০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরইবি’র পিডি গোলাম রব্বানীর টেন্ডার দুর্নীতি: পিবিএস-৪ দরপত্রে একই ব্যাক্তির একাধিক প্রতিষ্ঠান!

প্রতিনিধির নাম:

 

বিশেষ প্রতিবেদক

ইউরোপ, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়ার সরাঞ্জাম ব্যবহারের কথা বলে দেশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ না দিয়ে আরইবি পিএস-৪ কেরানীগঞ্জ প্রকল্পের টেন্ডারে এদেশের একজন বিশেষ ব্যক্তির একাধিক প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণ দেখিয়ে দরপত্রটি গত ২১শে জুন তারিখে বিট কার্যক্রম শেষ করতে যাওয়ায় তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এধরনের কর্মকান্ডের মূল নায়কের ভূমিকায় রয়েছেন প্রকল্পটির প্রজেক্ট ডিরেক্টর গোলাম রব্বানী। তার এধরনের অপকান্ডে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল। টেন্ডারটির মেমো নম্বর- ২৭.১২.০০০০.২৩৩.০৩.০০১.২৩.১৮ যার তারিখ ১৯.১০.২০২৩ এবং প্যাকেজ টএউঘ-ড-০৩ ্ টএউঘ-ড-০৪। এধরনের বৈষম্যমূলক কর্মকান্ড আরইবিকে স্বেচাছাচারী ও চরম র্দূনীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিনত করছে যা সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে নষ্ট করে চলেছে বলে মনে করছে অভিজ্ঞমহল ।

তথ্যমতে, টার্নকি বেসিজ কন্টাক্টটে কেরাণীগঞ্জ ইপিসি প্রকল্পে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল, ট্রান্সফারমার, আরএমইউ এবং রিলেডেট একসেসরিজ যা মাটি খোড়া থেকে শুরু করে ডিজাইন, সাপ্লাই, কেরিং, ইনস্টলেশন, টেস্টিং এন্ড কমিশনিংয়ের জন্য গত ২১শে জুন তারিখে দরপত্র ওপেন করে আরইবি। যেখানে বিডা হিসেবে একই ঠিকানা অবস্থিত এজেডএম শফিউদ্দিনের মালিকানাধীন টিএস ট্্রান্সফারমার, এসকিউ ট্রেডিং এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নামক কোম্পানির অংশগ্রহণ দেখানো রয়েছে। জানাগেছে, তিন নম্বর বিডার হিসেবে এদেরই কোনো নির্ভযোগ্য ব্যাক্তিকে প্রপ্রাইটর করা গ্লোবাল মার্কেটিং সার্ভিসেস নামক একটি কোম্পানিকে দেখানো রয়েছে যেটা পূর্ব পরিকল্পিত এবং ছক করে দেখানো।

অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ না দিয়ে যোগসাজস করে একই ব্যাক্তির প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রে কাজ দেওয়াকে আরইবির চরম সীমালঙ্ঘন বলে মনে করছেন অন্য সরবরাহকারীরা। এরফলে এই দরপত্রে সর্বনি¤œ দরদাতার প্রতিফলন না ঘটে সরকারের বিশাল পরিমাণ অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির কবলে পড়েতে যাচ্ছে।

অন্য একটি সূত্র থেকে যানা যায়, এই প্রকল্পে মালামাল সরবরাহ দেবার ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারীরা আগ্রহী হলেও তাদের জানানো হয়েছে এখানে ইউরোপ, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়ার মালামাল ব্যবহৃত হবে। এই নিয়ম পরিবর্তন করে সবাই যেনো অংশগ্রহণ করতে পারে এজন্য সংশ্লিষ্ঠ প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন কোম্পানি ডকুমেন্ট সংশোধন ও পরিবর্তন করার জন্য লিখিতভাবে অনেই আবেদন করলেও এক্ষেত্রে এর কোনো পরিবর্তন হবেনা বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরইবি দেশের এক বিশেষ ব্যাক্তির প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে এবং দরপত্রে এদেরই একাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ দেখানোর নাটকীয়তায় অবাক হয়েছে সংশ্লিষ্ঠ সবাই।
পিবিএস-৪ প্রজেক্টের ডিরেক্টর গোলাম রাব্বানীকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বারবার মুঠো ফোনে কল করে, ম্যাসেজ দিয়ে যোগাযোগ করা
হলেও তিনি এবিষয়ে কোনো কথা বলেন নি।

বিজ্ঞমহল মনে করছেন, আরইবি’র দরপত্রে এধরনের বিতর্কিত বিষয় খতিয়ে দেখে এর সাথে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা জরুরি। না হলে এধরনের জালিয়তি, দুনীতি কর্মকান্ড হতেই থাকবে। যার ফলে সরকার ক্রমাগত বিশাল আর্থিক লোকসান ও ক্ষতির কবলে পড়তে থাকবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:৩১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪
২১১ বার পড়া হয়েছে

আরইবি’র পিডি গোলাম রব্বানীর টেন্ডার দুর্নীতি: পিবিএস-৪ দরপত্রে একই ব্যাক্তির একাধিক প্রতিষ্ঠান!

আপডেট সময় ০১:৩১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪

 

বিশেষ প্রতিবেদক

ইউরোপ, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়ার সরাঞ্জাম ব্যবহারের কথা বলে দেশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ না দিয়ে আরইবি পিএস-৪ কেরানীগঞ্জ প্রকল্পের টেন্ডারে এদেশের একজন বিশেষ ব্যক্তির একাধিক প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণ দেখিয়ে দরপত্রটি গত ২১শে জুন তারিখে বিট কার্যক্রম শেষ করতে যাওয়ায় তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এধরনের কর্মকান্ডের মূল নায়কের ভূমিকায় রয়েছেন প্রকল্পটির প্রজেক্ট ডিরেক্টর গোলাম রব্বানী। তার এধরনের অপকান্ডে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল। টেন্ডারটির মেমো নম্বর- ২৭.১২.০০০০.২৩৩.০৩.০০১.২৩.১৮ যার তারিখ ১৯.১০.২০২৩ এবং প্যাকেজ টএউঘ-ড-০৩ ্ টএউঘ-ড-০৪। এধরনের বৈষম্যমূলক কর্মকান্ড আরইবিকে স্বেচাছাচারী ও চরম র্দূনীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিনত করছে যা সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে নষ্ট করে চলেছে বলে মনে করছে অভিজ্ঞমহল ।

তথ্যমতে, টার্নকি বেসিজ কন্টাক্টটে কেরাণীগঞ্জ ইপিসি প্রকল্পে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল, ট্রান্সফারমার, আরএমইউ এবং রিলেডেট একসেসরিজ যা মাটি খোড়া থেকে শুরু করে ডিজাইন, সাপ্লাই, কেরিং, ইনস্টলেশন, টেস্টিং এন্ড কমিশনিংয়ের জন্য গত ২১শে জুন তারিখে দরপত্র ওপেন করে আরইবি। যেখানে বিডা হিসেবে একই ঠিকানা অবস্থিত এজেডএম শফিউদ্দিনের মালিকানাধীন টিএস ট্্রান্সফারমার, এসকিউ ট্রেডিং এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নামক কোম্পানির অংশগ্রহণ দেখানো রয়েছে। জানাগেছে, তিন নম্বর বিডার হিসেবে এদেরই কোনো নির্ভযোগ্য ব্যাক্তিকে প্রপ্রাইটর করা গ্লোবাল মার্কেটিং সার্ভিসেস নামক একটি কোম্পানিকে দেখানো রয়েছে যেটা পূর্ব পরিকল্পিত এবং ছক করে দেখানো।

অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ না দিয়ে যোগসাজস করে একই ব্যাক্তির প্রতিষ্ঠানকে দরপত্রে কাজ দেওয়াকে আরইবির চরম সীমালঙ্ঘন বলে মনে করছেন অন্য সরবরাহকারীরা। এরফলে এই দরপত্রে সর্বনি¤œ দরদাতার প্রতিফলন না ঘটে সরকারের বিশাল পরিমাণ অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির কবলে পড়েতে যাচ্ছে।

অন্য একটি সূত্র থেকে যানা যায়, এই প্রকল্পে মালামাল সরবরাহ দেবার ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারীরা আগ্রহী হলেও তাদের জানানো হয়েছে এখানে ইউরোপ, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়ার মালামাল ব্যবহৃত হবে। এই নিয়ম পরিবর্তন করে সবাই যেনো অংশগ্রহণ করতে পারে এজন্য সংশ্লিষ্ঠ প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন কোম্পানি ডকুমেন্ট সংশোধন ও পরিবর্তন করার জন্য লিখিতভাবে অনেই আবেদন করলেও এক্ষেত্রে এর কোনো পরিবর্তন হবেনা বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরইবি দেশের এক বিশেষ ব্যাক্তির প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে এবং দরপত্রে এদেরই একাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ দেখানোর নাটকীয়তায় অবাক হয়েছে সংশ্লিষ্ঠ সবাই।
পিবিএস-৪ প্রজেক্টের ডিরেক্টর গোলাম রাব্বানীকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বারবার মুঠো ফোনে কল করে, ম্যাসেজ দিয়ে যোগাযোগ করা
হলেও তিনি এবিষয়ে কোনো কথা বলেন নি।

বিজ্ঞমহল মনে করছেন, আরইবি’র দরপত্রে এধরনের বিতর্কিত বিষয় খতিয়ে দেখে এর সাথে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা জরুরি। না হলে এধরনের জালিয়তি, দুনীতি কর্মকান্ড হতেই থাকবে। যার ফলে সরকার ক্রমাগত বিশাল আর্থিক লোকসান ও ক্ষতির কবলে পড়তে থাকবে।