০২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএসএমএমইউ’র এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাৎসহ অনেক অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম:
হেমাটোলজি প্যাশেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সাপোর্ট প্রোগ্রামের নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এই অ্যাকাউন্টের টাকা দিয়ে পিকনিক করার অভিযোগ রয়েছে যা রোগী কল্যাণে ও গবেষণায় ব্যবহার করার কথা। তিনি হেমাটোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: মো: সালাহউদ্দিন শাহ। তার বিরুদ্ধে আরো কিছু অভিযোগ নিয়ে হেমাটোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।
আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়ম ছাড়াও তার বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী কায়দায় বিভাগ চালানো; বিভাগের প্রায় সব চিকিৎসককে মানসিক নির্যাতন ও অপমান করা; শুধু ভিন্ন মতাবলম্বী হওয়ায় বিশেষজ্ঞ হেমাটোলজিস্ট চিকিৎসকদের বিভাগের বাইরে বিনা কারণে বদলি করা; বিভাগীয় যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে তিনজনকে এনে তার বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকরা অভিযোগ করেছেন, এ ক্ষেত্রে বিশাল অঙ্কের টাকার নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে। হয়রানির ভয়ে বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সবসময় তটস্থ ছিলেন। অধ্যাপক ডা: সালাহউদ্দিন শাহ ১/১১-এর পট পরিবর্তনের পরই তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগার সেজে যান। তখন থেকে বিএনপি-জামায়াত মনোভাবাপন্ন চিকিৎসকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকেন বলে চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন।

 

অধ্যাপক সালাহউদ্দিন শাহর প্রথম শিকার হন অধ্যাপক ডা: মঞ্জুর মোর্শেদ। সৌদি আরবের কিং ফয়সল হাসপাতালের মতো বিখ্যাত হাপাতালে দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন প্রতিথযশা চিকিৎসককে জামায়াত ও রাজাকার ট্যাগ দিয়ে ডা: সালাহউদ্দিন শাহর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টারিং করে তার রুম তালাবদ্ধ করে দেয়া হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অধ্যাপক মঞ্জুর মোর্শেদকে ক্যাম্পাসে নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে অত্যাচারে টিকতে না পেরে অধ্যাপক ডা: মঞ্জুর মোর্শেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।

বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর অধ্যাপক সালাহউদ্দিন শাহ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাবেক চেয়ারম্যানের রুম দখল, সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহার, হুমকি প্রদান, দুর্নীতি, বিভাগের চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানিসহ বিভিন্ন অপকর্মের হোতা ছিলেন। বিভাগের শিক্ষক ও চিকিৎসকদের বসার জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকলেও তিনি বিভাগের চেয়ারম্যান থাকাকালীন বিভাগের সবচেয়ে বড় দু’টি কক্ষ দখল করে রাখেন। অধ্যাপক ডা: সালাহউদ্দিন শাহ চেয়ারম্যান থাকাকালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎস ডা: মো: আদনান হাসান মাসুদ ও ডা: কাজী মুহাম্মদ কামরুল ইসলামকে হেমাটোলজি বিভাগ থেকে সাধারণ জরুরি বিভাগে বদলি করা দেয়া হয় এবং বিভাগে ফেরত আসতে বাধা প্রদান করা হয়। এমনকি বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ১৩ মাস জরুরী বিভাগে ফেলে রাখেন ও তার বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়। অনিয়ম করে জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে চেয়ারম্যান করার জন্য অধ্যাপক ডা: রফিকুজ্জামান খান এবং অধ্যাপক ডা: সালাহউদ্দীন শাহ প্রভাব বিস্তার করে সহযোগী অধ্যাপক ডা: আমিন লুৎফুল কবিরকে দীর্ঘ পাঁচ বছর সব যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ইন্টারভিউতে ডাকেননি।

 

এ সব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা: মো: সালাহউদ্দিন সবগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাকে হয়রানি করার জন্য কেউ কেউ এসব অভিযোগ করছেন। প্যাশেন্ট সাপোর্ট প্রোগ্রামের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রোগ্রাম নয়, অ্যাকাউন্টটাও বিশ্ববিদ্যালয়ের না। এটা একটি বৈজ্ঞানিক প্রোগ্রাম ছিল। এই প্রোগ্রামের একাউন্ট থেকে অর্থ আত্মসাতের প্রশ্নই উঠে না। এই অ্যাকাউন্টের টাকা থেকে যে পিকনিক করার অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়, এটা ছিল ফ্যামিলি গেট টুগেদার। অধ্যাপক মঞ্জুর মোর্শেদকে বের করে দেয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কেউ ছিলাম না যে একজন অধ্যাপককে বের করে দিতে পারি। তবে মঞ্জুর মোর্শেদ সম্বন্ধে তিনি বলেন, ‘তিনি মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ ছিলেন, হেমাটোলজিতে তার কোনো ডিগ্রি ছিল না।’ বিভাগীয় প্রার্থী থাকার পরও বাইরের প্রার্থীকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি ছিলাম সেই ভাইবা বোর্ডের একজন পরীক্ষক মাত্র, আরো তিনজন পরীক্ষক ছিলেন। আমার এক সিদ্ধান্তে কিছু হয়নি।’ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে জরুরি বিভাগে বদলি করে দেয়ার ব্যাপারে বলেন, এটা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত, আমার একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। ডা: কাজী কামরুজ্জামানকে আমি আমার ইউনিটে নিয়ে এসেছি। ডা: আদনান হাসান মাসুদ নিজেই মেডিসিন বিভাগে চলে গিয়েছিলেন।

 

 

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৫৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
১৫৬ বার পড়া হয়েছে

বিএসএমএমইউ’র এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাৎসহ অনেক অভিযোগ

আপডেট সময় ০৭:৫৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
হেমাটোলজি প্যাশেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সাপোর্ট প্রোগ্রামের নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এই অ্যাকাউন্টের টাকা দিয়ে পিকনিক করার অভিযোগ রয়েছে যা রোগী কল্যাণে ও গবেষণায় ব্যবহার করার কথা। তিনি হেমাটোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: মো: সালাহউদ্দিন শাহ। তার বিরুদ্ধে আরো কিছু অভিযোগ নিয়ে হেমাটোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।
আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়ম ছাড়াও তার বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী কায়দায় বিভাগ চালানো; বিভাগের প্রায় সব চিকিৎসককে মানসিক নির্যাতন ও অপমান করা; শুধু ভিন্ন মতাবলম্বী হওয়ায় বিশেষজ্ঞ হেমাটোলজিস্ট চিকিৎসকদের বিভাগের বাইরে বিনা কারণে বদলি করা; বিভাগীয় যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে তিনজনকে এনে তার বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকরা অভিযোগ করেছেন, এ ক্ষেত্রে বিশাল অঙ্কের টাকার নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে। হয়রানির ভয়ে বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সবসময় তটস্থ ছিলেন। অধ্যাপক ডা: সালাহউদ্দিন শাহ ১/১১-এর পট পরিবর্তনের পরই তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগার সেজে যান। তখন থেকে বিএনপি-জামায়াত মনোভাবাপন্ন চিকিৎসকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকেন বলে চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন।

 

অধ্যাপক সালাহউদ্দিন শাহর প্রথম শিকার হন অধ্যাপক ডা: মঞ্জুর মোর্শেদ। সৌদি আরবের কিং ফয়সল হাসপাতালের মতো বিখ্যাত হাপাতালে দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন প্রতিথযশা চিকিৎসককে জামায়াত ও রাজাকার ট্যাগ দিয়ে ডা: সালাহউদ্দিন শাহর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টারিং করে তার রুম তালাবদ্ধ করে দেয়া হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে অধ্যাপক মঞ্জুর মোর্শেদকে ক্যাম্পাসে নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে অত্যাচারে টিকতে না পেরে অধ্যাপক ডা: মঞ্জুর মোর্শেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।

বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর অধ্যাপক সালাহউদ্দিন শাহ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাবেক চেয়ারম্যানের রুম দখল, সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহার, হুমকি প্রদান, দুর্নীতি, বিভাগের চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানিসহ বিভিন্ন অপকর্মের হোতা ছিলেন। বিভাগের শিক্ষক ও চিকিৎসকদের বসার জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকলেও তিনি বিভাগের চেয়ারম্যান থাকাকালীন বিভাগের সবচেয়ে বড় দু’টি কক্ষ দখল করে রাখেন। অধ্যাপক ডা: সালাহউদ্দিন শাহ চেয়ারম্যান থাকাকালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎস ডা: মো: আদনান হাসান মাসুদ ও ডা: কাজী মুহাম্মদ কামরুল ইসলামকে হেমাটোলজি বিভাগ থেকে সাধারণ জরুরি বিভাগে বদলি করা দেয়া হয় এবং বিভাগে ফেরত আসতে বাধা প্রদান করা হয়। এমনকি বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ১৩ মাস জরুরী বিভাগে ফেলে রাখেন ও তার বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়। অনিয়ম করে জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে চেয়ারম্যান করার জন্য অধ্যাপক ডা: রফিকুজ্জামান খান এবং অধ্যাপক ডা: সালাহউদ্দীন শাহ প্রভাব বিস্তার করে সহযোগী অধ্যাপক ডা: আমিন লুৎফুল কবিরকে দীর্ঘ পাঁচ বছর সব যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ইন্টারভিউতে ডাকেননি।

 

এ সব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা: মো: সালাহউদ্দিন সবগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাকে হয়রানি করার জন্য কেউ কেউ এসব অভিযোগ করছেন। প্যাশেন্ট সাপোর্ট প্রোগ্রামের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রোগ্রাম নয়, অ্যাকাউন্টটাও বিশ্ববিদ্যালয়ের না। এটা একটি বৈজ্ঞানিক প্রোগ্রাম ছিল। এই প্রোগ্রামের একাউন্ট থেকে অর্থ আত্মসাতের প্রশ্নই উঠে না। এই অ্যাকাউন্টের টাকা থেকে যে পিকনিক করার অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়, এটা ছিল ফ্যামিলি গেট টুগেদার। অধ্যাপক মঞ্জুর মোর্শেদকে বের করে দেয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কেউ ছিলাম না যে একজন অধ্যাপককে বের করে দিতে পারি। তবে মঞ্জুর মোর্শেদ সম্বন্ধে তিনি বলেন, ‘তিনি মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ ছিলেন, হেমাটোলজিতে তার কোনো ডিগ্রি ছিল না।’ বিভাগীয় প্রার্থী থাকার পরও বাইরের প্রার্থীকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি ছিলাম সেই ভাইবা বোর্ডের একজন পরীক্ষক মাত্র, আরো তিনজন পরীক্ষক ছিলেন। আমার এক সিদ্ধান্তে কিছু হয়নি।’ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে জরুরি বিভাগে বদলি করে দেয়ার ব্যাপারে বলেন, এটা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত, আমার একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। ডা: কাজী কামরুজ্জামানকে আমি আমার ইউনিটে নিয়ে এসেছি। ডা: আদনান হাসান মাসুদ নিজেই মেডিসিন বিভাগে চলে গিয়েছিলেন।