ট্রার পদ নেই। তবু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে সেখানে রেজিস্ট্রার পদ তৈরি করে নিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি এই বোর্ডে কর্মজীবনের শুরুতে অস্থায়ী সহকারী রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেন। অবৈধ উপায়ে নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তা পরে বহু অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গড়েছেন অঢেল সম্পত্তি। তার বিরুদ্ধে এই বোর্ডে নিয়োগ-বাণিজ্যের বড় অভিযোগ রয়েছে। সরকার পতনের পর থেকে জাহাঙ্গীরের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন বোর্র্ডের সদস্যরা। তবে যতই অভিযোগ থাকুক, জাহাঙ্গীর এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশ-বিদেশে।
বোর্র্ডের অর্গানোগ্রাম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পদ বিন্যাসে রয়েছে- সহকারী রেজিস্ট্রার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জাহাঙ্গীর অসাধ্যকে সাধন করে পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রার পদে নিজেকে অভিষিক্ত করেছেন।
বোর্র্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা বলে পরিচয় দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের অস্থায়ী সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পান ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম। মন্ত্রণালয় থেকে যেসব যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে তার কোনোটিই ছিল না জাহাঙ্গীরের। ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে তিনি সেখানে আবেদন করেন। ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছেন জাহাঙ্গীর।
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতিই ছিল তার মূল কাজ। সরকার পতনের আগে নিজেকে আওয়ামী লীগার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলার সময় শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার ও রাজাকারের বাচ্চা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আন্দোলনের সামনের সারির সমন্বয়কদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি করেন জাহাঙ্গীর। ফেসবুকে দেওয়া তার স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।
রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীরের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার ভাগ্যের চাকার পরিবর্তন হয় রেজিস্ট্রার পদে এসে। ২০০৯ সালে অস্থায়ী সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে দশম গ্রেডের ২২ হাজার টাকার চাকরি পান জাহাঙ্গীর। কিন্তু নিজের কলাকৌশলকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চম গ্রেডের বেতন ও অন্য খরচ মিলিয়ে ৭৮ হাজার টাকা তুলতেন। হোমিওপ্যাথি বোর্ডে চাকরি পাওয়ার পর ২০১৩ সালে তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়ায় বিলাসবহুল বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। গ্রামে কয়েক একর জমিও কিনেছেন। নিজের এলাকায় গড়েছেন মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

হোমিওপ্যাথি বোর্ডকে টাকা কামানোর মেশিন বানিয়েছেন জাহাঙ্গীর:
ঢাকায় মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় রশিদ টাওয়ারে কোটি টাকার দুটি ফ্ল্যাট ও দুটি গাড়ি রয়েছে এই কর্মকর্তার। প্রথম স্ত্রীর (মারা গেছেন) নামে বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। অবৈধভাবে অর্জিত এই অর্র্থের উৎস খতিয়ে দেখছে দুদক। তার বিরুদ্ধে দুদকে দুটি দুর্নীতির মামলাও রয়েছে। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের দুবারের বোর্ড মেম্বার ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘আমাদের ৬৬ জেলায় কলেজ রয়েছে। প্রতিটি কলেজ থেকে নিয়োগ-বাণিজ্য করতেন রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম। নামে-বেনামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে নিজে অর্থ তুলতেন এবং সেখান থেকেও টাকা সরাতেন। ২০১৮ সালের পর থেকে তার বিরুদ্ধে বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ে ১০ বার অভিযোগ এসেছে। দুদকেও অর্থ পাচারের মামলা হয়েছে। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে তিনটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি বারবার বিচারের মুখ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।’
চট্টগ্রামের ফেডারেল হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. উজ্জ্বল কান্তি দাশ বলেন, ‘রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণসহ দুদক ও বোর্ডে এবং মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকবার। আমাকে দিয়ে জাহাঙ্গীর বিভিন্ন কলেজ থেকে টাকা সংগ্রহ করেছেন। আমি নিজে তাকে কয়েকবার ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছি। এসব প্রমাণ দেওয়ার পরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব আব্দুল কাদের টাকা খেয়ে জাহাঙ্গীরের পক্ষে রিপোর্ট দিতেন। রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কাদের তার পক্ষ নিতেন।’
অনুসন্ধানে দেখা যায়, রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে অর্থের বিনিময়ে অনভিজ্ঞ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দিতেন। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রহীন ত্রুটিপূর্ণ কলেজকে অনুমোদনের ব্যবস্থা করতেন। নিয়মনীতি না মেনে বছরে কয়েকবার বিদেশ সফর করেছেন জাহাঙ্গীর। তার বিরুদ্ধে রিকনডিশন্ড গাড়ি কেনার সময় ১৮ লাখ টাকা নয়ছয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জাহাঙ্গীর ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতেন। শুধু তা-ই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত হোমিওপ্যাথিক কলেজে নিজের লোক নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে সেখান থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের মাসোহারা নিতেন। এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার মো. জাহাঙ্গীর আলমের হাত থেকে হোমিওপ্যাথি বোর্ডকে রক্ষার দাবি জানিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নোয়াখালীতে আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পেয়েছে। দুদক সজেকা (সমন্বিত জেলা কার্যালয়) নোয়াখালীর তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০০৯ সালে হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের অস্থায়ী সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগসংক্রান্ত পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল সেগুলোকে উপেক্ষা করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি নিয়োগ নিয়েছেন। তার নিজ প্রতিষ্ঠান ‘হোমিওপ্যাথিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ ২০০৫ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত হয়। সেখানকার কাগজপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর কখনো ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আবার কখনো নির্বাহী পরিচালক বলে পরিচয় দিয়েছেন।
ডা. জাহাঙ্গীর আলম মিরপুর-১০ নম্বরে হোমিওপ্যাথিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠান খুলে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে রমরমা সার্টিফিকেট-বাণিজ্য করেছেন। চাকরিতে নিয়োগ পেতে অভিজ্ঞতা হিসেবে নিজের জন্য ওই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক সেজে প্রত্যয়নপত্র নিয়েছেন আবার অন্যজনকে চাকরি দিতে নিজে চেয়ারম্যান সেজে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। পরস্পরের যোগসাজশে একে অপরকে অভিজ্ঞতার সনদ দিয়ে অস্থায়ী সহকারী রেজিস্ট্রার পদটি হাতিয়ে নেন জাহাঙ্গীর, যা তদন্ত করে দেখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে দুদকের নোয়াখালীর (সজেকা) অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে।
হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও ফেডারেল হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মো. শামসুদ্দোজা আরিফ এবং চট্টগ্রামের ভুক্তভোগী ডা. উজ্জ্বল কান্তি দাশের অভিযোগে বলা হয়, সরকারের হোমিওপ্যাথি অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এবং হোমিও বোর্ড নীতিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে বোর্র্ডের রেজিস্ট্রার ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম এসব অধ্যাদেশ ও নীতিমালা উপেক্ষা করে সব ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের নিয়ম অনুযায়ী একটি নতুন অনুমোদিত কলেজে ১০-১৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তিনি লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে প্রতিটি কলেজে ৩৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ বিভিন্ন পদে ৬০-৭০ জন লোক নিয়োগ ও অনুমোদন দিচ্ছেন। এসব নিয়োগ ও অনুমোদনে বোর্র্ডের কোনো নিয়মনীতি ও বিধিবিধান মানা হচ্ছে না। হোমিও বোর্র্ডের টেন্ডার কমিটি, নিয়োগ কমিটি, পরীক্ষা কমিটিসহ সব কমিটিতে সচিবের দায়িত্বে থাকার সুবাদে রেজিস্ট্রার ধরাকে সরা জ্ঞান করেন। তাকে টাকা না দিলে কোনো কাজের অনুমোদন, বিল, নিয়োগসহ পরীক্ষক, প্রার্থী নির্বাচন এবং পরীক্ষার ফলে প্রভাব খাটানো হয়। রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কলেজের সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণেরও অভিযোগ রয়েছে।
এমন বেশ কয়েকটি অভিযোগপত্র আমাদের হাতে রয়েছে।
বোর্র্ডের সদস্যদের দেওয়া অভিযোগে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর বোর্ডের রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে প্রতিবছর সরকারি অনুদানের টাকা বিতরণের সময় প্রতিটি কলেজ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা অগ্রিম কমিশন হিসেবে নেন এবং ঘুষের বিনিময়ে একই কলেজকে বারবার অনুদান পাইয়ে দেন। আবার যেসব কলেজ কর্তৃপক্ষ কমিশন বা ঘুষ দিতে পারছে না, তাদের অনুদান দেওয়া হয় না। এ কাজে তিনি শিক্ষক সমিতির ব্যানারে গঠিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন করে থাকেন, যাতে তার এসব অবৈধ আর্থিক লেনদেনের কোনো প্রমাণ পাওয়া না যায়। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক সমিতির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে খোঁজ নিলে এসবের প্রমাণ পাওয়া যাবে।
ডা. জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি পঞ্চম গ্রেডের বেতন তুলি। সেটা সরকারি বিধি অনুযায়ী আমার প্রাপ্য। আমার বাড়ি-গাড়ির বিষয় যা জানেন তা সত্য। আমি বোর্র্ডের রেজিস্ট্রারের পাশাপাশি তিন জায়গায় ডাক্তারি করি। সেখান থেকে টাকা আসে।’ দামি ফ্ল্যাট ও বিলাসবহুল বাড়ির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দুর্নীতি করি না, আমার ট্যাক্স ফাইলে সব সম্পদের বিবরণ আছে। এখন সৌদি আরবে আছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।’ এর কিছুক্ষণ পর তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে প্রতিবেদককে দীর্ঘ মেসেজ পাঠান জাহাঙ্গীর।

রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের চেয়ারম্যান নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কাউন্সিল। শিগগির কাউন্সিল গঠন হবে। কাউন্সিল গঠন হলে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ সদস্যরা খতিয়ে দেখবেন। প্রমাণ পেলে কাউন্সিল বোর্র্ডের সদস্যরা তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।’
জাহাঙ্গীর এখন কোথায় রয়েছেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বলেন, ‘অফিস করেন নিয়মিত। আমার সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’ জাহাঙ্গীর বলেছেন তিনি সৌদি আরব রয়েছেন। আপনি চেয়ারম্যান হয়ে সে বিষয়ে জানেন না? এর উত্তরে নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাকে বলেছেন তার পার্সোনাল একটা কাজ রয়েছে। ছুঁটি নিয়েছেন।’ এর বেশি তিনি জানেন না বলে জানান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৩:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৪
২৭০ বার পড়া হয়েছে

ভুয়া বিল ভাউচারে হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকা: ১৫ বছর যাবত ডা: জাহাঙ্গীর আলমের গ্রাসে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড!

আপডেট সময় ০৩:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৪

রোস্তম মল্লিক

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডে কোনো রেজিস্ট্রার পদ নেই। তবু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে সেখানে রেজিস্ট্রার পদ তৈরি করে নিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি এই বোর্ডে কর্মজীবনের শুরুতে অস্থায়ী সহকারী রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করেন। অবৈধ উপায়ে নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তা পরে বহু অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গড়েছেন অঢেল সম্পত্তি। তার বিরুদ্ধে এই বোর্ডে নিয়োগ-বাণিজ্যের বড় অভিযোগ রয়েছে। সরকার পতনের পর থেকে জাহাঙ্গীরের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন বোর্র্ডের সদস্যরা। তবে যতই অভিযোগ থাকুক, জাহাঙ্গীর এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশ-বিদেশে।
বোর্র্ডের অর্গানোগ্রাম বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পদ বিন্যাসে রয়েছে- সহকারী রেজিস্ট্রার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জাহাঙ্গীর অসাধ্যকে সাধন করে পূর্ণাঙ্গ রেজিস্ট্রার পদে নিজেকে অভিষিক্ত করেছেন।
বোর্র্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা বলে পরিচয় দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের অস্থায়ী সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পান ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম। মন্ত্রণালয় থেকে যেসব যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে তার কোনোটিই ছিল না জাহাঙ্গীরের। ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে তিনি সেখানে আবেদন করেন। ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছেন জাহাঙ্গীর।
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতিই ছিল তার মূল কাজ। সরকার পতনের আগে নিজেকে আওয়ামী লীগার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলার সময় শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার ও রাজাকারের বাচ্চা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আন্দোলনের সামনের সারির সমন্বয়কদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি করেন জাহাঙ্গীর। ফেসবুকে দেওয়া তার স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।
রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীরের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার ভাগ্যের চাকার পরিবর্তন হয় রেজিস্ট্রার পদে এসে। ২০০৯ সালে অস্থায়ী সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে দশম গ্রেডের ২২ হাজার টাকার চাকরি পান জাহাঙ্গীর। কিন্তু নিজের কলাকৌশলকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চম গ্রেডের বেতন ও অন্য খরচ মিলিয়ে ৭৮ হাজার টাকা তুলতেন। হোমিওপ্যাথি বোর্ডে চাকরি পাওয়ার পর ২০১৩ সালে তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়ায় বিলাসবহুল বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। গ্রামে কয়েক একর জমিও কিনেছেন। নিজের এলাকায় গড়েছেন মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

হোমিওপ্যাথি বোর্ডকে টাকা কামানোর মেশিন বানিয়েছেন জাহাঙ্গীর:
ঢাকায় মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় রশিদ টাওয়ারে কোটি টাকার দুটি ফ্ল্যাট ও দুটি গাড়ি রয়েছে এই কর্মকর্তার। প্রথম স্ত্রীর (মারা গেছেন) নামে বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। অবৈধভাবে অর্জিত এই অর্র্থের উৎস খতিয়ে দেখছে দুদক। তার বিরুদ্ধে দুদকে দুটি দুর্নীতির মামলাও রয়েছে। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের দুবারের বোর্ড মেম্বার ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘আমাদের ৬৬ জেলায় কলেজ রয়েছে। প্রতিটি কলেজ থেকে নিয়োগ-বাণিজ্য করতেন রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম। নামে-বেনামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে নিজে অর্থ তুলতেন এবং সেখান থেকেও টাকা সরাতেন। ২০১৮ সালের পর থেকে তার বিরুদ্ধে বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ে ১০ বার অভিযোগ এসেছে। দুদকেও অর্থ পাচারের মামলা হয়েছে। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে তিনটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি বারবার বিচারের মুখ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।’
চট্টগ্রামের ফেডারেল হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. উজ্জ্বল কান্তি দাশ বলেন, ‘রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণসহ দুদক ও বোর্ডে এবং মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকবার। আমাকে দিয়ে জাহাঙ্গীর বিভিন্ন কলেজ থেকে টাকা সংগ্রহ করেছেন। আমি নিজে তাকে কয়েকবার ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছি। এসব প্রমাণ দেওয়ার পরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব আব্দুল কাদের টাকা খেয়ে জাহাঙ্গীরের পক্ষে রিপোর্ট দিতেন। রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কাদের তার পক্ষ নিতেন।’
অনুসন্ধানে দেখা যায়, রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে অর্থের বিনিময়ে অনভিজ্ঞ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দিতেন। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রহীন ত্রুটিপূর্ণ কলেজকে অনুমোদনের ব্যবস্থা করতেন। নিয়মনীতি না মেনে বছরে কয়েকবার বিদেশ সফর করেছেন জাহাঙ্গীর। তার বিরুদ্ধে রিকনডিশন্ড গাড়ি কেনার সময় ১৮ লাখ টাকা নয়ছয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জাহাঙ্গীর ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতেন। শুধু তা-ই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত হোমিওপ্যাথিক কলেজে নিজের লোক নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে সেখান থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের মাসোহারা নিতেন। এর প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার মো. জাহাঙ্গীর আলমের হাত থেকে হোমিওপ্যাথি বোর্ডকে রক্ষার দাবি জানিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নোয়াখালীতে আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পেয়েছে। দুদক সজেকা (সমন্বিত জেলা কার্যালয়) নোয়াখালীর তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০০৯ সালে হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের অস্থায়ী সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগসংক্রান্ত পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল সেগুলোকে উপেক্ষা করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি নিয়োগ নিয়েছেন। তার নিজ প্রতিষ্ঠান ‘হোমিওপ্যাথিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ ২০০৫ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত হয়। সেখানকার কাগজপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর কখনো ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আবার কখনো নির্বাহী পরিচালক বলে পরিচয় দিয়েছেন।
ডা. জাহাঙ্গীর আলম মিরপুর-১০ নম্বরে হোমিওপ্যাথিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠান খুলে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে রমরমা সার্টিফিকেট-বাণিজ্য করেছেন। চাকরিতে নিয়োগ পেতে অভিজ্ঞতা হিসেবে নিজের জন্য ওই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক সেজে প্রত্যয়নপত্র নিয়েছেন আবার অন্যজনকে চাকরি দিতে নিজে চেয়ারম্যান সেজে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন। পরস্পরের যোগসাজশে একে অপরকে অভিজ্ঞতার সনদ দিয়ে অস্থায়ী সহকারী রেজিস্ট্রার পদটি হাতিয়ে নেন জাহাঙ্গীর, যা তদন্ত করে দেখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে দুদকের নোয়াখালীর (সজেকা) অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে।
হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও ফেডারেল হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মো. শামসুদ্দোজা আরিফ এবং চট্টগ্রামের ভুক্তভোগী ডা. উজ্জ্বল কান্তি দাশের অভিযোগে বলা হয়, সরকারের হোমিওপ্যাথি অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এবং হোমিও বোর্ড নীতিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে বোর্র্ডের রেজিস্ট্রার ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম এসব অধ্যাদেশ ও নীতিমালা উপেক্ষা করে সব ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের নিয়ম অনুযায়ী একটি নতুন অনুমোদিত কলেজে ১০-১৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তিনি লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে প্রতিটি কলেজে ৩৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ বিভিন্ন পদে ৬০-৭০ জন লোক নিয়োগ ও অনুমোদন দিচ্ছেন। এসব নিয়োগ ও অনুমোদনে বোর্র্ডের কোনো নিয়মনীতি ও বিধিবিধান মানা হচ্ছে না। হোমিও বোর্র্ডের টেন্ডার কমিটি, নিয়োগ কমিটি, পরীক্ষা কমিটিসহ সব কমিটিতে সচিবের দায়িত্বে থাকার সুবাদে রেজিস্ট্রার ধরাকে সরা জ্ঞান করেন। তাকে টাকা না দিলে কোনো কাজের অনুমোদন, বিল, নিয়োগসহ পরীক্ষক, প্রার্থী নির্বাচন এবং পরীক্ষার ফলে প্রভাব খাটানো হয়। রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কলেজের সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণেরও অভিযোগ রয়েছে।
এমন বেশ কয়েকটি অভিযোগপত্র আমাদের হাতে রয়েছে।
বোর্র্ডের সদস্যদের দেওয়া অভিযোগে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর বোর্ডের রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে প্রতিবছর সরকারি অনুদানের টাকা বিতরণের সময় প্রতিটি কলেজ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা অগ্রিম কমিশন হিসেবে নেন এবং ঘুষের বিনিময়ে একই কলেজকে বারবার অনুদান পাইয়ে দেন। আবার যেসব কলেজ কর্তৃপক্ষ কমিশন বা ঘুষ দিতে পারছে না, তাদের অনুদান দেওয়া হয় না। এ কাজে তিনি শিক্ষক সমিতির ব্যানারে গঠিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন করে থাকেন, যাতে তার এসব অবৈধ আর্থিক লেনদেনের কোনো প্রমাণ পাওয়া না যায়। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক সমিতির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে খোঁজ নিলে এসবের প্রমাণ পাওয়া যাবে।
ডা. জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি পঞ্চম গ্রেডের বেতন তুলি। সেটা সরকারি বিধি অনুযায়ী আমার প্রাপ্য। আমার বাড়ি-গাড়ির বিষয় যা জানেন তা সত্য। আমি বোর্র্ডের রেজিস্ট্রারের পাশাপাশি তিন জায়গায় ডাক্তারি করি। সেখান থেকে টাকা আসে।’ দামি ফ্ল্যাট ও বিলাসবহুল বাড়ির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দুর্নীতি করি না, আমার ট্যাক্স ফাইলে সব সম্পদের বিবরণ আছে। এখন সৌদি আরবে আছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।’ এর কিছুক্ষণ পর তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে প্রতিবেদককে দীর্ঘ মেসেজ পাঠান জাহাঙ্গীর।

রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্র্ডের চেয়ারম্যান নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কাউন্সিল। শিগগির কাউন্সিল গঠন হবে। কাউন্সিল গঠন হলে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ সদস্যরা খতিয়ে দেখবেন। প্রমাণ পেলে কাউন্সিল বোর্র্ডের সদস্যরা তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।’
জাহাঙ্গীর এখন কোথায় রয়েছেন? এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বলেন, ‘অফিস করেন নিয়মিত। আমার সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’ জাহাঙ্গীর বলেছেন তিনি সৌদি আরব রয়েছেন। আপনি চেয়ারম্যান হয়ে সে বিষয়ে জানেন না? এর উত্তরে নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাকে বলেছেন তার পার্সোনাল একটা কাজ রয়েছে। ছুঁটি নিয়েছেন।’ এর বেশি তিনি জানেন না বলে জানান।