১০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এপিএস বাশার ও বোন জামাই আরশাদ ছিল তার সিন্ডিকেট প্রধান: নৌ-প্রতিমন্ত্রী হয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লুটেছেন খালেদ মাহমুদ চৌধুরী!

প্রতিনিধির নাম:

রোস্তম মল্লিক

বাবার পথ ধরেই গুণধর পুত্র এমপি এবং পরে প্রতিমন্ত্রী হয়েই গোটা নৌ-পরিবহন সেক্টরকে লুটপাটের স্বপ্নরাজ্যে পরিণত করে নিজেই অলিখিত এক মাফিয়া ডনে পরিণত হয়েছিলেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। পতিত সরকার প্রধান হাসিনার কন্যা পুতুলের স্বামী পরিচয় জাহির করে যাচ্ছেতাই করে বেড়ানো নৌপরিবহন খাত ধ্বংসের এই দানব লেজ গুটিয়ে সীমান্ত পথে পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করলেও রেখে গেছেন তার হাতে নির্যাতিত অসংখ্য দলীয় কর্মী। ওইসব নির্যাতিতদের হাহাকারেই তার এ পরিণতি উল্লেখ করে তার নিজ গ্রামের নির্যাতিত এক প্রবীণ বললেন, তার দাদা মৌলভী খোরশেদ আলেমের ঘরের পুত্র সাবেক এমপি-মন্ত্রী আবদুর রৌফ চৌধুরীর জালিম পুত্র খালিদ মাহমুদ চৌধুরী তার দখল বাণিজ্য আর টাকা লুটপাটের সময় নিজ দলের লোকজনকে কুকুরের মতো পেটাতেও কার্পন্য করেন নি। তার পেটুয়া বাহিনী প্রধান আবুল বাশার ওরফে বাস্টার্ড বাশারকে দিয়ে গোটা দিনাজপুর, বিরল এবং বোচাগঞ্জে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। পিয়ন হোক আর ঝাড়ুদার হোক ২০ লাখ টাকার নীচে কোন নিয়োগ বাণিজ্য করেন নি তিনি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২৫ থেকে ৩৫ লাখ টাকা যার কাছে থেকে পেয়েছেন সেই নির্বাচিত হয়েছে চেয়ারম্যান। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার উপর চলতো নির্যাতন, মৃত্য হুমকি এবং সর্বশেষ মাদক সহ নানান মামলায় যেতে হতো জেলে।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা ইউনিট ও দিনাজপুর জেলা কার্যালয় তদন্তে নেমে মিলেছে পিলে চমকানো তথ্য। নিজ আত্মীয়, বোন জামাই, এপিএস ও ব্যবসায়িক অংশী রের নামে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর আমলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে লুট করেছেন হাজার কোটি টাকা।
জোছরা অটোরাইস মিলের মালিক আবদুল হান্নান ম্যানেজারের নামে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শত শত বিঘা জমি কিনেছেন। ওইসব জমির কয়েক গুণ বেশি দাম দেখিয়ে এ বিভিন্ন ব্যাংকে বন্ধক রেখে খালিদ মাহমুদের প্রভাবে শত কোটি টাকার লোন তুলে মালিকের ভাব নিয়েছেন আবদুল হান্নান।
এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর বেনামে ঢাকার লালমাটিয়া, আদাবর, শেখেরটেক, মোয়াম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি, বাবর বোর্ড ও হুমায়ুন রোডে রয়েছে ১৬টি ফ্ল্যাট এবং বছিলা ও ঢাকা উদ্যানে ৫ শতাংশ করে ১০টি প্লট।
নৌ-পরিবহন খাতকে ধ্বংসের সীমায় নিয়ে যাওয়া এই মাফিয়া ডন তার মরহুম বাবার নামে করা রৌফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের নামেও ভাওতাবাজী করে কবরস্থানের জমি দখল এবং অর্থ বাণিজ্য করেছেন। উল্লেখ, গত ২ সেপ্টেম্বর সাবেক নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তার স্ত্রী, সন্তান ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মেয়ের জামাই জাহির করে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি এবং দলীয় পদ দেওয়ার নামে কামিয়েছেন হাজার কোটি টাকা। তিনি দিনাজপুর জেলা এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, হাজার কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। জোহরা অটোরাইস মিলের নেপথ্যে বিশাল বিনিয়োগ করেছেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। পাচার করা টাকায় লন্ডনে একাধিক বাড়ি কিনেছেন মেয়ের নামে। রাজধানীতে ১৩টি ফ্ল্যাট এবং ৫ শতাংশ করে ১০টি প্লট রয়েছে তার। নিজ জেলা দিনাজপুরে রয়েছে শত কোটি টাকার অবৈধ বালু বাণিজ্য।
জানাগেছে, প্রতিমন্ত্রী হাজার কোটি টাকা লন্ডনে পাচার করেছেন তার একান্ত সচিব (এপিএস) বাশার ওরফে বাস্টার্ড বাশারের মালিকানায় নেওয়া এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার মাধ্যমে। প্রতিমন্ত্রীর মদদে বোচাগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ফেনসিডিল ও টাপেনটাডল নামের মাদক চোরাচালানের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী তুহিন। গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের সঙ্গে আত্মগোপনে চলে যান খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তার সঙ্গে আত্মগোপনে গেছেন তার একান্ত অনুসারীরাও।
একটি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পরই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রধান কার্যালয় নিয়ন্ত্রণ রাখতেন এপিএসের মাধ্যমে। নিজস্ব ঠিকাদার ও ব্যক্তিগত ক্যাডার বাহিনী নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ ভবনে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের কক্ষে গিয়ে এপিএসের মাধ্যমে কাজ দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতেন। অপছন্দের ঠিকাদারকে বিআইডব্লিউটিএ ভবনে প্রবেশ করতে দিতেন না। ২০ লাখ টাকার ওপরে যে কোনো কাজে কমিশন দিতে হতো প্রতিমন্ত্রীর লোকদের। কমিশন না দিলে কাজ পাওয়া যেত না। ছাত্রলীগের অনেক কর্মী কাজ চাইলে বাস্টার্ড বাশার তাদের পিটিয়ে বিআইডব্লিউ বিল্ডিং ছাড়তে বাধ্য করতো।
বাশার এপিএসের বড় সহযোগী ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর চাচাতো ভাইয়ের শ্যালিকার স্বামী মো. আরশাদ পারভেজ। তার বাড়ী যশোরের অভয়নগর উপজেলায়। এই দুজন মিলে নিয়ন্ত্রণ করতেন মন্ত্রণালয়ের সব কিছু। তাদের মাধ্যমেই কাজের পারসেন্টেজ হাতিয়ে নিতেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। কাকে কাজ দেওয়া যাবে, তা ঠিক করতেন আরশাদ আর বাশার। বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, চট্টগ্রাম বন্দর, পায়রা পোর্টের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে নিজেদের সিন্ডিকেটের লোক বসাতেন ওই দুজন। তাদের মধ্যে আরশাদ নৌ-প্রতিমন্ত্রীর ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন সবার কাছে। মূলত এই আরশাদই প্রতিমন্ত্রীর হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে ৫ আগস্টের পর লাশের গাড়িতে করে উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নে পৌঁছান খালেদ মাহমুদ চৌধুরী তার এপিএস আবুল বাশার ও ক্যাশিয়ার আরশাদ পারভেজ। এর পর ভবানীপুরের সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:১২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪
১৭৫ বার পড়া হয়েছে

এপিএস বাশার ও বোন জামাই আরশাদ ছিল তার সিন্ডিকেট প্রধান: নৌ-প্রতিমন্ত্রী হয়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লুটেছেন খালেদ মাহমুদ চৌধুরী!

আপডেট সময় ০৭:১২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪

রোস্তম মল্লিক

বাবার পথ ধরেই গুণধর পুত্র এমপি এবং পরে প্রতিমন্ত্রী হয়েই গোটা নৌ-পরিবহন সেক্টরকে লুটপাটের স্বপ্নরাজ্যে পরিণত করে নিজেই অলিখিত এক মাফিয়া ডনে পরিণত হয়েছিলেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। পতিত সরকার প্রধান হাসিনার কন্যা পুতুলের স্বামী পরিচয় জাহির করে যাচ্ছেতাই করে বেড়ানো নৌপরিবহন খাত ধ্বংসের এই দানব লেজ গুটিয়ে সীমান্ত পথে পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করলেও রেখে গেছেন তার হাতে নির্যাতিত অসংখ্য দলীয় কর্মী। ওইসব নির্যাতিতদের হাহাকারেই তার এ পরিণতি উল্লেখ করে তার নিজ গ্রামের নির্যাতিত এক প্রবীণ বললেন, তার দাদা মৌলভী খোরশেদ আলেমের ঘরের পুত্র সাবেক এমপি-মন্ত্রী আবদুর রৌফ চৌধুরীর জালিম পুত্র খালিদ মাহমুদ চৌধুরী তার দখল বাণিজ্য আর টাকা লুটপাটের সময় নিজ দলের লোকজনকে কুকুরের মতো পেটাতেও কার্পন্য করেন নি। তার পেটুয়া বাহিনী প্রধান আবুল বাশার ওরফে বাস্টার্ড বাশারকে দিয়ে গোটা দিনাজপুর, বিরল এবং বোচাগঞ্জে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। পিয়ন হোক আর ঝাড়ুদার হোক ২০ লাখ টাকার নীচে কোন নিয়োগ বাণিজ্য করেন নি তিনি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২৫ থেকে ৩৫ লাখ টাকা যার কাছে থেকে পেয়েছেন সেই নির্বাচিত হয়েছে চেয়ারম্যান। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার উপর চলতো নির্যাতন, মৃত্য হুমকি এবং সর্বশেষ মাদক সহ নানান মামলায় যেতে হতো জেলে।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা ইউনিট ও দিনাজপুর জেলা কার্যালয় তদন্তে নেমে মিলেছে পিলে চমকানো তথ্য। নিজ আত্মীয়, বোন জামাই, এপিএস ও ব্যবসায়িক অংশী রের নামে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর আমলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে লুট করেছেন হাজার কোটি টাকা।
জোছরা অটোরাইস মিলের মালিক আবদুল হান্নান ম্যানেজারের নামে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শত শত বিঘা জমি কিনেছেন। ওইসব জমির কয়েক গুণ বেশি দাম দেখিয়ে এ বিভিন্ন ব্যাংকে বন্ধক রেখে খালিদ মাহমুদের প্রভাবে শত কোটি টাকার লোন তুলে মালিকের ভাব নিয়েছেন আবদুল হান্নান।
এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর বেনামে ঢাকার লালমাটিয়া, আদাবর, শেখেরটেক, মোয়াম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি, বাবর বোর্ড ও হুমায়ুন রোডে রয়েছে ১৬টি ফ্ল্যাট এবং বছিলা ও ঢাকা উদ্যানে ৫ শতাংশ করে ১০টি প্লট।
নৌ-পরিবহন খাতকে ধ্বংসের সীমায় নিয়ে যাওয়া এই মাফিয়া ডন তার মরহুম বাবার নামে করা রৌফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের নামেও ভাওতাবাজী করে কবরস্থানের জমি দখল এবং অর্থ বাণিজ্য করেছেন। উল্লেখ, গত ২ সেপ্টেম্বর সাবেক নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তার স্ত্রী, সন্তান ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মেয়ের জামাই জাহির করে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি এবং দলীয় পদ দেওয়ার নামে কামিয়েছেন হাজার কোটি টাকা। তিনি দিনাজপুর জেলা এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, হাজার কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। জোহরা অটোরাইস মিলের নেপথ্যে বিশাল বিনিয়োগ করেছেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। পাচার করা টাকায় লন্ডনে একাধিক বাড়ি কিনেছেন মেয়ের নামে। রাজধানীতে ১৩টি ফ্ল্যাট এবং ৫ শতাংশ করে ১০টি প্লট রয়েছে তার। নিজ জেলা দিনাজপুরে রয়েছে শত কোটি টাকার অবৈধ বালু বাণিজ্য।
জানাগেছে, প্রতিমন্ত্রী হাজার কোটি টাকা লন্ডনে পাচার করেছেন তার একান্ত সচিব (এপিএস) বাশার ওরফে বাস্টার্ড বাশারের মালিকানায় নেওয়া এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার মাধ্যমে। প্রতিমন্ত্রীর মদদে বোচাগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ফেনসিডিল ও টাপেনটাডল নামের মাদক চোরাচালানের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী তুহিন। গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের সঙ্গে আত্মগোপনে চলে যান খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তার সঙ্গে আত্মগোপনে গেছেন তার একান্ত অনুসারীরাও।
একটি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পরই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রধান কার্যালয় নিয়ন্ত্রণ রাখতেন এপিএসের মাধ্যমে। নিজস্ব ঠিকাদার ও ব্যক্তিগত ক্যাডার বাহিনী নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ ভবনে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের কক্ষে গিয়ে এপিএসের মাধ্যমে কাজ দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতেন। অপছন্দের ঠিকাদারকে বিআইডব্লিউটিএ ভবনে প্রবেশ করতে দিতেন না। ২০ লাখ টাকার ওপরে যে কোনো কাজে কমিশন দিতে হতো প্রতিমন্ত্রীর লোকদের। কমিশন না দিলে কাজ পাওয়া যেত না। ছাত্রলীগের অনেক কর্মী কাজ চাইলে বাস্টার্ড বাশার তাদের পিটিয়ে বিআইডব্লিউ বিল্ডিং ছাড়তে বাধ্য করতো।
বাশার এপিএসের বড় সহযোগী ছিলেন প্রতিমন্ত্রীর চাচাতো ভাইয়ের শ্যালিকার স্বামী মো. আরশাদ পারভেজ। তার বাড়ী যশোরের অভয়নগর উপজেলায়। এই দুজন মিলে নিয়ন্ত্রণ করতেন মন্ত্রণালয়ের সব কিছু। তাদের মাধ্যমেই কাজের পারসেন্টেজ হাতিয়ে নিতেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। কাকে কাজ দেওয়া যাবে, তা ঠিক করতেন আরশাদ আর বাশার। বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, চট্টগ্রাম বন্দর, পায়রা পোর্টের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে নিজেদের সিন্ডিকেটের লোক বসাতেন ওই দুজন। তাদের মধ্যে আরশাদ নৌ-প্রতিমন্ত্রীর ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন সবার কাছে। মূলত এই আরশাদই প্রতিমন্ত্রীর হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে ৫ আগস্টের পর লাশের গাড়িতে করে উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নে পৌঁছান খালেদ মাহমুদ চৌধুরী তার এপিএস আবুল বাশার ও ক্যাশিয়ার আরশাদ পারভেজ। এর পর ভবানীপুরের সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।