০৪:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাদ্য গুদামের লেবার এখন শত কোটি টাকার মালিক: আওয়ামী আমলে আলাদীনের চেরাগ পেয়েছেন মাগুরার বাচ্চু!

প্রতিনিধির নাম:

মাগুরা প্রতিনিধি

সরোয়ার হোসেন বাচ্চু, মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের ঘোড়ানাছ গ্রামে তার বাড়ি। আদী বাড়ী নোয়াখালী জেলায়। এক সময় মাগুরা খাদ্য গুদামে লেবার সরদারের কাজ করতেন। এখন তিনি শত কোটি টাকার মালিক। আওয়ামী শাসনামলে মাগুরার গডফাদার শিখর এর হাতে হাত মিলিয়ে তার ছোট ভাই হিসামের ব্যবসায়ীক পার্টনার বনে যান। এরপরই তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করার লক্ষ্যে মাগুরা পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসিফ মাহমুদ মেলিনের হাতে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন এই বাচ্চু। ৫ আগস্টের শাসন ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর থেকে তিনি নিয়মিত মাগুরা জেলা বিএনপির এক নেতাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সাথে নিজেকে রক্ষা করেন। পরবর্তীতে বিএনপির তিন নেতার পুত্রকে এবং সাবেক এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে তার ব্যবসায়িক পার্টনার করেছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নও চেয়েছিলেন। মাগুরা ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাফিয়া ডন সাইফুজ্জামান শিখরের ছোট ভাই হিসামের ব্যবসায়িক পার্টনার ও আওয়ামী লীগের ডোনার এই বাচ্চু।

মাগুরার খাদ্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে গোটা আওয়ামী আমলে নিন্মমানের চাউল সাপ্লায় দিয়ে এবং খাদ্য গুদামের হ্যান্ডেলিং কাজ নিয়ন্ত্রণ করে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন এই বাচ্চু। অবৈধ পথে উপার্জিত টাকা দিয়ে তিনি ঢাকায় তিনটি ফ্ল্যাট ও প্লট কিনেছেন। মাগুরা স্টেডিয়াম পাড়ায় অনেক জমি কিনেছেন। ঘোড়ানাছ এলাকায় ১০ একর জমিতে মাছের ঘের করেছেন। মাগুরার সাজিয়াড়া গ্রামে অটো রাইচ মিল করেছেন। এ ছাড়া নড়াইল জেলাতেও তার আটার মিল রয়েছে। এখন শোনা যাচ্ছে কানাডাতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। সেখানে পালিয়ে যাওয়ার জন্য এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে সব থেকে গুরুতর অভিযোগ হলো,তিনি নাকি সোনা চোরাচালান কারবারে জড়িত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গার কুখ্যাত সোনা চোরাচালানী দীলিপ আগরওয়ালের সাথে তিনি সিন্ডিকেট করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনা পাচার করতেন। আর এ পথেই গড়েছেন টাকার পাহাড়। তার বিরুদ্ধে দুদকেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমাদের অনুসন্ধান চলছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৩২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
৬৬৫ বার পড়া হয়েছে

খাদ্য গুদামের লেবার এখন শত কোটি টাকার মালিক: আওয়ামী আমলে আলাদীনের চেরাগ পেয়েছেন মাগুরার বাচ্চু!

আপডেট সময় ০৯:৩২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪

মাগুরা প্রতিনিধি

সরোয়ার হোসেন বাচ্চু, মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের ঘোড়ানাছ গ্রামে তার বাড়ি। আদী বাড়ী নোয়াখালী জেলায়। এক সময় মাগুরা খাদ্য গুদামে লেবার সরদারের কাজ করতেন। এখন তিনি শত কোটি টাকার মালিক। আওয়ামী শাসনামলে মাগুরার গডফাদার শিখর এর হাতে হাত মিলিয়ে তার ছোট ভাই হিসামের ব্যবসায়ীক পার্টনার বনে যান। এরপরই তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করার লক্ষ্যে মাগুরা পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসিফ মাহমুদ মেলিনের হাতে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন এই বাচ্চু। ৫ আগস্টের শাসন ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর থেকে তিনি নিয়মিত মাগুরা জেলা বিএনপির এক নেতাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সাথে নিজেকে রক্ষা করেন। পরবর্তীতে বিএনপির তিন নেতার পুত্রকে এবং সাবেক এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে তার ব্যবসায়িক পার্টনার করেছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নও চেয়েছিলেন। মাগুরা ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাফিয়া ডন সাইফুজ্জামান শিখরের ছোট ভাই হিসামের ব্যবসায়িক পার্টনার ও আওয়ামী লীগের ডোনার এই বাচ্চু।

মাগুরার খাদ্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে গোটা আওয়ামী আমলে নিন্মমানের চাউল সাপ্লায় দিয়ে এবং খাদ্য গুদামের হ্যান্ডেলিং কাজ নিয়ন্ত্রণ করে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন এই বাচ্চু। অবৈধ পথে উপার্জিত টাকা দিয়ে তিনি ঢাকায় তিনটি ফ্ল্যাট ও প্লট কিনেছেন। মাগুরা স্টেডিয়াম পাড়ায় অনেক জমি কিনেছেন। ঘোড়ানাছ এলাকায় ১০ একর জমিতে মাছের ঘের করেছেন। মাগুরার সাজিয়াড়া গ্রামে অটো রাইচ মিল করেছেন। এ ছাড়া নড়াইল জেলাতেও তার আটার মিল রয়েছে। এখন শোনা যাচ্ছে কানাডাতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। সেখানে পালিয়ে যাওয়ার জন্য এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে সব থেকে গুরুতর অভিযোগ হলো,তিনি নাকি সোনা চোরাচালান কারবারে জড়িত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গার কুখ্যাত সোনা চোরাচালানী দীলিপ আগরওয়ালের সাথে তিনি সিন্ডিকেট করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনা পাচার করতেন। আর এ পথেই গড়েছেন টাকার পাহাড়। তার বিরুদ্ধে দুদকেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমাদের অনুসন্ধান চলছে।